প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০২:২২:২৬
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী
বাংলাদেশ বাণী, ডেস্ক রিপোর্ট : মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ও চেতনা বাস্তবায়নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আরো বেশি অবদান রাখার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে শুক্রবার এক বাণীতে তিনি এ আহবান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি মহান বিজয় দিবসের প্রাক্কালে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাবো আসুন, মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ও চেতনা বাস্তবায়নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আরো বেশি অবদান রাখি, দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নেই সমৃদ্ধ আগামীর পথে।’

আবদুল হামিদ বলেন, আজ ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস, বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অনন্য গৌরবময় দিন। বিজয় দিবসের এই শুভক্ষণে তিনি দেশবাসী এবং প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতা। তবে তা একদিনে অর্জিত হয়নি। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম ও নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তাঁরই আহ্বানে ও নেতৃত্বে দীর্ঘ ন’মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি আজ বিনম্র চিত্তে পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যাঁর অপরিসীম ত্যাগ ও আপোশহীন নেতৃত্বে পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। আমি গভীর শ্রদ্ধায় স্বরণ করি মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহিদদের, যাঁদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। বিজয়ের এই মহান দিনে আমি শ্রদ্ধা জানাই বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক-সমর্থক, যুদ্ধাহত ও শহিদ পরিবারের সদস্যসহ সর্বসস্তরের জনগণকে, যাঁরা আমাদের বিজয় অর্জনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অবদান রেখেছেন।’ তিনি বলেন, জাতি তাঁদের অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।

আবদুল হামিদ বাণীতে উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালিন রেসকোর্স ময়দানে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে করণীয় বিষয়ে প্রদত্ব বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ গত ৩০ অক্টোবর-২০১৭ ইউনেস্কো ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্য’ ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করে ‘বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এ জন্য আমরা গর্বিত।

বিজয় যেমন আমাদের স্বকীয়তা দিয়েছে, তেমনি বিশ্বমানচিত্রে প্রতিষ্ঠিত করেছে স্বাধীন জাতি হিসেবে এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবে ‘আমাদের’ উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার পথ সবসময় মসৃণ ছিল না। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতার হত্যার মধ্য দিয়ে দেশে সামরিক স্বৈরশাসন ও অগণতান্ত্রিক সরকারের উত্থান ঘটে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দীর্ঘ নির্বাসন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে প্রত্যাবর্তন করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আন্দোলন শুরু করেন। দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রাম এবং নানা চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্য দিয়ে দেশে আজ গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত। সরকারের যুগোপযোগী পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অর্জিত হচ্ছে নানা সাফল্য।

রাষ্ট্রপতি বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালে ২ হাজার ৪শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। অচিরেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট মহাকাশে স্থাপিত হবে। টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এ হবে এক নতুন দিগন্ত। আর্থসামাজিক নানাখাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি আজ বিশ্ব দরবারে ‘রোল-মডেল’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই যে অর্জন, এর পেছনে রয়েছে এদেশের সকল শ্রেণিপেশার মানুষের অসাধারণ মেধা-মনন, অক্লান্ত পরিশ্রম আর অদম্য মনোবল। তিনি বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রেরিত রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তারাও আমাদের উন্নয়নের গর্বিত অংশীদার। সরকার সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা সাফল্যের সাথে অর্জন করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।’

‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারোর সাথে বৈরিতা নয়,’ জাতির পিতা ঘোষিত এ মূলমন্ত্রকে ধারণ করে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হচ্ছে উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, চলতি বছর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নির্যাতিত ও বিতাড়িত লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাকে নিতান্ত মানবিক কারণে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়ে বিশ্ব দরবারে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আশ্রয়হীন এতো মানুষের ভার বহন করা বাংলাদেশের জন্য খুবই কঠিন। বাংলাদেশ এ সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্বাসী ।

তিনি এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য মিয়ানমারসহ জাতিসংঘ এবং আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, লাখো শহিদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে আরো অর্থবহ করতে দলমতনির্বিশেষে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। তিনি বলেন, সরকার সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে ‘ভিশন ২০২১’ ও ‘ভিশন ২০৪১’ ঘোষণা করেছে। ‘আমাদের বিপুল মানবসম্পদ ও তথ্যপ্রযুক্তির সার্থক ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা এ ‘ভিশন’ বাস্তবায়নে সক্ষম হবো, ইনশাল্লাহ। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত হোক, মহান বিজয় দিবসে-এ আমার প্রত্যাশা।’


গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে দেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার আহবান প্রধানমন্ত্রীর

অপরদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে দেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার আহবান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আসুন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করি। দেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করি। এটাই হোক ২০১৭ সালের বিজয় দিবসে আমাদের অঙ্গীকার।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ দেয়া এক বাণীতে এ আহবান জানান। আজ ১৬ ডিসেম্বর। মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির অনন্য গৌরবের দিন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি দীর্ঘ তেইশ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের এই দিনে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।

৪৬ তম মহান বিজয় দিবস পালন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বিজয়ের এই দিনে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করেন জাতীয় চার নেতা, ত্রিশ লক্ষ শহিদ এবং দুই লক্ষ মা-বোনকে, যাঁদের অসামান্য আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী বাণীতে বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জনগণ পুনরায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করে সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে। সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশ ও জনগণের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে ১৯৯৬ সালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি। আমাদের ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন জাতীয় ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল সময় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। বাঙালি জাতি দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ২০০৮ সালে গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা করে। বহু প্রতীক্ষিত নির্বাচনে জনগণ স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটকে বিপুলভাবে বিজয়ী করে। এই সরকার সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করে। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পথ বন্ধ করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার গত নয় বছরে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন, কূটনৈতিক সাফল্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধিসহ প্রতিটি সেক্টরে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যমআয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ ৫টি দেশের একটি আজ বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। দারিদ্র্যের হার ২২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। আমাদের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৬১০ মার্কিন ডলার। রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ৫ কোটি মানুষ নিম্নআয়ের স্তর থেকে মধ্যমআয়ের স্তরে উন্নীত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে বই পাচ্ছে। সাক্ষরতার হার ৭২ শতাংশের বেশি হয়েছে। দেশের ৮৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায়। দরিদ্র মানুষ বিনামূল্যে ৩০ ধরণের ঔষধ পাচ্ছে। গড় আয়ু বেড়ে ৭১ বছর ৮ মাস। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে। সারাদেশে সড়ক, মহাসড়ক, সেতু, ফ্লাইওভার, পাতাল সড়ক এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, রেল, নৌ ও যোগাযোগ অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার সম্পন্ন করা হয়েছে। জনগণকে দেয়া ওয়াদা অনুযায়ী যুদ্ধপরাধীদের বিচারকার্য এবং বিচারের রায় কার্যকর করা হচ্ছে। যুদ্ধপরাধীদের বিচার অব্যাহত রয়েছে।।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ভারতের সঙ্গে স্থলসীমানা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান করেছি। মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমারও শান্তিপূর্ণ সমাধান করেছি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। সারা বিশ্ব আমাদের আর্থসামাজিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করছে। এই সব অর্জন সম্ভব হয়েছে সংবিধান ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার মাধ্যমে।

২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত, শান্তিপূর্ণ মধ্যমআয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের আগেই বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে তার সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি আশা করি, রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে সক্ষম হব।”

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার বলিষ্ঠ ও আপোশহীন নেতৃত্বে বাঙালি জাতি বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলন, বাষট্টি’র শিক্ষা আন্দোলন, ছেষট্টি’র ৬-দফা, ঊনসত্তরের ১১-দফা ও গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত হয়ে ওঠে। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগষ্ঠিরতা অর্জন করে। ফলে বৈধ ভিত্তি পায় বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্খা।

জাতির পিতা অনুধাবণ করেছিলেন স্বাধীনতা অর্জন ছাড়া বাঙালি জাতির ওপর অত্যাচার, নির্যাতন ও বঞ্চনার অবসান হবে না। তাই তিনি ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানের জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা দেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ মূলত সেদিন থেকেই শুরু হয় স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত অধ্যায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ডাকে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। চলতে থাকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি।

শেখ হাসিনা বলেন, পাকিস্তানি হানাদারবাহিনী ২৫ মার্চ কালরাতে নিরীহ ও নিরস্ত্র বাঙালির ওপর হত্যাযজ্ঞ চালায়। ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। বাংলাদেশের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করেন। বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠন করা হয়।

এই সরকার ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে সমবেত হয়ে শপথ গ্রহণ করে এবং মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধ তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধারা মিত্রবাহিনীর সহযোগিতায় পাকহানাদার এবং তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীকে পরাজিত করে ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় ছিনিয়ে আনেন। জাতি পায় স্বাধীন রাষ্ট্র, নিজস্ব পতাকা ও জাতীয় সংগীত। বাঙালি জাতির এই বীরত্ব ও দেশাত্মবোধ বিশ্বে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করে।

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, বঙ্গবন্ধু যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে ধ্বংস্তূপ থেকে টেনে তুলে সোনার বাংলা গড়ার সংগ্রামে নিয়োজিত, তখনই স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধপরাধী চক্র জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তারা হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করে।

ইনডেমনিটি অর্ডিনেন্স জারি করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ বন্ধ করে দেয়। মার্শাল ল’ জারির মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করে। অবৈধ সরকার গঠন করে। মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে বিকৃত করে। সংবিধানকে ক্ষত-বিক্ষত করে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রুদ্ধ করে। পরবর্তীকালে বিএনপি জামাত সরকার এই ধারা অব্যাহত রাখে।

খবর : বার্তা সংস্থা বাসস অবলম্বনে।

 
সর্বশেষ সংবাদ
  • এনটিআরসিএ'র নতুন চেয়ারম্যান পদে আশফাক হোসেনকে নিয়োগ দিয়েছে সরকারমানুষের স্বচ্ছতা বাড়ায় প্রতিবছর দেশে পূজা মণ্ডপ বাড়ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী“দেশে কোন সংখ্যালঘু নেই” : র‌্যাবের মহাপরিচালক নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে-মতবিরোধ থাকলেও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনায় প্রভাব পড়বে না : সিইসিবাসাবাড়ি'র গ্যাসের মূল্য আপাতত বাড়ছে না : বিইআরসিঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের জন্য দেড় বিঘা জমি প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী‘পদ্মাসেতু রেল সংযোগ নির্মাণ প্রকল্পের’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রীবাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা আজ শুরু সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে‘তিতলি’'র প্রভাবে ভারি বৃষ্টিপাতের আভাস : ভূমিধসের আশঙ্কাপ্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ভিডিও কনফারেন্সে নড়াইলের ‘শেখ রাসেল সেতু’ উদ্বোধনভারতের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’র আঘাতে ৮ জনের প্রাণহানি : ক্রমশ: দুর্বল হচ্ছেএকুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় : বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদন্ড ❏ তারেকসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবনইতিহাসের বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলার মামলা ❏ বিচারের ঐতিহাসিক রায় আজসামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘গুজব শনাক্তকরণ সেল’ গঠন করেছে সরকারবিশ্ব বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ২৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজদুর্যোগ কবলিত ইন্দোনেশিয়া লম্বা হচ্ছে লাশের মিছিলনেপালকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়ন শিরোপা বাংলাদেশের ঘরে চিকিৎসার জন্য কারাগার থেকে বিএসএমএমইউতে খালেদা জিয়াআজ থেকে ২২ দিন প্রজনন মৌসুমে দেশে ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধ
  • এনটিআরসিএ'র নতুন চেয়ারম্যান পদে আশফাক হোসেনকে নিয়োগ দিয়েছে সরকারমানুষের স্বচ্ছতা বাড়ায় প্রতিবছর দেশে পূজা মণ্ডপ বাড়ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী“দেশে কোন সংখ্যালঘু নেই” : র‌্যাবের মহাপরিচালক নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে-মতবিরোধ থাকলেও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনায় প্রভাব পড়বে না : সিইসিবাসাবাড়ি'র গ্যাসের মূল্য আপাতত বাড়ছে না : বিইআরসিঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের জন্য দেড় বিঘা জমি প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী‘পদ্মাসেতু রেল সংযোগ নির্মাণ প্রকল্পের’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রীবাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা আজ শুরু সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে‘তিতলি’'র প্রভাবে ভারি বৃষ্টিপাতের আভাস : ভূমিধসের আশঙ্কাপ্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ভিডিও কনফারেন্সে নড়াইলের ‘শেখ রাসেল সেতু’ উদ্বোধনভারতের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’র আঘাতে ৮ জনের প্রাণহানি : ক্রমশ: দুর্বল হচ্ছেএকুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় : বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদন্ড ❏ তারেকসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবনইতিহাসের বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলার মামলা ❏ বিচারের ঐতিহাসিক রায় আজসামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘গুজব শনাক্তকরণ সেল’ গঠন করেছে সরকারবিশ্ব বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ২৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজদুর্যোগ কবলিত ইন্দোনেশিয়া লম্বা হচ্ছে লাশের মিছিলনেপালকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়ন শিরোপা বাংলাদেশের ঘরে চিকিৎসার জন্য কারাগার থেকে বিএসএমএমইউতে খালেদা জিয়াআজ থেকে ২২ দিন প্রজনন মৌসুমে দেশে ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধ
উপরে