প্রকাশ : ২৯ মার্চ, ২০১৭ ১০:০৮:৪৯
দরকার স্থায়ী সমাধান : জঙ্গিদের বোমায় রক্তাক্ত সিলেট
বাংলাদেশ বাণী, ২৯ মার্চ, ঢাকা : এত দিন আমরা ধরেই নিয়েছিলাম যে জঙ্গিদের অপতৎপরতা আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে আসছে। কিন্তু বর্তমান অবস্থাদৃষ্টে যা বোঝা যাচ্ছে তা হলো জঙ্গি অপতৎপরতা তো কমেইনি বরং ভয়াবহ রকমভাবে বেড়ে গেছে। তার প্রমাণ হলো সিলেটে জঙ্গিদের বোমা হামলা।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়িতে ‘জঙ্গিবাড়ি’ আতিয়া মহলে সেনাবাহিনী এবং পুলিশের সম্মিলিত অভিযানের মধ্যে যেভাবে গেরিলা কায়দায় জঙ্গিরা বোমা হামলা চালিয়ে এক পুলিশ ইন্সপেক্টরসহ ছয়জনকে হত্যা করেছে, তা হতবাক করে দিয়েছে সবাইকে। শনিবার সন্ধ্যা ও রাতে দুই দফায় পুলিশ চেকপোস্টের সামনে ভয়াবহ এই বোমা হামলা চালানো হয় বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে।

সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেলযোগে এসে এই হামলা চালায়। হামলায় ৩০ জনেরও অধিক আহত হয়েছেন। জঙ্গিবাড়ি ঘিরে ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ চলাকালে সেনাবাহিনীর প্রেস বিফ্রিং শেষ হওয়ার পরপরই এই হামলা চালানো হয়, যা নিঃসন্দেহে অজানা এক আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিকেই নির্দেশ করছে।

প্রকাশিত সংবাদ মাধমে জানা যায়, জঙ্গিবাড়ি আতিয়া মহল নিয়ে যে অপারেশন চালানো হচ্ছে তা এখনো সমাপ্ত হয়নি। আবার ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ পুলিশ, র‌্যাব কিংবা সোয়াটও প্রত্যক্ষ অভিযান চালায়নি। পুরো অভিযানের নেতৃত্ব এসে পড়েছে প্যারা কমান্ডোর হাতে। প্যারা কমান্ডোর সঙ্গে জঙ্গিদের দফায় দফায় গোলাগুলি-বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে চলেছে।

এ আতঙ্কজনক পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে জঙ্গিরা তলে তলে কত শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, সেটিও স্পষ্ট। মোদ্দা কথা হলো যারা একটি দেশের প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনীর সঙ্গে প্রতিরোধের দুঃসাহস রাখে বা রাখছে, তাতে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর পরিস্থিতিরই যে জানান দিচ্ছে তা অস্বীকারেরও সুযোগ থাকছে না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সরকার কিংবা রাজনৈতিক নেতাদের পক্ষ থেকে যতই বলা হোক জঙ্গি নির্মূল হয়েছে, জঙ্গিদের মেরুদন্ড ভেঙেছে, বাস্তবতা তার বিপরীত অবস্থানকেই চিত্রিত করছে। আমরা বলছি না জঙ্গি দমন বা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের সফলতা নেই। সরকার যে জঙ্গি সন্ত্রাসী দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থানে সেটিও স্পষ্ট।

অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে জঙ্গিরা কীভাবে শক্তিশালী মারণাস্ত্রের মজুদ করছে, এ বিষয়টিও সাধারণ মানুষকে ভাবিয়ে তোলার জন্য যথেষ্ট। আর সার্বিক বিবেচনায় বিদ্যমান পরিস্থিতি যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিরই নির্দেশক, এমনটি বলাও বোধ করি বাহুল্য নয়।
বাংলাদেশে জঙ্গিদের উত্থান ও তাদের গোপনে সংগঠিত হওয়া নিয়ে এ পর্যন্ত কম আলোচনা হয়নি।

আলোচনায় উঠে এসেছে জননিরাপত্তা রক্ষার বিষয়টিও। গত বছর গুলশান হত্যাকান্ড থেকে শুরু করে সর্বশেষ সিলেটে যে হামলা চালানো হলো, তাতে একটি বিষয় স্পষ্ট যে-ক্ষমতাসীনরা যতই বলুক এটি বিএনপি-জামায়াতের কাজ, এরা জঙ্গিদের উস্কানি দিচ্ছে। আমরা মনে করি, কেবল বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা বা দোষ চাপানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে বিষয়টি নিয়ে সম্মিলিত রাজনৈতিক ঐক্য অত্যন্ত জরুরি।

কিছুদিন আগে গুপ্তহত্যার মাধ্যমে একের পর এক বিদেশি নাগরিকসহ দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের। এ পরিস্থিতি কিছুতেই একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে চলতে পারে না। জঙ্গি হামলাগুলো বিবেচনায় এমন আশঙ্কাও অমূলক নয় যে, এদের রুখে দেয়া না গেলে এদের হাতে আক্রান্ত হবে স্থাপনা, আক্রান্ত হবে উৎসব, সর্বোপরি সাধারণ মানুষ। ইতোমধ্যে এর আলামতও স্পষ্ট। জঙ্গি শক্তির কাছে পুলিশ, র‌্যাব, সোয়াট যে নিছকই তুচ্ছ। সিলেটের জঙ্গিবিরোধী অভিযানে ঘটে যাওয়া রক্তাক্ত হামলাগুলো কী সেই বার্তাও দিচ্ছে না?

অনস্বীকার্য যে, জঙ্গিরা সরকার এবং রাষ্ট্রকাঠামোর বিপক্ষে সর্বনাশা এক আতঙ্ক হিসেবেই আবির্ভূত হয়েছে। অপশক্তি এবং মানবতা ধ্বংসকারী এই জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণ, নির্মূলে এদের পৃষ্ঠপোষক ও মদদদাতাদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিষয়টিও বহুবার সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা এ-ও বলেছেন, জঙ্গি নির্মূল করতে চাইলে এদের অর্থ ও অস্ত্রের উৎস বন্ধ করতে হবে।

বাস্তবতা হলো, সংশ্লিষ্টরা যে উদ্যোগ নেয়নি এমনটিও নয়। কিন্তু তা কেন বাস্তবায়িত হয়নি- তাও নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। বিষয়টি অত্যন্ত পরিতাপেরও। জঙ্গিদের আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ব্যর্থতা জঙ্গিদের আরও উৎসাহিত করছেথ এমন আলোচনাও হয়তো অযৌক্তিক নয়। সরকারের সদিচ্ছা থাকলেই চলবে না, তার যথাযথ বাস্তবায়নও যে অত্যন্ত জরুরি, সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলাগুলো এ কথায় স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।

আমরা মনে করি, জঙ্গিগোষ্ঠীর মূলোৎপাটনে সময়োপযোগী কৌশল প্রণয়ন এবং তার যথাযথ বাস্তবায়নের বিকল্প থাকতে পারে না। দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং জঙ্গি হামলার পুনরাবৃত্তি রোধে, বিষয়টি সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে।

 
সর্বশেষ সংবাদ
  • আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যাতায়াতের রুটম্যাপ প্রণয়নবিশ্ব ভালবাসা দিবসে অমর একুশের গ্রন্থমেলায় দর্শনার্থীদের ঢলশেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ নির্ধারিত সময়ের আগেই উন্নত দেশে পরিণত হবে : সরকারি দলরোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা নিরসনে ইইউ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে টাঙ্গাইলের মধুপুরে চাঞ্চল্যকর রূপা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ৪ জনের ফাঁসি’র আদেশআদালতের আদেশ অনুযায়ী কারাগারে ডিভিশন পেলেন খালেদা জিয়াভারতীয় গণমাধ্যমের মন্তব্য খালেদার দণ্ড হাসিনাকে শক্তিশালী করেছেএকুশের বই মেলায় প্রাণ এসেছে : বেড়েছে বিক্রি জনগণের জানমাল রক্ষায় যতদিন প্রয়োজন ততদিনই পুলিশি নিরাপত্তা থাকবে : আইজিপি‘রায়ের কপি হাতে পেলেই হাইকোর্টে আপিল করা হবে’তারেকসহ অন্যদের ১০ বছর কারাদন্ড-জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় রায় : সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ৫ বছর জেল ভীত হবেন না : আশ্বস্ত করছি ৮ ফেব্রুয়ারি কিছু হবে না : আইজিপি রাষ্ট্রপতি পদে এ্যাড. মো. আবদুল হামিদের পক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিলবিএডিসি ও পিআইবি আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভাবিএনপিসহ সবদল একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে : সিইসি'র আশাবাদরাষ্ট্রপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ চূড়ান্ত করেছেনরক্তঋনে কেনা, কারো দানে নয় ! ‘অমর একুশের সিঁড়ি বেয়ে আমার বাংলা মায়ের কোল’শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন জনগণের দোরগোড়ায় পৌছে যাচ্ছে : বাহাদুর বেপারীশুরু হলো বাংলা একাডেমিতে মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলারক্তঋনে কেনা, কারো দানে নয়! ‘অমর একুশের সিঁড়ি বেয়ে আমার বাংলা মায়ের কোল’
  • আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যাতায়াতের রুটম্যাপ প্রণয়নবিশ্ব ভালবাসা দিবসে অমর একুশের গ্রন্থমেলায় দর্শনার্থীদের ঢলশেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ নির্ধারিত সময়ের আগেই উন্নত দেশে পরিণত হবে : সরকারি দলরোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা নিরসনে ইইউ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে টাঙ্গাইলের মধুপুরে চাঞ্চল্যকর রূপা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ৪ জনের ফাঁসি’র আদেশআদালতের আদেশ অনুযায়ী কারাগারে ডিভিশন পেলেন খালেদা জিয়াভারতীয় গণমাধ্যমের মন্তব্য খালেদার দণ্ড হাসিনাকে শক্তিশালী করেছেএকুশের বই মেলায় প্রাণ এসেছে : বেড়েছে বিক্রি জনগণের জানমাল রক্ষায় যতদিন প্রয়োজন ততদিনই পুলিশি নিরাপত্তা থাকবে : আইজিপি‘রায়ের কপি হাতে পেলেই হাইকোর্টে আপিল করা হবে’তারেকসহ অন্যদের ১০ বছর কারাদন্ড-জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় রায় : সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ৫ বছর জেল ভীত হবেন না : আশ্বস্ত করছি ৮ ফেব্রুয়ারি কিছু হবে না : আইজিপি রাষ্ট্রপতি পদে এ্যাড. মো. আবদুল হামিদের পক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিলবিএডিসি ও পিআইবি আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভাবিএনপিসহ সবদল একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে : সিইসি'র আশাবাদরাষ্ট্রপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ চূড়ান্ত করেছেনরক্তঋনে কেনা, কারো দানে নয় ! ‘অমর একুশের সিঁড়ি বেয়ে আমার বাংলা মায়ের কোল’শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন জনগণের দোরগোড়ায় পৌছে যাচ্ছে : বাহাদুর বেপারীশুরু হলো বাংলা একাডেমিতে মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলারক্তঋনে কেনা, কারো দানে নয়! ‘অমর একুশের সিঁড়ি বেয়ে আমার বাংলা মায়ের কোল’
উপরে