প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর, ২০১৭ ০১:৪১:২৬
বাজারে আসছে শীত কালিন সবজি : তবুও দাম চড়া
বাংলাদেশ বাণী, ফরিদুল মোস্তফা খান, কক্সবাজার থেকে : বাজারে উঠতে শুরু করেছে শীত কালিন সবজি, একই সাথে সরবরাহও আছে প্রচুর তবুও দামের কমতি নেই। এখনো জেলার বেশির ভাগ বাজারে ৬০ টাকার নীচে সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া নতুন আসা শীত কালিন সবজির দামও ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। এতে বাজার করতে এসে সস্তি ফিরছে না মানুষের মনে। বিশেষ করে নি¤œ আয়ের মানুষজন খুবই অস্বস্তির মধ্যে আছে।

এদিকে বিক্রেতাদের দাবী মাঠ পর্যায়ে সবজির দাম বেশি। আর চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম তাই বাজারে সবজির দাম কমছে না। আর জেলায় নতুন করে আসা ১০ লাখ রোহিঙ্গার কারনে সবজির দাম কমার সম্ভবনা আপাতত নেই বলে মনে করেন বেশির ভাগ ব্যবসায়ি।

১৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় শহরের কানাইয়া বাজারে গিয়ে মাছ তরকারী কেনারত অবস্থায় নুনিয়ারছড়া এলাকার বাসিন্দা রমিজ উদ্দিন (৪০) বলেন, আমি পেশায় টমটম চালক সারাদিন টমটম চালিয়ে ৮০০ টাকার মত আয় হয়েছে। এর মধ্যে গ্যারেজ ভাড়া এবং ব্যাটারী চার্জ খরচ বাদ দিলে আর ৫০০ টাকা থাকবে। এর মধ্যে বাজারে এসে মাছ তরকারী কিনতে গিয়ে সব টাকা শেষ হওয়ার পথে।

তিনি বলেন, দু মাস আগেও আলুর কেজি ছিল ১৫ টাকা সেই আলু এখন ৩৫ টাকা, কাচাঁ মরিচ কেজি কিনেছি ৩০ টাকা সেই কাচাঁ মরিচ এখন ১৩০ টাকা,বেগুন ছিল ১৮ টাকা সেই বেগুন এখন ৬০ টাকা, এছাড়া চাল কিনতে গিয়ে আরো খারাপ অবস্থা। আগে এক কেজি চাল কিনতাম ৩০ টাকার মধ্যে এখন সেই চাল কিনছি ৫৩ টাকা দিয়ে। অথচ আমরা ভাড়া বাড়িয়ে চাইলে পেসেঞ্জার গালিগালাজ করে। এ সময় বাজারে গিয়ে দেখা যায় বাজারে নতুন আসা সিম বিক্রি হচ্ছে কেজি ১০০ টাকা,বাধাকপি ১০০ টাকা, টমোটে কেজি ১২০ টাকা, বড় আলু কেজি ৬৫ টাকা, মুলার দাম এখনো ৬০ টাকা, বরবটি ৬৫ টাকা, পেপে ৫০ টাকা, ফুলকপি ৭০ টাকা,তিতাকরলা ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ সময় ব্যবসায়ি আবদুল গফুর বলেন, এখন সবজির দাম কম থাকার কথা, কিন্তু বাজারে সবজির তেমন মজুদ নেই। তাছাড়া মাঠ পর্যায়ে সবজির দাম বাড়তি তাই আমাদের কাছেও সবজির দাম বাড়তি এখানে আমাদের করার কিছুই নেই। তিনি বলেন কক্সবাজারে যতদিন রোহিঙ্গা থাকবে ততদিন বাজারের তরিতরকারীর দাম কমবে বলে মনে হয় না। আগে কোন দিন এত দামে সবজি বিক্রি করিনি। অন্যান্য বছর এই সময়ে কাঁচা মরিচ কেজিতে ২০ টাকা ছিল, মুলা ৫ টাকাও বিক্রি করেছি, ফুলকপি ১৫ টাকা বাধা কপি ১৫ টাকা দরে বিক্রি করেছি কিন্তু এখন সেই সবজি বিক্রি করছি তার ৩ গুন দামে এতে আমরা ওখুবই অস্বস্তি করা পরিবেশের মধ্যে আছি।

সকাল বেলা শহরের বাহারছড়া বাজারে গিয়ে দেখা যায় সেখানেও সবজির দাম আকাশ চুম্বি। এখানে শাঁক সবজিও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে, এ সময় বাহারছড়া এলাকার আবছার বলেন তরীতরকারির দামতো বাড়ছেই সাথে সাথে শাঁক সবজির দাম ও বেশ চড়া আগে যেই কলমী শাক ১০ টাকার ৩ আঠি দিত সেই কলমী শাঁক এক আঠি ১০ টাকা চাইছে। এছাড়া পালং শাক,লাল শাক,মুলা শাক, লাউ সহ সব কিছুর দাম দ্বিগুনের চেয়ে বেশি। এমনকি একটি লেবু বিক্রি করছে ১০ টাকায়। মানুষ কোথায় যাবে খাবে কি? আমার মতে মানুষের আয়ের সাথে ব্যায়ের ব্যাপক অসংগতি।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন বাংলাদেশে শুধু সরকারি কর্মচারীরা ছাড়া আর কেউ ভাল নেই। এক মাত্র তারাই ভাল আছে,সরকারি বিপুল পরিমান বেতনতো আছেই সাথে আছে বাড়তি টাকা। একই বাজারে ব্যবসায়ি মোহাম্মদ আলম বলেন মূলত পণ্যের চাহিদার উপরে নির্ভর করে দাম, যে পন্যের যত বেশি চাহিদা থাকে সেই পন্যের ততবেশি দাম বাড়ে আসলে এখন সব ধরনের সবজি বা তরিতরকারীর চাহিদা অনেক বেশি।

এছাড়া কক্সবাজারে বর্তমানে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার জন্য যে পরিমান খাদ্য দরকার সেই পরিমান খাদ্য এখানে উৎপাদন হচ্ছে না বরং চট্টগ্রাম থেকে সবজি আনতে হচ্ছে তাই সবজির দাম কমার কোন সম্ভবনা নেই বলে জানান তিনি। আরেক ব্যবসায়ি শরীফ বলেন আগে আমাদের সবজি চট্টগ্রামে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতে হতো এখন সেই পরিস্থিতি ভিন্ন এখন তাদের সবজি আমাদের বাজারে আনতে হচ্ছে। আগে রামুর বাজার থেকে আমরা পাইকারী সবজি কিনে খুচরা বাজারে বিক্রি করতাম এখন সেই পাইকারী ব্যবসায়ি বলছে প্রতিদিন সকাল বেলায় তার সব সবজি নিয়ে যাচ্ছে সরকারি বা বিভিন্ন সংস্থার লোকজন। বাইরে কোন সবজি বিক্রি করতে দিচ্ছে না। মুলত তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জন্য নিয়ে যায়। দৈনিক ১০ ট্রাকের মত মাল সেখানেই নিয়ে যাচ্ছে তাহলে আমাদের বাজারে কিভাবে সবজি বা তরকারী থাকবে ? তাই দাম বাড়তি সে জন্য দাম কমার সম্ভবনা আপাতত নেই বলে জানান তিনি।

এদিকে চকরিয়া বাজারের পাইকারী তরকারী ব্যবসায়ি আবদুস সালাম বলেন কক্সবাজারে সবচেয়ে বড় সবজির আড়ৎ চকরিয়ায় এখানে ১৮টি ইউনিয়নের বেশির ভাগ মানুষই চাষী এবং প্রত্যেকে নিজেদের উৎপাদিত ফলফলাদি বিভিন্ন ভাবে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালায়। তিনি বলেন আগে আমাদের সবজি চট্টগ্রামে নিয়ে যেতাম কিন্তু এখন মাঠ থেকেই সবজি কিনে নিয়ে যাচ্ছে অনেকে। চাষীকে আর সবজি নিয়ে বাজারে যেতে হয় না। কারন এত বেশি চাহিদা যার ফলে সবজির দাম মাঠ পর্যায়েও অনেক বেশি। তবে সেক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ের চাষীরা বেশ লাভবান হচ্ছে বলে জানান তিনি।
 
সর্বশেষ সংবাদ
  • ঢাকা উত্তর সিটি'র উপ-নির্বাচনে আদালতের ৩ মাসের স্থগিতাদেশসুন্দরবনের ৩ কুখ্যাত জলদস্যুবাহিনীর প্রধানসহ ৩৮ জনের আত্মসমর্পণজাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণ : ভবিষ্যতে বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্যের দাবি প্রধানমন্ত্রী'ররাজধানী'র জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের সফল অভিযান : ৩ মৃতদেহ ও বিস্ফোরক উদ্ধারপদোন্নতি পেলেন বঙ্গবন্ধু'র খুনিদের গ্রেফতারকারী প্রথম পুলিশ অফিসারবিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণীআম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বরাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট : জনমনে ক্ষোভ জঙ্গি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনী সফল হয়েছে : আইজিপিঅর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি'র সভায় ১৩টি প্রকল্প অনুমোদনপুলিশকে আমি সব সময় আইনের রক্ষকের ভূমিকায় দেখতে চাই : প্রধানমন্ত্রীফারমার্স ব্যাংক কর্তৃক-জলবায়ু ট্রাস্ট তহবিলসহ আমানতকারীদের অর্থ ফেরত না দেয়ায় টিআইবি’র উদ্বেগসুন্দরগঞ্জের আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ : এইচ. এম. এরশাদজঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে পুলিশের সাফল্য দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে : প্রধানমন্ত্রীমাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ এ মাসেই শুরু হচ্ছেযশোরে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সন্ত্রাসী পালসার বাবু নিহতদেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই বিতরণ উৎসব২০১৭'র বিদায় : নতুন বছর ২০১৮ কে বরণ করে নিল জাতিঅগ্রগতি ৫০ শতাংশের বেশি ॥ যথা সময়ে শেষ হবে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ : কাদেররাবির স্নাতক প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু ২১ জানুয়ারি
  • ঢাকা উত্তর সিটি'র উপ-নির্বাচনে আদালতের ৩ মাসের স্থগিতাদেশসুন্দরবনের ৩ কুখ্যাত জলদস্যুবাহিনীর প্রধানসহ ৩৮ জনের আত্মসমর্পণজাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণ : ভবিষ্যতে বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্যের দাবি প্রধানমন্ত্রী'ররাজধানী'র জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের সফল অভিযান : ৩ মৃতদেহ ও বিস্ফোরক উদ্ধারপদোন্নতি পেলেন বঙ্গবন্ধু'র খুনিদের গ্রেফতারকারী প্রথম পুলিশ অফিসারবিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণীআম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বরাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট : জনমনে ক্ষোভ জঙ্গি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনী সফল হয়েছে : আইজিপিঅর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি'র সভায় ১৩টি প্রকল্প অনুমোদনপুলিশকে আমি সব সময় আইনের রক্ষকের ভূমিকায় দেখতে চাই : প্রধানমন্ত্রীফারমার্স ব্যাংক কর্তৃক-জলবায়ু ট্রাস্ট তহবিলসহ আমানতকারীদের অর্থ ফেরত না দেয়ায় টিআইবি’র উদ্বেগসুন্দরগঞ্জের আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ : এইচ. এম. এরশাদজঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে পুলিশের সাফল্য দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে : প্রধানমন্ত্রীমাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ এ মাসেই শুরু হচ্ছেযশোরে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সন্ত্রাসী পালসার বাবু নিহতদেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই বিতরণ উৎসব২০১৭'র বিদায় : নতুন বছর ২০১৮ কে বরণ করে নিল জাতিঅগ্রগতি ৫০ শতাংশের বেশি ॥ যথা সময়ে শেষ হবে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ : কাদেররাবির স্নাতক প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু ২১ জানুয়ারি
উপরে