প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০৪:৪৬:০৮
সু চি'র হাঁসির আড়ালে রয়েছে এক কুৎসিত চেহারা !
বাংলাদেশ বাণী, ঢাকা : দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার সেনাবাহিনী সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর খুন, লুণ্ঠন ও ধর্ষণের মতো জঘন্য কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। একাধারে জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে গ্রামগুলো। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ভাষ্যমতে, জীবন্ত পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে নারী, পুরুষ ও শিশুদেরকে। রোহিঙ্গাদেরকে জাতিগত এ নিধনে দেশটির প্রশাসনের পাশাপাশি বৌদ্ধদেরও আক্রমণ সমানতালে হচ্ছে। বাড়িঘরের পাশাপাশি মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

রোহিঙ্গাদের আর্তনাদ ও আহাজারিতে সে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য অহিংস গণতন্ত্রবাদী নেত্রী অং সান সু চি পেয়েছেন নোবেল পুরস্কার। অবশ্যই এ পুরস্কার পাওয়ার জন্য তাকে দিতে হয়েছে কঠিন পরীক্ষা। প্রায় ২১ বছর গৃহবন্দি থাকতে হয়েছে তাকে। তবুও তার আন্দোলন থামাতে না পেরে দেশটির সেনাবাহিনী। তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। বিনিময়ে এত বড় পুরস্কার! গোটাবিশ্ব এবং আমরাও হতবাক। দ্রুত বন্ধহোক এই অমানবিক নোংরা খেলা।  

গণতন্ত্র আর শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী নেত্রীর দেশে আজ বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত জাতির বসবাস। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারীও তিনি। ক্ষমতার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থেকে তিনি নির্বাক। বিষয়টি হতবাক করেছে বিশ্ববাসীকে। উল্টো তিনি জানালেন, রোহিঙ্গাদের কোনো সমস্যা নেই। অং সান সু চির হাসির আড়ালে রয়েছে এক কুসিত চেহারা, যা আজ বিশ্ববাসীর কাছে পরিষ্কার।

বিকৃত মানসিকতা আর রোহিঙ্গাদের রক্ত নিয়ে হোলি খেলা এ নারীর চোখের সামনেই জ্বলছে গ্রামের পর গ্রাম। মানুষ পুড়িয়ে তিনি আত্মতৃপ্তি নিচ্ছেন। রোহিঙ্গাদের আর্তচিৎকার আর বাঁচার আকুতি তার কানে যাচ্ছে না বলেই মনে হয়। মিয়ানমারের জনগোষ্ঠীর তুলনায় রোহিঙ্গারা তার কাছে তুচ্ছ। রক্তগঙ্গা তৈরিতে ব্যস্ত তিনি। সু চির কুসিত মানসিকতার চাক্ষুস সাক্ষী মিয়ানমারের সামরিক জান্তারা।

মিয়ানমারের সামরিক জান্তারা যখন সু চিকে বন্দি করে রেখেছিল তখন বিশ্ববাসী মিয়ানমারের সামরিক জান্তাদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছিল। আজ আবার যখন সু চির কুৎসিত মানসিকতা প্রকাশ পেল, তখন আবার ফুঁসে উঠেছে বিশ্ববাসী। বিভিন্ন দেশে সু চির অমানবিক আচরণে রাজপথে শান্তিকামী মানুষ। দেশে দেশে দাবি উঠেছে তার নোবেল কেড়ে নেওয়ার জন্য। যা এখন বিশ্বসময় জুড়ে সময়ের দাবী।

এদিকে সু চি সরকার রাখাইন রাজ্যে জাতিসংঘের মানবাধিকার তদন্ত কর্মকর্তা ও সাহায্য সংস্থার কর্মীদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দিয়েছে। শান্তিকামী গণতন্ত্রের নেত্রী যেখানে নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা, সেখানে তিনি উল্টো বলছেন, চলমান সহিংসতা নিয়ে সন্ত্রাসীরা ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। রোহিঙ্গাদের তিনি কাল্পনিক দোষ চাপাচ্ছেন। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে।

তার এসব বিতর্কিত চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে রাজি নয় বিশ্ববাসী। কারণ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ প্রকাশিত স্যাটেলাইটে ধারণ করা ছবিতে দেখা গেছে, ২২ অক্টোবর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন গ্রাম, ঘরবাড়ি, মসজিদ, স্কুল আগুনে জ্বলছে।

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে লাখ লাখ মানুষ অবস্থান নিচ্ছে। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিশ্ববাসী এমনভাবে ক্ষেপেছে আর তা দেখে সু চি কী ভাবছেন? নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা রূপটা দেখাতে ব্যস্ত হয়ে পড়া সু চি আপাতত এটাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে উড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু মানবতাকে বিশ্বাস করা বাংলাদেশ তা করতে পারেনি। বসে নেই বাংলাদেশ। অসহায় রোহিঙ্গাদের জীবন এবং জান-মাল বাঁচাতে তাদেরকে শরণার্থী হিসাবে আশ্রয় এবং বিশ্ব নেতাদের হস্তক্ষেপ দাবী করে আসছে-দ্রুত এ সমস্যা সমাধানের জন্য।

আমরা চাই-যতদ্রুত সম্ভব অং সান সু চি ও তার লেলিয়ে দেয়া মিয়ানমারের সামরিক জান্তারা কবল থেকে নিরিহ, অসহায় সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের জীবন এবং জান-মাল রক্ষার্থে জাতিসংঘসহ বিশ্বের সকল মুসলিম দেশগুলো কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।      
 
সর্বশেষ সংবাদ
  • জার্মানী, সুইডেন ও ইইউ’র রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি জোরালো সমর্থন রাবি ছাত্রী অপহরণ : সাবেক স্বামীসহ ২ জনকে ১ দিনের রিমান্ড বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করবো : প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে : সমাবেশে বক্তারা গেইল-ম্যাককালামের ব্যর্থতায় কুমিল্লার কাছে রংপুরের পরাজয়রাবির অপহৃত ছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার : নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কাটেনিআজ নাগরিক সমাবেশে : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ফিরে পাবে একাত্তরের ৭ মার্চের আবহমিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা বন্ধে জাতিসংঘের আহবান‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে’টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে ২৬ কোটি ডলার দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি'র নেতৃত্বাধীন জোটসংসদীয় আসনের সীমানা পুন:নির্ধারণ আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করেছে ইসিজিম্বাবুয়ের সেনা কর্মকর্তারা অভ্যুত্থানের কথা অস্বীকার করেছেনএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেয়নি : সিইসিআজ ভয়াল ১৫ নভেম্বর : স্বজন হারাদের কাঁন্না থামেনি আজও মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যমান চিনি আইন রহিতের সিদ্ধান্তমহানগরী ঢাকাকে ‘সেফনগরী’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন ১০ কার্য দিবস চলবেস্থানীয় সরকারের অধীন দেশের ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানে ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণবিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না : খালেদা জিয়া
  • জার্মানী, সুইডেন ও ইইউ’র রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি জোরালো সমর্থন রাবি ছাত্রী অপহরণ : সাবেক স্বামীসহ ২ জনকে ১ দিনের রিমান্ড বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করবো : প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে : সমাবেশে বক্তারা গেইল-ম্যাককালামের ব্যর্থতায় কুমিল্লার কাছে রংপুরের পরাজয়রাবির অপহৃত ছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার : নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কাটেনিআজ নাগরিক সমাবেশে : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ফিরে পাবে একাত্তরের ৭ মার্চের আবহমিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা বন্ধে জাতিসংঘের আহবান‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে’টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে ২৬ কোটি ডলার দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি'র নেতৃত্বাধীন জোটসংসদীয় আসনের সীমানা পুন:নির্ধারণ আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করেছে ইসিজিম্বাবুয়ের সেনা কর্মকর্তারা অভ্যুত্থানের কথা অস্বীকার করেছেনএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেয়নি : সিইসিআজ ভয়াল ১৫ নভেম্বর : স্বজন হারাদের কাঁন্না থামেনি আজও মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যমান চিনি আইন রহিতের সিদ্ধান্তমহানগরী ঢাকাকে ‘সেফনগরী’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন ১০ কার্য দিবস চলবেস্থানীয় সরকারের অধীন দেশের ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানে ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণবিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না : খালেদা জিয়া
উপরে