প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ২৩:৫৫:৫৮
আজ জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস
বাংলাদেশ বাণী, বিশেষ প্রতিবেদক : আজ ১০ জানুয়ারি, বুধবার। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস।
পাকিস্তানের বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের এদিন বেলা ১টা ৪১ মিনিটে জাতির অবিসংবাদিত নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি পাকিস্তান থেকে লন্ডন যান। তারপর দিল্লী হয়ে ঢাকা ফেরেন।

পাকিস্তানের কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্ত স্বদেশ ভূমিতে ফিরে আসার ঘটনা ছিল বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাসের আরেক আশির্বাদ এবং বিজয়ের পূর্ণতা।
দিবসটি পালন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও দলের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী প্রদান করেছেন।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধু সর্বস্তরের জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। স্বাধীনতা ঘোষণার অব্যবহিত পর পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে তাঁকে গ্রেফতার করে তদানীন্তন পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে নিয়ে আটক রাখা হয়।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে নয়মাস যুদ্ধের পর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হলেও ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্যদিয়ে জাতি বিজয়ের পূর্ণ স্বাদ গ্রহণ করে।

জাতির জনক পাকিস্তান থেকে ছাড়া পান ১৯৭২ সালের ৭ জানুয়ারি ভোর রাতে ইংরেজি হিসেবে ৮ জানুয়ারি। এদিন বঙ্গবন্ধুকে বিমানে তুলে দেয়া হয়। সকাল সাড়ে ৬টায় তিনি পৌঁছান লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে। বেলা ১০টার পর থেকে তিনি কথা বলেন, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ, তাজউদ্দিন আহমদ ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীসহ অনেকের সঙ্গে। পরে ব্রিটেনের বিমান বাহিনীর একটি বিমানে করে পরের দিন ৯ জানুয়ারি দেশের পথে যাত্রা করেন।

দশ তারিখ সকালেই তিনি নামেন দিল্লিতে। সেখানে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভিভি গিরি, প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, সমগ্র মন্ত্রিসভা, প্রধান নেতৃবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধান এবং অন্যান্য অতিথি ও সে দেশের জনগণের কাছ থেকে উষ্ণ সংবর্ধনা লাভ করেন সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের জনক শেখ মুজিবুর রহমান।

বঙ্গবন্ধু ভারতের নেতৃবৃন্দ এবং জনগণের কাছে তাদের অকৃপণ সাহায্যের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে আখ্যায়িত করেন ‘অন্ধকার হতে আলোর পথে যাত্রা হিসেবে।’

বঙ্গবন্ধু ঢাকা এসে পৌঁছেন ১০ জানুয়ারি। ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়ের পর বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুকে প্রাণঢালা সংবর্ধনা জানানোর জন্য প্রাণবন্ত অপেক্ষায় ছিল। আনন্দে আত্মহারা লাখ লাখ মানুষ ঢাকা বিমানবন্দর থেকে রেসকোর্স ময়দান পর্যন্ত তাঁকে স্বতঃস্ফূর্ত সংবর্ধনা জানান। জানা যায়, বিকাল পাঁচটায় রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ১০ লাখ লোকের উপস্থিতিতে তিনি ভাষণ দেন। সশ্রদ্ধ চিত্তে তিনি সবার ত্যাগের কথা স্মরণ করেন, সবাইকে দেশ গড়ার কাজে উদ্বুদ্ধ করেন।

বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী সরকার তাঁর নির্দেশিত পথে যুদ্ধ পরিচালনা করে। নয় মাসের যুদ্ধের এক পর্যায়ে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ চূড়ান্ত রূপ নিতে শুরু করে। ধীরে ধীরে স্বাধীনতা অর্জনের পথে মুক্তিযোদ্ধা, জনতা ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণ তীব্র হয়। জয় তখন সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় মাত্র। ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে বিশ্বব্যাপী জনমত গড়ে তোলা হয় । প্রবাসী সরকারের নেতৃত্বও বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে সোচ্চার ভ’মিকা রাখেন। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হলে পাকিস্তানী বর্বর শাসকগোষ্ঠী বাধ্য হয় তাঁকে সসম্মানে মুক্তি দিতে।

প্রবাসী অস্থায়ী আওয়ামী লীগ সরকার সরকার পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করে এবং ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন।
১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ২৩ সদস্য বিশিষ্ট আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করে।

স্বাধীনতা পরবর্তী প্রথম সরকারের সাফল্য ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন এবং প্রায় এক কোটি শরণার্থীর পুনর্বাসন। বঙ্গবন্ধু সরকার অত্যন্ত সাফল্যের সাথে এই গুরু দায়িত্ব সম্পন্ন করে। দুর্ভিক্ষের যে আশংকা করা হয়েছিল সরকার তা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মোকাবেলা করে।

সামরিক-বেসামরিক প্রশাসন গড়ে তোলা হয়। শতাধিক রাষ্ট্রের কূটনৈতিক স্বীকৃতি অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে আদায়ে সক্ষম হয়। স্বাধীনতালাভের তিন মাসের মধ্যেই বাংলার মাটি থেকে ভারতীয় সৈন্যদের প্রত্যাবর্তন বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিত্বের কারণেই সম্ভব হয়েছিল।

১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ জারিকৃত প্রেসিডেন্সিয়াল আদেশ বলে গণপরিষদ গঠন করে নভেম্বর মাসের মধ্যেই দেশের জন্য একটি সংবিধান উপহার দেয়া হয় এবং যা কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর।

দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৭টায় জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন এবং বিকেল ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বুধবার এক বিবৃতিতে আজ ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে আয়োজিত আলোচনা সভাসহ সকল কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনের জন্য সংগঠনের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীসহ সকল সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
সর্বশেষ সংবাদ
  • আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জঙ্গিবাদ কোন প্রভাব ফেলতে পারবে না : আইজিপি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়স ৩৫ বছর করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকারবাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে ৫টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরএনটিআরসিএ'র নতুন চেয়ারম্যান পদে আশফাক হোসেনকে নিয়োগ দিয়েছে সরকারমানুষের স্বচ্ছতা বাড়ায় প্রতিবছর দেশে পূজা মণ্ডপ বাড়ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী“দেশে কোন সংখ্যালঘু নেই” : র‌্যাবের মহাপরিচালক নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে-মতবিরোধ থাকলেও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনায় প্রভাব পড়বে না : সিইসিবাসাবাড়ি'র গ্যাসের মূল্য আপাতত বাড়ছে না : বিইআরসিঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের জন্য দেড় বিঘা জমি প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী‘পদ্মাসেতু রেল সংযোগ নির্মাণ প্রকল্পের’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রীবাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা আজ শুরু সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে‘তিতলি’'র প্রভাবে ভারি বৃষ্টিপাতের আভাস : ভূমিধসের আশঙ্কাপ্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ভিডিও কনফারেন্সে নড়াইলের ‘শেখ রাসেল সেতু’ উদ্বোধনভারতের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’র আঘাতে ৮ জনের প্রাণহানি : ক্রমশ: দুর্বল হচ্ছেএকুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় : বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদন্ড ❏ তারেকসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবনইতিহাসের বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলার মামলা ❏ বিচারের ঐতিহাসিক রায় আজসামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘গুজব শনাক্তকরণ সেল’ গঠন করেছে সরকারবিশ্ব বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ২৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজদুর্যোগ কবলিত ইন্দোনেশিয়া লম্বা হচ্ছে লাশের মিছিল
  • আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জঙ্গিবাদ কোন প্রভাব ফেলতে পারবে না : আইজিপি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়স ৩৫ বছর করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকারবাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে ৫টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরএনটিআরসিএ'র নতুন চেয়ারম্যান পদে আশফাক হোসেনকে নিয়োগ দিয়েছে সরকারমানুষের স্বচ্ছতা বাড়ায় প্রতিবছর দেশে পূজা মণ্ডপ বাড়ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী“দেশে কোন সংখ্যালঘু নেই” : র‌্যাবের মহাপরিচালক নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে-মতবিরোধ থাকলেও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনায় প্রভাব পড়বে না : সিইসিবাসাবাড়ি'র গ্যাসের মূল্য আপাতত বাড়ছে না : বিইআরসিঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের জন্য দেড় বিঘা জমি প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী‘পদ্মাসেতু রেল সংযোগ নির্মাণ প্রকল্পের’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রীবাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা আজ শুরু সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে‘তিতলি’'র প্রভাবে ভারি বৃষ্টিপাতের আভাস : ভূমিধসের আশঙ্কাপ্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ভিডিও কনফারেন্সে নড়াইলের ‘শেখ রাসেল সেতু’ উদ্বোধনভারতের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’র আঘাতে ৮ জনের প্রাণহানি : ক্রমশ: দুর্বল হচ্ছেএকুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় : বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদন্ড ❏ তারেকসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবনইতিহাসের বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলার মামলা ❏ বিচারের ঐতিহাসিক রায় আজসামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘গুজব শনাক্তকরণ সেল’ গঠন করেছে সরকারবিশ্ব বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ২৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজদুর্যোগ কবলিত ইন্দোনেশিয়া লম্বা হচ্ছে লাশের মিছিল
উপরে