প্রকাশ : ২৪ জুলাই, ২০১৭ ১৩:৪১:০৯
মনি মিয়ার পাখিপ্রেমী হয়ে ওঠার গল্প
বাংলাদেশ বাণী, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি : মানুষের শখের কী শেষ আছে। একটা শখ পূরণের পর আরেকটি শখ মানুষকে যেন সব সময় তাড়া করে। একের পর এক শখ মানুষকে আকৃষ্ট করে তোলে। আবার এক সময় এই শখকে ঘিরেই পাল্টে যায় নিজের জীবনযাপনের গল্প।
বাস করেন বেনাপোলে। কিন্তু শখ করে পাখি পুষতে পুষতে পাখিপ্রেমী হয়ে ওঠার গল্পটা। কিন্তু সে ব্যবসায়ী কিংবা পেশা হিসেবে এই শখকে নেননি কোন ভাবেই। দিন ও রাতের বেশিরভাগ সময় পাখিদের নিয়েই তার কাজ। তাই আজ তার নিজের ঘরেই গড়ে উঠেছে পাখির বাসা।

ঘরের বিভিন্ন স্থানে পাখিরা বাস করছে মনি মিয়ার সাথে। নিজের পরিবারের সদস্যদের মতো এ সব পাখি। নিজের সংসারে সদস্যদের যেমন দেখভাল করেন মনি মিয়া ঠিক তেমন পাখিদের সাথে তার মমত্ব আর ভালোবাসা আজ তার হৃদয়ে দানা বেঁধেছে। তার ঘরে নানা জাতের পাখি বাসা বেঁধে ডিম, বাচ্চা দিচ্ছে নিয়মিত। এদের প্রতি এত ভালোবাসা মনি মিয়ার যে, সে  একদিনের জন্যও দূরে কোথাও যান না।

৩৬ বছর বয়সী পাখিপ্রেমী মনি মিয়ার নাম গোলাম মোস্তফা মনি। কিন্তু পাখিপ্রেমী মনি মিয়া নামেই তিনি সবার কাছে পরিচিত। বেনাপোলের গাজীপুর গ্রামে তার বসবাস। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। চাকরির সময় ছাড়া বাকি সময় তিনি কাটান তার পোষ্য পাখিদের সাথে। তার ঘরে যে সব পাখি বাসা বেঁধে রয়েছে তার মধ্যে জাবা, লাভবাট, প্রিন্স, কাকাতুয়া, স্পঞ্চ জেল, বাজরিকা, পোটার আউল, হুমার, ম্যাগপাই ও কিং নামের পাখি অন্যতম। মনি মিয়া বলেন, ‘৩০ বছর ধরে আমার পাখির সাথে বসবাস, পাখিদের আমি খুব ভালোবাসি। ঘর থেকে এ সব পাখি কোথাও উড়ে যায় না। সকাল-সন্ধ্যা পাখির কিচিরমিচির ডাক আমাকে মুগ্ধ করে। ভোরে ঘুম ভাঙে তাদের ডাক শুনে। নানা জাতের পাখি সংগ্রহ করতে আমার প্রথমে খরচ হয়েছিল ১২শ’ টাকা। তারপর আর কোনো খরচ হয়নি।’

তিনি আরও জানান, পাখিদের বাচ্চা বিক্রি করেই চলে ওদের খাদ্য ও ঔষধপত্র কেনা। বছরে ২/৩ বার ডিম, বাচ্চা দেয় এসব পাখি। প্রিন্স, বাজরিকা ৩ মাস পরপর বাচ্চা দেয়।  কাকাতুয়া বছরে ৩ বার বাচ্চা দেয়। প্রতিমাসে ডিম দেয় ৬টি করে। এক জোড়া কাকাতুয়া বিক্রি হয় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকায়। প্রিন্স বাজরিকা ৩ মাস পরপর ডিম দেয় ৮ থেকে ১২টি করে। যার বাচ্চা বিক্রি হয় বাজারে প্রতি জোড়া ৬শ’ টাকা দরে। জাবা ডিম দেয় বছরে মাত্র ২ বার। প্রতিবার ৬টি করে। যার প্রতি জোড়া বাচ্চা বিক্রি হয় ২হাজার টাকা । কিং কবুতর আছে তার বাসায়। ৩ মাস পরপর ডিম দেয় এ কিং। এক জোড়া কিং বিক্রি হয় ৮ হাজার টাকায়।

প্রতিমাসে এ সব পাখির খাবারে ব্যয় হয় মনিরের ২/৩ হাজার টাকা, কিন্তু নিজে থেকে আর খরচ হয় না তার। পাখির বাচ্চা বিক্রি করেই সব খরচ মিটে যায় মনিরের। মনিরের ঘরে পাখির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় স্থান স্বল্পতার কারণে সে প্রতিমাসে এখন বিক্রি করছে ৩০ জোড়া পাখি। যার মূল্য পেয়ে থাকেন মনির ১০/১২ হাজার টাকা। বর্ষা মৌসুমে পাখির ডিম, বাচ্চা কম হলেও শুষ্ক মৌসুমে তার পরিমাণ বেড়ে যায় অনেকগুণ।

মনিরের বাসায় প্রতিদিন নানা জাতের এ সব পাখি দেখতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ভিড় জমায়। দেখতে আসা এমন অনেকের সাথেই কথা বলে জানা যায়, মনি মিয়া আসলেই একজন পাখিপ্রেমী। তার মুখে সবসময় পাখিদের গল্প লেগেই থাকে। তার কাছ থেকে জানা যায়, নানা ধরনের পাখির যতসব গল্প। আর তার মতো মানুষ আমাদের দেশে খুবই কম আছে, যারা নিজের ঘরকে বানিয়ে ফেলেছেন একটি পাখির বাসা।

মনি মিয়া বলেন, ‘পাখিদের সাথে সময় কাটাতে আমার খুব ভালো লাগে। কারণ পাখিরা স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তারা কারও স্বাধীনতা নষ্ট করে না, কারও সাথে খারাপ আচরণ করে না। বলা যায়, পাখি মানুষের ভালো বন্ধু।’

যেখানে বর্তমান সময়ে মানুষজন বন্দুকের আঘাতে পাখি মারতে ব্যস্ত সেখানে মনি মিয়া নিজের পরিবারে ঠাঁই দিচ্ছেন পাখিদের। বিষয়টি সত্যিই অবাক করার মতো। মনি মিয়ার মতো পাখিপ্রেমী না হতে পারলেও আমাদের সবার উচিত অন্তত পাখিদের বিরক্ত ও হত্যা না করা।



 
সর্বশেষ সংবাদ
  • ‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে’টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে ২৬ কোটি ডলার দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি'র নেতৃত্বাধীন জোটসংসদীয় আসনের সীমানা পুন:নির্ধারণ আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করেছে ইসিজিম্বাবুয়ের সেনা কর্মকর্তারা অভ্যুত্থানের কথা অস্বীকার করেছেনএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেয়নি : সিইসিআজ ভয়াল ১৫ নভেম্বর : স্বজন হারাদের কাঁন্না থামেনি আজও মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যমান চিনি আইন রহিতের সিদ্ধান্তমহানগরী ঢাকাকে ‘সেফনগরী’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন ১০ কার্য দিবস চলবেস্থানীয় সরকারের অধীন দেশের ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানে ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণবিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না : খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ : বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি, সোমবার শাহবাগে ‘আনন্দ উৎসব ও স্মৃতিচারণ’ আজ বসছে দশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন বঙ্গবন্ধু'র ৭ মার্চের ভাষণ : ২৫ নভেম্বর দেশব্যাপী আনন্দ শোভাযাত্রা দ. কোরিয়ার যুদ্ধজাহাজ মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর যৌথ সামরিক মহড়ায় যোগ দেবেঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের ‘কাস্টমস এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস’ চালু২০২৪ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে শতভাগ বিদ্যুত পৌঁছে দেয়া হবে : বানিজ্যমন্ত্রীরোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যের সহযোগীতা চাইলো ঢাকা খুলনা-কলকাতা চলাচলকারী মৈত্রী ট্রেনের আজ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
  • ‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে’টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে ২৬ কোটি ডলার দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি'র নেতৃত্বাধীন জোটসংসদীয় আসনের সীমানা পুন:নির্ধারণ আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করেছে ইসিজিম্বাবুয়ের সেনা কর্মকর্তারা অভ্যুত্থানের কথা অস্বীকার করেছেনএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেয়নি : সিইসিআজ ভয়াল ১৫ নভেম্বর : স্বজন হারাদের কাঁন্না থামেনি আজও মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যমান চিনি আইন রহিতের সিদ্ধান্তমহানগরী ঢাকাকে ‘সেফনগরী’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন ১০ কার্য দিবস চলবেস্থানীয় সরকারের অধীন দেশের ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানে ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণবিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না : খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ : বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি, সোমবার শাহবাগে ‘আনন্দ উৎসব ও স্মৃতিচারণ’ আজ বসছে দশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন বঙ্গবন্ধু'র ৭ মার্চের ভাষণ : ২৫ নভেম্বর দেশব্যাপী আনন্দ শোভাযাত্রা দ. কোরিয়ার যুদ্ধজাহাজ মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর যৌথ সামরিক মহড়ায় যোগ দেবেঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের ‘কাস্টমস এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস’ চালু২০২৪ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে শতভাগ বিদ্যুত পৌঁছে দেয়া হবে : বানিজ্যমন্ত্রীরোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যের সহযোগীতা চাইলো ঢাকা খুলনা-কলকাতা চলাচলকারী মৈত্রী ট্রেনের আজ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
উপরে