প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল, ২০১৩ ১৮:০৬:০৪
সুখে-দুঃখে, আপদে-বিপদে মানুষের সঙ্গেই থেকেছি: মানিক সরকার

আগরতলা: কোথায় যাচ্ছেন? সামনে! মাত্র একটি শব্দে এই জবাবটিই দিতে ভালোবাসেন মানিক সরকার। যার নামের আগে ‘ভারতের একমাত্র’ শব্দটা এখন লেপ্টে গিয়েছে! দেশের একমাত্র বাম-শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী!

পরপর পাঁচ দফার মধ্যে চার বারই ত্রিপুরায় বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় এলো তার হাত ধরে। মানিক এখন বড় ইনিংসের খাতায় নাম লেখাতে চলেছেন। আসলে যা বলতে ভালবাসেন, তা-ই ঘটছে মানিক-রাজে। ‘সামনে’ই এগোচ্ছে তার সরকার।

পরনে সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি। চলনে-বলনে মার্জিতরুচি বাঙালিয়ানা। এক নজরে কোথায় যেন জ্যোতি বসু-বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যদের ছায়া খুঁজে পাওয়া যায়। তবে ঔদ্ধত্য বা উন্নাসিকতা কোনোটাই তার নেই।

ত্রিপুরার ৬৮ শতাংশ বাঙালি তাকে সমর্থন উজাড় করে দেয়। আবার ৩২ শতাংশ উপজাতি ভোটেও তিনি অন্য কারওকে ভাগ বসাতে দেন না। পরপর দু’টি নির্বাচনের ফলাফলে সেই ধারাবাহিকতা স্পষ্ট। তার দলীয় সহকর্মীরা তাই বলেন, বাঙালি ভোটব্যাঙ্কের সঙ্গে উপজাতিদের আশা-আকাঙ্ক্ষার কার্যকরী মিশ্রণ ঘটাতে তাদের সেরা বাজি ৬৪ বছরের সদাহাস্যময় এই বাণিজ্যের স্নাতক। জনসমর্থন আদায় করে আনার ক্ষেত্রে তিনি আদর্শ সেলসম্যান। একই রকম কুশলী তার রাজ্যের জন্য কেন্দ্র থেকে যেকোনো রকম সহায়তা আদায়ের সময়েও।

তিনি এটাও বিশ্বাস করেন, ত্রিপুরার বাণিজ্যিক স্বার্থে প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা জরুরি। মানিক বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ উন্নত করতে পারলে ত্রিপুরাকে উত্তর-পূর্বের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলা যাবে। আমাদের দেশের লুক-ইস্ট পলিসির জন্যই তা কাজে আসবে।”


ভারতের একটি দৈনিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরো অনেক বিষয়ে কথা বলেছেন। নতুন বার্তা ডটকমের পাঠকদের জন্য এখানে তা তুলে ধরা হলো:

প্রশ্ন: ত্রিপুরায় বামফ্রন্টের ভোট এবং আসন দুই-ই বাড়লো। এতবড় জয়ের প্রত্যাশা ছিল?
মানিক সরকার: মানুষের ক্ষতি হয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত আমরা গ্রহণ করিনি বা এমন কোনো কাজ আমরা করিনি। অগ্রগতির স্বার্থেই কাজ করেছি। তাই গভীর আত্মবিশ্বাস ছিল মানুষ আমাদের সমর্থন করবেন। দ্বিতীয় বিষয়, ত্রিপুরায় প্রতিপক্ষ মানে কংগ্রেস। তারা ত্রিশ বছর সরকার চালিয়েছে, তারপর জোট জমানায় মানুষ ওদের দেখেছেন। এর সঙ্গে আমাদের তুলনা করছেন। সেই তুলনায় দিন-রাতের ফারাক হয়ে যাচ্ছে। কেন্দ্রেও কংগ্রেসের সরকার। বর্তমান সরকার তো সবথেকে বেশি গরিব বিরোধী, অল্প সংখ্যক ধনীর স্বার্থবাহী। এখানেও তো তারা সেই নীতিই নেবে, তাই মানুষ তাদের সমর্থন করবে না এই বিশ্বাস ছিল। সবথেকে বড় কথা সরকারে গিয়ে তো আমরা মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন হইনি। সুখ-দুঃখে, আপদে-বিপদে মানুষের সঙ্গেই থেকেছি। মানুষের থেকে যদি বিচ্ছিন্নই হয়ে যাই তাহলে কিসের বামপন্থী?

প্রশ্ন: নির্বাচনী প্রচারে আপনি বারেবারে বলেছেন দিল্লির সরকার পরিবর্তনের জন্য ত্রিপুরায় বামপন্থীদের শক্তিশালী করুন। কীভাবে তা সম্ভব?
মানিক সরকার: আমরা বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্পের কথা বলছি। কংগ্রেসের বিকল্প বিজেপি  হতে পারে। কারণ শ্রেণীগতভাবে তাদের কোনো তফাৎ নেই। বিজেপি খোলামেলা সাম্প্রদায়িকতা করে। কংগ্রেস সাম্প্রদায়িকতার সঙ্গে সমঝোতা করে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তাদের কোনো তফাৎ নেই। কিন্তু শ্রমিক-কৃষক-বেকার-আদিবাসী-তফসিলী জাতি-মহিলা-সংখ্যালঘু সমস্ত অংশের শ্রমজীবী মানুষের বিকল্প কে? কংগ্রেস বা  বিজেপি নয়। এদের নীতিতেই গরিব-মেহনতীরা বিপর্যস্ত। বামপন্থীরাই তাদের বিকল্প দেখাচ্ছে। আমরা সংখ্যায় কম হতে পারি, শক্তি সীমিত হতে পারে, ছোট হতে পারি। কিন্তু সারাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছি। মানুষের জ্বলন্ত সমস্যাগুলি নিয়েই আমরা সারাদেশে জাঠা শুরু করেছি। ত্রিপুরায় সেই বিকল্প কর্মসূচি রূপায়ণ করার চেষ্টা করেছি আমরা। তার ভিত্তিতেই মানুষ আমাদের বিপুল সমর্থন করেছেন। ফলে এই বিকল্প নীতির জন্য লড়াইকেই তো আসলে মানুষ সমর্থন জানালেন। সারাদেশের বাম-গণতান্ত্রিক মানুষ ত্রিপুরার মানুষের রায়ে এই লড়াইয়ে নতুন করে শক্তি পাবেন, উৎসাহিত হবেন।

প্রশ্ন: পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের কায়দায় কংগ্রেস এখানে ‘পরিবর্তনে’র স্লোগান দিয়েছিল, কেন তা মুখ থুবড়ে পড়লো?
মানিক সরকার: আমরা এখানে বিরোধীদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম কিসের পরিবর্তন? রাজ্যে শান্তি-সম্প্রীতির পরিবেশ আছে তার পরিবর্তন? উন্নয়ন, অগ্রগতির পরিবর্তন? জবাব পাইনি। মানুষও জবাব পাননি। দ্বিতীয়ত, ত্রিপুরায় পরিবর্তনের স্লোগান প্রথম দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করলো না। আমরা কংগ্রেসকে প্রশ্ন করেছিলাম যারা স্লোগান আনলো তারাই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না, আর ধার করা স্লোগান নিয়ে আপনারা কী করতে চাইছেন? কোনো জবাব মেলেনি। সবথেকে বড় কথা মানুষ অত্যন্ত সচেতন। পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের পর কি হাল হয়েছে ত্রিপুরার মানুষ তার খবর রাখে। বাংলায় মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে তৃণমূলের শাসনে। এখন মানুষ মনে করছেন ভুল হয়ে গেছে। তারা বলতে শুরু করেছেন ‘পরিবর্তনের’ পরিবর্তন চাই। আর যে কংগ্রেস নেতারা এখানে প্রচারে এলেন, তারা পরিবর্তনের পর পশ্চিমবঙ্গে কী অবস্থা তা গোপন করলেন। সেখানে তাদের প্রায় গলাধাক্কা দিয়ে সরকার থেকে বের করে দিয়েছে তৃণমূল। এখন প্রতিদিন তারা তৃণমূলের হাতে আক্রান্ত হচ্ছেন। সেসব কথা গোপন করে অসত্য কথা প্রচার করে গেলেন। মানুষ যা বোঝার বুঝে গেলেন। এ রাজ্যের মানুষ জোট জমানার অভিজ্ঞতা ভোলেননি। পশ্চিমবঙ্গে কী হচ্ছে তা দেখছেন, বুঝছেন। তাই একটা স্লোগান ধার করে আউড়ে গেলেই হয় না। পরিবর্তনের স্লোগান কংগ্রেসের বুমেরাং হয়েছে।

প্রশ্ন: বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মুখোশ বলে পরিচিত আইএনপিটি তো নির্বাচনে শূন্য হয়ে গেল। ত্রিপুরার রাজনীতিতে আগামী দিনে এর কী প্রভাব?
মানিক সরকার: বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি শেষ হয়ে যায়নি। দেশের ভেতরের এবং বাইরের এই শক্তি ক্রমাগত কাজ করে যাবে। মানুষের একতা এবং সংহতিকে নষ্ট না করলে তাদের উদ্দেশ্য সফল হবে না। তাই নানাভাবে তারা মানুষকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করবে। কোথাও জাতপাতের নামে, কোথাও ধর্মের নামে কোথাও আরও অন্য কিছু পন্থায়। তাই আত্মতুষ্টির কোনো জায়গা নেই। আসন না পেলেও তারা আছে, তাই সতর্ক থাকতে হবে।

প্রশ্ন: নির্বাচনী প্রচারে মহারাজা প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মণ দাবি তুলেছিলেন উপজাতি এলাকায় বাঙালিদের থাকতে দেওয়া হবে না। এই ধরনের বক্তব্য কী ত্রিপুরায় ফের উপজাতি এবং অনুপজাতি মানুষের সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে?
মানিক সরকার: এক কথায় এই মন্তব্য উসকানিমূলক। আমি তো নিজে কানে তার বক্তব্য শুনিনি। তবে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এই বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে এবং বিভিন্ন মহল থেকে তার তীব্র প্রতিবাদ হওয়ার পরেও প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মণ তার প্রতিবাদ করেননি। ফলে আমি ধরে নিচ্ছি তিনি একথা বলেছেন। আমি জানি না তিনি কতোটা ভেবে বুঝে বলেছেন, তবে ভাবাবেগ থেকেও যদি বলে থাকেন তার সতর্ক হওয়া উচিত। রাজনীতির মঞ্চ থেকে যখন কোনো কথা বলছেন তা অত্যন্ত বিবেচনা করে বলা উচিত। এ তো বিচ্ছিন্নতাবাদী-সন্ত্রাসবাদীদের স্লোগান। তার দিক থেকে এ ধরনের মন্তব্য করা শোভন বলে মনে করি না। তার এখন বয়স কম, অনেক দিন রাজনীতি করবেন, এসব কথা বুঝবার চেষ্টা করবেন বলে মনে করি। যদিও তার এই বক্তব্য মানুষের মধ্যে কোনো প্রভাব ফেলেনি। তিনি আইএনপিটি প্রার্থীদের হয়ে প্রচার করেছিলেন। তারা সবাই হেরে গেছে। মানুষ শান্তি এবং সম্প্রীতির পক্ষেই রায় দিয়েছেন।

প্রশ্ন: ত্রিপুরায় কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তুলতে এই উপজাতি মানুষদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এখনও পর্যন্ত তারা বিপুল সমর্থন করছেন সিপিআই(এম)-কেই। নতুন প্রজন্মও কি এভাবে একাত্ম অনুভব করে পার্টির সঙ্গে?
মানিক সরকার: আমাদের পার্টি গঠনের ক্ষেত্রে উপজাতি মানুষদের অবদান অনস্বীকার্য। সামন্তরাজাদের শাসন-শোষণের নাগপাশে আটকে ছিলেন ত্রিপুরার উপজাতি মানুষ। জীবিকা বলতে একমাত্র ছিল জুম চাষ। জীবনধারণের ন্যূনতম পরিকাঠামো ছিল না। সেই সময়ে একটা জাতিকে জাগ্রত করতে কমরেড দশরথ দেবসহ অন্যান্য নেতারা যে একাগ্রতা নিয়ে কাজ করেছেন তাকে সেলাম জানাতেই হবে। কিন্তু সেই বাস্তবতা তো এখন নেই। তারা যে ফর্মে তখন কাজ করেছেন এখনও সেই ফর্মেই কাজ করতে হবে সেটা তো কোনো বাস্তবসম্মত চিন্তা হলো না। এখনকার পরিস্থিতিতে বাম-গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে উপজাতি প্রজন্ম সম্পৃক্ত হচ্ছে কি না সেটাই দেখার বিষয়। এই নির্বাচনে বামফ্রন্ট যে বিপুল সাফল্য পেয়েছে, তার পিছনে অন্যান্য অংশের মতো যুবদের বিপুল সমর্থন আছে। তার মধ্যে উপজাতি যুব সম্প্রদায়ও নিশ্চিতভাবেই আছেন।

প্রশ্ন: বিপুল উন্নয়নের ফলে ত্রিপুরার প্রত্যন্ত অংশেও মধ্যবিত্ত শ্রেণী তৈরি হচ্ছে। তাদের চাহিদা বাড়ছে। কীভাবে এই চাহিদা পূরণের চ্যালেঞ্জ নেবেন?
মানিক সরকার: মধ্যবিত্ত শ্রেণী তৈরি হচ্ছে এটা অগ্রগতির স্বাভাবিক বিষয়। মানুষের চাহিদা বাড়বে সেটাও স্বাভাবিক। আবার আমাদের রাজ্যের যে সীমাবদ্ধতা সেটাও তাদের জানা বিষয়। আমরাও সেকথা গোপন করি না। মানুষকে সীমবদ্ধতার কথা খুলে জানাই। সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে যেতে হবে। মানুষ ঠিক বুঝবেন। আর খিদে তো শুধু পেটের নয়, মস্তিষ্কেরও। ভোগবাদী ব্যবস্থার মধ্যে তাই মতাদর্শগত প্রচারও ঠিক রাখতে হবে। তাহলেই মনের খাদ্য মিলবে।

প্রশ্ন: কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কী পরিকল্পনা করছেন?
মানিক সরকার: ত্রিপুরায় সরকারী চাকরির পাশাপাশি কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজন শিল্পায়ন। তার জন্য বেসরকারি উদ্যোগ দরকার। শিল্পায়নের জন্য সবথেকে বেশি জরুরি যোগাযোগ এবং বিদ্যুৎ। বিদ্যুতে আমরা স্বয়ম্ভর হতে চলেছি। কিন্তু সড়ক, রেল এবং বিমান তিনটি যোগাযোগ মাধ্যমের অগ্রগতি নির্ভর করছে কেন্দ্রের ওপর। রেল এবং জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণে কেন্দ্র সহযোগিতা করবে বলে আশা করি। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়ে গেলে আজ ত্রিপুরার যে অসুবিধা তাই সুযোগে পরিণত হবে। এরসঙ্গে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হওয়ায় একটা অভ্যন্তরীণ বাজার তৈরি হয়েছে। সবমিলিয়ে আমরা শিল্পায়নের বিষয়ে খুবই আশাবাদী।

প্রশ্ন: জ্যোতি বসুর পর সব থেকে বেশি সময়ে আপনিই মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন। এই অনুভূতিটা কীরকম?
মানিক সরকার: ত্রিপুরায় নৃপেন চক্রবর্তী, দশরথ দেবরাই বামফ্রন্ট সরকারের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তারাই ইট বিছিয়ে রাস্তা তৈরি করেছেন। আমরা এখন শুধুমাত্র তাকে আরেকটু মসৃণ করার চেষ্টা করছি। প্রথম যখন পার্টি আমাকে ১৯৯৮ সালে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দিল তখন কমরেড জ্যোতি বসু এখানে এসেছিলেন। আস্তাবল মাঠে বিজয় সমাবেশ করে ফেরার পর পার্টি সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকেও ছিলেন। পার্টি অফিসে ঢুকতে ঢুকতে আমাকে বললেন, ‘এটা খুব সম্মানের দায়িত্ব। খুব গুরুত্বপূর্ণ। মাথা ঠাণ্ডা রেখে কাজ করবে।’ তিনি তো কম কথা বলতেন। এটুকুই বললেন। আমি বললাম আমি তো ভোটে দাঁড়াতে চাইনি। পার্টির সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলাম। আপনাদের তো কাজের অভিজ্ঞতা আছে, আমাকে পরামর্শ দিন। তখন তিনি বলেছিলেন, সবার কথা শুনবে। তারপর তোমার কথা বলবে। তোমার যে রাজনীতি, মতাদর্শ তা মাথায় রেখে মানুষের জন্য কিভাবে কাজ করতে পারো সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে। তবে সবার কথা শুনতে হবে। সে কথা মাথায় রেখেই এখনও কাজ করার চেষ্টা করি।

প্রশ্ন: পশ্চিমবঙ্গের উপনির্বাচনের ফল নিয়ে আপনার বিশ্লেষণ কী?
মানিক সরকার: এটা একটা সঙ্কেত বলে মনে করছি। দূর থেকে দেখে আমার বিশ্লেষণ, এখনই এই ফল নিয়ে আত্মতুষ্ট হওয়ার জায়গা নেই। তবে নিশ্চিতভাবেই এটা একটা সঙ্কেত দিল। মানুষের বিপুল সমর্থন নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার তৈরি করার দেড়-দুই বছরের মধ্যে সেই মানুষকেই ভয় পাচ্ছে। ভয় পাচ্ছে বলেই গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর আক্রমণ নামিয়ে আনছে। ইউনিয়ন অফিস, স্কুল কমিটি, বিধানসভা সর্বত্র আক্রমণ। এই আক্রমণ শক্তির লক্ষ্মণ নয়, ভীতির লক্ষ্মণ। যেসব অবাস্তব গালভরা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকারে এসেছে তা পূরণ করা সম্ভব নয় মানুষ খুব দ্রুত বুঝে গেছেন। তাই মানুষের মুখ বন্ধ করার জন্য আক্রমণ শুরু হয়েছে। মানুষও ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছেন। এই উপনির্বাচন তার প্রমাণ। যেভাবে মাথা নুইয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, তা পারছে না। মানুষ রুখে দাঁড়াচ্ছেন। পঞ্চায়েত নির্বাচনেও এর প্রভাব পড়বে। আমি মনে করি পশ্চিমবঙ্গে যদি স্বাধীনভাবে মানুষ পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন তাহলে এই নৈরাজ্য, অত্যাচারের জবাব দেবেন।
সর্বশেষ সংবাদ
  • বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করবো : প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে : সমাবেশে বক্তারা গেইল-ম্যাককালামের ব্যর্থতায় কুমিল্লার কাছে রংপুরের পরাজয়রাবির অপহৃত ছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার : নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কাটেনিআজ নাগরিক সমাবেশে : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ফিরে পাবে একাত্তরের ৭ মার্চের আবহমিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা বন্ধে জাতিসংঘের আহবান‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে’টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে ২৬ কোটি ডলার দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি'র নেতৃত্বাধীন জোটসংসদীয় আসনের সীমানা পুন:নির্ধারণ আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করেছে ইসিজিম্বাবুয়ের সেনা কর্মকর্তারা অভ্যুত্থানের কথা অস্বীকার করেছেনএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেয়নি : সিইসিআজ ভয়াল ১৫ নভেম্বর : স্বজন হারাদের কাঁন্না থামেনি আজও মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যমান চিনি আইন রহিতের সিদ্ধান্তমহানগরী ঢাকাকে ‘সেফনগরী’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন ১০ কার্য দিবস চলবেস্থানীয় সরকারের অধীন দেশের ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানে ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণবিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না : খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ : বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি, সোমবার শাহবাগে ‘আনন্দ উৎসব ও স্মৃতিচারণ’ আজ বসছে দশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন
  • বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করবো : প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে : সমাবেশে বক্তারা গেইল-ম্যাককালামের ব্যর্থতায় কুমিল্লার কাছে রংপুরের পরাজয়রাবির অপহৃত ছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার : নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কাটেনিআজ নাগরিক সমাবেশে : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ফিরে পাবে একাত্তরের ৭ মার্চের আবহমিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা বন্ধে জাতিসংঘের আহবান‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে’টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে ২৬ কোটি ডলার দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি'র নেতৃত্বাধীন জোটসংসদীয় আসনের সীমানা পুন:নির্ধারণ আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করেছে ইসিজিম্বাবুয়ের সেনা কর্মকর্তারা অভ্যুত্থানের কথা অস্বীকার করেছেনএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেয়নি : সিইসিআজ ভয়াল ১৫ নভেম্বর : স্বজন হারাদের কাঁন্না থামেনি আজও মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যমান চিনি আইন রহিতের সিদ্ধান্তমহানগরী ঢাকাকে ‘সেফনগরী’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন ১০ কার্য দিবস চলবেস্থানীয় সরকারের অধীন দেশের ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানে ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণবিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না : খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ : বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি, সোমবার শাহবাগে ‘আনন্দ উৎসব ও স্মৃতিচারণ’ আজ বসছে দশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন
উপরে