প্রকাশ : ০৬ আগস্ট, ২০১৭ ০২:০১:১৫
রাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকদের দ্বন্দ্ব ❏ সান্ধ্যকালীন মাস্টার্সই দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দু
বাংলাদেশ বাণী, রাবি প্রতিনিধি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ভিত্তিতে অস্বস্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। যৌন হয়রানির অভিযোগসহ দুই পক্ষেই নিজেদের ব্যাক্তিগত সমস্যাকে সকলের সামনে তুলে ধরেছে। ফলে ‘গ্রাম্য রাজনীতির’ মতো কাদাছোড়াছুড়ির কারণে শিক্ষক সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নীতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

তবে এ সমস্যার সূত্রপাত ‘বিতর্কিত’ সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স কেন্দ্র করে বলে দাবী এক পক্ষের। অন্যরা অবশ্যই সভাপতির একক সিদ্ধান্ত ও পক্ষপাতমূলক আচারণকে দায়ী করেন। দুই ধারায় বিভক্ত ১৪ জন শিক্ষকদের মধ্যে ১১ জন একদিকে, অন্যদিকে বিভাগের সভাপতিসহ ৩ জন আছে।

জানা যায়, ২০১৪ সাল থেকে শুরু হয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স কোর্স চালু হয়। বিভাগের সভাপতি প্রফেসর নাসিমা জামানের দাবী, ‘আমি ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সবকিছু করতে থাকি। তার ধারাবাহিকতায় সান্ধ্যকালীন কোর্সের অনিয়ম রোধে পরীক্ষার হলে পরিদর্শকের ব্যবস্থা করি, যা আগে ছিল না। তখন পরীক্ষা হলে চলতো ‘নকলের মহা উৎসব’।

অন্য শিক্ষকরা চাইতো লিখুক আর নাই লিখুক পাস করিয়ে দিতে হবে। কিন্তু আমি ও রুখসানা পারভীন এই অন্যায় মেনে নিতে পারিনি। তাদের এই ‘সান্ধ্য ব্যবসায়’ সমস্যা হওয়ায় আমার উপর তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম থেকেই অসহযোগিতা মূলক আচারণ করতে থাকে। এছাড়া সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে শুধুমাত্র ৪টি বিভাগে পরীক্ষা চলতে সান্ধ্য মাস্টার্সে পরীক্ষা হতো, আমি আসার পর ফ্যাকাল্টি মিটিংয়ে উপস্থাপন করি।  

তারপর মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একযোগে অনুষদে সান্ধ্যকালীন মাস্টার্সে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এটা নিয়েও আমার বিভাগের শিক্ষকরা ক্ষিপ্ত, কারণ এতে করে শিক্ষার্থী কমে যাবে। এমনকি সবর্শেষ জুলাই মাসে সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স পরীক্ষার অন্য শিক্ষকদের উপস্থিতিতে সভাপতির জায়গা থেকে হলে গিয়ে একাধিক ব্যক্তির নকল ধরি। অথচ সেখানে শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন, তাদের সামনে এই নকলগুলো হচ্ছিল। শুধু আমি না রুখসানাও একইভাবে নকল ধরে। যার কারণে আমার ও রুখসানার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়। এছাড়া রুখসানার গবেষণার সুপারভাইজার পরিবর্তন নিয়ে মিটিংয়ে শিক্ষকরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। পরবর্তী আমি তাকে সহযোগিতা করি। যার কারণে তারা আরো রেগে যায় আমার প্রতি।

অবশ্যই সভাপতির এসব অভিযোগের ব্যাপারে বিভাগের ১১ জন শিক্ষক বলেন, ‘সভাপতি যেসব কথা বলেছেন, তা একেবারে অযৌক্তিক উদ্দেশ্য প্রনোদিত। কারণ পরীক্ষার হলে শিক্ষক থাকবে না এটা বিশ্বাস করা যায় না।

মূলত সভাপতি দায়িত্ব পালনের আগ পর্যন্ত বিভাগের কার্যক্রমে নিয়মিতভাবে অংশ গ্রহণ করতো না, যার কারণে তিনি এসব কিছুই জানেন  না। আর আমরাও তো নকল ধরি, কিন্তু আমাদের মাথায় এমন চিন্তা ছিল না, যে নকলগুলো সংরক্ষণ করে তা সাংবাদিকদের দেখা তে হবে। শুধু তাই না তিনি অধিকংশ সময় ঢাকায় থাকেন এমনকি স্টেশনকে জানিয়ে যেতেন না।

বিভাগ সভাপতির প্রতি অভিযোগ করে শিক্ষকরা বলেন, ‘তিনি একাডেমিক কমিটির সভার সিদ্ধান্তকে পাশ কাটিয়ে নিজের মত করে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতেন। একাডেমিক কমিটির সভার সিদ্ধান্ত নিজের মত করে লিখে নেয়, যা চরম আকারের অন্যায়। এছাড়া এসব সিদ্ধান্তের ব্যাপারে অনুষ্ঠিকভাবে কোন চিঠিও দেন না।

সভাপতি সাথে থাকা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোছা. রুখসানা পারভীন বলেন, ‘মূলত আমার প্রতি তাদের ক্ষুদ্ধ হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে আমিও তাদের সান্ধ্যকালীন মাস্টার্সের নামে ব্যবসার বিরোধীতা করতাম। এমনকি ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সান্ধ্যকালীন কোর্সের একটি খাতায় একজন ফেল করে। এটা নিয়ে তারা আমরা প্রতি চরম আকারে ক্ষুদ্ধ হয়। এছাড়া আমার শিক্ষক ও সুপারভাইজার প্রফেসর রুহুল আমিন যখন আমাকে একাডেমিকভাবে ও যৌন হয়রানি করে। তখন এপ্রিল মাসের ২৬ তারিখের দিকে আমি তার সাথে গবেষণার কাজ করতে অস্বীকার করলে, সে অন্যদের নিয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে থাকে। যাতে কেউ আমার সুপারভাইজার না হয়।

রুখসানা পারভীনের অভিযোগের ব্যাপারে বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর রুহুল আমিন বলেন, ‘সে আসলেই বিকৃত মস্তিস্কের। সে নিয়ম তান্ত্রিকভাবে কাজ না করে গবেষণা কাজ শেষ করতে চাইলে। তাতে আমি অস্বীকৃতি জানান। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্য ও বানোয়াট অভিযোগ দাড় করিয়েছে। যা আমরা শিক্ষকতার ৩২ বছরের জীবনের কলঙ্কজনক ঘটনা।

তিন মাসের আগের ঘটনায় সে যদি আমরা বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকতো আগে অভিযোগ করতে পারতো, কিন্তু এখন কেন এই অভিযোগ করছে। এটা একেবারে ভিত্তিহীন। সে শুধু আমার নয় অনেক সম্মনিত শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা রকম অপপ্রচার ও তার স্বামী পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার তার কথা বলে জেলে পাঠানো হুমকিও দিয়ে থাকেন।

সমস্য সমাধানের ব্যাপারে ১১ জন শিক্ষক মনে করেন, ‘সভাপতি অপসরণ করা হলে সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কারণ তার ইন্ধনে রুখসানা রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে মিথ্য অভিযোগ তুলেছে। এছাড়া তিনি বিভাগ পরিচালনায় ব্যর্থ।  

গ্রাম্য রাজনীতির মত চলছে কাদা ছোড়াছুড়ি :

বিগত কয়েকদিনে জানা, গত জুলাই এর ৩০ তারিখে বিভাগের ১১ জন শিক্ষক মেছা. রুখসানা পারভীনের বিরুদ্ধে শ্রেণী কক্ষে একাধিক শিক্ষক সম্পর্কে অপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে তলাবি সভার আহ্বান করে। কিন্তু সভাপতি প্রফেসর নাসিমা জামান প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দোহায় দিয়ে সভা বাতিল করে।

ঠিক পরদিন ৩১ জুলাাই রুখসানা পারভীন বিভাগের কতিপয় অন্যায়কারী শিক্ষক কর্তৃক মানসিক নির্যাতনের প্রতিকার চেয়ে ভিসি বরাবর একটি অভিযোগ দেন। সেখানে রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন। এরপর ১১জন শিক্ষক ২ আগস্ট তারিখে ৭টি কারণ উল্লেখপূর্বক সভাপতির প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করে চিঠিদেন। এর ঠিক পরদিন সভাপতি ও রুখসানা পারভীন সাংবাদিকদের ডেকে রুখসানার সুপারভাইজার শিক্ষক রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন। এরপর গত শুক্রবার ১১জন শিক্ষক সংবাদ সম্মেলন করে যৌন হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার ও সভাপতিকে অপসারণের দাবী করেন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ব্যাপারে বিশ^বিদ্যালয় প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. আনান্দ কুমার সাহা বলেন, ‘যেহেতু আজ শনিবার ক্যাম্পাস বন্ধ আছে। আগামীকাল  (রোববার) ভিসি স্যার এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবেন।

শিক্ষকদের দ্বন্দ্ব নিয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়টা অনভিপ্রেত। পরিবারের ভিতরও কিছু দ্বন্দ্ব থাকে। শিক্ষকগণ বিজ্ঞ তারা সবকিছু বুঝেন। এখন তারা ধৈর্য্য, সহিঞ্চুতা, সহযোগীতার মাধ্যমে পরস্পর কাজ করবেন এটাই কাম্য।
 
সর্বশেষ সংবাদ
  • আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যাতায়াতের রুটম্যাপ প্রণয়নবিশ্ব ভালবাসা দিবসে অমর একুশের গ্রন্থমেলায় দর্শনার্থীদের ঢলশেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ নির্ধারিত সময়ের আগেই উন্নত দেশে পরিণত হবে : সরকারি দলরোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা নিরসনে ইইউ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে টাঙ্গাইলের মধুপুরে চাঞ্চল্যকর রূপা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ৪ জনের ফাঁসি’র আদেশআদালতের আদেশ অনুযায়ী কারাগারে ডিভিশন পেলেন খালেদা জিয়াভারতীয় গণমাধ্যমের মন্তব্য খালেদার দণ্ড হাসিনাকে শক্তিশালী করেছেএকুশের বই মেলায় প্রাণ এসেছে : বেড়েছে বিক্রি জনগণের জানমাল রক্ষায় যতদিন প্রয়োজন ততদিনই পুলিশি নিরাপত্তা থাকবে : আইজিপি‘রায়ের কপি হাতে পেলেই হাইকোর্টে আপিল করা হবে’তারেকসহ অন্যদের ১০ বছর কারাদন্ড-জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় রায় : সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ৫ বছর জেল ভীত হবেন না : আশ্বস্ত করছি ৮ ফেব্রুয়ারি কিছু হবে না : আইজিপি রাষ্ট্রপতি পদে এ্যাড. মো. আবদুল হামিদের পক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিলবিএডিসি ও পিআইবি আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভাবিএনপিসহ সবদল একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে : সিইসি'র আশাবাদরাষ্ট্রপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ চূড়ান্ত করেছেনরক্তঋনে কেনা, কারো দানে নয় ! ‘অমর একুশের সিঁড়ি বেয়ে আমার বাংলা মায়ের কোল’শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন জনগণের দোরগোড়ায় পৌছে যাচ্ছে : বাহাদুর বেপারীশুরু হলো বাংলা একাডেমিতে মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলারক্তঋনে কেনা, কারো দানে নয়! ‘অমর একুশের সিঁড়ি বেয়ে আমার বাংলা মায়ের কোল’
  • আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যাতায়াতের রুটম্যাপ প্রণয়নবিশ্ব ভালবাসা দিবসে অমর একুশের গ্রন্থমেলায় দর্শনার্থীদের ঢলশেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ নির্ধারিত সময়ের আগেই উন্নত দেশে পরিণত হবে : সরকারি দলরোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা নিরসনে ইইউ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে টাঙ্গাইলের মধুপুরে চাঞ্চল্যকর রূপা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ৪ জনের ফাঁসি’র আদেশআদালতের আদেশ অনুযায়ী কারাগারে ডিভিশন পেলেন খালেদা জিয়াভারতীয় গণমাধ্যমের মন্তব্য খালেদার দণ্ড হাসিনাকে শক্তিশালী করেছেএকুশের বই মেলায় প্রাণ এসেছে : বেড়েছে বিক্রি জনগণের জানমাল রক্ষায় যতদিন প্রয়োজন ততদিনই পুলিশি নিরাপত্তা থাকবে : আইজিপি‘রায়ের কপি হাতে পেলেই হাইকোর্টে আপিল করা হবে’তারেকসহ অন্যদের ১০ বছর কারাদন্ড-জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় রায় : সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ৫ বছর জেল ভীত হবেন না : আশ্বস্ত করছি ৮ ফেব্রুয়ারি কিছু হবে না : আইজিপি রাষ্ট্রপতি পদে এ্যাড. মো. আবদুল হামিদের পক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিলবিএডিসি ও পিআইবি আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভাবিএনপিসহ সবদল একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে : সিইসি'র আশাবাদরাষ্ট্রপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ চূড়ান্ত করেছেনরক্তঋনে কেনা, কারো দানে নয় ! ‘অমর একুশের সিঁড়ি বেয়ে আমার বাংলা মায়ের কোল’শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন জনগণের দোরগোড়ায় পৌছে যাচ্ছে : বাহাদুর বেপারীশুরু হলো বাংলা একাডেমিতে মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলারক্তঋনে কেনা, কারো দানে নয়! ‘অমর একুশের সিঁড়ি বেয়ে আমার বাংলা মায়ের কোল’
উপরে