প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৫ ১৯:২৯:৫৬
রাজাপুরের বারবাকপুরে সফল মুক্তিযোদ্ধা তিনি-
মুক্তিযুদ্ধ এবং জীবনযুদ্ধে একজন সফল আক্কাস আলী মৃধা
বাংলাদেশ বাণী টোয়েন্টিফোর ডটকম, মো: আল-আমিন, ঝালিকাঠি প্রতিনিধি : ১৯৭১ সালে স্নাতক তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আক্কাস আলী মৃধা। তখন টগবগে যুবক, সবেমাত্র বিবাহ করেছেন। বাড়ি তার রাজাপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের বারবাকপুর গ্রামে।
বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তখন এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা আর কেউ ছিলনা। তিনি ও তার ছোট ভাই আনসার আলী মৃধা এলাকা থেকে মাত্র দু’জনেই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। পাকহানাদার বাহিনী পাড়গোপালপুর এলাকার জগন্নাথ বিশ্বাস (জগুন বিশ্বাস) এর বাড়িতে স্থানীয় রাজাকার আ: ছামাদ মোল্লা ও আ: খালেক মাস্টারের কাছে তারা মুক্তিযোদ্ধা এ খবর শুনে তাঁদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এর পরে চলে যায় একই উপজেলার দক্ষিন নারিকেল বাড়িয়া ও কাঠিপাড়া হিন্দু এলাকায়। এখানে গণহত্যা চালিয়ে ২৫ জনের বেশি নিরীহ বাঙালীকে হত্যা করে পাকহানাদার বাহিনী।

তাঁদেরকে ওখানেই গণকবর দিয়ে রাখে তাঁরা। এরপরে জানলাম ওমর সিং নামে এক মুক্তিযোদ্ধা এসেছে, যিনি বরিশাল বিভাগের সাব সেক্টর কমান্ডার। তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টার এক পর্যায়ে সাক্ষাত হলে দেখি আমাদের ক্যাপ্টেন শাহজাহান ওমর। তার দিক নির্দেশনায় আমরা যুদ্ধ পরিচালনা করতে থাকি। প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা রাজাপুরে ক্যাম্পগড়ি সিইও (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার) অফিসে।

পরে সময় অনুযায়ী শাবাঙ্গল, বাটার জোর, বামরাইলসহ কয়েকটি স্থানে হানাদারবাহিনীর সাথে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিয়ে তাঁদেরকে পরাজিত করে পিছু হটতে বাধ্য করি। প্রাথমিক পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা হাতে গোনা কয়েকজন থাকলেও ওই সময়ে যারা সুযোগ বুঝে চুরি ডাকাতি করেছেন তারাও শেষ পর্যায়ে যখন দেখেছেন আমাদের দেশ স্বাধীন হয়ে যাচ্ছে তখন তারাও আমাদের সাথে শামিল হয়েছিলেন। ২৩ নভেম্বর রাজাপুর উপজেলাকে হানাদার মুক্ত করে ১৩৫ জন মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে ঝালকাঠির উদ্দেশ্যে রওয়ানা করি। তখন আমাদের ১৩৫ জনের তালিকা এসডিও অফিসে ছিল। পরে ৮ ডিসেম্বর ঝালকাঠিকেও হানাদার মুক্ত করি। একথা গুলো বললেন একজন সফল মুক্তিযোদ্ধা রাজাপুর উপজেলার বারবাকপুর গ্রামের আক্কাস আলী মৃধা। দেশকে স্বাধীন করার জন্য মুক্তিযুদ্ধ এবং জীবন যুদ্ধে তিনি সফল হওয়ায় বর্তমানে খুব শান্তিতে রয়েছেন বলে শুকরিয়া আদায় করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ৩ কন্যা সন্তানের জনক। ২ জনেই মুক্তিযোদ্ধা কোঠায় সরকারী চাকুরী করে ভালো অবস্থানে রয়েছেন। অপর জন বেসরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। ১৯৯৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি পঙ্গু হয়ে যান। বর্তমানে স্ক্র্যাচকার্ডে ভর করে চলতে হয় তাকে। তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে পেরে দেশের একজন গর্বিত মুক্তিযোদ্ধা হতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করতে পেরে আজ আমরা স্বাধীন দেশের জনগন। সরকার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দিন মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বাড়ছে। সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন করে তাঁদেরকে সুবিধা প্রদান করলে নব্য মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকার থেকে মুক্তিযোদ্ধা তৈরী হওয়া লোকেরা আমাদের কাতারে শামিল হতে পারে না। কিন্তু কষ্ট লাগে তখনই, যখন জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে রাজাকাররা মুক্তিযোদ্ধা সেজে আমাদের চেয়ারে বসে এবং সমাজের উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত হয়। এ কারণে বর্তমান অবস্থায় আমাদের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচয় দিতে লজ্জা লাগে!

বাংলাদেশ বাণী/কাসা/ডেস্ক/নি.প্রতি/আমিন/ঝালকাঠি/০৭/১২/২০১৫. ০৭.২৫ (পিএম) ঘ.    



 
সর্বশেষ সংবাদ
  • জার্মানী, সুইডেন ও ইইউ’র রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি জোরালো সমর্থন রাবি ছাত্রী অপহরণ : সাবেক স্বামীসহ ২ জনকে ১ দিনের রিমান্ড বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করবো : প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে : সমাবেশে বক্তারা গেইল-ম্যাককালামের ব্যর্থতায় কুমিল্লার কাছে রংপুরের পরাজয়রাবির অপহৃত ছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার : নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কাটেনিআজ নাগরিক সমাবেশে : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ফিরে পাবে একাত্তরের ৭ মার্চের আবহমিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা বন্ধে জাতিসংঘের আহবান‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে’টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে ২৬ কোটি ডলার দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি'র নেতৃত্বাধীন জোটসংসদীয় আসনের সীমানা পুন:নির্ধারণ আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করেছে ইসিজিম্বাবুয়ের সেনা কর্মকর্তারা অভ্যুত্থানের কথা অস্বীকার করেছেনএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেয়নি : সিইসিআজ ভয়াল ১৫ নভেম্বর : স্বজন হারাদের কাঁন্না থামেনি আজও মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যমান চিনি আইন রহিতের সিদ্ধান্তমহানগরী ঢাকাকে ‘সেফনগরী’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন ১০ কার্য দিবস চলবেস্থানীয় সরকারের অধীন দেশের ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানে ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণবিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না : খালেদা জিয়া
  • জার্মানী, সুইডেন ও ইইউ’র রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি জোরালো সমর্থন রাবি ছাত্রী অপহরণ : সাবেক স্বামীসহ ২ জনকে ১ দিনের রিমান্ড বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করবো : প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে : সমাবেশে বক্তারা গেইল-ম্যাককালামের ব্যর্থতায় কুমিল্লার কাছে রংপুরের পরাজয়রাবির অপহৃত ছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার : নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কাটেনিআজ নাগরিক সমাবেশে : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ফিরে পাবে একাত্তরের ৭ মার্চের আবহমিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা বন্ধে জাতিসংঘের আহবান‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে’টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে ২৬ কোটি ডলার দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি'র নেতৃত্বাধীন জোটসংসদীয় আসনের সীমানা পুন:নির্ধারণ আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করেছে ইসিজিম্বাবুয়ের সেনা কর্মকর্তারা অভ্যুত্থানের কথা অস্বীকার করেছেনএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেয়নি : সিইসিআজ ভয়াল ১৫ নভেম্বর : স্বজন হারাদের কাঁন্না থামেনি আজও মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যমান চিনি আইন রহিতের সিদ্ধান্তমহানগরী ঢাকাকে ‘সেফনগরী’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন ১০ কার্য দিবস চলবেস্থানীয় সরকারের অধীন দেশের ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানে ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণবিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না : খালেদা জিয়া
উপরে