প্রকাশ : ২৮ জুলাই, ২০১৯ ২০:২১:১৩
কক্সবাজার জেলায় ওসি টেকনাফের পুলিশী তান্ডব : র‌্যাব-বিজিবির দুর্নাম নেই
ফরিদুল মোস্তফা খান, ঢাকা : ভেঙ্গে পড়েছে কক্সবাজার জেলা পুলিশের চেইন অব কমান্ড। পুরো জেলায় চলছে টেকনাফের বহুল বিতর্কিত ওসি প্রদীপ কুমার দাসের রামরাজত্ব। নিজের দায়িত্বরত থানা সিমানা ডিঙ্গিয়ে জেলার আনাচে-কানাচে তিনি বাহিনী পাঠিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন পুলিশী তান্ডব। অবিশ্বাস্য হলেও পিলে চমকানো অভিযোগ হচ্ছে, ওসি প্রদীপের এই তান্ডবে টেকনাফ থানা পুলিশ ছাড়াও রয়েছে তার ভাড়াটিয়া নিজস্ব একটি বাহিনী। এদের প্রত্যেককেই দেয়া হয়েছে বাজার থেকে কেনা পুলিশের পোশাকও সব প্রকার সরঞ্জাম এবং অস্ত্র-শস্ত্র। রয়েছে অত্যাধুনিক প্রায় সব প্রকার যানবাহন। এরা দিবারাত্রী ২৪ ঘন্টা পর্যটন শহর কক্সবাজারের আদালত পাড়া, বিভিন্ন হোটেল-মোটেল বাসা-বাড়িতে আকস্মিক হানা দিয়ে লোকজন উঠিয়ে নিয়ে চলে যান টেকনাফ থানায়। এর পর ক্রস ফায়ার ও বিভিন্ন মামলার ভঁয় দেখিয়ে হাতিয়ে নেন বস্তা বস্তা টাকা। ওসি প্রদীপের চুক্তি রাখতে না পারলে কাউকে ক্রস ফায়ার অথবা অস্ত্র-ইয়াবা দিয়ে চালান এখন নিত্য নৈমত্তিক ব্যাপার।
শুধু কক্সবাজার শহর নয়, জেলার অন্যসব থানা এমন কি চট্রগ্রাম শহরেও রয়েছে পুলিশ পরিচয়ী তার বিশেষ বাহিনী। জানা গেছে, এতে পার্বত্যচট্রগ্রামের উপজাতী এবং বিভিন্ন অঞ্চলের তার নিজস্ব নিয়োগ প্রাপ্ত শসস্ত্র সন্ত্রাসীরা। ব্যক্তিগত জীবনে যারা মাদকাসক্ত এই বাহিনীর সব সদস্যদের বয়স ১৮ থেকে ২৫ এর মধ্যে হবে। অনেকটা কিশোর এবং তরুণ এই গ্যাং এর সদস্যদের তান্ডবলিলা পুরো কক্সবাজারবাসী প্রতিনিয়ত চোখে দেখলেও ঝামেলা এড়াতে কেউই মুখ খুলছেন না। বাহিনীর সদস্যদের শসস্ত্র মহড়াতে পর্যটন শহরের অলি-গলি সন্ধ্যা শুরু হলেই নেমে আসে গভীর রাত। অপরিচিত এই সব সন্ত্রাসীদের কারণে এক সময়ের শান্তির জনপদ কক্সবাজারে আইন শৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। ফলে, গত এক মাসের ব্যবধানে কক্সবাজার জেলায় রেকর্ড সংখ্যক অজ্ঞাতনামা লাশের সন্ধান মিলেছে। সর্বশেষ রবিবার ২৮ জুলাই দুপুরে স্থানীয় মেরিন ড্রাইভ সড়কে পাওয়া গেছে ৩০ বছরের টসবগে এক যুবকের লাশ। জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র সমিতিপাড়া, কুতুবদিয়াপাড়াসহ প্রায় সবখানে শসস্ত্র সন্ত্রাসীদের তান্ডবের কারণে সাধারণ মানুষের রাতের ঘুম হারাম হলেও পুলিশের স্থানীয় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছে। জানা গেছে, ওসি প্রদীপকৃত এইসব অপকর্মের সব সংবাদ জেলার অন্যসব ওসি, আইনজীবি, সাংবাদিক, রাজনীতিবীদসহ সুশীল সমাজের মাঝে নীরব ক্ষোভ সৃষ্টি করলেও ইয়াবা অধ্যূষিত এলাকা হওয়ায়, পুলিশী হয়রাণী এড়াতে কেউই টু-শব্দ করার সাঁহস পাচ্ছেন না। এই সুযোগে বির্তকিত ওসি প্রদীপ ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা লুটেপুটে খাচ্ছেন কক্সবাজার। একজন দু’জন নয় প্রদীপ চক্রে সমাজের বিভিন্ন স্তরের কয়েক শতাধিক সুবিধাভোগি রয়েছেন। যারা বিভিন্ন মুখোশ ধরে দিবারাত্রী ২৪ ঘন্টা কোটি কোটি টাকা নিজেরা হাতিয়ে নিচ্ছেন, আবার প্রদীপকে উপার্জন করে দিচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কক্সবাজার জেলা দায়রা জজ আদালতের অসংখ্য জ্যেষ্ঠ আইনজীবি প্রতিবেদককে বলেন, প্রদীপ বাহিনীর সদস্যরা সদর থানা পুলিশকে না জানিয়ে প্রতিদিন আদালত থেকে যাদের তুলে নিয়ে যাচ্ছেন, তা সভ্যতার ইতিহাসে নজির বিহীন। নিশ্চয় রাষ্ট্রও দেশের প্রচলিত আইন আদালতের চেয়ে তার বেশি ক্ষমতা না থাকলে এটা হতো না। ওসি প্রদীপের দোষ দিয়ে লাভ নেই। এখানে ঘাপটি মেরে থাকা আরো বড় অনেক প্রদীপ এতে সম্পূক্ত। যারা নিয়মিত সুবিধা না পেলে প্রদীপ কক্সবাজারে এমন জুলুম-নির্যাতনসহ নিজের রামরাজত্ব কায়েম করতে পারতো না। একজন প্রদীপই যথেষ্ট বাংলাদেশ পুলিশের মত একটি সু’শৃঙ্খল বাহিনী ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, টেকনাফের এই বির্তকিত ওসি প্রদীপ ঘুরে ফিরে যতবার কক্সবাজার জেলার যেখানে চাকরি করেছেন একটা ভাল কাজ করলে, দশটা জঘণ্যকাজে লিপ্ত থাকেন। তার আয় উপার্জনও সেই রকম, তাই তিনিই সব সময় বাগিয়ে নেন নানান পদক। পরে পকেটের টাকায় স্থানীয় গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে সৃষ্টি করেন চমক। তিনি এই পর্যন্ত কারাগারে থাকা ব্যক্তিও নারীদের বন্দুক যুদ্ধের মত ঘটনায় আসামী এমনকি প্রবাসীদের বিরুদ্ধেও মামলা ঠুকে দিতে তিনি এতোটুকুও হাত কাপান না।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কিম্বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকায় থাকতে হবে এমন কোন কথা নেই! ওসি প্রদীপকে নগদে তুষ্ট করতে না পারলে তিনি থানার রেকর্ড পত্রে জাল-জালিয়াতি করে যে কোন সময় যে কোন ব্যক্তিকে তালিকা ভুক্ত করে ক্রস ফায়ার দেন। সাম্প্রতিক সময়ে হোয়াইকংয়ের শিয়াইল্লা পাহাড় এলাকায় রাতের অন্ধকারে স্থানীয় আনু মিয়ার পুত্র যে মো: হোছন (৩৯) কে বন্দুক যুদ্ধ দেখিয়ে হত্যা করেছেন, তার ভিটেবাড়ি পর্যন্ত নেই। এর আগে একই কায়দায় ওসি প্রদীপের নির্মম খুনের শিকার এই যুবকের অপর এক ভাই মাদক ব্যবসায়ী বলে তিনি হত্যা করেন। এলাকাবাসী বলেছেন, মাদক ও টাকার জন্য উন্মাদ এই সমালোচিত ওসি প্রদীপ একটি পরিবারের যে দুই ভাইকে খুন করেছেন, তারা যদি প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ী হতো এলাকায় অন্তত: একটা বাড়িঘর হলেও থাকতো। থাকতো কিছু নগদ টাকা। পুলিশী হত্যার পর চাঁদা তুলে তাদের দাফন দিতে হতো না ! এরা কোন তালিকার মাদক ব্যবসায়ী তা কিছুতেই বুঝতে পারছেন না বলে জানিয়ে টেকনাফের একাধিক ব্যক্তি প্রতিবেদককে জানান, ক’দিন আগে ভারত পালিয়ে যাওয়ার সময় বেনাপোল স্থল বন্দরে আটক টেকনাফ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান পুত্র তালিকাভুক্ত শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীকে ক্রস ফায়ার না দেয়ার শর্তে ওসি প্রদীপ মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তাকে জামাই আদরে অস্ত্র-ইয়াবা মামলায় চালানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।শনিবার ২৭ জুলাই টেকনাফের আলোচিত এবং তালিকাভুক্ত একজন ইয়াবা ব্যবসায়ীকে লক্ষাধিক ইয়াবাসহ আটক করে তিনি মোটা অঙ্কের ঘুষ-বাণিজ্য করে তাকে মুক্ত করে দেন। যা নিয়ে নাফ সিমান্তের হাটে-বাজারে কানাঘুষা চলছে। বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ ছাড়া অন্য কোন সংস্থা তদন্ত করলে খবরের প্রকৃত সত্যতা মিলবে। সূত্রমতে প্রদীপ খারাংখালীর জাফর নামক এক ইয়াবা ব্যবসায়ীকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে নিজের নানান অপকর্মে নতুন নিয়োগ দিয়েছেন। যার ইশারায় ওসি প্রদীপের মাদক বিরোধী সব অভিযান এখন খারাংখালী, কম্বন, নয়াবাজার ও মিনাবাজার  ঘিরে।
র‌্যাব-বিজিবি মাদক বিরোধী অভিযান চালাচ্ছেন। অন্য সাত থানার ওসিরাও করছেন একই কাজ। তাদের ব্যাপারে এলাকায় কোন দুর্নাম নেই। কিন্তু যতসব আলোচনা-সমালোচনা আর বির্তক এক ওসি প্রদীপের কর্মকান্ড নিয়ে। এদিকে কৃত সব কুকর্মের প্রকাশিত সংবাদ ধামাচাপা দিয়ে নিজের পরিণতি ঠেকাতে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তিনি বিভিন্ন মহলে দেৌড়ঝাপ করছেন বলে কানাঘুষা চলছে। জানা গেছে, একেবারে কিছু না পারলেও তিনি কক্সবাজার জেলা ডিবির ওসি হওয়ার শেষ তৎপরতার পাশাপাশি চট্রগ্রাম বিভাগের আরো ভাল কোন থানা খুঁজছেন।    
সর্বশেষ সংবাদ
  • রোহিঙ্গা নির্যাতনের তদন্ত টিম এখন ঢাকায়বিএনপি-জামায়তের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে : ওবায়দুল কাদেরবঙ্গবন্ধুর জন্য জাতিসংঘে সদরদপ্তরে প্রথমবারের মতো জাতীয় শোক দিবসক্রস ফায়ারের মাঝেও মানব পাচার! থেমে নেই অস্ত্র ও ইয়াবা ব্যবসারোববার কবি শামসুর রাহমানের ১৩ তম মৃত্যুবার্ষিকীঢাকা-দিল্লীর সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায় : বাংলাদেশ হাইকমিশনারছয় বছর বয়সেই ইসি'র স্মার্টকার্ডবঙ্গবন্ধু বাংলার ইতিহাস : স্বাধীনতা বাঙ্গালীর সোনালী অর্জন বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সঙ্গে জিয়ার যোগাযোগ ছিল : প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা হবে : আইনমন্ত্রী২২ আগস্ট শুরু হচ্ছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাঙালীর বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হলেন জাতির জনক মাশরাফির অবসর নিয়ে দু'দিনের মধ্যেই আলোচনায় বসবে বিসিবিটুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদনবঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক চেষ্টা চলছে : ওবায়দুল কাদেরবঙ্গবন্ধু হত্যার কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচনে ‘কমিশন’ গঠনের দাবি জানালেন তথ্যমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী ও সর্বস্তরের জনতার বিনম্র শ্রদ্ধাজাতীয় শোক দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী'র বাণীআজ জাতীয় শোক দিবস : টুঙ্গিপাড়ায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের অপরাধটা কি? সব খুনিদের বিচার হোক
  • রোহিঙ্গা নির্যাতনের তদন্ত টিম এখন ঢাকায়বিএনপি-জামায়তের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে : ওবায়দুল কাদেরবঙ্গবন্ধুর জন্য জাতিসংঘে সদরদপ্তরে প্রথমবারের মতো জাতীয় শোক দিবসক্রস ফায়ারের মাঝেও মানব পাচার! থেমে নেই অস্ত্র ও ইয়াবা ব্যবসারোববার কবি শামসুর রাহমানের ১৩ তম মৃত্যুবার্ষিকীঢাকা-দিল্লীর সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায় : বাংলাদেশ হাইকমিশনারছয় বছর বয়সেই ইসি'র স্মার্টকার্ডবঙ্গবন্ধু বাংলার ইতিহাস : স্বাধীনতা বাঙ্গালীর সোনালী অর্জন বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সঙ্গে জিয়ার যোগাযোগ ছিল : প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা হবে : আইনমন্ত্রী২২ আগস্ট শুরু হচ্ছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাঙালীর বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হলেন জাতির জনক মাশরাফির অবসর নিয়ে দু'দিনের মধ্যেই আলোচনায় বসবে বিসিবিটুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদনবঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক চেষ্টা চলছে : ওবায়দুল কাদেরবঙ্গবন্ধু হত্যার কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচনে ‘কমিশন’ গঠনের দাবি জানালেন তথ্যমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী ও সর্বস্তরের জনতার বিনম্র শ্রদ্ধাজাতীয় শোক দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী'র বাণীআজ জাতীয় শোক দিবস : টুঙ্গিপাড়ায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের অপরাধটা কি? সব খুনিদের বিচার হোক
উপরে