প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:২২:৪৮
২৯ এপ্রিল-জীবন-মরণ যুদ্ধ
॥ মাহবুবুল মাওলা রিপন ॥ সকালে প্রতিদিনের মতো সোহেল, সোহাগ, খুশবু, রোম্মান, রোমেলা ও লাইজুকে নিয়ে কোরআন পাঠে মগ্ন ছিলাম। সকালে পাঠ্য পুস্তক পড়ার আগে এখনও গ্রাম বাংলার ছেলে মেয়েদের ঘরে অথবা মক্তবে আরবী পড়ার নিয়ম চালু রয়েছে। আমরা মামাতো ভাই বোন সকলে পড়ার ফাঁকে হঠাৎ নাস্তার ডাক পড়ল। ছুটে গেলাম বাংলো থেকে বাড়ীর দিকে। নাস্তার টেবিলে আবহাওয়া নিয়ে কথাবার্তার তুমুল ঝড় উঠল। আবহাওয়ার এই আলোচনায় অংশ নিল সোহেল, রোম্মান, লাইজু, রোমেলা, সোহাগ, খুশবু, মামীজি ও নানী। মাত্র ১৫ দিন আগে বড় মামার মৃত্যু হয়েছে। তাই অল্প বয়সে এতিম হল সোহেল, রোম্মান, খুশবু, সোহাগ সকলে। মামা জীবিত থাকা অবস্থায় পড়ার সময়ে নাস্তার টেবিলে আড্ডা দেয়াতো দুরের কথা কোন উচ্চশব্দ করাই দ্বায় ছিল। মামা শিক্ষক মানুষ, কাজের প্রতি ছিলেন বড়ই সচেতন। মামা হিসাবে আমি যাকে তুলে ধরেছি তিনি আমার দুর সর্ম্পকীয়। কিন্তু আমার আপন যারা আছেন, তাদের চেয়ে আমার কাছে বেশী প্রিয়। সন্ধীপ সরকারী কলেজ থেকে আই,এ পরীক্ষা দেয়ার পর একদিন সন্ধীপ টাউন পাঠাগারে বিকেল বেলা পত্রিকা পড়ায় মগ্ন। হঠাৎ মিঃ কামাল সাহেব (মামা) আমার বাড়ী কোথায় জিজ্ঞেস করেন। আমি ৭ মাইল দুর থেকে সাইকেলে কলেজে আসা যাওয়া করি জেনে চমকে উঠলেন এবং বললেন, তোমার যদি আপত্তি না থাকে আমার বাসায় নিজের ছেলে হিসাবে নিয়ে যেতে চায়। লাজুকতায় একেবারে জড়সড় হয়ে কোন কথা না বলেই দাড়িয়ে ছিলাম। তাঁর মায়াবি চেহেরা, কথা বলার হাব ভাল দেখে আমি আপনার বাসায় যাব না, একথা বলার কোন উপায় ছিল না। যাক তার পরদিন তিনি পাঠাগারে এসে আমাকে বাসায় নিয়ে গেলেন। বুদ্ধি ও সাহস যতই থাকুক না কেন নতুন বাসায় যাওয়ার পর একটু লজ্জা বোধ করলাম। বাসায় যাওয়ার পর পরই আচ্ছালামু আলাইকুম ভাইয়া কেমন আছেন, বলে কাছে এসে দাঁড়াল সোহেল, রোম্মান, সোহাগ, খুশবু, রোমেলা ও লাইজু। এরা সবাই এখন থেকে ছাত্র। ওদের সালামের ভঙ্গি ও কথাবার্তা আমাকে মুগ্ধ করল। আমি যেন মুর্হুতে সকল একাকীত্ব ভুলে গিয়ে নিজ পরিবারের মত হয়ে উঠলাম। শুরু হল এখানে আমার লজিং জীবন। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত ৫ বছর এ মামার বাড়ীতে আমার পাঠ্যজীবন কাটে। সেখান থেকে আমি বি এ পাশ করে এল,এল,বি পরীক্ষা দিয়েছি। ৯১ এর ১৫ই এপ্রিল মামা মারা গেলেন। পরিবারের বিভিন্ন কর্মকান্ডে আমি ও জড়িত হতে থাকি। মানব সেবাই প্রকৃত এবাদত বলেই আমি ও এ ব্যাপারে কখনো আপত্তি তুলি নাই।
‘৯১ এর ২৯শে এপ্রিল সোমবার নাস্তার টেবিল থেকে পুনারায় পড়ার টেবিলে আসলাম। গত ২দিন থেকে আবহাওয়া সংক্রান্ত নানা কথা বার্তা চলছে। বড় ধরনের কোন একটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিতে পারে এটা সবার মুখে মুখে। প্রচার মাধ্যম বার বার সকাল থেকে বিপদ সংকেত, হুশিয়ারী সংকেত ও মহাবিপদ সংকেত বলে সচেতন করতে লাগল। এই সকল সংকেত শুনে কেউ কেউ আবার টিপ্পুনী মারতে লাগল। কত সিগন্যালের কথা শুনলাম কিছুই হয়নি। গোটা দিন জল্পনা কল্পনাতে কেটে গেল। এর মধ্যে অনেকে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে। আমি নিজ বাড়ীতে চলে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিবেকে বাধা দিল। মাত্র কদিন আগে এদের আব্বা মারা গেল, পরিবারের দেখা শুনা করার কেউ নেই বললেই চলে। তাই আমি বাড়ী না গিয়ে এই বিপদের সময় সেখানে অবস্থান করাটাকে ভাল মনে করে থেকেই গেলাম। সন্ধ্যা ৭টার পর পরই প্রচার মাধ্যম গুলো বেশ তৎপর হয়ে উঠল। কিন্তু এত কথার পরও যেন সবার কাছে হাস্যকর বলে মনে হল। কেউ কেউ সরাসরি বলতে লাগল ১০/১২ নং সংকেত অনেক শুনেছি সন্ধীপে কখনো কিছু হয়নি ইত্যাদি। তাই একদিকে চিন্তা অন্য দিকে কিছু হবে না এই কথায় দুদোল্যমান অবস্থায় সময় কাটছে।
সেদিন রাত ১০টায় মামাতো ভাই সোহেলসহ আমরা বেশ ক’জন পোল ঘাটের হোটেল সারোয়ার থেকে চা পান করে রাস্তায় রাস্তায় একটু হাটতে লাগলাম। আকাশের অবস্থা ও বেশ ভাল। প্রচার মাধ্যমের সাথে আবহাওয়ার আলামতের কোন মিল নেই। একটু পরে বাসায় ফিরলাম। আমি একাই বাংলোয় অবস্থান করলাম। আমাকেও বাড়ীর ভিতরে থাকার জন্য মামীজির পক্ষ থেকে বার বার খবর আসল। আমি কোন পাত্তাই দিলাম না বরং হেসে হেসে বললাম ভয় করবার কিছু নেই। আল্লাহ সহায় বাংলোয় আমি একাই অবস্থান করতে লাগলাম। ঐ সময় আমি দুইটি পত্রিকার সন্দ্বীপ প্রতিনিধি ছিলাম। কাগজ কলম সামনে নিয়ে একটা নিউজ তৈরী করার চেষ্টা করলাম। হঠাৎ ধমকা বাতাস শুরু হল। চতুরদিকে ঘোর অন্ধকার। প্রবল বৃষ্টি আকাশে বিদ্যুৎ চম্কানী। মুহুর্তে যেন বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হল। বাতাসে ঘর গাছপালা ভেঙ্গে চৌচির হচ্ছে। আমি বাংলোয় একা একা সকল বই পুস্তকসহ প্রয়োজনীয় জিনিস গোছাতে শুরু করলাম। বাড়ীতে হৈ চৈ চিৎকার শুনা যাচ্ছে। হঠাৎ বাংলোয় টিনের উপর বড় একটি গাছ পড়ে ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হল। এরপরও আমি সাহস নিয়ে দুইটি খাট পাশাপাশি রেখে মাঝখানে খালি জায়গায় অবস্থান করলাম। মনে করলাম বাংলো যদি ভেঙ্গে পড়ে আমি খাট দুইটির মাঝমাঝি বসে যাব। বাংলোর উপর থেকে পড়া বৃষ্টির পানিতে আমার অবস্থা কাহিল। বাংলো একদিকে হেলে পড়ে যায়। এই অবস্থায় আমি অন্ধকারে বাড়ীর দিকে দৌড় দিলাম। কিন্তু কি বিপদ, গাছ, টিন ইত্যাদি ভেঙ্গে শোঁ শোঁ শব্দে কানের পাশ দিয়ে উড়ে যাচ্ছে। অনেক কষ্টে বাড়ীতে পৌছলাম। ঘরে ঢুকার সাথে সাথে সবাই কেঁদে একাকার। আবহাওয়ার অবস্থা দেখে সবার মনে ভয়, কাঁন্নার রোল ছোট বড় সকলের। বাড়ী থেকে মাত্র কয়েক গজ দুরে সাগর। বিপদের দোয়াসহ অনেক দোয়ার গুনগান মুখে মুখে। বিদ্যুৎ নেই, তেলের বাতি বাতাসে থাকার কথা নয়। অন্ধকারে সবার অবস্থা ত্রাহি ত্রাহি। বহু আগের সেগুন কাঠ দিয়ে তৈরী ঘরের অবস্থানও নড়বড়।
এদিকে রাত ১২ টায় চতুরদিক থেকে চিৎকার শুনা যাচ্ছে পানি আসছে, পানি আসছে। বসত ঘরের অবস্থা যাদের ভাল নয় এরা সবাই ঘরের জিনিসপত্র যাহা নেয়া সম্ভব সাথে নিয়ে গগন বিদারী কাঁন্না জুড়ে চিৎকার করতে করতে বিভিন্ন নিরাপদ স্থানে ছুটতে লাগল। এরি মধ্যে আমাদের বাসায় এলাকার শ্রমিক কামাল সর্দারের নেতৃত্বে কাকভেজা হয়ে ১৫/২০ জনের একদল লোক দরজা খুলেন- দরজা খুলেন বলতে বলতে দরজা খুলে তাদেরকে ঘরে ঢুকানো হল। ৫ বৎসরের শিশু থেকে ৮০ বৎসরের বৃদ্ধ এই দলে ছিল। মামীজি এদের কাঁপুনি কাকুতি দেখে আলমিরা থেকে অনেক গুলো কাপড় আমার হাতে দিয়ে বললেন, এদের ভিজা কাপড় পালটাতে বল। এই বিপদের মুহুর্তে তারা যেন শুকনা কাপড় পেয়ে নতুন প্রাণ ফিরে পেল। বাহিরে প্রচন্ড বাতাস ও বৃষ্টির দাপট। ঘরের ২/১ টা করে টিন উঠে যাচ্ছে। আর ফাঁকা স্থান দিয়ে বৃষ্টির ঠান্ডা পানিতে ঘরের সব লোক ভিজে একাকার। এর মধ্যে প্রায় ১০ মিনিট চলে গেল। পানি আসছে চিৎকার আরো তীব্র গতিতে ধ্বনিত হতে লাগল। কিন্তু একি ! হুঁ-হুঁ আওয়াজ আর মুহুর্তে এক ঢলকা পানি ঘরের প্রায় হাঁটু পরিমাণ হয়ে গেল। সেকেন্ডে পানির গতি তীব্রভাবে বাড়তে লাগল। আমি ৬০ বৎসরের বৃদ্ধা নানী, মামীজি, সোহেল, রোম্মান সকলে খাটের উপর দাঁড়ালাম। ঘরে অন্যান্যরা- যারা অবস্থান করছেন তারা কেউ আলমারীর উপর, কেউ টেবিলের উপর দাড়ায়ে আল্লাহর নাম জঁপতে লাগল। পানি তীব্রভাবে বাড়ছে।
মাত্র ১৫ দিন আগে মামীজি হলেন বিধবা। সোহেল, সোহাগ হল এতিম, আমি ও প্রিয় ব্যক্তিটি হারিয়ে শোকের ছায়া থেকে একেবারে মুক্ত ছিলাম না। এর উপর এই অপ্রত্যাশিত বিপদ যেন মরার উপর খঁড়ার ঘাঁ। ঘরের জানালা বরাবর পানি হতে লাগল। বিভীষিকাময় এই বিপদে সবাই যেন নিজের জান বাচাঁনোর কাজে পাগল পারা। পানির গতি বাড়তে দেখে আমি স্থির করলাম বের হয়ে সাতার কেটে জামশেদ উকিল সাহেবের পাকা বাসায় আশ্রয় নিব। মামীজি ও সম্মতি দিল। বাহিরে পানির গতি খুবই তীব্র। কোন মতো স্রোতে পড়লে জান বাঁচানো মশকিল হবে। যাক সিদ্ধান্ত নেয়া ছাড়া উপায় নেই। আল্লাহর উপর ভরসা করে ঘরের খুটির সাথে রশি বেঁধে প্রথমে আমি আমার কাঁধে ছোট মামাতো বোন রোমেলা, লাইজু তারপর সোহেল, রোম্মান, সোহাগ, খুশবু, মামীজি ও নানু এক সাথে এক রশি দিয়ে বেঁধে ঘর থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে তীব্র স্রোতে আমি প্রায় ভেসে যাচ্ছিলাম। কিন্তু খুটির সাথে রশিকে হাতের মুঠায় শক্ত করে ধরে রেখেছি। আমার কাঁধে ৫ ও ৭ বৎসরের মামাতো বোন লাইজু ও রোমেলা, তারা পানিতে ডুবে যাচ্ছে প্রায়। তারা চিৎকার দিয়ে কেঁদে উঠে বলল, “ভাইয়া ভাইয়া” ঘরে মরে যাব আপনি ঢুকে পড়েন। এরপর আর অগ্রসর না হয়ে বুক বরাবর পানিতে ঘরে ঢুকলাম। কিন্তু দাড়ানোর মত কিছুই নেই। দাঁড়াবার যা ছিল পানিতে সব ভেলার মত ভাসছে। এরপর ও আমি একটি খাট টেনে এনে তার উপর টেবিল দিয়ে পুনরায় ৯ জন একসাথে ভিজা কাপড় গায়ে নিয়ে দাঁড়ালাম। মামীজি পর্দানশীল মহিলা, দীর্ঘ ৫ বছর এ বাসায় নিজ ছেলের মত থাকলে ও কোনদিন চেহারা দেখা ও বড় কথা শুনি নাই। কিন্তু বিপদের সময় ও আমি একসাথে দাঁড়াতে একটু ইতস্তঃবোধ করলাম। ব্যাপারটা তিনি বুঝতে পেরেই বললেন, মাহবুব মা-বাবা সকলের আছে, তুমি আমার ছেলের মত, লজ্জার কিছুই নেই এখানে দাড়াও। যাক উপায় না দেখেই আমিও এক সাথে দাঁড়ালাম। সোহেলসহ সকলেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছে। পানির গতি এত তীব্র যে ঘরের চতুর দিকের বঁড়া স্রোতে চলে যাচ্ছে। সকলের কান্নার মাঝে ও বাহ্যিক দিক থেকে আমি যতই শক্ত ছিলাম না কেন, আমার আভ্যন্তরীণ বা মানসিক দিক ছিল সদা ভীতিপদ। আমরা যেখানে দাঁড়ালাম, সেখানে বাঁচার উপায় না দেখে চালের খুটির সাথে রশি বেঁধে সকলকে ঝুলতে বললাম। আমার দুই কাঁধে ছোট বোন রোমেলা আর লাইজু। সোহের আর রোম্মানের কাঁদার শক্তি নেই। রোমেলা, লাইজু মাঝে মাঝে “ভাইয়া ভাইয়া” করে চিৎকার দেয়। কখন ও বা আল্লার নাম জোরে জোরে জপতে থাকে। পানির অবস্থা আরো বাড়ছে দেখে সকলকে টেনে টেনে আমি চালের উপর তুলতে লাগলাম। কিন্তু সেই কি বিপদ! সবাইকে কোন রকম টেনে হেঁছড়ে উপরে তুললেও ৬০ বছরের বৃদ্ধা নানীকে নিয়ে বড় সমস্যা দেখা দিল। যাক সোহেল সহ কোন রকমে তুলে নিলাম। উপরে টিন না থাকায় হিমশীতল বৃষ্টির পানিতে সকলে কাঁপতে শুরু করল। হাতের ইলেকট্রনিক ঘড়িটি টিপে দেখলাম রাত তখন আড়াইটা। ঠান্ডায় ছোট বোন দুটো যেন কাঁপতে কাঁপতে মারা যাচ্ছে। মাঝে মাঝে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরে এবং মাঝে মাঝে জোয়ারের গরম পানি গায়ে ঢেলে এ অবস্থায় কিছুটা সেবা করার চেষ্টা করলাম। বাতাসের হেঁচকা টানে আর জোয়ারের প্রবল গতিতে খুটির সাথে একে অন্যকে ধরে রাখার চেষ্টা করলাম।
ঘোর অন্ধকার মাঝে মাঝে বিজলী চমকায় তখন পৃথিবীর দিকে অপলকহীন দৃষ্টিতে একবার সাহস করে দৃষ্টিপাত করতেই দেখা যাচ্ছে শত শত মানুষ, গরু, ছাগল জীবজন্তু, বাড়ীঘর, গাছপালা ভেসে যাচ্ছে। চতুর দিকে হাঁ হুতাশ আর চিৎকার বাঁচাও ! বাঁচাও! কিন্তু তখন কে কাকে বাঁচাবে? কেউ গাছের ডাল ধরে পানির স্রোতে ভেসে যাচ্ছে কোন অজানা পথে, তখন চোখ বুঝে আমার কথা বন্ধ হয়ে যায়। এরি ফাঁকে চিন্তা করি হায়! এভাবে বুঝি মৃত্যু হবে। অতীতের যাবতীয় পাপের কথা স্মরণ করে দোয়া চাচ্ছি।  চোখ বুঝে পরকালকে কাছে এনে নানা কল্পনা করতে লাগলাম। সবার মুখে কালেমা, দোয়া দরূদ। বাতাসের বেগ বৃষ্টির চাপ জোয়ারের ঢেউয়ের বিকট আওয়াজে যেন সকলকে ভাসিয়ে নিচ্ছে। এই ঢেউয়ের সাথে বুঝলাম আর  নিস্তার নেই, তাই আমি নিজে আওয়াজ করে কালেমা পড়তে লাগলাম। হায় বিপদ! যাব কোথায়?  আমার কালেমা পড়ার আওয়াজে যারা যেখানে আছে, সকলে গগণ বিদারী চিৎকার দিয়ে কাঁন্না শুরু করল। ওহ! আল্লাহ আমাদের বুঝি কেউ নাইরে ইত্যাদি। সকলের ধারণা আমি ছিলাম সেখানে সাহসী আর আমার মুখে যেহেতু কালেমার ধ্বনি এবার মনে হয় আমাদের মৃত্যু নিশ্চিত। সকলকে কান্না থামাতে বললাম কিন্তু একি! হঠাৎ চালের উপর থেকে পানি কোমর পরিমাণ নেমে আসছে। আমি চিৎকার দিয়ে বললাম, সকলে জিকির ও দোয়া পড়–ন। এরপর যেন সকলের প্রাণ ফিরে ফেল।
তখন ফজরের আযানের সময় হয়েছে। এখনও চুতুর দিকে অন্ধকার, কোন মসজিদ থেকে আযানের ধ্বনির প্রশ্নই উঠে না। ঘড়ি টিপে বুঝলাম, নামাজ পড়া যাবে। জোয়ারের পানিতে অজু করে সকলে কষ্ট করে যে যেই অবস্থায় আছে নামাজ পড়তে বললাম। একটু পরেই আকাশ ফর্সা হয়ে উঠল। দেখলাম চারিদিকে বিরানভূমি। কোথাও একটি গাছপালা, ঘর দালান দাড়ানো নাই। সবিই যেন মাটি ও পানির সাথে মিশে একাকার। আমাদের আশে পাশে লাশের মিছিল। আমাদের কারো হাটা বা কথা বলার শক্তি নেই। সকাল ৬ টায় এক বুক পানি ভাঙ্গিয়ে সকলকে নিয়ে গালিভার যে রকম নৌবহর টেনে নিয়েছিল আমার অবস্থা ও তাই। পোলঘাটের গাছপালা ঘর দালান ও নানা প্রকার আবদ্ধ রাস্তার উপর দিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সহিত সকলকে সন্ধীপ কলেজের দিকে নিয়ে যেতে লাগলাম। আমাদের সাথে অন্যান্য যারা জীবিত আছে, এরকম হাজার হাজার নরনারী শিশু সন্তানদের আমাদের মিছিলে কেঁদে কেঁদে একই মনজিলে যেতে দেখলাম। কারো পড়নে কাপড় নেই, কারো হাত পা ভাঙ্গা, কারো মুমুর্ষ অবস্থা- প্রিয়জনের হারানো শোকে ব্যথাতুর হয়ে লাশের পর লাশ অতিক্রম করে সামনে পথ চলছি। সকলের ক্ষুধায় প্রাণ যায় যায়। এমনি অবস্থায় কোথাও খাওয়ার কিছু নেই। এরপর পোলঘাটে একটি বিস্কিটের দোকানে বস্তা বস্তা ভিজা বিসকিট ঘরের নীচে চাপা অবস্থায় পড়ে ছিল। মালিক এই ভেজা বিসকিট বিক্রি করছে। মানুষের বিরাট মিছিল। আমাকে একটু দেন, আমাকে একটু দেন, সেই দৃশ্য যেন আমাকে অবাক করে তুলল। আমিও পথ চলা বন্ধ করে সকলকে জামাল মিয়ার ভাঙ্গা ঔষধের দোকানের সামনে দাঁড় করিয়ে ছুটলাম। এক বুক পানিতে বিসকিটের জন্য লাইনে দাঁড়ালাম। ম্যানেজার কুদ্দুস ভাই আমাকে দেখে দ্রুত কর্মচারীদেরকে বললেন, মাহবুব ভাই লাইনে দাড়িয়েছে, ওনাকে আগে বিদায় কর। যদি ও আগে নেয়া বৈধ ছিল না কিন্তু ছোটদের দিকে তাঁকিয়ে তখন এতটুকু চিন্তা করার সুযোগ ছিল না। যাক সামান্য বিস্কিট পেয়ে তা সম্বল করে কলেজের দিকে পুনরায় ছুটলাম। এক কিঃ মিঃ পথ পৌছতে প্রায় ২ ঘন্টা সময় লেগে গেল। পথে পথে মৃত মানুষ, গরু, ছাগল আর লাশের পর লাশ। কেউ কেউ এগুলি দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। আবার ভয়ে চোখ বুঝিয়ে নেয়। অনেক কষ্টের পর আমরা সন্ধীপ কলেজে পৌছলাম, তখন সকাল ৮টা, হায়রে মানুষের দুর্গতি। আল্লাহর ফয়সালা কিনা হতে পারে সেদিনই বুঝলাম।
গতকাল যারা কোটিপতি আজ দুর্গতি তাদের যেন দেহমন, শিহরে উঠল। চতুর দিকে হা-হাকার আর চিৎকার। ছেলে হারা মায়ের শোক, ভাইহারা বোনের আত্মনাদ, নারী পুরুষ যারা আধামরা অবস্থায় এই আশ্রয় কেন্দ্রে স্থান নিয়েছে। সেই করুন হৃদয় বিদারক কাহীনি মনে পড়লে আজো ভয়ে মন শিহরীয়ে উঠে। আমার পড়নের ছেঁড়া কাপড় চোপড় পাল্টে নিয়ে নারী পুরুষ সকলে একসাথে অবস্থান নিলাম। হাজার হাজার লোকের এই আশ্রয় কেন্দ্রে কোথাও মাথা রাখার তিল পরিমাণ ঠাঁই নেই। আল্লার আইনে সকল মানুষ সমান এই দৃশ্য যেন তারই জলন্ত প্রমান। সকাল ১০ টায় ক্ষুধায় সকলের মেজাজ খিট খিটে। ভিজা বিসকিট মুখে দিতে ‘বমি’ হল। ছোট ভাইবোনদের অবস্থা দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেল। আশ্রয় কেন্দ্রে আমাদের কামরায় সন্দ্বীপের বড় দানবীর হাজী আব্দুল বাতেন সওদাগরের ছেলে প্রাক্তন উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল মিয়ার স্ত্রী ও তার ছোট ভাই কাশেম ও জামাল মিয়ার স্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন ভদ্র মহিলা ছিল। তারা ঘুর্ণিঝরের আলামত দেখে আগে বাগে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছে। আমাদের খাওয়ার করুন দশা দেখে ঐ ভদ্র মহিলারা ছোটদের জন্য বেশ উন্নত মানের বিস্কিট, হরলিক্স ও দুধ দিলেন মুর্হুতে মনের মধ্যে যেন মানুষ মানুষের জন্য একথা দারুনভাবে অনুভব হল। যদিও এটা তাদের জন্য কিছু না কিন্তু ঐদিন এই বিপদের মুহুর্তে এটা ছিল বড় রকমের অবদান। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে ঐ ভদ্র মহিলাদের নিকট চিরকৃতজ্ঞ।
একটু পরে আমি ও সোহেল বেরিয়ে গেলাম নদীর পাড়ের বাসার অবস্থা দেখার জন্য। মামীজির কড়া নিষেধ তোমরা যাবে না, আবহাওয়ার অবস্থা ভাল না আবার পানি আসতে পারে এই খবর ছড়িয়ে পড়েছে। যাক, কোন রকম বলে ছুটলাম বাসার দিকে। গায়ে শক্তি না থাকলে কারো পক্ষে সম্ভব নয় এই জঞ্জাল পথ অতিক্রম করা। দুইজন ২টি লাঠি হাতে নিয়ে রওনা হলাম। চুতুরদিকে করুণ হা-হাকার ধ্বনি। মাঝ পথে বুক পরিমান পানিতে কচুরী পানার ফাঁকে রোকসানা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে সে কলেজে পড়ে। আগে থেকে আমি তাকে চিনি। চোখ পড়তে কেঁদে উঠল, “মাহবুব ভাই” আমাকে বাঁচান। রাত্রে পানিতে ভেঁসে আসা রোকসানা বুক পর্যন্ত কচুরী পানা দিয়ে নিজেকে ঢেকে রেখেছে। আমার হৃদয় কেঁপে উঠল, চোখ থেকে ঝর ঝর করে পানি পড়তে লাগল। আমার গাঁয়ের বড় গামছাটা তাকে দিয়ে বললাম, তুমি দাড়াও। আমি একটু দেখি কিছু পাই কিনা। নিজেদের কথা ভুলে গেলাম। ছুটলাম রোকসানার জন্য একটা কাপড়ের খোঁজে। পানির মাঝে পথ চলতে চলতে একটা কাপড়ের পুটলি নিয়ে এক মহিলা অন্যদের সাথে আশ্রয় কেন্দ্রের দিকে ছুটছে। সামনে দাঁড়ালাম ‘মা’ আমাকে একটা কাপড় দিন। কলেজে পড়–য়া এক মেয়ে উলঙ্গ অবস্থায় পানিতে অবস্থান করছে শুনে মহিলা কাল বিলম্ব না করে একটি নতুন শাড়ী আমার হাতে দিলে আমি পুনরায় তার কাছে আসলাম। তখন তার বড় ভাই আমজাদ সাহেব ও উপস্থিত হয়ে পানিতে বোনকে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল। আমি তাকে সালাম দিয়ে হাতে শাড়ী কাপড়টি দিলে তার কান্নার গতি আরো বেড়ে গেল। আমার বুঝতে দেরী হল না, তার কান্নার ভাবার্থ কি? চৌধুরী পরিবারের ছেলে অবস্থার কারণে আজ ভিখারী। আমরা একটু পরে নদীর পাড়ের বাসায় পৌছলাম। কিন্তু সেখানে গতকালের আর আনন্দ মুখর পরিবেশ নেই। নেই স্নেহ ভালবাসা। সবিই নিষ্টুর ঘুর্ণিঝড়ে নিয়ে গেছে। মাত্র কয়েকটি থালা, বাসন, ডেকসি কাঁদার মাঝে পাওয়া গেছে। আমি ও সোহেল সেগুলি গুটিয়ে নিলাম। বাড়ীর কোন চিহ্ন নেই। সব যেন খাঁ খাঁ করছে। নারিকেল গাছের কচি কচি ডাব স্রোতের সাথে যেন মিছিল করে ভেসে যাচ্ছে। পানির বড়ই পিপাসা। তাই সোহেলকে বললাম, ভেসে যাওয়া কিছু ডাব নারিকেল ধরে নাও। ৪/৫ টা ডাব নিয়ে পুকুরের পাঁকা ঘাটের সাথে ফাঁটিয়ে কোন রকম পিপাসা নিবারণ করলাম। আর কয়েকটা আশ্রয় কেন্দ্রের জন্য নিয়ে নিলাম।
দুপুর সাড়ে ১২ টার পুনরায় আশ্রয় কেন্দ্রের দিকে ছুটলাম। মানুষের লাশ আর লাশ। মৃত গরু-ছাগল- বড় বড় ষ্টীমার পানিতে স্রোতে এদিক থেকে ওদিক যাচ্ছে। আশ্রয় কেন্দ্রে পৌছতে ছোটবোন রোমেলা-লাইজু বলল, ভাইয়া আমি ভাত খাব। তখন করার কিছু ছিলনা। শুধু ভ্যাল ভ্যাল করে থাকিয়ে বললাম একটু পরে তোমার জন্য ভাত এনে দেব। মামীজি, রোম্মান ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে। কিন্তু ভাত তো দুরের কথা যেখানে খাওয়ার পানিও কারো থেকে নেই, সেখানে করার কি আছে। আশ্রয় কেন্দ্রে একদিন একরাত কেটে গেল, রাতে ঘুম যাওয়ার স্থান না পেয়ে বসে বসে কাটিয়ে দিলাম। পরদিন সকালে রোমেলা- লাইজুর সাথে দেখা হতেই ভাত খাওয়ার বায়না। তাদেরকে কোলে তুলে চুমো খেলাম, এই যেন মিথ্যা অভিনয়। পেটে না থাকলে পিঠে কিছু সয়না এই অবস্থায় আমার আদর তার কাছে বিরক্তি হলেও ছোট হওয়ার কারণে মুখ খুলছেনা এটা আমি ধরে নিলাম। আশ্রয় কেন্দ্রে হাজার হাজার নারী পুরুষ ও শিশুদের করুণ দশা, হৃদয় বিদারক দৃশ্য। পরদিন মৃত মানুষের দাফন করার কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলাম। সোহেলকে বললাম তুমি এদের সাথে থাক। আমি মাঝে মাঝে আসব। লাশ দাফন আর কি, গর্তে টেনে একসাথে ৮/১০ জন করে মাটি দিয়ে কোন রকম কাজ সারতে লাগলাম। ফাঁকে ফাঁকে ছোটদের কথা মনে উঠলে থমকে দাড়ায়। তাদেরকে আজ কি খাওয়াতে পারি। কোথায় কারো ঘরে কিছু তৈয়ার হয়নি, না হয় ভিক্ষা করে হলে ও কিছু নিয়ে আসতাম। শহরের বড় বড় হোটেল গুলির একই অবস্থা। পোলঘাটের সেরা ব্যবসায়ী যার কোটি কোটি টাকার ব্যবসা, নিষ্টুর বান তাকে করেছে পথের ভিখারী। তিন সন্তানকে নিয়ে সেই হাউ মাউ করে কাঁদছে কিছু খাদ্যের জন্য। আমাকে বলল ২দিন কেটে গেল, কোন কিছু এদের মুখে দিতে পারে নি। আমি আশ্রয কেন্দ্রে থেকে একটি ডাব নারিকেল বিকেল বেলা তার কাছে পৌছলাম।
২দিন চলে গেল আজ তৃতীয় রাত্রি। কে যেন আশ্রয় কেন্দ্রে আমাদের কক্ষে এক মুটো ভাত ছোট বোনদের কাঁন্না দেখে দিয়ে গেছে। মামীজি ছোট বোনদের সামান্য দিয়ে বাকী ভাত রেখে দিয়েছে আমি ও সোহেলের জন্য। রাত ১১ টায় যখন রুমে খোজ খবর নিতে লাগলাম। তখন একটা প্লেটে আমাদের জন্য মামীজি ভাত গুলো নিয়ে এসে বললেন, তোমরা এই ভাত গুলো খাও। এই অবস্থা দেখে আমার চোখের পানি টল্ টল্। বললাম, লাইজু ভাত খেয়েছে, মামীজি বললেন খেয়েছে। ভাত কোথায় থেকে পেয়েছেন? রুমের একজন মহিলা দিয়েছে। তাদের জন্য কোন এক আত্মীয় দুর থেকে এনেছে। আমি বললাম, আমরা বাহিরে নাস্তা করেছি, সোহাগ খুশবু এদের দেন। তিনি অনেক চেষ্টা করলেন, তবু আমরা ভাত খাওয়া থেকে বিরত থাকলাম। সালাম দিয়ে রুমের মাঝ থেকে বের হয়ে আসলাম। আজ তিন/চার দিন হল বসার জায়গা নেই। আশ্রয় কেন্দ্র্রে আমরা যাদের থেকে প্রথমে খাওয়ার সহযোগিতা পেলাম। ঐ পরিবারের সুযোগ্য ছেলে জামাল মিয়া রাত ১২ টায় আমাকে বললেন, মাহবুব ভাই ‘আর সহ্য হচ্ছে না’ আমাকে একটু ঘুমাতে দিন। এই বলে আশ্রয় কেন্দ্রের সিঁড়ির মাঝে আমি ও সোহেল নারী পুরুষের মাঝে ঠাসাঠাসি করে পাশাপাশি বসা। জামাল মিয়া আমার কোলে মাথা রেখে সিঁড়িতে ঘুমিয়ে পড়লেন। এই দৃশ্য যেন গরীবের বাড়ীতে রাজার রাত্রি যাপন, তখন আমার মনে পড়লো কবির সেই কথা
“নদীর একুল ভাঙ্গে ঐ কুল গড়ে
এইতো নদীর খেলা,
সকালে আমীর রে- ভাই
ফকির সন্ধ্যা বেলা।”
জামাল মিয়ার অবস্থা আর কবির কথা আজ আমার কাছে তাই মনে হল।
৪ দিন পর পরিবেশ যেন একটু হালকা হল, কিন্তু আরো বিপদ হতে পারে, একথা থেকে কেউ শংকা মুক্ত নয়। মামীজি বললেন চল আমরা ভাঙ্গা ঘরবাড়ী যাহা আছে, সেখানে চলে যায়। তাই করা হল। বাড়ীতে যাওয়ার আগে আমি ও সোহেল ছোট মামার সাথে আলাপ করতে গেলাম। ছোট মামা অর্থাৎ সোহেলের চাচা শওকত আলী। তিনি বাড়ী এলাকা ছেড়ে কোথায় যাননি। তার বাসা সোহেলদের বাসা একসাথে মাঝখানে একটা পার্টিশন আছে। ছোট মামা মাঝে মাঝে তার অংশ মেরামত করার কারনে বন্যার রাত্রেও তাকে বেশী কষ্ট করতে হয়নি। তিনি পাঠাতনে খাবার মওজুত করে রেখেছেন। নিজ স্ত্রী, ছোট ছেলে খসরু, দুই মেয়ে রুমি, জুমিসহ বন্যার রাত্রিতে  পাঠাতনে ছিলেন। হয়ত পাশের রুমে নিজ ভাতিজার ভাইজির কেয়ামত হয়ে যাচ্ছে, তার খবর নেয়া সেই রাত্রে সম্ভব ছিল না। যাক বাসায় আসার আগে মামার সাথে সোহেলসহ আলাপ করতে এসে দেখলাম, তারা সকলে ভাত খাচ্ছে। আমাদের দেখে মামা বললেন ‘মাহবুব তোমরা ভাত খাও, গোল আলুর চাটনি দিয়ে দুই প্লেটে ভাত দিলেন। তখন আমার আশ্রয় কেন্দ্রের কথা মনে পড়ল। ভাত খেতে রাজি ছিলাম না। ওনার আবদার উপেক্ষা না করে, দাড়িয়ে দাড়িয়ে কাঁদার মাঝে ভাত খেলাম। অনেক দিন পর ভাত খেয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলাম। হায়রে পেট, হায়রে ভাত, তার সাথে শরীরের কত সম্পর্ক তা আজ বুঝতে পারলাম। সাথে সাথে যারা সারা বৎসর এই ভাবে না খেয়ে থাকে, তারা কি করে দিন কাটায় এটাই ছিল প্রশ্ন। পরে কলেজের আশ্রয় কেন্দ্র থেকে সকলকে বাসায় নিয়ে কোন রকম থাকার ব্যবস্থা করলাম, তখন বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনদের বাড়ী থেকে খাদ্যসহ যাবতীয় সাহায্য আসতে লাগল। ঢাকা থেকে বড় বোন লুবনা অনেক গুলো খাদ্য পানিসহ মালামাল নিয়ে সন্ধীপ আসল। মামীজি এই সকল খাদ্য দুঃখী মানুষের মাঝে বণ্টন করে দিলেন। অভাবের সময় তাঁহার মানুষের প্রতি এই দরদ সত্যিই আমি মুগ্ধ হলাম। এরপর সন্ধীপে অনেক এন.জি.ও, রাজনৈতিক দল এবং সরকার ত্রাণ সামগ্রী দিতে লাগল। কিন্তু দুঃখী মানুষের চেয়ে দলীয় রুই, কাতলা এবং সরকারী আমলারা সব সাবাড় করতে লাগল। বন্যাত্তোর পেটের পীড়ায় আরো হাজার হাজার মানুষ মারা গেল। আমি একজন সাংবাদিক হিসাবে সকলের দুঃখ বেদনার চিত্র পত্রিকায় তুলে ধরার খেদমতে নিয়োজিত ছিলাম।
৪ দিন পর বাড়ী গেলাম। নিজ বাড়ীতে তেমন ক্ষতি না হলেও মা দুঃখ পেয়েছেন খুব বেশী। বললাম আমি সোহেলদের জন্য রয়ে গেলাম। না হয় তাদের কি রকম বিপদ হত আল্লাহ জানেন। তারপর ৪/৫ দিনের কাল রাত্রিসহ ঘটনা গুলি বললাম, আম্মা কেঁদে দিলেন এবং আমার সেখানে থাকাটা যে সঠিক ছিল, তাহা স্বীকার করলেন। সেদিনের ভয়াবহ আরো কথা আছে, যাহা কেবল আমার স্মৃতি পটে দাগ কাটে। খবর নিয়ে দেখলাম সপ্তাহ খানেক পর রোকসানা ও মারা গেছে। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রকমের ঘূর্ণিঝড় ৯১ এর ২৯শে এপ্রিল গোটা বিশ্ববাসীর কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এ ঘূর্ণিঝড়ে- স্বজনহারা আজো অনেকের সন্ধান মেলেনি। লেখক : কবি ও সাংবাদিক, mahbubripon11@gmail.com


 
সর্বশেষ সংবাদ
  • বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করবো : প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে : সমাবেশে বক্তারা গেইল-ম্যাককালামের ব্যর্থতায় কুমিল্লার কাছে রংপুরের পরাজয়রাবির অপহৃত ছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার : নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কাটেনিআজ নাগরিক সমাবেশে : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ফিরে পাবে একাত্তরের ৭ মার্চের আবহমিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা বন্ধে জাতিসংঘের আহবান‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে’টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে ২৬ কোটি ডলার দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি'র নেতৃত্বাধীন জোটসংসদীয় আসনের সীমানা পুন:নির্ধারণ আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করেছে ইসিজিম্বাবুয়ের সেনা কর্মকর্তারা অভ্যুত্থানের কথা অস্বীকার করেছেনএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেয়নি : সিইসিআজ ভয়াল ১৫ নভেম্বর : স্বজন হারাদের কাঁন্না থামেনি আজও মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যমান চিনি আইন রহিতের সিদ্ধান্তমহানগরী ঢাকাকে ‘সেফনগরী’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন ১০ কার্য দিবস চলবেস্থানীয় সরকারের অধীন দেশের ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানে ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণবিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না : খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ : বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি, সোমবার শাহবাগে ‘আনন্দ উৎসব ও স্মৃতিচারণ’ আজ বসছে দশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন
  • বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করবো : প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে : সমাবেশে বক্তারা গেইল-ম্যাককালামের ব্যর্থতায় কুমিল্লার কাছে রংপুরের পরাজয়রাবির অপহৃত ছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার : নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কাটেনিআজ নাগরিক সমাবেশে : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ফিরে পাবে একাত্তরের ৭ মার্চের আবহমিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা বন্ধে জাতিসংঘের আহবান‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে’টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে ২৬ কোটি ডলার দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি'র নেতৃত্বাধীন জোটসংসদীয় আসনের সীমানা পুন:নির্ধারণ আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করেছে ইসিজিম্বাবুয়ের সেনা কর্মকর্তারা অভ্যুত্থানের কথা অস্বীকার করেছেনএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেয়নি : সিইসিআজ ভয়াল ১৫ নভেম্বর : স্বজন হারাদের কাঁন্না থামেনি আজও মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যমান চিনি আইন রহিতের সিদ্ধান্তমহানগরী ঢাকাকে ‘সেফনগরী’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন ১০ কার্য দিবস চলবেস্থানীয় সরকারের অধীন দেশের ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানে ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণবিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না : খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ : বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি, সোমবার শাহবাগে ‘আনন্দ উৎসব ও স্মৃতিচারণ’ আজ বসছে দশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন
উপরে