প্রকাশ : ০৮ আগস্ট, ২০১৯ ১২:৪০:৪৮
বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী মানুষের চিন্তার বাইরের ইতিহাস...
ফরিদুল মোস্তফা খান : জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মৃত্যুঞ্জয়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানুষের ধরা ছোঁয়ার বাইরের ইতিহাস। তাঁদের দেশাত্ববোধ মানুষের প্রতি অগাধ ভালবাসা ও বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর এখনো লক্ষকোটি জনতার হৃদয়কে আন্দোলিত করে।
জাতীয় শোক দিবস পালিত হবে মুজিব নামের এক কিংবদন্তির শ্রদ্ধায়। ইতিহাসের এই মহা নায়কের জন্য কবি লিখেছেন, ‘যত দিন রবে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা বহমান, তত দিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।’ এটি শুধু নাম নয়, একটি ইতিহাসও বটে। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ এই বাঙালীর দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত পুরো জীবনটাই ছিল সংগ্রামমূখর এবং ঐতিহাসিক। শক্র ও নিমকহারামীদের রোষানলে শিশুসুলভ পরোপকারী এই মানুষটি কখনো হাঁসি আবার কখনো কাঁন্নায় নিজ বুক ভাঁসিয়েছেন। আত্মরক্ষার্থে নিরাপদ জীবন খুঁজতেন ! হায়েনার কারণে মৃত্যুর আগেই অনেক বার মৃত্যুকে দেখেছেন তিনি। ফাঁসির কাষ্টে দাঁড়িয়ে জাতীর পিতা নিজের এবং পরিবারের কথা বলেননি, প্রিয়তমা স্ত্রী, সন্তান কারো খবর নেয়ার এতটুকু সময় মেলেনি তাঁর। যেটুকু দম নিয়েছেন, তিনি শুধু বলেছেন, বাঙালী আর বাঙালী জাতীয়তাবাদের কথা। এদের অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, সম্মানসহ হরেক মৌলিক দাবীতে আমৃত্যু আপোষহীন ছিলেন তিনি। নিজের আনন্দ, ফূর্তি এবং প্রধানমন্ত্রীত্ব পায়ে ঠেলে বঙ্গবন্ধু বার বার বাঙালীদের মুখে হাঁসির স্বপ্ন দেখে ছিনিয়ে এনেছেন মুক্তি। পৃথিবীর মানচিত্রে সৃষ্টি করেছেন লাল-সবুজের পতাকা। এই অর্জন বঙ্গবন্ধু একদিনে সৃষ্টি করেননি। এজন্যই তাঁকে অনেক দূর্গমপথ পাড়ি দিতে হয়েছে। যা চুল পরিমাণ বুঝলে, অন্তত: ইতিহাসের এই মহানায়কের রক্তের সাথে কেউ বেঈমানি করতো না। তথাকথিত বুদ্ধিজীবি সেজে পথে প্রান্তরে কেউ লম্বা লম্বা কিচ্ছা-কাহিনী বলতো না। এই দেশে রাজনীতির নামে নগ্নতা ছড়িয়ে পড়তো না।
স্বজন হারানো শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনাদের নিরাপদ বেষ্ঠনিতে জীবন কাঁটাতে হতো না। তাঁরাও পিতার মত জনতার কাতারে মিশে গিয়ে আরো বেশি মানব সেবা করতে পারতেন। যেই ইচ্ছা প্রধানমন্ত্রীকে সর্বক্ষন তাড়া করে বেড়ায়। দিনের ব্যস্ততা শেষে অনেক রাত জেঁগেও তিনি বিভিন্ন সূত্রে খবর নিয়ে দেশ ও জাতীর পাহারা দেন। বাংলাদেশ কেন, পৃথিবীর এমন কোন রাষ্ট্র নায়ক নেই। তিনিই একমাত্র আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যিনি সর্বদা চোখেমুখে স্বপ্ন দেখেন, এই দেশটিকে কি করে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। ক্ষুধা, দারিদ্রমুক্ত আধুনিক স্বচ্ছল একটি বাংলাদেশ গড়ে এখানকার সব মানুষের মুখে হাঁসি ফুঁটানো যায়।
বঙ্গবন্ধুর জন্ম তৎকালীন বৃহত্তর ফরিদপুরের গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। ছাত্রবস্থায় তিনি জড়িয়ে পড়েন রাজনীতিতে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, চুয়ান্নের যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন, পিডিপির আন্দোলনে সক্রিয় অংশও নেন তিনি।  স্বাধীনতার অনেক আগেই বঙ্গবন্ধু বাংলার স্বাধীনতার ক্ষেত্র ও পটভূমি তৈরি করতে নিজের সব মেধা-শ্রম, শক্তি সামর্থ ও সাঁহস  ব্যয় করেছেন।
আমাদের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব, চির জাগরুক এক আদর্শ। তিনি ছিলেন, একাধারে জননায়ক ও রাষ্ট্র নায়ক। পরাধীনতার শোষণ ও অন্যায়-অবিচার, জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সাক্ষাত যম। গণমানুষের অধিকার আদায়ের জন্য জীবনে খেয়ে না খেয়ে জেল-জুলুম, নির্যাতন সহ্য করেছেন বহু। স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের ডাক দিয়ে তিনি ঘুমন্ত জাতীকে করেছেন জাগ্রত, উজ্জ্বীবিত, ঐক্যবদ্ধ। দেশ-বিদেশে সৃষ্টি করেছিলেন, অভূতপূর্ব গণজাগরণ। যা ইতিহাসে বিরল। তাঁর নির্ভীক ও দূরদর্শী নির্দেশনায় বাঙালী জাতী অর্জন করেন, মহান স্বাধীনতা। আজকের বাংলাদেশ কেবল তারই সৃষ্টি। তিনি সার্বভৌম এই রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠতা।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীর অবনত আত্মসমর্পনের পর, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফেরেন বঙ্গবন্ধু। সদ্যস্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুণগঠনে কাজটি ছিল, বঙ্গবন্ধুর জন্য সব চেয়ে দূরহ এবং দীর্ঘ মেয়াদী। ইতিহাসের এই মহা নায়কের নেতৃত্বে যখন দেশ গড়ার সেই কঠিন কাজটি চলছিলো, ঠিক তখনই শুরু হয় তাঁর বিরুদ্ধে পর্বত ষড়যন্ত্র। সেই চরম অকৃতজ্ঞ ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিক পরিণতিতেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বিদপগামী ঘাতক সদস্যরা বঙ্গবন্ধুকে স্ব’পরিবারে নির্মম ভাবে হত্যা করে। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ির সিড়িতে জাতীর জনকের রক্তাক্ত মৃতদেহ। বাড়ির অন্যত্র ছড়ানো-ছিটানো মুজিব সহধর্মীনি বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব এবং অবুঝ শিশু রাসেলদের ক্ষত-বিক্ষত দেহের রক্তের বন্যা এমনিতেই হয়নি, মৃত্যুর আগে তারা ছটফট করে প্রাণ বাঁচাতে যাদের আকুতি জানিয়েছিলেন, কঠিন বিপদ মুর্হুতে যারা সাহায্য তো দূরের কথা টেলিফোনও রিসিভ করেননি, ক্ষমা প্রাপ্ত সেই সৌভাগ্যবানরাও কি বলবেন, বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা, রেহেনারা  খারাপ? ইতিহাসের জঘণ্যতম এই বর্বরতায় জড়িত প্রত্যেকেই শাস্তি না দিয়ে, সময়ের জন্য ছেড়ে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিঃসন্দেহে শুধু মানবতার মা না, দুনিয়ার মহিয়সী নারী। লেখক : সাংবাদিক। ই-মেইল : editorjonotarbani@gmail.com
 
সর্বশেষ সংবাদ
  • রোহিঙ্গা নির্যাতনের তদন্ত টিম এখন ঢাকায়বিএনপি-জামায়তের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে : ওবায়দুল কাদেরবঙ্গবন্ধুর জন্য জাতিসংঘে সদরদপ্তরে প্রথমবারের মতো জাতীয় শোক দিবসক্রস ফায়ারের মাঝেও মানব পাচার! থেমে নেই অস্ত্র ও ইয়াবা ব্যবসারোববার কবি শামসুর রাহমানের ১৩ তম মৃত্যুবার্ষিকীঢাকা-দিল্লীর সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায় : বাংলাদেশ হাইকমিশনারছয় বছর বয়সেই ইসি'র স্মার্টকার্ডবঙ্গবন্ধু বাংলার ইতিহাস : স্বাধীনতা বাঙ্গালীর সোনালী অর্জন বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সঙ্গে জিয়ার যোগাযোগ ছিল : প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা হবে : আইনমন্ত্রী২২ আগস্ট শুরু হচ্ছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাঙালীর বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হলেন জাতির জনক মাশরাফির অবসর নিয়ে দু'দিনের মধ্যেই আলোচনায় বসবে বিসিবিটুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদনবঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক চেষ্টা চলছে : ওবায়দুল কাদেরবঙ্গবন্ধু হত্যার কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচনে ‘কমিশন’ গঠনের দাবি জানালেন তথ্যমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী ও সর্বস্তরের জনতার বিনম্র শ্রদ্ধাজাতীয় শোক দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী'র বাণীআজ জাতীয় শোক দিবস : টুঙ্গিপাড়ায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের অপরাধটা কি? সব খুনিদের বিচার হোক
  • রোহিঙ্গা নির্যাতনের তদন্ত টিম এখন ঢাকায়বিএনপি-জামায়তের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে : ওবায়দুল কাদেরবঙ্গবন্ধুর জন্য জাতিসংঘে সদরদপ্তরে প্রথমবারের মতো জাতীয় শোক দিবসক্রস ফায়ারের মাঝেও মানব পাচার! থেমে নেই অস্ত্র ও ইয়াবা ব্যবসারোববার কবি শামসুর রাহমানের ১৩ তম মৃত্যুবার্ষিকীঢাকা-দিল্লীর সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায় : বাংলাদেশ হাইকমিশনারছয় বছর বয়সেই ইসি'র স্মার্টকার্ডবঙ্গবন্ধু বাংলার ইতিহাস : স্বাধীনতা বাঙ্গালীর সোনালী অর্জন বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সঙ্গে জিয়ার যোগাযোগ ছিল : প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা হবে : আইনমন্ত্রী২২ আগস্ট শুরু হচ্ছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাঙালীর বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হলেন জাতির জনক মাশরাফির অবসর নিয়ে দু'দিনের মধ্যেই আলোচনায় বসবে বিসিবিটুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদনবঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক চেষ্টা চলছে : ওবায়দুল কাদেরবঙ্গবন্ধু হত্যার কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচনে ‘কমিশন’ গঠনের দাবি জানালেন তথ্যমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী ও সর্বস্তরের জনতার বিনম্র শ্রদ্ধাজাতীয় শোক দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী'র বাণীআজ জাতীয় শোক দিবস : টুঙ্গিপাড়ায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের অপরাধটা কি? সব খুনিদের বিচার হোক
উপরে