প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর, ২০১৫ ১০:২৯:১০
মাদকের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স ব্যক্ত করলেন শাহ আলী থানার ওসি শাহীন মন্ডল

বাংলাদেশ বাণী টোয়েন্টিফোর ডটকম, রাজু আহম্মেদ : মাদকের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স ঘোষণা করলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের শাহ্ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ.কে.এম শাহীন মন্ডল। “মাদকের কুফল” শীর্ষক একটি আলোচনা সভায় সাংবাদিকদের সাথে আলোচনাকালে তিনি মাদকের বিরুদ্ধে কট্টর অবস্থানের ঘোষণা দেন।
মাদকাসক্তির কুফল সম্পর্কে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবের এক পর্যায়ে তিনি বলেন-বহু সমস্যায় জর্জরিত বাংলাদেশের ধমনীর শোণিত ধারায় আজ প্রবেশ করেছে মাদকদ্রব্য নামক মৃত্যু-কুটিল কাল নাগিনীর বিষ। যা এক তীব্র নেশা। দেশের লাখ লাখ তরুণ-তরুণী আজ এই মরণ নেশায় আসক্ত। দাবানলের মত এটি ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন শহরে, শহরতলীতে, গ্রামে-গ্রামান্তরে। এই মরণ নেশা থেকে জাতির যুবসমাজকে রক্ষা করা না গেলে এ উন্নয়নশীল জাতির পুনরুত্থানের স্বপ্ন অচিরেই ধুলিসাৎ হয়ে যাবে। সুতরাং আমার নেতৃত্বাধীন শাহ্ আলী  থানা এলাকায় কেউ মাদক সেবী বা ব্যবসায়ী প্রমানিত হলে কঠিন শাস্তি পেতে হবে।
তিনি সম্প্রতি মাদকাসক্ত অবস্থায় নিজ বাবা-মাকে খুনের অপরাধে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত ও ব্যাপক আলোচিত ঐশীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আরও বলেন, যে দ্রব্য সেবনে বা গ্রহণে মানুষ কিছু সময়ের জন্য বিশেষ প্রতিক্রিয়া অনুভব করে, দৈহিক ও মানসিকভাবে নেশায় আচ্ছন্ন হয় তাকে মাদকদ্রব্য বলে। আর দৈহিক ও মানসিক উত্তেজক আনন্দানুভূতির এ অস্বাভাবিক অবস্থাই মাদকাশক্তি। এদেশে গাজা, মদ, ফেনসিডিল, হেরোইন, ইয়াবা ও শীসাসহ আরও অনেক জনপ্রিয় মাদক ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

সহজ আনন্দ লাভের বাসনা, মাদকের কুফল সম্পর্কে অজ্ঞতা, প্রতিকূল পারিবারিক পরিবেশ, বন্ধু-বান্ধব ও সঙ্গী সাথীদের প্রভাব, পারিবারিক পরিমন্ডলে মাদকের প্রভাব, কৈশোর ও যৌবনের বেপরোয়া মনোভাব , বেকারত্ব, হতাশা ও আর্থিক অনটন, মনস্তাত্বিক বিশৃংখলা ও মাদকের সহজলভ্যতাই মাদকাসক্তির অন্যতম প্রধান কারণ। নতুনত্বের প্রতি মানুষের  চিরন্তন নেশা, নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের দুর্নিবার আকর্ষণ ও আপাত ভালো লাগার অনুভূতি-তাড়িত হয়েও অনেকে মাদক ব্যবসায়ীদের পেতে রাখা ফাঁদে কীট-পতঙ্গের মত ধরা দেয়। এভাবেই নৈরাজ্যের সুতীব্র যন্ত্রনায় দগ্ধীভূত হয়ে যুবসমাজ বেছে নেয় মাদকাসক্তির মাধ্যমে আত্মবিনষ্টির পথ। মাদকের অপব্যবহারে ব্যক্তি তো বটেই, পুরো পরিবার, সমাজ এমনকি রাষ্ট্রকেও নানাভাবে ক্ষতির সম্মুখীন করে।
মাদকের নিষ্ঠুর ছোবলে অকালে ঝরে যাচ্ছে বহু তাজা প্রাণ এবং অংকুরেই বিনষ্ট হচ্ছে বহু তরুণ-তরুণীর সম্ভাবনাময় উজ্জল ভবিষ্যৎ। মাদকদ্রব্য তরুণ সমাজের এক বিরাট অংশকে অকর্মন্য ও অচেতন করে তুলছে, অবক্ষয় ঘটাচ্ছে মুল্যাবোধের। মাদকাসক্ত ভীরু ব্যক্তি খোজে সাহস, দুর্বল খোজে শক্তি, দুঃখী খোজে সুখ, কিন্তু অধঃপতন ছাড়া আর কিছুই জোটে না। অনেকে মাদকের অর্থের যোগান দিতে গিয়ে জড়িয়ে পড়ছে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি সহ নানা অনৈতিক কর্মকান্ডে।
বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর মতে সুশৃংখল জীবন যাপনই পারে মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণ করতে। অন্যদিকে এ সমস্যা মোকাবেলা ও সমাধানের সবচেয়ে কার্যকর বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া হচ্ছে-প্রতিকারমূলক, প্রতিরোধমূলক ও পূণর্বাসনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তাছাড়া অবৈধ মাদক পাচারকারী ও চোরাচালানকারীদের চিহ্নিত করে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা সহ ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের মাঝে নৈতিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলা। এক্ষেত্রে পিতা-মাতা, অভিভাবক, শিক্ষক, সাংবাদিক, ডাক্তার, প্রশাসন, নীতি-নির্ধারক, রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবকসহ সকল স্তরের নাগরিরকদের ঐক্যবদ্ধ অঙ্গীকার ও প্রচেষ্টা অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তবেই আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মকে মাদকের অভিশাপ থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। আমার দায়িত্বপ্রাপ্ত শাহ আলী থানার সকল পুলিশ অফিসারদের নির্দেশ দেয়া রয়েছে, মাদক ব্যবসায় জড়িত প্রমাণ হলে কোন আসামীকেই ছাড় দেয়া হবে না।

বাংলাদেশ বাণী/কাসা/ডেস্ক/নি.প্রতি/রাজু/১৯/১১/২০১৫. ১০.৩০ (এএম) ঘ.
 
সর্বশেষ সংবাদ
  • ঢাকা উত্তর সিটি'র উপ-নির্বাচনে আদালতের ৩ মাসের স্থগিতাদেশসুন্দরবনের ৩ কুখ্যাত জলদস্যুবাহিনীর প্রধানসহ ৩৮ জনের আত্মসমর্পণজাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণ : ভবিষ্যতে বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্যের দাবি প্রধানমন্ত্রী'ররাজধানী'র জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের সফল অভিযান : ৩ মৃতদেহ ও বিস্ফোরক উদ্ধারপদোন্নতি পেলেন বঙ্গবন্ধু'র খুনিদের গ্রেফতারকারী প্রথম পুলিশ অফিসারবিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণীআম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বরাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট : জনমনে ক্ষোভ জঙ্গি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনী সফল হয়েছে : আইজিপিঅর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি'র সভায় ১৩টি প্রকল্প অনুমোদনপুলিশকে আমি সব সময় আইনের রক্ষকের ভূমিকায় দেখতে চাই : প্রধানমন্ত্রীফারমার্স ব্যাংক কর্তৃক-জলবায়ু ট্রাস্ট তহবিলসহ আমানতকারীদের অর্থ ফেরত না দেয়ায় টিআইবি’র উদ্বেগসুন্দরগঞ্জের আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ : এইচ. এম. এরশাদজঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে পুলিশের সাফল্য দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে : প্রধানমন্ত্রীমাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ এ মাসেই শুরু হচ্ছেযশোরে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সন্ত্রাসী পালসার বাবু নিহতদেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই বিতরণ উৎসব২০১৭'র বিদায় : নতুন বছর ২০১৮ কে বরণ করে নিল জাতিঅগ্রগতি ৫০ শতাংশের বেশি ॥ যথা সময়ে শেষ হবে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ : কাদেররাবির স্নাতক প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু ২১ জানুয়ারি
  • ঢাকা উত্তর সিটি'র উপ-নির্বাচনে আদালতের ৩ মাসের স্থগিতাদেশসুন্দরবনের ৩ কুখ্যাত জলদস্যুবাহিনীর প্রধানসহ ৩৮ জনের আত্মসমর্পণজাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণ : ভবিষ্যতে বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্যের দাবি প্রধানমন্ত্রী'ররাজধানী'র জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের সফল অভিযান : ৩ মৃতদেহ ও বিস্ফোরক উদ্ধারপদোন্নতি পেলেন বঙ্গবন্ধু'র খুনিদের গ্রেফতারকারী প্রথম পুলিশ অফিসারবিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণীআম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বরাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট : জনমনে ক্ষোভ জঙ্গি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনী সফল হয়েছে : আইজিপিঅর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি'র সভায় ১৩টি প্রকল্প অনুমোদনপুলিশকে আমি সব সময় আইনের রক্ষকের ভূমিকায় দেখতে চাই : প্রধানমন্ত্রীফারমার্স ব্যাংক কর্তৃক-জলবায়ু ট্রাস্ট তহবিলসহ আমানতকারীদের অর্থ ফেরত না দেয়ায় টিআইবি’র উদ্বেগসুন্দরগঞ্জের আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ : এইচ. এম. এরশাদজঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে পুলিশের সাফল্য দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে : প্রধানমন্ত্রীমাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ এ মাসেই শুরু হচ্ছেযশোরে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সন্ত্রাসী পালসার বাবু নিহতদেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই বিতরণ উৎসব২০১৭'র বিদায় : নতুন বছর ২০১৮ কে বরণ করে নিল জাতিঅগ্রগতি ৫০ শতাংশের বেশি ॥ যথা সময়ে শেষ হবে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ : কাদেররাবির স্নাতক প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু ২১ জানুয়ারি
উপরে