প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল, ২০১৭ ০২:৪১:৩৬
রাজন হত্যার রায় দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ : দ্রুত কার্যকর হোক
বাংলাদেশ বাণী, ১৬ এপ্রিল, ঢাকা : সিলেটের সবজি বিক্রেতা শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন হত্যার ঘটনা কতটা ভয়ানক ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সিলেটের কুমারগাঁওয়ে চুরির অভিযোগ তুলে ২০১৫ সালের ৮ জুলাই শিশু রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করাই শুধু নয়, হত্যাকারীরাই সেই নির্যাতনের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়েছিল, ওই সময় দেশজুড়ে তোলপাড় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেল, রাজনকে হত্যার দায়ে চার আসামির মৃত্যুদন্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তিন আসামির সাত বছর করে কারাদন্ড ও দুই আসামির এক বছর করে সাজার রায় বহাল রেখেছে আদালত। এ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদন্ড পাওয়া এক আসামির সাজা বদলে ছয় মাসের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, রাজন হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে ১০ আসামির মধ্যে কামরুল ইসলাম, ময়না চৌকিদার, তাজউদ্দিন আহমদ বাদল ও পলাতক জাকির হোসেন পাভেল আহমদের ফাঁসির আদেশ হয়। তাদের সেই আদেশ বহাল রয়েছে।

আমরা বলতে চাই, যারা রাজনের মতো একজন শিশুকে এভাবে হত্যায় মেতে উঠেছিল তারা কোনোভাবেই ছাড় পেতে পারে না। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রাজনের বাবাও বলেছেন যে, তিনি সস্তুষ্ট। ন্যায়বিচার পেয়েছেন। তার প্রত্যাশা, দ্রুত আসামিদের দন্ড কার্যকর হোক।

আমরাও আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করছি। তাই আমরাও চাই, আদালত যে রায় দিয়েছে তা আইনগতভাবে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত কার্যকর হোক। মনে রাখা দরকার, খুন, ধর্ষণ, রাহাজানি, ছিনতাইসহ যে কোনো ধরনের অপরাধমূলক ঘটনা একটি দেশের জন্য সামগ্রিক অর্থেই ভয়ানক। স্বাভাবিকভাবেই, সংঘটিত যে কোনো অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে আইন মোতাবেক যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত হবে এমনটি জরুরি। কেননা এর অন্যথা হলে কিংবা অপরাধীরা পার পেয়ে গেলে, তারা আরও বেশি অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠতে পারে এমন আশঙ্কাও অমূলক নয়। আর এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বিভিন্ন সময়েই শিশুদের হত্যা করার ঘটনা ঘটছে। কখনো কখনো সামান্য কারণে মানুষ হিংস্র হয়ে উঠছে। আবার বড়দের বিরোধের জেরেও শিশুদের প্রাণ হারাতে হচ্ছে। এ ছাড়া অপহরণ, গুম করে খুন করাসহ যে পরিস্থিতি সামনে আসছে তা অত্যন্ত ভয়ানক।

আমরা মনে করি, অপরাধীদের লাগাম টেনে ধরতে রাজন হত্যার রায় দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

অপরাধ অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত হলে অপরাধপ্রবণতা কমে যাবে এমন ভাবনা অমূলক নয়। আর অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা দেশ ও মানুষের শান্তিপূর্ণ বসবাসের জন্য জরুরি। আরেকটি বিষয় উল্লেখ্য, যে, বিচারকার্যের দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ আলোচিত একটি বিষয়। এ ছাড়া এমন অভিযোগও আছে যে, অনেক অপরাধী অপরাধ করে বিভিন্ন রাঘববোয়ালের ছত্রচ্ছায়ায় বীরদর্পে ঘুরে বেড়ায় যা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিকেই নির্দেশ করে যা কখনো কাম্য হতে পারে না।

আমরা চাই, অপরাধ অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করতে কোনো প্রকার ছাড় নয়। দেশে কেন একের পর এক অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাগুলো ঘটছেই, নেপথ্যে কারা জড়িতÑ এই বিষয়গুলোকে সামনে রেখে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

মনে রাখা দরকার, অপরাধীদের দৌরাত্ম্য জনজীবনের স্বাভাবিকতাকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়। আর যদি সাধারণ মানুষের জীবন হুমকির মুখে পড়ে, বসবাসের স্বাভাবিকতা নষ্ট হয়ে যায় তবে কোনো অর্জনই কাজে আসবে না। ফলে অপরাধীদের লাগাম টেনে ধরার বিকল্প থাকতে পারে না।

আমরা সরকারকে বলতে চাই, বিভিন্ন সময়েই পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে জানা যায় যে, প্রতিনিয়তই হত্যাকা-ের মতো ভয়ানক ঘটনা ঘটছেই। ফলে এগুলো রোধ করতে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কেন ঘটছে তার কারণ চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হোক।

কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে মানুষের মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত হোক এবং সুশিক্ষার হার আরও বৃদ্ধি পাক এমনটি কাম্য। যারা অপরাধী এবং অপরাধীদের প্রশ্রয় দিতে তৎপর তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি বলেই আমরা মনে করি।

সর্বোপরি, রাজন হত্যার রায় দ্রুত কার্যকর হোক, একইসঙ্গে অপরাধীদের লাগাম টেনে ধরতে সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকুক এমনটিই আমাদের প্রত্যাশা।
সর্বশেষ সংবাদ
  • ঢাকা উত্তর সিটি'র উপ-নির্বাচনে আদালতের ৩ মাসের স্থগিতাদেশসুন্দরবনের ৩ কুখ্যাত জলদস্যুবাহিনীর প্রধানসহ ৩৮ জনের আত্মসমর্পণজাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণ : ভবিষ্যতে বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্যের দাবি প্রধানমন্ত্রী'ররাজধানী'র জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের সফল অভিযান : ৩ মৃতদেহ ও বিস্ফোরক উদ্ধারপদোন্নতি পেলেন বঙ্গবন্ধু'র খুনিদের গ্রেফতারকারী প্রথম পুলিশ অফিসারবিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণীআম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বরাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট : জনমনে ক্ষোভ জঙ্গি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনী সফল হয়েছে : আইজিপিঅর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি'র সভায় ১৩টি প্রকল্প অনুমোদনপুলিশকে আমি সব সময় আইনের রক্ষকের ভূমিকায় দেখতে চাই : প্রধানমন্ত্রীফারমার্স ব্যাংক কর্তৃক-জলবায়ু ট্রাস্ট তহবিলসহ আমানতকারীদের অর্থ ফেরত না দেয়ায় টিআইবি’র উদ্বেগসুন্দরগঞ্জের আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ : এইচ. এম. এরশাদজঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে পুলিশের সাফল্য দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে : প্রধানমন্ত্রীমাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ এ মাসেই শুরু হচ্ছেযশোরে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সন্ত্রাসী পালসার বাবু নিহতদেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই বিতরণ উৎসব২০১৭'র বিদায় : নতুন বছর ২০১৮ কে বরণ করে নিল জাতিঅগ্রগতি ৫০ শতাংশের বেশি ॥ যথা সময়ে শেষ হবে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ : কাদেররাবির স্নাতক প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু ২১ জানুয়ারি
  • ঢাকা উত্তর সিটি'র উপ-নির্বাচনে আদালতের ৩ মাসের স্থগিতাদেশসুন্দরবনের ৩ কুখ্যাত জলদস্যুবাহিনীর প্রধানসহ ৩৮ জনের আত্মসমর্পণজাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণ : ভবিষ্যতে বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্যের দাবি প্রধানমন্ত্রী'ররাজধানী'র জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের সফল অভিযান : ৩ মৃতদেহ ও বিস্ফোরক উদ্ধারপদোন্নতি পেলেন বঙ্গবন্ধু'র খুনিদের গ্রেফতারকারী প্রথম পুলিশ অফিসারবিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণীআম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বরাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট : জনমনে ক্ষোভ জঙ্গি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনী সফল হয়েছে : আইজিপিঅর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি'র সভায় ১৩টি প্রকল্প অনুমোদনপুলিশকে আমি সব সময় আইনের রক্ষকের ভূমিকায় দেখতে চাই : প্রধানমন্ত্রীফারমার্স ব্যাংক কর্তৃক-জলবায়ু ট্রাস্ট তহবিলসহ আমানতকারীদের অর্থ ফেরত না দেয়ায় টিআইবি’র উদ্বেগসুন্দরগঞ্জের আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ : এইচ. এম. এরশাদজঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে পুলিশের সাফল্য দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে : প্রধানমন্ত্রীমাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ এ মাসেই শুরু হচ্ছেযশোরে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সন্ত্রাসী পালসার বাবু নিহতদেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই বিতরণ উৎসব২০১৭'র বিদায় : নতুন বছর ২০১৮ কে বরণ করে নিল জাতিঅগ্রগতি ৫০ শতাংশের বেশি ॥ যথা সময়ে শেষ হবে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ : কাদেররাবির স্নাতক প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু ২১ জানুয়ারি
উপরে