প্রকাশ : ০৫ জুন, ২০১৫ ০৮:৪২:২৮
আমি সে ধরনের কূটনীতিতে বিশ্বাসী, যা কাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনতে পারে

বাংলাদেশ বাণী টোয়েন্টিফোর ডটকম, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের পঞ্চদশ প্রধানমন্ত্রী। এ রাজনীতিবিদ ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত ষোড়শ সাধারণ নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টিকে নেতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে বহু মতের দ্বারা জয়লাভ করেন এবং ২৬ মে দেশটির পঞ্চদশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এর আগে গুজরাটের চতুর্দশ মুখ্যমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। মোদি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ নামে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের একজন সদস্য এবং সংবাদ মাধ্যম ও বিদগ্ধজনের মতে, তিনি নিজেকে একজন হিন্দু জাতীয়তাবাদী হিসেবে দাবি করেন। মোদি সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তিতে চণ্ডীগড় থেকে প্রকাশিত ট্রিবিউনের এডিটর ইন চিফ রাজ চেঙ্গাপ্পাকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাত্কারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বণিক বার্তার পাঠকদের জন্য আজ ছাপা হলো :-


 


নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসে এক বছর পার করলেন, আপনার অনুভূতিটা কেমন?


 


অনেক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আমাদের দেশ এখনো দরিদ্র ও উন্নয়নশীল অবস্থানেই রয়েছে, যে কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে আমরা চেষ্টা করেছি উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করতে। বিশেষ করে এক্ষেত্রে কোনো কিছুর ঘাটতি রাখা হয়নি। আমি কখনই সে অবস্থানে ফিরে যেতে চাইব না যেটা বারবার ভুল বলে প্রমাণিত। গত বছরের ১৫ আগস্ট যখন আমি ‘সাচ ভারত’-এর সঙ্গে একটি সাক্ষাত্কার পর্বে কথা বলছিলাম, তখন অনেক বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে গত এক বছরে আমি জনগণের কাছ থেকে যে সাড়া পেয়েছি, সেটা সত্যি অবাক করার মতো, এককথায় বললে কল্পনাতীত। এক্ষেত্রে আমরা দেখেছি, গণমাধ্যম প্রতিটি ক্ষেত্রেই সরকারের প্রতি নেতিবাচক আচরণ করলেও কাজের ক্ষেত্রে ঠিকই দেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েছে। যেদিক থেকেই হোক এ ধরনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে আশাবাদী করার মতো। অনেক ক্ষেত্রেই জনসচেতনতা বেড়েছে। মানুষ শিখেছে, কীভাবে তাদের অধিকার আদায় করে নিতে হয়। এক্ষেত্রে দেশের জন্য কাজ করা ব্যক্তিদের যেমন পুরস্কৃত করা হচ্ছে, তেমনি দেশদ্রোহীদের শাস্তির আওতায় আনতেও কোনো কার্পণ্য লক্ষ করা যায়নি। বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে এবারের সরকার যে উদ্যম ও নিষ্ঠা দেখিয়েছে, তা সত্যি চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে আমি ২৬ জানুয়ারির মধ্যে সবার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার চ্যালেঞ্জ নিলে সবাই অবাক হয়েছিল। মর্মাহত অবস্থায় কেউ কেউ বলতে শুরু করে, গত ৬০ বছরে যা ভারতে ঘটেনি, সেটা কীভাবে সম্ভব হবে। এ লোকটা আসলে কী বলতে চাইছে! কিন্তু সেটা হয়েছে। মাত্র ১০০ দিনের ব্যবধানে ২৫ ডিসেম্বরের আগেই গৃহীত লক্ষ্য প্রায় পূরণ হয়ে গেছে বলা যায়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে এ অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলতে সহায়তা করেছেন। আর এ ঘটনা নজির স্থাপন করেছে যে, উপযুক্ত নির্দেশনা পেলে সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তাদের পক্ষেও প্রয়োজনের সময় উপযুক্ত ফল লাভ সম্ভব।


 


ক্ষমতার প্রথম বছরে আপনার প্রধান পদক্ষেপ কী ছিল, আপনি কী করতে চেয়েছেন বা চান?


 


আমি যখন ক্ষমতায় আসি, তখন দেশের অবস্থা ছিল যাচ্ছেতাই। সত্যি বলতে তখন ‘বুরে দিন’ তথা এক রকমের বাজে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সময় পার করতে হয়েছে সবাইকে। তাই ক্ষমতায় বসে আমার প্রথম প্রশ্ন ছিল, আসলে কী করতে হবে, সেটাই এখনো ঠিক করা হয়নি। আমি দিল্লি বা তার কূটনীতিকদের তেমন গুরুত্ব না দিয়ে জনগণের জন্য কাজ করা শুরু করি। প্রথমে বড় বড় কাজে হাত না দিয়ে শুরু করেছিলাম অনেকগুলো পরীক্ষামূলক কাজের মধ্য দিয়ে। আর শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করি এর ফলাফলের। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে ফল ইতিবাচক হয়ে দেখা দেয়ায় উদ্যম ফিরে পাই। চেষ্টা করেছি নতুন করে সবকিছু শুরু করার, যাতে ভারতবাসী অনুপ্রেরণা খুঁজে পায় বাঁচার মতো বাঁচতে। এক্ষেত্রে বলতে পারি, মাত্র তিন মাসের মাথায়ই আমি ফল পেতে শুরু করেছি। ছোট ছোট কাজ যেমন— দ্রুত অফিসে যাওয়া, সময় মেনে কাজ করার মতো বিষয়গুলোয় গুরুত্ব দিয়েছি আমি। আমি ঠিক সময়মতো কর্মস্থলে যেতে শুরু করি, তার পর চেয়ে দেখি প্রতিটি মানুষ আমাকে অনুসরণ করছে। ব্যক্তিগত জীবনের পূর্বাভিজ্ঞতাকে এখানে কাজে লাগাতে চেষ্টা করেছি, যার প্রথম ধাপে সফল হয়েছি বলা যেতেই পারে।


 


প্রথমে একটি প্রদেশ গুজরাট, তার পর পুরো জাতির নেতৃত্ব আপনার ওপর। কোনো পার্থক্য খুঁজে পেয়েছেন কি?


 


বস্তুত এ দুই কাজের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। বিশেষ করে আপনাকে দুটো ক্ষেত্রেই প্রশাসন চালাতে হচ্ছে, সেখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ একটাই, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও তার সুব্যবস্থাপনা। তবে কেন্দ্র সরকারের দায়িত্বে বসলে আরো অতিরিক্ত কিছু কাজ তার সঙ্গে যুক্ত হয় যেমন— নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোও দেখতে হয়। রাজ্য সরকারের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কিছু কাজ সরাসরি করতে হয়, কিন্তু কেন্দ্র সরকারের হিসাবে বিষয়গুলোকে দেখতে হয় সমন্বিতভাবে। তাই দিল্লিতে বসে দেশ চালাতে হলে সবকিছু অনেক বুঝেশুনে নির্ধারণ করতে হবে। বিশেষ করে এখানে স্থাপিত প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামোকে বাস্তবমুখী ও কর্মময় করে তুলতে হবে, যা দেশ চালাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।


 


এ বছর যে পরিবর্তন আনতে পেরেছেন...


 


এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন করার অবকাশ দেখি না। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় অর্থভাণ্ডারে যে ৩ লাখ কোটি রুপি জমা হয়েছে, সেটাইবা কম কিসে?


 


দুর্নীতি দমন নিয়ে আপনার ভাবনা কী?


 


একেবারে শীর্ষপর্যায় থেকে এ অপকর্ম রুখতে একেবারে ‘জিরো টলারেন্স’ দেখানো হবে। শুধু নিজে সত্ হওয়ার চেষ্টা করাটাই যথেষ্ট নয়। এক্ষেত্রে আমার বক্তব্য, আচার-আচরণ, ব্যবহার, পলিসি, ঐতিহ্য, চালচলন, হাবভাব থেকে শুরু করে সবকিছুতেই এর প্রতিফলন ঘটাতে হবে। আপনি একা সত্, এটাই যথেষ্ট নয়। আপনাকে সত্ হয়ে ওঠার পাশাপাশি চারপাশকে সততার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে সব ধরনের দুর্নীতির কালিমাকে সততার মানদণ্ডে সাদা করে তুলতে উদ্যোগী হতে হবে সবাইকে। এক্ষেত্রে কূটনৈতিক পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বস্তরকে ধাপে ধাপে পরিশুদ্ধ করে তোলার দায়িত্ব পালন করতে হবে আমাদের।


 


পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আগে যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, তার কী অবস্থা?


 


সবচেয়ে বড় কথা, যারা এর আগে ক্ষমতায় ছিলেন, তারা কোনো দিক থেকে আমার সরকারকে কালো টাকার ব্যাপারে প্রশ্ন করতে পারেন না। এর আগে সব ধরনের কালো টাকা বাহিরে জমা হয়েছিল। কারণ তারাই এটাকে প্রণোদিত করেছিলেন। এক্ষেত্রে তারা এর প্রতিরোধে কোনো ধরনের কার্যকর পদক্ষেপও গ্রহণ করেননি। উপরন্তু নানা ধরনের আইনি মারপ্যাঁচে এটাকে প্রণোদিত করা হয়েছে মাত্র। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দেশকে কালো টাকার অভিশাপমুক্ত করা হবে।


 


আমরা কি আশা করতে পারি, কালো টাকার মালিকদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে এবং তাদের নাম জানা যাবে?


 


আমরা সবাই যেহেতু আইনের অধীন, সেহেতু এক্ষেত্রে তার বাইরে কিছু করা অসম্ভব। তাই কারো নাম প্রকাশ হলে সেটাকে শুধু সুপ্রিম কোর্টের কাছেই দিতে পারি। এর বেশি কিছু নয়। আর আমি ট্রিবিউনকেও অনুরোধ করব, তাদের কাছে যদি কালো টাকা সম্পর্কিত কোনো তথ্য থাকে, সেটা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে জানান। আমরা এর প্রতিরোধে যে আইন করতে চেষ্টা করেছি, কেউ কি এটা করার সাহস দেখিয়েছে?


 


দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপনার যুদ্ধ ঘোষণা সামনে রেখে বিরোধী পক্ষ আপনাকে বলছে, ‘স্যুট-বুট কি সরকার’, আপনি নাকি দুর্নীতিবাজদের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন?


 


আমি জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের অনুরোধ করব, আমার সরকারের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ এসেছে, সেগুলো নথিবদ্ধভাবে উপস্থাপন করুন। এ থেকে যৌক্তিক ও বাস্তব অভিযোগগুলোকে আমলে এনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কেউ কেউ আমার নামের তথা অ্যাক্রোনিমের বাজে অর্থ খুঁজে বের করে, কেউ কেউ ভাঁড় বকতে থাকে, এনডিএ হচ্ছে এমএনডিএ, কেউ কেউ আমাদের অহঙ্কারী বলে, কারো কারো আলোচনায় গুরুত্ব পায় স্যুট, বুট, কোট কিংবা মাথার চুল পর্যন্ত। কিন্তু এখানে তাদের ভ্রষ্টাচারটা দেখুন, তারা কেউ সুনির্দিষ্ট বিষয় সামনে আনতে পারেন না। আর তাদের সামনে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এখনো নেই, এটাই আমাদের সরকারের অন্যতম সাফল্য।


 


হরিয়ানা ও পাঞ্জাবের মৌসুমি বন্যা আর কৃষি বিপর্যয়ে অনেক কৃষক আত্মহননের চেষ্টা পর্যন্ত করেছেন। এক্ষেত্রে আপনি কি সেখানে গেছেন কিংবা এ বিষয়ে আপনার সরকার কী উদ্যোগ নিয়েছে?


 


খেয়াল করুন, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন বারবার এমন নানা আঞ্চলিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে সরকারের কাছে স্মারকলিপি দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে গেছি আমরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা থেকে কোনো উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, এমন কথা মনে পড়ে না। কিন্তু এ বছর দুর্যোগ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিজেপির বিভিন্ন নেতা অঞ্চলটি পরিদর্শন করেছেন। এক্ষেত্রে পরিস্থিতির সঙ্গে মিল রেখে একটি কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের নির্দেশও দেয়া হয়েছে সরকারের তরফ থেকে। বিশেষ করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হিসাব করে কৃষকদের জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ ও ভর্তুকি দেয়ার কথাও বলা হয়েছে।


 


জনগণ যেটাকে কৃষকবিরোধী ও প্রো-করপোরেট হিসেবে চিহ্নিত করছে, সেই ভূমি অধিগ্রহণ বিল পাস করতে আপনার সরকার এখনো সচেষ্ট, কেন?


 


প্রায় ৬০ বছর হয়ে যাচ্ছে, আমাদের দেশে চলছে সেই সনাতনী ভূমি অধিগ্রহণ আইন। তারা কি কখনই কৃষকবিরোধী ছিল না? যারা প্রায় তিন লাখ কৃষকের আত্মহননের পেছনে দায়ী, তাদের এখন কথা বলার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। এর আগের আইনটি করা হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ১২০ বছর আগে। শুধু রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যেই তাড়াহুড়ো করে এটি করা হয়েছিল তখন। আর এখন আমাদের বিরুদ্ধে যারা সোচ্চার, তাদের উদ্দেশ্যও পুরোপুরি রাজনৈতিক।


 


আপনি কি সুনিশ্চিত যে, বিলটি সংসদে পাস করা সম্ভব হবে?


 


আমার জন্য এটা জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন নয় যে, পাস করতেই হবে। বিষয়টি আমার সরকার কিংবা দলেরও কোনো লক্ষ্য ছিল না। তাই এক্ষেত্রে পরিস্থিতির দায় মেনেই প্রস্তাবনা পেশ করা হয়েছে। আর আমাদের সরকার রাষ্ট্রের প্রতি নৈতিক দায়িত্ব সামনে রেখেই তাতে সাড়া দিয়েছে। তাই আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, বিষয়টি যেন আলোর মুখ দেখে, তার জন্য। আমি এখনো এ প্রসঙ্গে যেকোনো ধরনের পরামর্শ খুশি মনে গ্রহণ করতে প্রস্তুত আছি।


 


কৃষকদের জন্য নতুন কোনো ভাবনা?


 


কৃষকরাই আমাদের জাতীয় উন্নয়নের মেরুদণ্ড। আমাদের মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় ৬০ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমাদের জিডিপির মাত্র ১৫ শতাংশ কৃষি থেকে এলেও সেক্ষেত্রে আরো উন্নয়নের সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের উত্পাদনক্ষমতা থেকে শুরু করে কৃষি বিষয়ক আনুষঙ্গিক উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। আমরা কৃষকের কাজের সুবিধা মাথায় রেখেই সয়েল হেল্প কার্ড প্রচলন করেছি, যা তাদের খরচ কমিয়ে উত্পাদন বৃদ্ধিকে প্রণোদিত করতে পারে। এক্ষেত্রে কৃষকদের আয় ও পারিপার্শ্বিক বাস্তবতাকে অনেক গুরুত্বের সঙ্গে ঠাঁই দেয়া হয়েছে।


 


ক্ষমতায় আসার পর বৈদেশিক নীতিতে অনেক সফলতার নজির স্থাপন হয়েছে। আপনার পরবর্তী পরিকল্পনা কী এ বিষয়ে?


 


প্রথমেই বলতে চাই, আমি এর আগের প্রধানমন্ত্রীদের মতো সারা বিশ্ব ঘুরে বেড়াইনি। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের উচিত যা বাস্তব সেটাই বলা, কখনই বিভ্রান্তিকর ধারণা প্রতিষ্ঠা করা কাম্য নয়। তবে এটা ঠিক, আমরা শক্তিসাম্য নীতিতে বিশ্বাস করি। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নেও কাজ করে যাচ্ছে আমাদের সরকার। এক্ষেত্রে মানবিক দিকগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মালদ্বীপে আমরা সুপেয় পানির ব্যবস্থা করেছি, শ্রীলংকায় পাঁচজন ভারতীয় জেলেকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও আমরা তাদের ফিরিয়ে আনতে পেরেছি; যেখানে তারা পাকিস্তান থেকে সর্বজিেক ফিরিয়ে আনতে পারেনি। আমরা ঠিকই আফগানিস্তান থেকে বাবা প্রেমকে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি; যাকে তালেবানরা অপহরণ করেছিল। একইভাবে নেপালে দুর্ঘটনার পর আমরা সঙ্গে সঙ্গে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছি। ইয়েমেনে আমরা ৪৮ জন বিভিন্ন জাতিসত্তার মানুষকে উদ্ধার করেছি।


 


সীমান্ত সমস্যা নিরসন বিষয়ক আলোচনা নিষ্পত্তির জন্য আপনি বাংলাদেশ যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে কোনো চুক্তি হবে কি?


 


আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিভিন্ন দলের সঙ্গে কথা বলেছি এবং আমি এক্ষেত্রে সাফল্য নিয়ে অনেকটাই আশাবাদী। গণমাধ্যমগুলো এখনো বুঝতে চাইছে না, এটা কত বড় অর্জন, তাই তারা অন্য বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাইছে। বিশ্বের অন্য কোনো দেশে এমন ঘটনা ঘটলে তারা এটাকে বলত বার্লিন প্রাচীর ভাঙার মতো নজির সৃষ্টিকারী কিছু একটা ঘটে গেছে। আমাদের প্রতিবেশী হিসেবে সব ধরনের ধারণায় বদল ঘটেছে অনেকটা নাটকীয়ভাবে, কারণ আমাদের প্রস্তাবনায় সমৃদ্ধির কথাগুলো অনেক গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হয়েছে। আমি বরাবরই বাস্তববাদী এবং সে ধরনের কূটনীতিতে বিশ্বাসী, যা কাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনতে পারে।


 


আমরা যেমনটা বাংলাদেশের সঙ্গে করতে পেরেছি, তেমনি চীনের সঙ্গেও কি সীমান্ত বিরোধ নিয়ে কোনো ধরনের নিষ্পত্তিতে আসা সম্ভব হবে?


 


আমি চীন ভ্রমণ করে দেখেছি, এখনো বিশ্বাস ও সম্ভাবনার জানালা উন্মুক্ত। তাই বলব অপেক্ষা করুন, দেখুন সময় আমাদের কোথায় নিয়ে দাঁড় করায়। এক্ষেত্রে আমাদের সঙ্গে তাদের সম্পর্কটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বলে সেখানে অনেক ধরনের জটিলতা ও চ্যালেঞ্জ থাকবেই। আমি অনেক আন্তরিকভাবে তাদের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমার সঙ্গে আলোচনায় বসে চীনের প্রেসিডেন্টও একই ধরনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এক্ষেত্রে আমাদের সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরো বাড়ানোর পাশাপাশি সীমান্ত নিয়ে একটি সহনশীল ও ইতিবাচক সিদ্ধান্তে আসার আশ্বাস পাওয়া গেছে চীনের তরফ থেকে। এটা কেবল তখনই সম্ভব, যদি আমরা ‘লাইন অব কনট্রোল’ বরাবর শান্তি ও সহনশীলতা ধরে রাখতে পারি। এক্ষেত্রে আমাদের উচিত একে অন্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোয় লক্ষ রাখা। পাশাপাশি সমন্বিত উদ্দেশ্যের খাতগুলোয় মনোযোগী হতে হবে, যা আমাদের মিলেমিশে কাজ করার ইচ্ছা ও প্রচেষ্টাগুলোকে আরো প্রণোদিত করবে। চীনের সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে আমাদের মধ্যে যে নেতিবাচক ধারণা ছিল, এত দিনে তার বরফ গলতে শুরু করেছে। চীন আমাদের দেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়েছে। এরই মধ্যে অনেক চীনা কোম্পানি আমাদের দেশে এসে বিনিয়োগও শুরু করেছে।


বিবি/এইচ-ডি//ডেস্ক/০৫/০৬/২০১৫. ০৭.৪৫ (এএম) ঘ.


 


 

সর্বশেষ সংবাদ
  • বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করবো : প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে : সমাবেশে বক্তারা গেইল-ম্যাককালামের ব্যর্থতায় কুমিল্লার কাছে রংপুরের পরাজয়রাবির অপহৃত ছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার : নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কাটেনিআজ নাগরিক সমাবেশে : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ফিরে পাবে একাত্তরের ৭ মার্চের আবহমিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা বন্ধে জাতিসংঘের আহবান‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে’টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে ২৬ কোটি ডলার দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি'র নেতৃত্বাধীন জোটসংসদীয় আসনের সীমানা পুন:নির্ধারণ আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করেছে ইসিজিম্বাবুয়ের সেনা কর্মকর্তারা অভ্যুত্থানের কথা অস্বীকার করেছেনএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেয়নি : সিইসিআজ ভয়াল ১৫ নভেম্বর : স্বজন হারাদের কাঁন্না থামেনি আজও মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যমান চিনি আইন রহিতের সিদ্ধান্তমহানগরী ঢাকাকে ‘সেফনগরী’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন ১০ কার্য দিবস চলবেস্থানীয় সরকারের অধীন দেশের ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানে ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণবিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না : খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ : বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি, সোমবার শাহবাগে ‘আনন্দ উৎসব ও স্মৃতিচারণ’ আজ বসছে দশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন
  • বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করবো : প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে : সমাবেশে বক্তারা গেইল-ম্যাককালামের ব্যর্থতায় কুমিল্লার কাছে রংপুরের পরাজয়রাবির অপহৃত ছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার : নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কাটেনিআজ নাগরিক সমাবেশে : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ফিরে পাবে একাত্তরের ৭ মার্চের আবহমিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা বন্ধে জাতিসংঘের আহবান‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে’টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে ২৬ কোটি ডলার দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি'র নেতৃত্বাধীন জোটসংসদীয় আসনের সীমানা পুন:নির্ধারণ আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করেছে ইসিজিম্বাবুয়ের সেনা কর্মকর্তারা অভ্যুত্থানের কথা অস্বীকার করেছেনএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেয়নি : সিইসিআজ ভয়াল ১৫ নভেম্বর : স্বজন হারাদের কাঁন্না থামেনি আজও মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যমান চিনি আইন রহিতের সিদ্ধান্তমহানগরী ঢাকাকে ‘সেফনগরী’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন ১০ কার্য দিবস চলবেস্থানীয় সরকারের অধীন দেশের ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানে ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণবিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না : খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ : বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি, সোমবার শাহবাগে ‘আনন্দ উৎসব ও স্মৃতিচারণ’ আজ বসছে দশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন
উপরে