প্রকাশ : ০৮ মার্চ, ২০১৬ ১২:২২:৩৮
ফুলবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী খরস্রোতা নীলকমল নদী মৃত প্রায়, দখলের হিড়িক
বাংলাদেশ বাণী টোয়েন্টিফোর ডটককম, জাহাঙ্গীর আলম, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী খরস্রোতা নীলকমল নদী এখন মৎস্য ও পানী শুন্য মরা খাল। বেদখল হয়ে যাচ্ছে শুকিয়ে যাওয়া নদীর শত শত একর জমি। নদী ও বিল গুলো এখন ফসলের মাঠ।
ফলে, দেখা দিয়েছে প্রাকৃতিক মাছের সংকট। নদী থেকে প্রাকৃতিক মাছের এক বিরাট চাহিদা জোগান হত। কালের বিবর্তনে নীল কুমার নদীর তলদেশ পলি জমে ভরাট হওয়া, দুপাড় কেটে ফসলের চাষ করা অত্যাধিক কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার এবং অপরিকল্পিত ভাবে মাছ আহরন প্রভৃতি কারণে নদী মাছ শুন্য হয়ে পড়েছে। এলাকার প্রবীণ লোকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ৩০-৪০ বছর আগেও নীল কুমার নদী ছিল গভীর ও খর¯্রােতা।
ফুলবাড়ীর ব্যবসা বাণিজ্যের সিংহ ভাগই এই নদী দিয়ে সংঘটিত হত। ফুলবাড়ী সদর, গংগারহাট, সদ্য বিলুপ্ত দাসিয়ার ছড়া ছিট মহল, খরিবাড়ী বাজার, নেওয়াশী বাজার ও পাখির হাট প্রভৃতি বড় বড় হাট বাজার এই নদীর তীরে গড়ে উঠেছে। বড় বড় নৌকা করে নদী পথে এসব স্থানের উৎপাদিত ধান, পাট, সরিষা, ডাল, গরু, মহিষ ও হাঁস-মুরগী প্রভৃতি নীল কমলন দী দিয়ে ধরলা হয়ে কাঠালবাড়ী, যাত্রাপুর, কুড়িগ্রাম সদর এবং ঐতিহ্যবাহী চিলমারী বন্দর সহ দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে যেত। উত্তর বঙ্গের বিখ্যাত সুফি-সাধক ও ওলি, মাওলানা কেরামত আলী এই নদী পথেই আসাম হতে এখানে এসে ইসলাম প্রচার ও ভক্ত মুরিদের বাড়ী বাড়ী যেতেন। এখন এসব কেবলই স্মৃতি।
নদী মরে যাওয়ায় এসব এলাকার বিপুল সংখ্যক মৎস্য চাষী বেকার হয়ে পড়েছে। তাঁরা পৈত্রিক পেশা ছেড়ে কেইবা চালায় রিক্সা, কেউবা ঠেলাগাড়ী এবং কেউবা হয়েছেন দিনমজুর। নদীর বুকে পলি ও বালি জমে তলদেশ ভরাট হওয়ায় দেখে বোঝার উপায় নেই এখানে এককালে নদী ছিল। ইহা ছাড়া বর্ষাকালে গংগারহাট, খরিবাড়ী বাজার, পাখিরহাট, নেওয়াশী বাজার এবং খোচাবাড়ী এলাকার হাজার হাজার একর জমির ফসল বন্যা ও জলাবদ্ধতায় নষ্ট হয়।
নদীর পানি প্রবাহ বন্ধ করে বাঁশের ঘের (বানা) দ্বারা মাছ চাষ, নদীর একপাশে সামান্য পানি প্রবাহের জায়গা রেখে পাড় বেধে দীঘি খনন করে মাছ চাষ করছেন। স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। নদীতে উৎপন্ন কচুরী পানা সহ বিভিন্ন আবর্জনা পঁচে, গলে পানি দূষিত হয়ে পড়ে। ফলে বর্ষাকালে দেখা দেয় ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও আমাশয় সহ নানা প্রকার পানিবাহিত রোগ। আবার শুষ্ক মৌসুমে নদীর দু-পাড় কেটে তলদেশ ভরাট করে চলে বোরো ধান চাষের প্রতিযোগীতা। কোথাও বা শ্যালো মেশিনের সাহায্যে বালু উত্তোলনের ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে। এরুপ নানা অত্যাচারে নীল কুমার নদী আজ মৃত প্রায়।
নাওডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহজাদা খন্দকার বলেন নীলকমল নদী আসাম হতে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশে  এসেছে। ফারাক্কা বাঁধ দেওয়ার ফলে নীল কুমার নদী যৌবন হারাতে থাকে। বাংলাদেশে গংগারহাট হতে হাসনাবাদ ইউনিয়নের যোলানির ঘাট পর্যন্ত প্রায় ২৫ কি.মি. এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য নদীটি সংস্কার করা জরুরী।
এলাকাবাসী জানান, নদীটি আর কয়েক বৎসরে বিলীন হয়ে যাবে। তাই নদীটিকে রক্ষার এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাংলাদেশ বাণী/কাসা/ডেস্ক/নি.প্রতি/জাহাঙ্গীর/কুড়িগ্রাম/০৭/০৩/২০১৬. ১২:১৫ (পিএম) ঘ
 
সর্বশেষ সংবাদ
  • ঢাকা উত্তর সিটি'র উপ-নির্বাচনে আদালতের ৩ মাসের স্থগিতাদেশসুন্দরবনের ৩ কুখ্যাত জলদস্যুবাহিনীর প্রধানসহ ৩৮ জনের আত্মসমর্পণজাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণ : ভবিষ্যতে বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্যের দাবি প্রধানমন্ত্রী'ররাজধানী'র জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের সফল অভিযান : ৩ মৃতদেহ ও বিস্ফোরক উদ্ধারপদোন্নতি পেলেন বঙ্গবন্ধু'র খুনিদের গ্রেফতারকারী প্রথম পুলিশ অফিসারবিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণীআম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বরাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট : জনমনে ক্ষোভ জঙ্গি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনী সফল হয়েছে : আইজিপিঅর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি'র সভায় ১৩টি প্রকল্প অনুমোদনপুলিশকে আমি সব সময় আইনের রক্ষকের ভূমিকায় দেখতে চাই : প্রধানমন্ত্রীফারমার্স ব্যাংক কর্তৃক-জলবায়ু ট্রাস্ট তহবিলসহ আমানতকারীদের অর্থ ফেরত না দেয়ায় টিআইবি’র উদ্বেগসুন্দরগঞ্জের আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ : এইচ. এম. এরশাদজঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে পুলিশের সাফল্য দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে : প্রধানমন্ত্রীমাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ এ মাসেই শুরু হচ্ছেযশোরে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সন্ত্রাসী পালসার বাবু নিহতদেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই বিতরণ উৎসব২০১৭'র বিদায় : নতুন বছর ২০১৮ কে বরণ করে নিল জাতিঅগ্রগতি ৫০ শতাংশের বেশি ॥ যথা সময়ে শেষ হবে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ : কাদেররাবির স্নাতক প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু ২১ জানুয়ারি
  • ঢাকা উত্তর সিটি'র উপ-নির্বাচনে আদালতের ৩ মাসের স্থগিতাদেশসুন্দরবনের ৩ কুখ্যাত জলদস্যুবাহিনীর প্রধানসহ ৩৮ জনের আত্মসমর্পণজাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণ : ভবিষ্যতে বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্যের দাবি প্রধানমন্ত্রী'ররাজধানী'র জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের সফল অভিযান : ৩ মৃতদেহ ও বিস্ফোরক উদ্ধারপদোন্নতি পেলেন বঙ্গবন্ধু'র খুনিদের গ্রেফতারকারী প্রথম পুলিশ অফিসারবিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণীআম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বরাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট : জনমনে ক্ষোভ জঙ্গি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনী সফল হয়েছে : আইজিপিঅর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি'র সভায় ১৩টি প্রকল্প অনুমোদনপুলিশকে আমি সব সময় আইনের রক্ষকের ভূমিকায় দেখতে চাই : প্রধানমন্ত্রীফারমার্স ব্যাংক কর্তৃক-জলবায়ু ট্রাস্ট তহবিলসহ আমানতকারীদের অর্থ ফেরত না দেয়ায় টিআইবি’র উদ্বেগসুন্দরগঞ্জের আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ : এইচ. এম. এরশাদজঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে পুলিশের সাফল্য দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে : প্রধানমন্ত্রীমাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ এ মাসেই শুরু হচ্ছেযশোরে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সন্ত্রাসী পালসার বাবু নিহতদেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই বিতরণ উৎসব২০১৭'র বিদায় : নতুন বছর ২০১৮ কে বরণ করে নিল জাতিঅগ্রগতি ৫০ শতাংশের বেশি ॥ যথা সময়ে শেষ হবে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ : কাদেররাবির স্নাতক প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু ২১ জানুয়ারি
উপরে