প্রকাশ : ১৭ মার্চ, ২০১৮ ০২:৪৭:২৮
আজ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনকের ৯৯ তম জন্মদিন
বাংলাদেশ বাণী, নিজস্ব প্রতিবেদক : আজ ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯ তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস।
স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত এই নেতা ১৯২০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় এই বয়সী অনেক রাজনীতিক এবং বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিত্বের নেতৃত্ব এবং স্ব-স্ব কর্মকান্ডে নিয়োজিত থাকার নজির থাকলেও আমাদের জাতির পিতাকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মাত্র ৫৫ বছর বয়সে প্রাণ দিতে হয়েছিল।

জাতি যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আজ দিবসটি উদযাপন করছে। দিনটিতে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন।

এ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়াতেও প্রতিবারের মত বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকাল দশটায় টুঙ্গিপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণসহ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশগ্রহণ করবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সমাধি সৌধ কমপ্লেক্সে শেখ রাসেল স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্তকরণ, ‘আমাদের ছোট রাসেল সোনা’ শিশু গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন, সেলাই মেশিন বিতরণ, ‘উঠব জেগে, ছুটব বেগে’ শীর্ষক ভিডিও প্রদর্শন, শিশু সমাবেশ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগদান, বইমেলা উদ্বোধন ও শিশুদের আঁকা আমার ভাবনায় ৭ই মার্চ শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করবেন।

বিশ্বের অন্যান্য দেশে বাংলাদেশী দূতাবাসসমূহে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ সারাদিন ধরেই বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের রেকর্ড বাজানো হবে। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে সারাদেশে বিভিন্ন মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেল দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। জাতীয় দৈনিকগুলো প্রকাশ করবে বিশেষ ক্রোড়পত্র।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪০ সালে সর্বভারতীয় মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ১৯৪৬ সালে তিনি কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ (বর্তমানে মওলানা আজাদ কলেজ) ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

বঙ্গবন্ধু ১৯৪৯ সালে তৎকালীন আওয়ামী মুসলিম লীগের পূর্ব পাকিস্তান শাখার যুগ্ম-সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৩ সালে তিনি পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের টিকেটে ইস্ট বেঙ্গল লেজিসলেটিভ এসেম্বলির সদস্য নির্বাচিত হন। ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আজীবন সোচ্চার এই অবিসংবাদিত নেতাকে রাজনৈতিক জীবনে বহুবার কারাবরণ করতে হয়।

তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬-দফা ও পরবর্তীতে ১১ দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যূত্থানসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধিকার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন এবং বঙ্গবন্ধু উপাধি লাভ করেন।

তাঁর সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাঙালি জাতি ধাপে-ধাপে স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে থাকে। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জিত হলেও তৎকালীন পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে বাঙালি জাতির ওপর নানা নির্যাতন শুরু করে। বঙ্গবন্ধু একাত্তরের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। যা ইউনেস্কোর ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্য ওয়াল্ড রেজিস্টার এ অর্ন্তভুক্তির মাধ্যমে বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

অন্যদিকে, ২৫ মার্চ মধ্যরাতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং তাঁর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাঙ্গালীর বহু আকাঙ্খিত বিজয় ও স্বাধীনতা অর্জিত হয়।

বিংশ শতাব্দীতে নির্যাতিত, নিপীড়িত ও শোষিত মানুষের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করে যারা বিশ্বনন্দিত নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের অন্যতম।
সাম্য, মৈত্রী, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিরামহীন সংগ্রামে অবদান রাখার জন্য তিনি বিশ্বশান্তি পরিষদের জুলিও কুরি পদকে ভূষিত হন।

বিবিসি’র এক জরীপে তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী নির্বাচিত হন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত স্বাধীন বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু যখন বিভিন্নমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করতে শুরু করেন ঠিক সেই মুহূর্তে স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত শক্তি ও কায়েমী স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর বিরুদ্ধে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র শুরু করে এবং ওই ষড়যন্ত্রেরই অংশ হিসেবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তিনি তাঁর ধানমন্ডির বাসভবনে কতিপয় বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ নিহত হন।

বিশ্ব গণমাধ্যমের চোখে বঙ্গবন্ধু ক্ষণজন্মা পুরুষ। অনন্য সাধারণ এই নেতাকে ‘স্বাধীনতার প্রতীক’ বা ‘রাজনীতির ছন্দকার’ খেতাবেও আখ্যা দেয়া হয়। বিদেশী ভক্ত, কট্টর সমালোচক এমনকি শত্রুরাও তাদের নিজ-নিজ ভাষায় তাঁর উচ্চকিত প্রশংসা করেন।

বিগত বিংশ শতাব্দীর কিংবদন্তী কিউবার বিপ্লবী নেতা প্রয়াত ফিদেল ক্যাস্ট্রো বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হিমালয়ের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
ক্যাস্ট্রো বলেন, ‘আমি হিমালয়কে দেখেনি, তবে শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব ও সাহসে এই মানুষটি ছিলেন হিমালয় সমান। সুতরাং হিমালয় দেখার অভিজ্ঞতা আমি লাভ করেছি। ১৯৭৩ সালে আলজেরিয়ায় জোট-নিরপেক্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ক্যাস্ট্রোর সাক্ষাত ঘটে।

শ্রীলংকার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী লক্ষ্মণ কাদির গামা (নৃশংস হত্যার শিকার) বাংলাদেশের এই মহান নেতা সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়া গত কয়েক শতকে বিশ্বকে অনেক শিক্ষক, দার্শনিক, দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক, রাজনৈতিক নেতা ও যোদ্ধা উপহার দিয়েছে। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান সবকিছুকে ছাপিয়ে যান, তাঁর স্থান নির্ধারিত হয়ে আছে সর্বকালের সর্বোচ্চ আসনে।
 
সর্বশেষ সংবাদ
  • যুক্তরাষ্ট্রে গুলিতে নিহত আইয়ুবের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতেনয় বছর বয়সী সৎ মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা : কথিত বাবার মৃত্যুদণ্ডআজ খ্যাতিমান কথাশিল্পী হুমায়ুন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীবিএনপি শর্তগুলো মেনে নিলেই আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংলাপ ৫ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে-আমতলীতে জোয়ারের পানিতে ১৮ গ্রাম প্লাবিত : ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি২১তম ফুটবল বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নের শিরোপা উঠলো ফ্রান্সের ঘরেফুটবল বিশ্বকাপে ২-০ গোলে ইংল্যাণ্ডকে হারিয়ে মাঠ ছাড়ে বেলজিয়ামবিমানের প্রথম হজ-ফ্লাইট ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে ঢাকা ছেড়ে গেছেতৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ শুরু : অস্তিত্বের লড়াই এ আজ মাঠে নামছে বেলজিয়াম-ইংল্যান্ডটি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার ছাড়পত্র পেলো বাংলাদেশের মহিলা দলএকনেকের সভায় ২৯২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬টি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেবিশ্বকাপের প্রথম সেমি ফাইনালে বেলজিয়ামকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ফ্রানস্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে চলচ্চিত্রের পর্দায় তুলে ধরতে হবে : প্রধানমন্ত্রী গাইবান্ধায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত ১ সুইডেনকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডব্রাজিলকে বিদায় করে ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বেলজিয়ামসৌদি'র জেদ্দা নগরীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশী শ্রমিক নিহত : আহত ১১ ফুটবল বিশ্বকাপ আসরের শীর্ষ আটদল শেষ আটের প্রস্তুতিতে ব্যস্তফুটবল বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফোর্সবার্গের গোলে শেষ ষোলোতে সুইডেনরাবিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন : নগ্নপায়ে প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বাঁধা
  • যুক্তরাষ্ট্রে গুলিতে নিহত আইয়ুবের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতেনয় বছর বয়সী সৎ মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা : কথিত বাবার মৃত্যুদণ্ডআজ খ্যাতিমান কথাশিল্পী হুমায়ুন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীবিএনপি শর্তগুলো মেনে নিলেই আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংলাপ ৫ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে-আমতলীতে জোয়ারের পানিতে ১৮ গ্রাম প্লাবিত : ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি২১তম ফুটবল বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নের শিরোপা উঠলো ফ্রান্সের ঘরেফুটবল বিশ্বকাপে ২-০ গোলে ইংল্যাণ্ডকে হারিয়ে মাঠ ছাড়ে বেলজিয়ামবিমানের প্রথম হজ-ফ্লাইট ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে ঢাকা ছেড়ে গেছেতৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ শুরু : অস্তিত্বের লড়াই এ আজ মাঠে নামছে বেলজিয়াম-ইংল্যান্ডটি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার ছাড়পত্র পেলো বাংলাদেশের মহিলা দলএকনেকের সভায় ২৯২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬টি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেবিশ্বকাপের প্রথম সেমি ফাইনালে বেলজিয়ামকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ফ্রানস্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে চলচ্চিত্রের পর্দায় তুলে ধরতে হবে : প্রধানমন্ত্রী গাইবান্ধায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত ১ সুইডেনকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডব্রাজিলকে বিদায় করে ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বেলজিয়ামসৌদি'র জেদ্দা নগরীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশী শ্রমিক নিহত : আহত ১১ ফুটবল বিশ্বকাপ আসরের শীর্ষ আটদল শেষ আটের প্রস্তুতিতে ব্যস্তফুটবল বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফোর্সবার্গের গোলে শেষ ষোলোতে সুইডেনরাবিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন : নগ্নপায়ে প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বাঁধা
উপরে