প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর, ২০১৭ ০২:৫৬:১৬
আমতলীতে সুবন্দি বাঁধ মরণ ফাঁদে পরিণত : হুমকির মুখে কৃষি ও মৎস্যখাত
বাংলাদেশ বাণী, আব্দুল্লাহ আল নোমান, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি : সুষ্ঠু পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় আমতলী উপজেলার সুবন্দি বাধ এখন লাখো মানুষের মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে। বাঁধের কারনে কৃষি ও গৃহস্থলি কাজে খালের পানি ব্যবহার করতে না পারায় চাওড়া খালের দুপাড়ের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

পানির প্রবাহ না থাকায় খালে কচুরিপানায় ভরে গেছে এবং পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পরেছে । গবাদী পশুও খালের পানি পান করতে পারছে না। ঘরে ঘরে চর্মরোগ এবং পচা দুর্গন্ধের কারনে এলাকায় মারাÍক পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা দেখা দিয়েছে।

১৯৬৫-১৯৬৬ অর্থ বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড আমতলী উপজেলার সুবন্ধি নামক স্থানে বাঁধটি নির্মান করলেও ১৯৮৬ সনে জনগনের দাবীর মুখে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান বাঁধটি কেটে দেয়। ২০০৯ সনে জনগণের দাবী এবং বাধা উপেক্ষা করে পানি উন্নয়ন বোর্ড পুনরায় বাধটি নির্মান করে।

তখন থেকেই বর্ষা মৌসুমে সুষ্ঠু পানি নিষ্কাশন এবং শুকনো মৌসুমে সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে বাধ কাটার দাবি করা হচ্ছে। জনগণের কৃষি এবং জীবন জীবিকার সমস্যা বিবেচনা করেই স্থানীয়রা বাধ কাটার দাবীতে জন  প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ খালের দুপাড়ের ক্ষতিগ্রস্থ জনসাধারণ মিছিল, মিটিং, মানব বন্ধন ও সাংবাদিক সম্মেলন ও স্মারক লিপি প্রদানসহ বিভিন্ন পর্যায়ে আন্দোলন করেছে।

এসব কার্যক্রমের ফলে বরগুনা জেলা প্রশাসন এলাকার দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষক ও জেলেসহ ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের জীবন ও জীবিকার কথা বিবেচনা করে সমস্যা সমাধানে বাস্তব ভিত্তিক পদক্ষেপ নেয়ার জন্য পাচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তাদের সুপারিশও উপেক্ষা করে পানি উন্নয়ন বোর্ড সুবন্দি পয়েন্টে ২ ভেন্টের আরেকটি স্লুইজ নির্মান করলেও পানির প্রবাহ নিশ্চিতকরণ এবং কচুরিপানা অপসারণে কার্যত: কোন ফলাফল বয়ে আনেনি। আমতলী কৃষি প্রধান অঞ্চল।

এখানকার ৯০ ভাগ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী এ উপজেলায় ৪৭,৪০৩ টি কৃষি পরিবার রয়েছে। তার মধ্যে ২,৪৩৯ টি বড়, ৭,১১০ টি মধ্যম, ১৮৬২৩ টি ক্ষুদ্র ও ১৩,০৯৮ টি প্রান্তিক কৃষি পরিবার এবং ভূমিহীন পরিবারের সংখ্যা ৫, ৭৩৩ টি। আমতলী উপজেলায় মোট জমির পরিমান ৪০,৯২৭ হেক্টর এবং নীট ফসলী জমি ৩৮, ৫০০ হেক্টর। এরমধ্যে ১৫৫০০ হেক্টর এক ফসলী জমি ১৭,৯০০ হেক্টর দুই ফসলী জমি, এবং ৫, ১০০ হেক্টর তিন ফসলী জমি।

উপজেলায় মোট খাদ্য শস্যের চাহিদা ৪৫, ১১৫ মেট্রিক টন। কিন্তু উৎপাদন ৬৭, ২৮৭ মেট্রিক টন। সে বিবেচনায় আমতলী উপজেলা খাদ্যে উদ্ধৃত্ত অঞ্চল। কিন্তু সুবন্ধি বাঁধের কারনে বিগত কয়েক বছর ধরে খাদ্য উৎপাদন অনেক কমে গেছে বলে এলাকার মানুষের ধারণা। তিনটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমির উপর সরাসরি বিরুপ প্রভাব পড়েছে। বাঁধের কারনে পলি মাটির অভাবে জমির উর্বরা শক্তি আগের মতো নেই। এ কারনে ফসল উৎপাদন অনেক কমে গেছে।

মৎস্য চাষ : এ উপজেলায় ৭টি নদী, ৮২টি খাল এবং জলাশয়ের সংখ্যা ২০,৪২৭টি। এসব বদ্ধ ও উন্মুক্ত জলাশয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ জন্মে। ডানিডাও মৎস্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় আমতলীতে ৫১৬ টি ঘেরে গলদা চিংড়ি ও ৩৭ টি খামারে বাগদার চাষ হচ্ছে।

অন্যদিকে ও ওয়ার্ল্ড ফিস সেন্টারের সহযোগিতায় বেসরকারি সংস্থা এনএসএস ৩, ৪০৫ পুকুরে আধা নিবিড় পদ্ধতিতে মাছ চাষে চাষীদের মাছের পোনা, ফিসিং নেট ও প্রযুক্তি দিয়ে সহযোগিতা করছে। এ উপজেলায় মাছের বার্ষিক চাহিদা ৪,৭৮০ মেঃ টন এবং উৎপাদন ৬,৭০০ মেট্রিক টন। সে বিবেচনায় আমতলী মৎস্য উৎপাদনেও উদ্ধৃত্ত।

কিন্তু সুবন্দি বাঁধের কারণে এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আর সম্ভব হচ্ছে না বলে মৎস্য বিভাগের অভিমত, কারণ তিনটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ত্রিশটি গ্রামে পানির সংকটের কারণে মৎস্য চাষ চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে ও মাছের স্বাভাবিক প্রজনন বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে।

পশু সম্পদ : আমতলী উপকূলীয় অঞ্চল হলেও বানিজ্যিক পোল্ট্রি বা গবাধি পশুর খামার তেমনভাবে গড়ে ওঠেনি।পারিবারিকভাবে হাঁস-মুরগি পালন এবং জমিতে চাষের ও দুধ খাবারের জন্য এলাকার কৃষকেরা পশুপালন করেন। বর্তমানে এখানে ২০টি গাভীর খামার, ৪৬টি মুরগি, ১০টি ছাগল, ৪টি ভেড়া এবং ২৫টি হাঁসের খামার রয়েছে।
সরকারি হিসেবে এখানে বার্ষিক ডিমের চাহিদা ১ কোটি ৮০ লাখ এবং উৎপাদন ১ কোটি ৮ লাখ। অন্যদিকে দুধের চাহিদা বার্ষিক ১৭,২৮০ মেট্রিক টন কিন্তু উৎপাদন ৯,০০০ মেট্রিক টন। মাংসের চাহিদা ৪৩২০ মেট্রিক টন কিন্তু উৎপাদন ৯৩০ মেট্রিক টন।

সুবন্দি বাঁধের কারণেই ঘাটতি ক্রমান্ময়ে বেড়েই চলেছে। কারণ এলাকায় দেখা দিয়েছে চরম পানি সংকট। পানির অভাবে অনাবাদি জমি ও মাঠে কোন ঘাস জন্মায় না। দূষিত পানিতে গরু ও মহিষের এর গোসল করানো ও খাবার পানির সমস্যা তীব্র। বিশেষ করে মহিষ পালন প্রায় অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে কারণ আমরা জানি মহিষ পানিতে থাকতে অভ্যস্ত। যেহেতু শুকনা মৌশুমে খাল বিল ডোবা নালা ও পুকুর একেবারে পানি শূন্য হয়ে পড়ে তাই মহিষ পালন সম্ভব নয়।

এমনিভাবে বাঁধের কারণে এলাকার পশুপালন বিঘ্ন ঘটছে ও খাদ্য ঘাটতি বিশেষকরে পুষ্টির ঘাটতি বেড়েই চলছে। এ সমস্যা পরিবেশ বান্ধব এবং স্থায়ী সমাধানের মাধ্যমে কৃষি ও কৃষক বাচানো এবং খালের দুপাড়ের ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের জীবন জীবিকা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরী। সেজন্য প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ বিশেষ করে জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, মৎস্য বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক সুশীল সমাজ, মানবাধিকার কর্মী, জনসংগঠন ও বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠনসহ স্থানীয় মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা।

সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করার মাধ্যমে এলাকার সবস্তরের মানুষকে বাঁধের কারণে সৃষ্ট সমস্যা স¤পর্কে সচেতন করা এবং সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া।এ বিষয় নিয়ে গত ২০ অক্টোবর, ২০১৭ বরিশাল সার্কিট হাউসে সুবন্ধি সমস্যা নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মত বিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের সচিব মো: আব্দুল মালেক, বরিশালের জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান, বরগুনা জেলা প্রশাসক মো: মোকলেচুর রহমান, এডিসি রাজস্ব মো: মাহবুব আলম, আমতলী উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম দেলোয়ার হোসেন, আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সরোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।
 
সর্বশেষ সংবাদ
  • রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে হবে : ওআইসি২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশের-প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ৯ হাজার মেগা: বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা রয়েছেআগামী ৩০ অক্টোবরের পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল : ইসি সচিবশেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি আজ ৫'শ মেগা: বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্বোধন করবেনডেঙ্গু বিস্তারের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদেরদশম জাতীয় সংসদের ২২ তম অধিবেশন চলাকালীন ডিএমপি'র নিষেধাজ্ঞাশক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমি-ফাইনালের পথে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ৫১ হজ ফ্লাইটে ১৮ হাজার ৬৯৩ জন হাজী দেশে ফিরেছেনএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষে : ইসি সচিবরুট পারমিটবিহীন যান চলাচল বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশসমূদ্র বন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছেরোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের বিচার আহ্বান জাতিসংঘের তদন্তকারীদলের ঝিকরগাছা পৌর আ'লীগের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনের অন্তিম বিদায় থাইল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ষষ্ঠ স্থান নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশআজ জাতীয় বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুলের ৪২ তম মৃত্যুবার্ষিকী শোলাকিয়া ময়দানে দেশের বৃহত্তম ঐতিহাসিক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিতত্যাগের মহিমায় সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিতসন্দেহ নেই গ্রেনেড হামলায় খালেদা-তারেক জড়িত ছিল : প্রধানমন্ত্রীআজ ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত পবিত্র ঈদুল আজহাগ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে অস্থায়ী শহীদ বেদীতে প্রধানমন্ত্রী'র শ্রদ্ধা
  • রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে হবে : ওআইসি২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশের-প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ৯ হাজার মেগা: বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা রয়েছেআগামী ৩০ অক্টোবরের পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল : ইসি সচিবশেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি আজ ৫'শ মেগা: বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্বোধন করবেনডেঙ্গু বিস্তারের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদেরদশম জাতীয় সংসদের ২২ তম অধিবেশন চলাকালীন ডিএমপি'র নিষেধাজ্ঞাশক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমি-ফাইনালের পথে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ৫১ হজ ফ্লাইটে ১৮ হাজার ৬৯৩ জন হাজী দেশে ফিরেছেনএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষে : ইসি সচিবরুট পারমিটবিহীন যান চলাচল বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশসমূদ্র বন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছেরোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের বিচার আহ্বান জাতিসংঘের তদন্তকারীদলের ঝিকরগাছা পৌর আ'লীগের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনের অন্তিম বিদায় থাইল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ষষ্ঠ স্থান নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশআজ জাতীয় বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুলের ৪২ তম মৃত্যুবার্ষিকী শোলাকিয়া ময়দানে দেশের বৃহত্তম ঐতিহাসিক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিতত্যাগের মহিমায় সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিতসন্দেহ নেই গ্রেনেড হামলায় খালেদা-তারেক জড়িত ছিল : প্রধানমন্ত্রীআজ ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত পবিত্র ঈদুল আজহাগ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে অস্থায়ী শহীদ বেদীতে প্রধানমন্ত্রী'র শ্রদ্ধা
উপরে