প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৭:৪৭:৪৭
শিশু কিশোর ও মেয়েদের ধুমপান প্রতিকার প্রয়োজন
ফারুক হোসেন : ‘ধুমপান’ যা শুনলেই এর মানে আমাদের বুঝতে বাকি থাকে না একটি মরন ব্যাধি। ধুমপান যা সাধারনত আমরা বুঝি সিগারেট খাওয়াকে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের চাইতে বাংলাদেশে ধুমপানের প্রকপ অনেক বেশি। সকল শ্রেণির পুরুষেরা এই নেশায় আসক্ত। তবে আমাদের দেশে প্রাপ্ত বয়স্কদের কথা বাদ রেখে শিশু, কিশোর ছেলে ও মেয়েদের ধুমপানে আসক্ত হওয়ার ব্যাপারে একটু দৃষ্টি পাত করতে চাই। ধুমপান বয়:সন্ধিকালের একটি প্রধান সমস্যা। আর উদ্বেগের বিষয় অধিকাংশ কিশোরই জানে না ধুমপানের কারনে তাদের জীবন কতখানি হুমকির মুখে চলে যায়। এলাকার বখাটে ও বাজে/খারাপ বড়ভাই কিংবা বন্ধুদের পাল¬ায় পড়ে কৌতুহলের বসে শিশু, কিশোর ও মেয়েরা ধুমপান করতে বাধ্য হয়। অথচ তারা কেওই জানে না ধুমপানের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে। একটি শিশু , কিশোর ও মেয়েদের  ধুমপানে আসক্ত হওয়ার অন্যতম কারন হচ্ছে তাদের পরিবার। পরিবারের বড়রা যখন তাদের সামনে ধুমপান করে তখন তাদেরও মনে হয় যে আমার বাবা, চাচা, বড় ভাই, ও এলাকার বড়রা যখন ধুমপান করে তখন আমরাও ধুমপান করব। বয়:সন্ধিকালে শিশু , কিশোররা খুবই কৌতহুলি থাকে যার কারনে বড়দের ধুমপান করতে দেখে তারাও ধুমপানের প্রতি আসক্ত/আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। আর অনেক ধুমপায়ী বন্ধুবান্ধবরা কিশোরদের একবারের  জন্য হলেও ধুমপান করার প্রতি আহবান জানায়। এ পরিস্থিতিতে যখন তার বন্ধু বান্ধবরা চাচ্ছে সে ধুমপান করুক , তখন সেই কিশোরের জন্য বড় ভয়ের কারন হয় ঐ সব বন্ধু দের না বলা ।
এভাবেই শিশু, কিশোর মেয়েদের বয়সে শুরু হয় তাদের ধুমপান। তারা যানে না যে ধুমপান তাদের ফুসফুসের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে, কারন নিকোটিন দ্বারা সৃষ্ট বধির্ত হৃদস্পন্দন তাদের দম কমিয়ে দেয় এবং তারা সহনশীলতা হারায়। যার ফলে ঐই শিশু কিশোর বা মেয়েরা শারীরিক পরিশ্রম অথবা যে কোন খেলাধুলায় অংশ গ্রহন করতে অক্ষম হয় । তাদের লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগ একেবারেই নষ্ট হয়ে যায়। অন্য বিষয় গুলোর চেয়ে তারা বেশি ধুমপানের দিকেই মত্ত থাকে। ধুমপান করার কারনে আস্তে আস্তে অন্য নেশা গুলোর প্রতি আসক্ত হওয়ার প্রবনতা থাকে খুব বেশি। এই ধুমপানের কারনে হৃদরোগ এবং ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুকি থাকে। একজন কিশোরের শরীর ও ফুসফুস সম্পুর্ণ রুপে বিকোশিত হয়না ।
শিশু কিশোর যদি তার বয়স ১৮ হওয়ার আগে ধুমপান শুরু করে তাহলে তাদের ফুসফুস কখোনেই পরিপক্কতা লাভ করবে না ও তাদের শরীরের বাকি অংশ যেমন, গঠন বৃদ্ধি, সাস্থ্য ইত্যাদি সঠিক ভাবে হবেনা। অ্যামিরকান লাং এ্যাসোসিয়েয়েশনের মতে, ধূমপায়ীদের এক তৃতীয়াংশ প্রথম ধূমপান শুরু করে তাদের বয়স ১৪ হওয়ার আগে অর্থাৎ যে বয়স তাদের জীবন সুন্দর ভাবে শুরু করার কথা সে বয়সেই তারা তাদের জীবন নষ্টের দিকে ঠেলে দেয় ধুমপানের মাধ্যমে। এক বার এ নেশায় পুরো পুরি ভাবে আশক্ত হলে ফিরে আসা অত্যন্ত কঠিন। তাই আমাদের দেশের মা বাবা দের উচিৎ কিশোর বয়সের ছেলেদের প্রতি খেয়াল রাখা। তারা কোন ধরনের বন্ধুবান্ধব দের সাথে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে, অতিরিক্ত টাকা কেন নিচ্ছে, আচরণের পরিবর্তন হচ্ছে কিনা, এসব বিষয়ে দৃষ্টি পাত করা। এই বয়সের ছেলেদের সবসময় বুঝিয়ে কলা কৌশলে শাসন করতে হবে। তাদের ওপর অযথা রাগ, গালাগালি, মারধর করা যাবে না। তাদের অসুবিধা গুলো বুঝতে হবে।
শিক্ষকদেরও এ বিষয়ে খেয়াল রাখা উচিৎ বলে আমি মনে করি। তাদের উচিৎ ধুম পানের ক্ষতিকর দিক গুলো সম্পর্কে শ্রেণীতে অবহিত করা কোন ছাত্র কোথায় কি করছে সে বিষয়ে যথা সম্ভব খেয়াল রাখা আজকাল দেখা যায় প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিশু কিশোররা এই ধুমপানের পথ বেছে নেয়। অনেক স্কুলে সামনে বিভিন্ন দোকান হওয়াতে তারা এই পথে ধাপিত হচ্ছে। এদেশে যে ভাবে শিশু কিশোর ও মেয়ে ধুমপান বেড়ে চলেছে তাতে দেশের আগামী প্রজন্মে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তাই আমাদের পরিবার, শিক্ষক,সহপাঠী,এলাকার লোকজন, সবারই উচিৎ শিশু কিশোর কিংবা মেয়েদের প্রতি আলাদা যতœ ও খেয়াল রাখা,  বিশেষ করে দোকানদার ভাইদের উচিৎ শিশু কিশোরদের কাছে যেন কখনই নেশা জাতীয় দ্রব্য বিক্রি না করা। এ বিষয়ে সব সময় সচেতন থাকা। সম্প্রতি ক্রোয়েশিয়া ২২টি দেশ নিয়ে জরিপ চারিপ চালিয়ে প্রকাশ করেছে যে নারী ধুমপায়ীদের বাংলাদেশে প্রথম। আর যারা ধুমপানের দিকে লিপ্ত হয়েছে তাদের এই মরণ পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে যথা সম্ভব চেষ্টা করা। এই ভয়ঙ্কর পন্থা রোধে সকলকে এক সাথে কাজ করতে হবে। তা না হলে  এদেশের আগামী প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে দেশ উন্নতির শিখরে পৌছাতে পারবে না। আসুন আমরা সবাই মিলে শিশু কিশোর ও মেয়েদের  এই ভয়ঙ্কর পথ থেকে ফিরিয়ে আনি।  

বাংলাদেশ বাণী/কাসা/ডেস্ক/নি.প্রতি/ফারুক/সরিষাবাড়ী/০৯/০২/২০১৬. ০৫:৪৫ (পিএম) ঘ.
সর্বশেষ সংবাদ
  • ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে টিকে সিরিজে প্রথম জয়ের মুখ দেখলো লংকাআখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমা শেষ হয়েছেআজ আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হবে চলতি বছরের ৫৩ তম বিশ্ব ইজতেমাদক্ষিণ সুুনামগঞ্জে সিরিজ ডাকাতি ॥ জনমনে চরম আতঙ্ক : প্রশাসন নিরবযশোরে পৃথক স্থান থেকে ৪ জনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশটঙ্গীর তুরাগ তীরে চলছে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব : কঠোর নিরাপত্তা বলয়শ্রীলংকাকে ১৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশঢাকা উত্তর সিটি'র উপ-নির্বাচনে আদালতের ৩ মাসের স্থগিতাদেশসুন্দরবনের ৩ কুখ্যাত জলদস্যুবাহিনীর প্রধানসহ ৩৮ জনের আত্মসমর্পণজাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণ : ভবিষ্যতে বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্যের দাবি প্রধানমন্ত্রী'ররাজধানী'র জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের সফল অভিযান : ৩ মৃতদেহ ও বিস্ফোরক উদ্ধারপদোন্নতি পেলেন বঙ্গবন্ধু'র খুনিদের গ্রেফতারকারী প্রথম পুলিশ অফিসারবিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণীআম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বরাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট : জনমনে ক্ষোভ জঙ্গি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনী সফল হয়েছে : আইজিপিঅর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি'র সভায় ১৩টি প্রকল্প অনুমোদনপুলিশকে আমি সব সময় আইনের রক্ষকের ভূমিকায় দেখতে চাই : প্রধানমন্ত্রীফারমার্স ব্যাংক কর্তৃক-জলবায়ু ট্রাস্ট তহবিলসহ আমানতকারীদের অর্থ ফেরত না দেয়ায় টিআইবি’র উদ্বেগসুন্দরগঞ্জের আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ : এইচ. এম. এরশাদ
  • ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে টিকে সিরিজে প্রথম জয়ের মুখ দেখলো লংকাআখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমা শেষ হয়েছেআজ আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হবে চলতি বছরের ৫৩ তম বিশ্ব ইজতেমাদক্ষিণ সুুনামগঞ্জে সিরিজ ডাকাতি ॥ জনমনে চরম আতঙ্ক : প্রশাসন নিরবযশোরে পৃথক স্থান থেকে ৪ জনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশটঙ্গীর তুরাগ তীরে চলছে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব : কঠোর নিরাপত্তা বলয়শ্রীলংকাকে ১৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশঢাকা উত্তর সিটি'র উপ-নির্বাচনে আদালতের ৩ মাসের স্থগিতাদেশসুন্দরবনের ৩ কুখ্যাত জলদস্যুবাহিনীর প্রধানসহ ৩৮ জনের আত্মসমর্পণজাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণ : ভবিষ্যতে বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্যের দাবি প্রধানমন্ত্রী'ররাজধানী'র জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের সফল অভিযান : ৩ মৃতদেহ ও বিস্ফোরক উদ্ধারপদোন্নতি পেলেন বঙ্গবন্ধু'র খুনিদের গ্রেফতারকারী প্রথম পুলিশ অফিসারবিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণীআম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বরাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট : জনমনে ক্ষোভ জঙ্গি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনী সফল হয়েছে : আইজিপিঅর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি'র সভায় ১৩টি প্রকল্প অনুমোদনপুলিশকে আমি সব সময় আইনের রক্ষকের ভূমিকায় দেখতে চাই : প্রধানমন্ত্রীফারমার্স ব্যাংক কর্তৃক-জলবায়ু ট্রাস্ট তহবিলসহ আমানতকারীদের অর্থ ফেরত না দেয়ায় টিআইবি’র উদ্বেগসুন্দরগঞ্জের আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ : এইচ. এম. এরশাদ
উপরে