প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি, ২০১৭ ০৩:১০:৫৫
খেজুরের রস-গুড়ের সুভাসে মাতোয়ারা দক্ষিণ জনপদ
বাংলাদেশ বাণী, মীর ইমরান মাহমুদ, তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : দেশের দক্ষিণ অঞ্চলসহ সাতক্ষীরা জেলার উপজেলা তালায় প্রকৃতিতে শীত জেঁকে বসায় খেজুরগাছ থেকে মধুরস আহরণ শুরু হয়েছে। বৃহত্তর সাতক্ষীরাঞ্চলের ঐহিত্য খেজুররস ঘিরে গ্রামীণ জনপদে শুরু হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
রসের পাশাপাশি সাতক্ষীরা তালাসহ বিভিন্ন উপজেলার হাটবাজারে বিক্রি হচ্ছে খেজুরগুড়ের সুস্বাদু পাটালি। গুড়ের মৌ মৌ গন্ধে ভরপুর হাটবাজারগুলো। এই রস ও গুড় দিয়ে পাড়া - মহল্লায় তৈরি হচ্ছে নানা প্রকার পিঠা-পায়েস। এদিকে খেজুররস ও গুড়ের ঐহিত্য বাঁচিয়ে রাখতে পথে-প্রান্তরে, মাঠে-ঘাটে বেশি করে খেজুরগাছ রোপণ এবং রক্ষণাবেক্ষণে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন গাছিরা, পরিবেশবিদ ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।
এক্ষেত্রে খেজুরগাছ রোপণে গাছি ও কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে ‘কৃষি প্রণোদনা’ চালুর দাবি করেছেন সবাই। তালা উপজেলার রহিমাবাদ গ্রামের গাছি মোসলেম (৫০) জানান, এ বছর ৯০টি খেজুর গাছ তুলেছেন (রস উপযোগী) তিনি। কোনো গাছে রস আসতে শুরু করেছে, আবার কোনো গাছে বুথি (গাছ তোলার দ্বিতীয় পর্ব) টেনে নলি দেওয়ার অপেক্ষায় আছেন। তিনি আরো জানান, খেজুর গাছ থেকে সপ্তাহে সাধারণত দুই-তিনবার রস বের করা হয়। গাছের অবস্থা বুঝে (গাছ শক্ত হলে) সপ্তাহে পরপর আরও বেশী রস বের করেন গাছিরা। আর অগ্রহায়ণের মাঝামাঝী থেকে ফালগুন মাসের মাঝামাঝী পর্যন্ত খেজুররস সংগ্রহ করা যায়।
উপজেলার চরগ্রামের মশিউর (৩৫) বলেন, ‘কোনো প্রকার ভেজাল ছাড়াই আমরা বাড়িতে গুড় তৈরি করি। প্রতি কেজি পাটালির দাম রাখা হয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। আর এক ঠিলে (ভাড়) রস বিক্রি করি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে’। আগোলঝাড়া গ্রামের রফিকুল (৩০) জানান, খেজুর রস ও শুকনো নারকেল (ঝুনা) একসঙ্গে জ্বালিয়ে ‘নারকেল-পাটালি’ তৈরি করা হয়। এই নারকেল-পাটালি স্বাদে অতুলনীয়। প্রতিকেজির দাম ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা। একই হাজরাকাটি গ্রামের মনিরা বেগম (৫৫) বলেন, ‘রস দিয়ে পাটালি, নারকেল-পাটালি, জমাটবাঁধা গুড় ও পাতলা গুড় তৈরি করি।
এসব গুড় বাড়ি থেকেই কিনে নেন ক্রেতারা। অনেক সময় বাজারেও বিক্রি করা হয়। প্রায় দুই ভাড় রস দিয়ে এক কেজি গুড় তৈরি করা যায়’। গোনালী গ্রামের গাছি সফিকুল (৪৫) ও মকছেদ (৪৭) জানান, জ্বালানির অভাব এবং কাঁচা রসের চাহিদা থাকায় গুড়ের চেয়ে রস বিক্রি করা লাভ বেশী। তাই রস বিক্রি করেন তারা। পাটকেলঘাটা বাজারের কয়েকজন গুড় বিক্রেতা জানান, স্থানীয় গাছিদের খেজুরগুড় ছাড়াও সাতক্ষীরা ও দক্ষীণঞ্চলের গুড় সাতক্ষীর, পাটকেলঘাটা ও ঝাওডাঙ্গা হাটবাজারগুলোতে বিক্রি হচ্ছে। গুড়ের মৌ মৌ গন্ধে ভরপুর হাটবাজারগুলো। বাজারে পাটালি ও জমাটবাঁধা গুড়ের চাহিদা বেশি।
তারা বলছেন, প্রতিদিন ভোরে গাছিদের কাছ থেকে চাহিদামতো রস কিনে নিচ্ছেন ক্রেতারা। জাতপুরের গুড় বিক্রেতা লতিফ হোসেন বলেন, ‘বাজারের গুড় চিনিমিশ্রিত কিনা, তা সহজে বোঝা যায় না। তাই বিক্রির সময় শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারছি না’। ক্রেতারা জানান, দাম একটু বেশি হলেও ভালো মানের রস ও গুড় কিনতে চান তারা। যে রস ও গুড়ে চিনি মিশ্রিত থাকবে না। খাজরা গ্রামের স্মৃতি বেগম ও সোনালী বেগম তেতুলীয়া এলাকার জোসনা জানান, খেজুর রস ও গুড় দিয়ে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে রসচিতই, পুলি, ভাপা, হাতসেমাই পিঠা এবং পায়েস তৈরি হচ্ছে।
দুধভাতের সঙ্গেও অনেকে গুড় খেয়ে থাকেন। রসের বেশি প্রয়োজন হয় রসচিতই ও পায়েস তৈরিতে। এছাড়া শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ শীতের সকালে খেজুররসের স্বাদ নিচ্ছেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে ভাইরাসের আশংকায় কাঁচা রস পানের ক্ষেত্রে সর্তক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
মওসুমি পিঠা বিক্রেতারা জানান, গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন গলিপথ, বাজার মোড়সহ লোকালয়ে চিতই, পুলি ও ভাপাপিঠার চাহিদা রয়েছে। এদিকে, আগের তুলনায় খেজুরগাছের সংখ্যা যেমন কমেছে, তেমনি কমেছে গাছির সংখ্যাও।
খেজুরগাছ মালিক হাবলে শেখপাড়া জানান, গাছির অভাবে তাদের ৩৫টি গাছ থেকে দুই বছর রস আহরণ সম্ভব হচ্ছে না। অথচ, সাত বছর আগেও তিনি চাহিদা মিটিয়ে রস বিক্রি করেছেন। তিনি আরো জানান, কয়েক বছর গাছ কাটা না (তোলা) হলে ওই গাছ থেকে পরে রস বের করতে গাছিদের অনেক বেগ পেতে হয়। জেয়ালা নলতা গ্রামের জাহিদ হোসেন জানান, একটি খেজুরগাছ তুলতে (রস উপযোগী করতে) গাছের ধরন অনুযায়ী গাছিকে দিতে হয় ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে। আর রস আহরণের দিন গাছিকে প্রতি ভাড়ের (মাটির কলস) অর্ধেক রস দেওয়ার নিয়ম তো আছেই।
খলিলনগর বাজারের ব্যবসায়ী সুজন বলেন, ‘ইটভাটায় দাহ্য কাঠ হিসেবে খেজুরগাছের চাহিদা থাকায় কাঠব্যবসায়ী এবং ভাটামালিকরা খেজুরগাছের দিকেই বেশি নজর দেন। ছোট ছোট খন্ড করে (আঞ্চলিক ভাষায় গুল) ইটভাটায় খেজুরগাছ দেওয়া হয়। এতে আশংকাজনক হারে খেজুরগাছ কমেছে’।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সাতক্ষীরা জেলা শাখার আহ্বায়ক বলেন, ‘বিগত ১৫ বছরে ব্যাপক হারে ইটভাটায় খেজুরগাছের অপব্যবহার হয়েছে।
নির্বিচারে খেজুরগাছ কাটা হলেও সেই তুলনায় বা তার চেয়ে বেশি খেজুরগাছ রোপণ করা হয়নি’। ‘এ কারণে গ্রামাঞ্চলের পথে-প্রান্তরে এবং বিলের ধারে আগের মতো খেজুরগাছের সারী চোখে পড়ে না। ইটভাটায় খেজুরগাছের অপব্যবহার বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ দরকার’। তিনি আশংকা প্রকাশ করে বলেন, ‘এভাবে খেজুর গাছের সংখ্যা কমতে থাকলে এক সময় হয়তো খেজুররস ও গুড় অতীত হয়ে যাবে’। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সাতক্ষীর উপ-পরিচালক জনার মোঃ আব্দুল মান্নান বলেন, ‘এ জেলায় ১০০ হেক্টর জমিতে খেজুরগাছ রয়েছে। এ বছর ৯১২ মেট্রিক টন গুড় উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। রস ও গুড় গাছিদের জন্য লাভজনক। এক্ষেত্রে বিভিন্ন সড়কসহ জমিতে খেজুরগাছ লাগানোর জন্য কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টি করা হচ্ছে’।
তবে, জেলায় কতটি খেজুর গাছ রয়েছে; সেই পরিসংখ্যান নেই কৃষি বিভাগের। এদিকে গাছিরা জানান, শীত যত বেশি জেঁকে বসবে, তত বেশি রস সংগ্রহ করা যাবে। এক্ষেত্রে রস ও গুড় বিক্রি করে আরো বেশি লাভবান হবেন বলে আশা করছেন গাছিরা।
সর্বশেষ সংবাদ
  • গাজীপুরে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনের ব্যাপক প্রস্তুতিকলম্বিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপে শুভ সূচনা করলো এশিয়ার দল জাপানদলীয় মনোনয়ন নিয়ে নানামুখী আলোচনা ॥ বরিশালে সিটি’তে চার মেয়র প্রার্থীসহ ৪৭ জনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহআজিজ আহমেদকে নতুন সেনা প্রধান নিয়োগআনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্যদিয়ে রাজধানীসহ দেশজুড়ে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছেদু’বারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সাথে আইসল্যান্ডের ১-১ গোলে ড্রআজ খুশি'র ঈদ ❏ মুসলিম জাহানের সমৃদ্ধি কামণার অঙ্গীকারে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী'র পৃথক পৃথক বাণীপ্রধানমন্ত্রী গণভবনে আজ ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেনশেষ মুহূর্তের আত্মঘাতী গোলে বিশ্বকাপে মিসরকে হারালো উরুগুয়েআজ চাঁদ দেখা গেলে : শনিবার সারাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপননিজেদের মাঠে দাপুটে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করলো স্বাগতিক রাশিয়াঈদে অজ্ঞান ও মলম পার্টির দৌরাত্ম রোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর : আইজিপি ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা কাল আজ মহিমান্বিত পবিত্র লাইলাতুল কদরের রজনীআজ বাজারে আসছে নতুন ২ ও ৫ টাকা মূল্যমানের নোটনারী এশিয়া কাপ টি টোয়েন্টিতে ভারতকে হারিয়ে, বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করায়, প্রাণঢালা আন্তরিক অভিনন্দন।চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতমালয়েশিয়াকে ৭০ রানে হারিয়ে এশিয়া কাপের স্বপ্নের ফাইনালে বাংলাদেশ : প্রতিপক্ষ ভারত আজ শুরু হচ্ছে দশম জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন
  • গাজীপুরে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনের ব্যাপক প্রস্তুতিকলম্বিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপে শুভ সূচনা করলো এশিয়ার দল জাপানদলীয় মনোনয়ন নিয়ে নানামুখী আলোচনা ॥ বরিশালে সিটি’তে চার মেয়র প্রার্থীসহ ৪৭ জনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহআজিজ আহমেদকে নতুন সেনা প্রধান নিয়োগআনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্যদিয়ে রাজধানীসহ দেশজুড়ে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছেদু’বারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সাথে আইসল্যান্ডের ১-১ গোলে ড্রআজ খুশি'র ঈদ ❏ মুসলিম জাহানের সমৃদ্ধি কামণার অঙ্গীকারে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী'র পৃথক পৃথক বাণীপ্রধানমন্ত্রী গণভবনে আজ ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেনশেষ মুহূর্তের আত্মঘাতী গোলে বিশ্বকাপে মিসরকে হারালো উরুগুয়েআজ চাঁদ দেখা গেলে : শনিবার সারাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপননিজেদের মাঠে দাপুটে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করলো স্বাগতিক রাশিয়াঈদে অজ্ঞান ও মলম পার্টির দৌরাত্ম রোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর : আইজিপি ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা কাল আজ মহিমান্বিত পবিত্র লাইলাতুল কদরের রজনীআজ বাজারে আসছে নতুন ২ ও ৫ টাকা মূল্যমানের নোটনারী এশিয়া কাপ টি টোয়েন্টিতে ভারতকে হারিয়ে, বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করায়, প্রাণঢালা আন্তরিক অভিনন্দন।চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতমালয়েশিয়াকে ৭০ রানে হারিয়ে এশিয়া কাপের স্বপ্নের ফাইনালে বাংলাদেশ : প্রতিপক্ষ ভারত আজ শুরু হচ্ছে দশম জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন
উপরে