প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:১৬:৩৭
কৃষিতে সু’খবর : ‘বছরব্যাপী ফল চাষে-পুষ্টি অর্থ দুই’ই আসে’
বাংলাদেশ বাণী, ইউসুফ আলী, নকলা, (শেরপুর) প্রতিনিধি : বছরব্যাপী ফলের উৎপাদন বৃদ্ধিসহ নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি ও ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করতে হবে। ফলের চাষ বৃদ্ধি করে বিদেশি ফলের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে। দেশি ও রপ্তানিযোগ্য ফলের উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে হবে।
দেশের ঐতিহ্যবাহী বিলুপ্তপ্রায় ফলগুলোকে হারিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষার জন্য সকলকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে সেজন্য দেশীয় ফলের জার্মপ্লাজম সংরক্ষণের ওপর তিনি গুরুত্ব¡ারোপ করতে হবে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করলেও উদ্যান ফসল উৎপাদনে এখনো পিছিয়ে। এ কারণে পাহাড়ি ও উপকূলীয় জমিতে ফলের গাছ রোপণ ও বসতভিটাকে উদ্যান ফসলের আওতায় আনতে হবে।

এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সারা বছর ফল চাষ হলে রাসায়নিক মুক্ত নিরাপদ ফলের আড়ৎসহ স্থানীয় বাজার গড়ে উঠবে এবং দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে। দেশের ৮ বিভাগের ৪৫ জেলার ৩৬২ উপজেলায় এ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ৬০টি হর্টিকালচার সেন্টারের আওতাধীন উদ্যান ফসল উৎপাদনের জন্য অধিক উপযোগী এলাকা প্রকল্প হিসেবে নির্বাচন করা হয়। পার্বত্য ও দক্ষিণাঞ্চলীয় পিছিয়ে পড়া জেলাগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে অন্যান্য জেলায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
জুলাই ২০১৫ হতে জুন ২০২০ সাল পর্যন্ত ৫ বছর প্রকল্পের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯৫ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন সময়সীমায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৪৫ লক্ষ পরিবার সুবিধা ভোগ করবে।
সারা বছর ধরে ফলন পাওয়া যায় এমন ফলের জাত সম্প্রসারণ, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা, হর্টিকালচার সেন্টার সমূহের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিসহ আধুনিক পদ্ধতিতে উন্নত জাতের ফল চাষ ও আহারের গুরুত্ব ব্যাপকভাবে তুলে ধরা হবে।LIMG1
প্রকল্পের আওতায় ১০ হাজার বাণিজ্যিক বাগান প্রদর্শনী, ৩ হাজার মিশ্র ফল বাগান প্রদর্শনী, ১হাজার ড্রাগন ফল বাগান প্রদর্শনী, ১৫ হাজার বসতবাড়ি প্রদর্শনী, ৫০ হাজার খাটো জাতের নারকেলের বসতবাড়ী প্রদর্শনী, ২৫০টি অপ্রচলিত ফলবাগান/নতুন প্রদর্শনী, ৩০০টি বিদ্যমান প্রদর্শনী পরিচর্যা কেন্দ্র, ৫০টি আধুনিক সেচ প্রদর্শনী, ৫০টি সোলার, ৫০টি ড্যাম প্রদর্শনী ও ১টি ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাও ১টি আরবান সেলস সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।
এছাড়া ২ লাখ ১০ হাজার কৃষক, ১২ হাজার নার্সারি মালিক ও বিক্রেতা, ১৫০০জন এসএএওকে পুষ্টি সচেতনতা ও আধুনিক উদ্যান ফসলবিষয়ক প্রযুক্তি, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ইত্যাদি বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

সব ধরনের ফলের পাশাপাশি দেশীয় আবহাওয়ার উপযোগী উৎপাদনযোগ্য বিদেশি ফলের উৎপাদনও বাড়ানো হচ্ছে। কৃষক ভাইয়েরা ফল বাগান কিভাবে করবেন: নতুন বাগান সৃষ্টি করতে হলে মাটির প্রকার, মাটির পিএইচ, বন্যামুক্ত, মাটি স্তরের গভীরতা, নির্নয় করে বাগান নির্ধারণ করতে হবে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক উন্নত জাতের চারা কলম নিজে তৈরি, অথবা বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
গরু ছাগল, ভেড়া, যাতে কোন ক্ষতি করতে না পারে তার জন্য বাগানে বেড়া দিতে হবে। বছরে কোন সময় কি ধরনের পরিচর্চা গ্রহণ পরিমিত সার প্রয়োগ, রোগ-পোকা দমন, পানি সেচ, নিস্কাশন ব্যবস্থা বার্ষিক ওয়ার্ক প্লান/ক্যালেন্ডার তৈরি করা দীর্ঘ মেয়াদী ফলবাগানে অর্ন্তবর্তী কালীন কি ধরনের সাথে ফসল আবাদ করা হবে এবং তা ফল বাগানের জন্য কতটুকু উপকারী তা বিবেচনায় নেয়া।
আম, লিচু, ড্রাগন ফল, কাগজী লেবু, কমলা, মাল্ট্রা, এধরণের ফল গাছ আলু সুবিধা যুক্ত উন্মোক্ত স্থানে এবং আনারস লটকন শরিফা, সিডলেস/এলাচি লেবু, এ ধরণের ফল আধা ছায়ায় ভালো হয়। কাজেই ফল আবাদ পরিকল্পনায় এসব বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

পেপে কাঠাল, শরিফা, আমড়া, আতা, এ ধরনের ফল বাগানে, পানি জমলে গাছ মারা যায় এবং নারিকেল, সুপারি, খেজুর, গোড়ার রস কমে গেলে গাছ বৃদ্ধি কমে যায়, বানিজ্যিক ভিত্তিতে ফল আবাদে অবশ্যই বাজার জাত করণ সুবিধা আছে কি না, পরিবহণ সুবিধা আছে কিনা, তা সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
যেসকল ফলের স্ত্রী পুরুষ গাছ তাল, লটকন, পেপে, আলাদা ভাবে (ডায়োসিসাস) সেগুলোর প্রায় ১৫টা স্ত্রী গাছের জন্য ১টা করে পুরুষ গাছ রেখে হেজ তৈরি করে জীবন্ত বেড়ার সৃষ্টি করতে এ বেড়ার ভিতরের অংশ, আমড়া, বারমাসি সজিনা, সুপারি, লাগিয়ে দু বছরের মধ্যে এগুলোকে পিলার বা বেড়া হিসেবে ব্যবহার করা এবং তা থেকে বাড়তি ফলন প্রাপ্তির ব্যবস্থা নেয়া। রোগ জীবানু মুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
বাগান লে-আউট রোপন দুরত্ব মাদা তৈরি জমি তৈরি প্রাথমিক সার প্রয়োগ, জমিকে অনেকটা সমান করে নিয়ে, যে ধরনে ফল লাগানো হবে তার জন্য সঠিক দুরত্বে গাছ লাগাতে হবে। চারাকলম সংগ্রহ: অধিকাংশ ফল গাছই অনেকটা স্থায়ী ধরণের। অনেক ক্ষেত্রে ৫০ বছরের অধিক কাল পর্যন্তও পাওয়া যায়।

এজন্য নিজের তৈরি অথবা জানাশুনা উন্নত জাতের চারা সংগ্রহ করতে হবে। রোপনের সময় ও পদ্ধতি: বর্ষার আগে বৈশাখ জেষ্ঠ্য মাস ফল গাছ লাগানোর উত্তম সময়। সেচ ও পানি নিকাশ সুবিধা থাকলে সারা বছরই গাছ লাগানো যায়। বিকেল বেলা গাছ লাগালে ভালো হয়। কলম লাগানোর সময় কোন ভাবেই গাছের গোড়ার শিকড়সহ মাটির বলটি ভেঙ্গে না যায়।
গাছের গোড়ার মাটি ঠিক রেখে টবটি ভেঙ্গে ফেলা ভালো। বীজ  থেকে তৈরি চারা সংগ্রহ কলম করা গাছ লাগানোর সুবিধা ও অসুবিধা এসব দিক সহজ পদ্ধতিতে বিবেচনা করতে হবে। খরচ কমাতে হবে। চারা লাগানো অসুবিধা সমূহ: একই গাছের বীজের চারা থেকে ভিন্ন জাতের গাছ হয়, মাতৃ গুণাগুণ রক্ষা করা যায় না। কতগুলো ফলের বেলায় আনারস, আপেল, কলা, বীজ থেকে চারা তৈরি অসুবিধা।
বীজের গাছে দেরীতে ফল ধরা আরম্ভ করে। কলম লাগালে সুবিধা: যে গাছ থেকে কলম করা হয় সে গাছের সব ধরনের গুণাগুণ বজায় থাকে। অপেক্ষকৃত কম বয়সে ফল ধরা শুরু করে। কলম লাগালে যে সকল অসুবিধা: কলম পদ্ধতিতে লেবুর ক্যাংকর রোগ বিস্তার হয়। অন্যান্য ফলের বিভিন্ন রোগ বালাই বিস্তার হতে পারে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বছর ব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মেহেদী মাসুদ, ডিপিডি কৃষিবিদ নুরুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

প্রকল্পটি ইতি পূর্বেই আলোর মুখ দেখেতে শুরু করেছে। আগামীতে এ প্রকল্পের সুবিধা প্রকল্প ভূক্ত এলাকার সকলেই ভোগ করতে পারবে। কৃষিতে অন্যতম এ প্রকল্পটি বাংলাদেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা অনুযায়ী অনেকাংশেই পুষ্টির অভাব পুরণ করতে সক্ষম হবে।
কৃষক পর্যায়ে এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে বলে মাঠ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। প্রকল্পটি ২০১৫ সালের জুন মাসে শুরু হয় শেষ হবে ২০২০ সালে। মেয়াদ ৫ বছর পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের পরামর্শ কৃষিবিদদের সহযোগীতা, কৃষি অধিদপ্তরের অতিসচেতনার কারণে সফলতার আলো শতভাগ পুরণ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী। প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মেহেদী মাসুদ সকল জেলায় গিয়ে কৃষক ও প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের মধ্যে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি করে চলেছেন।  
 
সর্বশেষ সংবাদ
  • ঢাকা উত্তর সিটি'র উপ-নির্বাচনে আদালতের ৩ মাসের স্থগিতাদেশসুন্দরবনের ৩ কুখ্যাত জলদস্যুবাহিনীর প্রধানসহ ৩৮ জনের আত্মসমর্পণজাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণ : ভবিষ্যতে বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্যের দাবি প্রধানমন্ত্রী'ররাজধানী'র জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের সফল অভিযান : ৩ মৃতদেহ ও বিস্ফোরক উদ্ধারপদোন্নতি পেলেন বঙ্গবন্ধু'র খুনিদের গ্রেফতারকারী প্রথম পুলিশ অফিসারবিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণীআম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বরাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট : জনমনে ক্ষোভ জঙ্গি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনী সফল হয়েছে : আইজিপিঅর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি'র সভায় ১৩টি প্রকল্প অনুমোদনপুলিশকে আমি সব সময় আইনের রক্ষকের ভূমিকায় দেখতে চাই : প্রধানমন্ত্রীফারমার্স ব্যাংক কর্তৃক-জলবায়ু ট্রাস্ট তহবিলসহ আমানতকারীদের অর্থ ফেরত না দেয়ায় টিআইবি’র উদ্বেগসুন্দরগঞ্জের আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ : এইচ. এম. এরশাদজঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে পুলিশের সাফল্য দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে : প্রধানমন্ত্রীমাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ এ মাসেই শুরু হচ্ছেযশোরে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সন্ত্রাসী পালসার বাবু নিহতদেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই বিতরণ উৎসব২০১৭'র বিদায় : নতুন বছর ২০১৮ কে বরণ করে নিল জাতিঅগ্রগতি ৫০ শতাংশের বেশি ॥ যথা সময়ে শেষ হবে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ : কাদেররাবির স্নাতক প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু ২১ জানুয়ারি
  • ঢাকা উত্তর সিটি'র উপ-নির্বাচনে আদালতের ৩ মাসের স্থগিতাদেশসুন্দরবনের ৩ কুখ্যাত জলদস্যুবাহিনীর প্রধানসহ ৩৮ জনের আত্মসমর্পণজাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণ : ভবিষ্যতে বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্যের দাবি প্রধানমন্ত্রী'ররাজধানী'র জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের সফল অভিযান : ৩ মৃতদেহ ও বিস্ফোরক উদ্ধারপদোন্নতি পেলেন বঙ্গবন্ধু'র খুনিদের গ্রেফতারকারী প্রথম পুলিশ অফিসারবিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণীআম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বরাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট : জনমনে ক্ষোভ জঙ্গি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনী সফল হয়েছে : আইজিপিঅর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি'র সভায় ১৩টি প্রকল্প অনুমোদনপুলিশকে আমি সব সময় আইনের রক্ষকের ভূমিকায় দেখতে চাই : প্রধানমন্ত্রীফারমার্স ব্যাংক কর্তৃক-জলবায়ু ট্রাস্ট তহবিলসহ আমানতকারীদের অর্থ ফেরত না দেয়ায় টিআইবি’র উদ্বেগসুন্দরগঞ্জের আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ : এইচ. এম. এরশাদজঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে পুলিশের সাফল্য দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে : প্রধানমন্ত্রীমাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ এ মাসেই শুরু হচ্ছেযশোরে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সন্ত্রাসী পালসার বাবু নিহতদেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই বিতরণ উৎসব২০১৭'র বিদায় : নতুন বছর ২০১৮ কে বরণ করে নিল জাতিঅগ্রগতি ৫০ শতাংশের বেশি ॥ যথা সময়ে শেষ হবে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ : কাদেররাবির স্নাতক প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু ২১ জানুয়ারি
উপরে