প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি, ২০১৬ ১৫:৫১:৩৮
টিআইবি’র ‘দুর্নীতি থামান’ শ্লোগানে দুর্নীতি থামবে না
দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রথমে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে শিক্ষাঙ্গণকে
মো: কামাল উদ্দিন হাওলাদার : দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনকে দুর্নীতি বিরোধী প্রচার-প্রচারণা চালাতে দেখা যায়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দুর্নীতিমুক্ত অফিস প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন উদ্যোগ সংবাদ মাধ্যম সমূহে প্রকাশিত হচ্ছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টরন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) নামে একটি বেসরকারি সংস্থা দীর্ঘদিন যাবত ‘দুর্নীতি থামান’ শ্লোগান দিয়ে দুর্নীতি বিরোধী প্রচারণা চালিয়ে আসছে। মোট কথা অন্তরে যাই থাকুক আর নাই থাকুক, দৃশ্যত অনেককেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলতে শোনা যায়। আমার কৌতুহল টিআইবি’র দুর্নীতি থামান শ্লোগানকে ঘিরে। টিআইবিতে যারা কাজ করছেন তারা অনেক বড় মাপের ডিগ্রীধারী মানুষ। তাদের সমালোচনা করা আমার মত চালচুলোবিহীন অজপাড়াগাঁয়ের সংবাদকর্মীর পক্ষে বড়ই বেমানান।

তবুও বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে বলতে হচ্ছে-টিআইবি সমাজের রন্দ্রে রন্দ্রে চলমান দুর্নীতি থামানোর আহ্বান সম্বলিত শ্লোগান দিয়ে দুর্নীতি থামাতে বলছেন। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, দুর্নীতি কি চলন্ত ট্রেন? চেইন টানলেই দুর্নীতির গতি থেমে যাবে? টিআইবি’র এই দুর্নীতি থামানোর আহবানের যাত্রা সম্পূর্ণ লক্ষ্যবিহীন গন্তব্যের মতো বলে আমার মনে হয়। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে হলে তাদের যেখান থেকে যাত্রা শুরু করার প্রয়োজন ছিল টিআইবি সেখান থেকে শুরু করতে পারেনি বলে আমি মনে করি। যার কারণেই তাদের দুর্নীতি বিরোধী প্রচারণায় কাঙ্খিত সফলতা আসছেনা।

টিআইবি’র মতো একটি বুদ্ধিজীবী বেষ্টিত প্রতিষ্ঠানকে সামনে রেখেই বলতে চাই-দুর্নীতি কারা করে বা দুর্নীতির সাথে কারা জড়িত? এ প্রশ্নের উত্তরে ১৭ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত বাংলাদেশে আমার এই লেখনির সমর্থনে যদি একজন মানুষকেও খুঁজে পাওয়া যায় তাহলে তিনি বলবেন শিক্ষিতরা বা যাদের কলমি ক্ষমতা আছে-তারাই দুর্নীতি করেন। এবার আমরা একটু পিছনে ফিরে তাকালে দেখতে পাবো-মূলত দুর্নীতির বীজ বপন হয় কোথায়?

ছয় বছর বয়সে শিশুরা সরকরি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির সুযোগ পায়। ছয় বছর বয়সের একটি শিশু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে গেলে ভর্তি ফি বাবত ১শ’ টাকা থেকে শুরু করে ৫ শ’ বা তদুর্ধ টাকা নেয়া হয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোন ভর্তি ফি নেই এ কথাটি ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার বদৌলতে সব শিশুদের জানা আছে। প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতির বীজ প্রাথমিক বিদালয়ের প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির মাধ্যমেই শিশুদের অন্তরে বপন হয়ে যায়। এর পর সে শিশুটি শেণীকক্ষের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে থাকে।

আর সে শিশুর ভিতরে দুর্নীতির বপন করা বীজও অঙ্কুরিত হয়ে ক্রমশ: ডালপালা গজাতে থাকে। ৫ম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষা দিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় ত্যাগের সময় তার জ্ঞান অনেক প্রসারিত থাকে। যে সমস্ত অভিভাবক আমার মতো নিজের সন্তানদের সাথে সময় কাটানোর সুযোগ পান তারা এ বিষয়টি খুব ভালোই জানেন যে, আজকের শিশুরা কত মেধাবী। তাদের সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, ধর্মীয় ও বাস্তব জ্ঞান আমাদের সময়ের তুলনায় অনেক বেশী। ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার পাশাপাশি কম্পিউটার ইন্টারনেট শিশুদেরকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। আবার যে সমস্ত অভিভাবক নিজের চাকুরি, ব্যবসা বা নানাবিধ ব্যস্ততার কারণে নিজের সন্তানের সাথে যথেষ্ট সময় কাটানোর সুযোগ পান না তারা নিজের সন্তানের মেধা সম্পর্কেও ততটা অবগত নন বলে আমার ধারণা।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে বই, সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসার পাশাপাশি প্রায় শতভাগ ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করার বিষয়টি যাদের বাসায় টেলিভিশন, কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে-সে সব ঘরের ১ম, ২য় ও তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীরাও অবগত রয়েছে বলে আমি মনে করি।

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে সরকার বিনামূল্যে পাঠ্যবই সরবরাহ করছে। অথচ বিনামূল্যের বই বিতরণকালে কিছু কিছু বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিভিন্ন অযুহাতে শিক্ষার্থীদের নিকট টাকা আদায় করেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে কোন ভর্তি ফি নেই। অথচ বাধ্যতামূলক ভর্তি ফি আদায় করা হয়। কেউ টাকা না দিতে চাইলে কোটা নেই বলে হয়রানি করা হয় বলে পত্রিকান্তরে প্রকাশিত সংবাদে জানা গেছে। এর পর খেলাধূলা, মিলাদ, বিদায়-বরণ, অবসর প্রভৃতি উপলক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট থেকে টাকা আদায় করা হয় বলেও জানা গেছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহের জুনিয়র ওয়ান থেকে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত বছরে তিন বার পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। এক সময় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র মুদ্রণের দায়িত্ব ছিল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির উপর। কয়েক বছর আগে এ গুরুদায়িত্বটি ন্যাস্ত হয় প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের উপর। তখন থেকে প্রশ্নপত্র মূদ্রণ ও বিতরণ নিয়ে আষ্টেপৃষ্টে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা। কয়েকজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, উপজেলা শিক্ষা অফিসারগণ প্রতি সেট প্রশ্নপত্র ১.৫০ টাকা মূল্যে মূদ্রণ করে তা শিক্ষকদের নিকট বিক্রি করেন প্রতি সেট পাঁচ টাকা হারে। আর শিক্ষকরা সে কারণে ৫০ টাকা হারে ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট থেকে পরীক্ষার ফি আদায় করেন। শহর এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে আরো বেশী ফি আদায় করা হয়। পরীক্ষার ১৫ দিন আগ থেকে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষ থেকে ফি আদায় শুরু করেন। অনেকটা জোর জবরদস্তি পরীক্ষার ফি আদায় করা হয় বলে জানা যায়।

৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ১ম ও ২য় সাময়িক পরীক্ষা অন্যান্য শ্রেণীর সাথে অনুষ্ঠিত হয়। তার পর প্রত্যেক জেলা শিক্ষা বিভাগের তত্বাবধানে ১ম মডেল টেষ্ট ও চুড়ান্ত মডেল টেষ্ট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং সর্বশেষ পিএসসি পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ৫টি পরীক্ষা নিয়ে বিদ্যালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ কোচিং, প্রাইভেট, টিউশনসহ নানামূখী হয়রানির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে অর্থ আদায় করা হয়। এদের প্রত্যেক মডেল টেষ্ট পরীক্ষায় ৫০ থেকে ১ শ’ টাকা পর্যন্ত পরীক্ষা ফি আদায় করা হয়।

২০১৫সালে লক্ষ্মীপুর জেলা পাথমিক শিক্ষা বিভাগে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার ছাত্র-ছাত্রী বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসসমূহের বরাত দিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, প্রত্যেক উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি থাকা শিক্ষার্থীদের তালিকা অনুযায়ী উপজেলা শিক্ষা অফিসারগণ প্রতি সেট প্রশ্ন থেকে ১ টাকা হারে জেলা শিক্ষা অফিসারকে বাধ্যতামূলক প্রদান করতে হয়েছে। লক্ষ্মীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ২০১৫ ইং সনের বার্ষিক পরীক্ষা থেকে জেলার প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের মোট শিক্ষার্থীদের হিসেব অনুযায়ী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার প্রায় দু’লাখ ২০ হাজার টাকা লুফে নিয়েছেন বলে জানা যায়। যে সব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি তাদেরকেও হিসেব থেকে বাদ দেয়া হয়নি বলে সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বিনামূল্যে বই সরবরাহ করছে। পাশাপাশি সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষকের বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে নানামূখী উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের দুর্নীতির কারণে সরকারের গৃহীত কর্মকান্ডের সুনাম জনসম্মুখে প্রকাশ পাচ্ছেনা।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জুনিয়র ওয়ান কিংবা প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি ফরমের কি প্রয়োজন? সরাসরি রেজিষ্ট্রারে নাম লিখলেইতো হয়। এক টাকা মূল্যের ১টি ভর্তি ফরমের অযুহাত দিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে ন্যূনতম ১ শ’ টাকা থেকে ৫ শ’ বা তদুর্ধ টাকা পর্যন্ত ভর্তি ফি আদায় করা হয়। ১.৫০ পয়সা প্রতি সেট প্রশ্নের মূদ্রণমূল্য হলে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর ৩ বিষয়ে প্রশ্নের মূল্য দাঁড়ায় ৪ টাকা ৫০ পয়সা।

আর তৃতীয় থেকে ৫ ম শ্রেণীর ৬ বিষয়ে প্রশ্নের মূল্য দাঁড়ায় ৯ টাকা। তাহলে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর পরীক্ষার ফি ৫ টাকা ও তৃতীয় থেকে ৫ম শ্রেণীর পরীক্ষার ফি ১০ টাকা আদায় করলেই হতো। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির ক্ষেত্রে কোটা নামে কোন কিছু নেই। বিদ্যালয় এলাকায় বসবাসরত কোন শিক্ষার্থী ভর্তি হতে আসলে তাকে বাধ্যতামূলক ভর্তির বিধান রয়েছে। কিছু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোটা নেই বলে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করতে অনীহা প্রকাশ করা হয়। পরে মোটা অংকের উৎকোচ ধরিয়ে দিলে তখন কোটার ব্যবস্থা হয়ে যায়।

আসলে বাস্তবতা হচ্ছে-কোমলমতি শিশুরা প্রথম শ্রেণী থেকে শুরু করে শিক্ষকদের উপরি দিতে দিতে অনেকটা অতিষ্ট হয়ে পড়ে। যার কারণে কিছুটা বাড়তি বা উপরী অর্জনের মানসিকতা বিদ্যালয়ে পাঠরত অবস্থা থেকেই শিশুদের মনে অঙ্কুরিত হতে থাকে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ কর্তৃক ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট থেকে টাকা আদায়ের অভিজ্ঞতা লালন করেই শিশুটি ভর্তি হতে যায় ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে। সেজন্য পিএসসি পরীক্ষার প্রশংশাপত্র নিতে গিয়েও শিশুরা হয়রানির শিকার হয়। প্রশংসপত্র প্রদানের ক্ষেত্রে শিক্ষকরা ন্যূনতম ২শ’ টাকা থেকে ৫ শ’ বা তদুর্ধ হারে টাকা আদায় করেন। অথচ প্রতিটি প্রশংসাপত্র তৈরীর খরচ মাত্র ২ টাকা। তারপর ৬ ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তির ক্ষেত্রে খরচের বিশাল ফর্দ। এই চাঁদা সেই চাঁদা, হয়েছে চাঁদা-হবে চাঁদা, এলো চাঁদা-গেলো চাঁদা, কত নামে যে চাঁদা আদায় করা হয়।

অথচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও বই ফ্রি। তবে সেখানেও বই বিতরণকালে টাকা আদায় করা হয়। বই বিতরণকালে চাঁদা আদায় করা হয় কেন? জানতে চাইলে শিক্ষকদের সাফ জবাব, বই আনতে ভাড়া, যাতায়াত, খাওয়া অন্যান্য খরচ। এভাবে বাড়তি টাকা দিয়েই শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে হয়। ৭ম শ্রেণীর বৈতরণী পার হয়ে ৮ম শ্রেণীতে পা রাখলেই জেএসসি পরীক্ষাকে ঘিরে অনেক আনুষ্ঠানিকতা শিক্ষার্থীদেরকে আর্থিক ভাবে মোকাবিলা করতে হয়। এটি পার হয়ে ৯ম শ্রেণীতে পা রাখলে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে অনেক আনুষ্ঠানিকতা চলমান থাকে। সে সব আনুষ্ঠানিকতা অনেক দরিদ্র বা আর্থিক দুর্বল পরিবারের ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষে পালন করা সম্ভব হয়না। তারপর এসএসসি পরীক্ষার ফরম পুরণকে কেন্দ্র করে বেসরকারি বিদ্যালয় সমূহে চলে দুর্নীতির মহোৎসব।

কিছু কিছু বিদ্যালয় ছাত্র-ছাত্রীদের কত ভাবে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে টাকা আদায় করেন তার হিসেব নেই। এ বিষয়ে প্রত্যেক বছর ফরম পুরণের মৌসূম নভেম্বর মাসে বিভিন্ন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসব লেন-দেন সম্পন্ন হয় ছাত্র-ছাত্রীদের হাতের উপর দিয়েই। এতে  প্রয়োজনে, অপ্রয়োজনে ধাপে ধাপে টাকা খরচ করতে করতে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক যোগ্যতা অর্জনের পাশাপাশি দুর্নীতি করে টাকা উপার্যনের কৌশলও একই সাথে রপ্ত করে ফেলে।

গ্রামের দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা কিছু কিছু সময় এমন অভাবের মধ্যে টাকা পয়সা যোগাড় করে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফি দিয়ে থাকে, সে সব টাকা সংগ্রহের ইতিহাস এত ভয়াবহ, করুণ বা হৃদয় বিদায়ক থাকে যা ভুলে যাওয়া তাদের পক্ষে কখনো সম্ভব হয়না। এমনকি কর্মক্ষেত্রে গেলেও তারা সেটি ভুলে না। যেমনটি ভুলে যাননি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর ড. আতিউর রহমান। তিনি বাল্যকালে অর্ধাহারে অনাহারে লেখাপড়া করেছেন। মানুষের চাঁদা উঠানো টাকায় পড়ার খরচ চালিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর হয়েও তিনি শিশুকালের স্মৃতি ভুলেননি। পত্রিকায় সাক্ষাতকার দিয়ে তিনি অতীতের স্মৃতিচারণ করেছেন।

বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীরা যেভাবে দুর্নীতির চাকায় পিষ্ট হয়ে বেড়ে উঠছে। বড় হয়ে তারা দুর্নীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে কি ভাবে? সম্ভব নয়। শুধু টিআইবি নয়, আরো বড় ধরণের কোন ফর্মূলা আমদানী করেও অন্য কোন উপায়ে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা সম্ভব হবেনা। দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালন করে বা দুর্নীতি বিরোধী প্রচারণা চালিয়ে কোন লাভ হবে বলেও আমি মনে করিনা।

দুর্নীতি বিরোধী বিভিন্ন সংস্থা যে টাকা খরচ করে দুর্নীতি বিরোধী প্রচারণা চালায় তার সাথে আরও টাকা যোগ করে দেশের শিক্ষাঙ্গণকে দুর্নীতিমুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। ক্রমান্ময়ে কাজ শুরু করতে হবে। সর্বাগ্রে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক থেকে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহকে দুর্নীতিমুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারের সাথে আলোচনা চালাতে হবে, সরকারকে বুঝিয়ে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান শুরু করতে হবে।

সেজন্য সরকারকে একটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে সেটি হলো- প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা যেন সরকারিভাবে গ্রহণ করা হয়। তাহলে পরীক্ষার ফি’র অযুহাতে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট থেকে টাকা আদায়ের সুযোগ বন্ধ হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টাকা-পয়সার আলোচনা যেন না থাকে। শিক্ষার্থীদের যেন টাকা পয়সা স্পর্শ করতে না হয়, প্রথমে সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

কয়েকদিন আগে দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অধিকাংশ সময় কাটান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমূহে। এটি নতুন করে আরেকটি দু:সংবাদ। সংবাদটি পত্রিকায় পড়ে দূর্ঘটনা ঘটলে মানুষ যে দোয়া পড়ে আমি সেটিই পড়ে নিয়েছি। ধরেই নিয়েছি, চিকিৎসার পাশাপাশি দেশের উচ্চ শিক্ষাটাও বুঝি শিক্ষা ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যাচ্ছে।
লেখক : সাংবাদিক-কলামিষ্ট, সম্পাদক, দৈনিক রূপসী লক্ষ্মীপুর।
e-mail : lxpnews11@gmail.com
 
সর্বশেষ সংবাদ
  • ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে টিকে সিরিজে প্রথম জয়ের মুখ দেখলো লংকাআখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমা শেষ হয়েছেআজ আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হবে চলতি বছরের ৫৩ তম বিশ্ব ইজতেমাদক্ষিণ সুুনামগঞ্জে সিরিজ ডাকাতি ॥ জনমনে চরম আতঙ্ক : প্রশাসন নিরবযশোরে পৃথক স্থান থেকে ৪ জনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশটঙ্গীর তুরাগ তীরে চলছে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব : কঠোর নিরাপত্তা বলয়শ্রীলংকাকে ১৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশঢাকা উত্তর সিটি'র উপ-নির্বাচনে আদালতের ৩ মাসের স্থগিতাদেশসুন্দরবনের ৩ কুখ্যাত জলদস্যুবাহিনীর প্রধানসহ ৩৮ জনের আত্মসমর্পণজাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণ : ভবিষ্যতে বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্যের দাবি প্রধানমন্ত্রী'ররাজধানী'র জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের সফল অভিযান : ৩ মৃতদেহ ও বিস্ফোরক উদ্ধারপদোন্নতি পেলেন বঙ্গবন্ধু'র খুনিদের গ্রেফতারকারী প্রথম পুলিশ অফিসারবিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণীআম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বরাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট : জনমনে ক্ষোভ জঙ্গি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনী সফল হয়েছে : আইজিপিঅর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি'র সভায় ১৩টি প্রকল্প অনুমোদনপুলিশকে আমি সব সময় আইনের রক্ষকের ভূমিকায় দেখতে চাই : প্রধানমন্ত্রীফারমার্স ব্যাংক কর্তৃক-জলবায়ু ট্রাস্ট তহবিলসহ আমানতকারীদের অর্থ ফেরত না দেয়ায় টিআইবি’র উদ্বেগসুন্দরগঞ্জের আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ : এইচ. এম. এরশাদ
  • ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে টিকে সিরিজে প্রথম জয়ের মুখ দেখলো লংকাআখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমা শেষ হয়েছেআজ আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হবে চলতি বছরের ৫৩ তম বিশ্ব ইজতেমাদক্ষিণ সুুনামগঞ্জে সিরিজ ডাকাতি ॥ জনমনে চরম আতঙ্ক : প্রশাসন নিরবযশোরে পৃথক স্থান থেকে ৪ জনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশটঙ্গীর তুরাগ তীরে চলছে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব : কঠোর নিরাপত্তা বলয়শ্রীলংকাকে ১৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশঢাকা উত্তর সিটি'র উপ-নির্বাচনে আদালতের ৩ মাসের স্থগিতাদেশসুন্দরবনের ৩ কুখ্যাত জলদস্যুবাহিনীর প্রধানসহ ৩৮ জনের আত্মসমর্পণজাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণ : ভবিষ্যতে বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্যের দাবি প্রধানমন্ত্রী'ররাজধানী'র জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের সফল অভিযান : ৩ মৃতদেহ ও বিস্ফোরক উদ্ধারপদোন্নতি পেলেন বঙ্গবন্ধু'র খুনিদের গ্রেফতারকারী প্রথম পুলিশ অফিসারবিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণীআম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বরাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট : জনমনে ক্ষোভ জঙ্গি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনী সফল হয়েছে : আইজিপিঅর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি'র সভায় ১৩টি প্রকল্প অনুমোদনপুলিশকে আমি সব সময় আইনের রক্ষকের ভূমিকায় দেখতে চাই : প্রধানমন্ত্রীফারমার্স ব্যাংক কর্তৃক-জলবায়ু ট্রাস্ট তহবিলসহ আমানতকারীদের অর্থ ফেরত না দেয়ায় টিআইবি’র উদ্বেগসুন্দরগঞ্জের আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ : এইচ. এম. এরশাদ
উপরে