প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০০:৩২:১৬
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহ্য খেজুরগাছ এখন ইটভাটার জ্বালানি !
বাংলাদেশ বাণী, মীর ইমরান মাহমুদ, তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : শীতকালে খেজুরের রস খাওয়া প্রাচীন ঐতিহ্যের নিদর্শন। সেই ঐতিহ্য রক্ষার পরিবর্তে চলছে ধ্বংসের পাঁয়তারা। রসে ভরপুর সেই খেজুরগাছ এখন নির্দ্বিধায় ব্যবহার হচ্ছে ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে।
মায়ের হাতে খেজুরের রসে বানানো হরেক রকমের পিঠা-পুলি খাওয়ার ধুম পড়ে শীতকালে। এ জন্য তীব্র শীতের মাঝেও খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত থাকত গাছিরা। গত কয়েক বছরের ব্যবধানে ক্রমবর্ধমান মানুষের বাড়ি-ঘর নির্মাণ আর নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে খেজুর গাছের সংখ্যা।
দেশের দক্ষিণাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, কয়েক বছর আগেও শীতকালে এসব এলাকার গাছিরা খেজুর গাছের রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় কাটাত। তারা খেজুরের রস ও পাটালি-গুড় বিক্রি করে বিপুল অঙ্কের অর্থ উপার্জন করত। কিন্তু দুই-তিন বছর ধরে তা যেন ক্রমেই বিলুপ্ত হতে চলেছে। শীত মৌসুমে খেজুর রসের পিঠা ও পায়েস তৈরির প্রচলন থাকলেও শীতকালীন খেজুরগাছের রস এখন দু®প্রাপ্য হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের  বাগেরহাটসহ ১০ জেলার কিছু কিছু এলাকায় এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণ খেজুর গাছ থাকলেও সঠিকভাবে তা পরিচর্যা করা হচ্ছে না। রোপাণ করা হচ্ছে না নতুন চারা। উপরন্তু গাছ কাটার পদ্ধতিগত ভুলের কারণে প্রতিবছর অসংখ্য খেজুরগাছ মারা যাচ্ছে। আরো শঙ্কার বিষয় হলো, এক শ্রেণীর অসাধু ইটভাটার ব্যবসায়ী  নির্দ্বিধায় খেজুর গাছ কেটে ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছে।
ইটভাটায় খেজুরগাছ পোড়ানো আইনত নিষিদ্ধ হওয়ার পরও ইটভাটার মালিকরা সবকিছু ম্যানেজ করে ধ্বংস করে চলেছে আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্য খেজুরগাছ। কয়েক বছর ধরে ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে খেজুর গাছকে ব্যবহার করায় বিভিন্ন এলাকা থেকে খেজুরগাছ দ্রুত উজাড় হতে চলেছে। ফলে এ জনপদের মানুষ এখন খেজুর রসের মজার মজার খাবার অনেকটাই হারাতে বসেছে।
খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহকারী গাছিরা বলেন, আগের মতো খেজুর গাছ না থাকায় এখন আর সেই রমরমা অবস্থা নেই। ফলে শীতকাল এলেই অযতেœ-অবহেলায় পড়ে থাকা গ্রামীণ জনপদের খেজুর গাছের কদর বেড়ে যায়। একটু সচেতন হলে এমনটা হতো না। বর্তমানে এসব অঞ্চলে প্রতি হাঁড়ি খেজুরের রস এক থেকে দেড়শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাও চাহিদার তুলনায় খুবই কম। তারা বলেন, খেজুর গাছ রক্ষায় বন বিভাগের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় আমরা তা হারাতে বসেছি। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে খেজুর গাছ আর শীত মৌসুমে খেজুর গাছের রস শুধু বইয়ের পাতায় স্থান পাবে।
একসময় খেজুর রস দিয়েই গ্রামীণ জনপদে শুরু হতো শীতের আমেজ। শীত যত বাড়ত, খেজুর রসের মিষ্টতাও তত বাড়ত। শীতের সঙ্গে রয়েছে খেজুর রসের এক অপূর্ব যোগাযোগ। গৌরব আর ঐতিহ্যের প্রতীক মধুবৃক্ষ থেকে সুমধুর রস বের করে গ্রামের ঘরে ঘরে পুরোদমে শুরু হতো পিঠা, পায়েস ও গুড় পাটালী তৈরির ধুম। গ্রামে গ্রামে খেজুরের রস দিয়ে তৈরি করা নলের গুড়, ঝোলা গুড়, দানা গুড় ও পাটালী গুড়ের মিষ্টি গন্ধে যেন মৌ মৌ করত এলাকা। খেজুর রসের পায়েস, রসে ভেজা পিঠাসহ বিভিন্ন সুস্বাদু খাবারের জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু কালের বির্ততনে প্রকৃতি থেকে খেজুরের রস একেবারেই হারিয়ে যেতে বসেছে। এখনই পদক্ষেপা না নিলে আমরা হয়তো তা চীরতরে হারিয়ে ফেলব।
ঐতিহ্যবাহী এ খেজুর রসের উৎপাদন বাড়াতে হলে টিকিয়ে রাখতে হবে খেজুর গাছের অস্তিত্ব। সে জন্য পরিবেশ আইন যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে ইটভাটাসহ যেকোনো বৃক্ষ নিধনকারীদের হাত থেকে খেজুর গাছ রক্ষা করতে হবে।
ইতিমধ্যে কৃষি বিভাগ থেকেও কৃষকদের খেজুরগাছ লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাড়ির আনাচে-কানাচে, রাস্তার পাশে পর্যাপ্ত পরিমাণ খেজুর গাছ রোপণ করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তা রক্ষা পাবে, শীত মৌসুমে খেতে পারবে তারা খেজুর রসের পিঠা-পুলি-পায়েস।
সর্বশেষ সংবাদ
  • জার্মানী, সুইডেন ও ইইউ’র রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি জোরালো সমর্থন রাবি ছাত্রী অপহরণ : সাবেক স্বামীসহ ২ জনকে ১ দিনের রিমান্ড বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করবো : প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে : সমাবেশে বক্তারা গেইল-ম্যাককালামের ব্যর্থতায় কুমিল্লার কাছে রংপুরের পরাজয়রাবির অপহৃত ছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার : নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কাটেনিআজ নাগরিক সমাবেশে : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ফিরে পাবে একাত্তরের ৭ মার্চের আবহমিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা বন্ধে জাতিসংঘের আহবান‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে’টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে ২৬ কোটি ডলার দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি'র নেতৃত্বাধীন জোটসংসদীয় আসনের সীমানা পুন:নির্ধারণ আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করেছে ইসিজিম্বাবুয়ের সেনা কর্মকর্তারা অভ্যুত্থানের কথা অস্বীকার করেছেনএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেয়নি : সিইসিআজ ভয়াল ১৫ নভেম্বর : স্বজন হারাদের কাঁন্না থামেনি আজও মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যমান চিনি আইন রহিতের সিদ্ধান্তমহানগরী ঢাকাকে ‘সেফনগরী’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন ১০ কার্য দিবস চলবেস্থানীয় সরকারের অধীন দেশের ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানে ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণবিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না : খালেদা জিয়া
  • জার্মানী, সুইডেন ও ইইউ’র রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি জোরালো সমর্থন রাবি ছাত্রী অপহরণ : সাবেক স্বামীসহ ২ জনকে ১ দিনের রিমান্ড বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করবো : প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে : সমাবেশে বক্তারা গেইল-ম্যাককালামের ব্যর্থতায় কুমিল্লার কাছে রংপুরের পরাজয়রাবির অপহৃত ছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার : নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কাটেনিআজ নাগরিক সমাবেশে : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ফিরে পাবে একাত্তরের ৭ মার্চের আবহমিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা বন্ধে জাতিসংঘের আহবান‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে’টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে ২৬ কোটি ডলার দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি'র নেতৃত্বাধীন জোটসংসদীয় আসনের সীমানা পুন:নির্ধারণ আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করেছে ইসিজিম্বাবুয়ের সেনা কর্মকর্তারা অভ্যুত্থানের কথা অস্বীকার করেছেনএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেয়নি : সিইসিআজ ভয়াল ১৫ নভেম্বর : স্বজন হারাদের কাঁন্না থামেনি আজও মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যমান চিনি আইন রহিতের সিদ্ধান্তমহানগরী ঢাকাকে ‘সেফনগরী’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন ১০ কার্য দিবস চলবেস্থানীয় সরকারের অধীন দেশের ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানে ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণবিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না : খালেদা জিয়া
উপরে