প্রকাশ : ১৩ জুন, ২০১৬ ১৯:২৮:১৪
টার্গেট কিলিং না গুপ্ত হত্যাযজ্ঞ ?
॥ সাইদুর রহমান ॥ বাংলাদেশের  আজ অর্থনৈতিকভাবে সম্মুখগামী তা বিশ্বময় স্বীকৃত  ।  কিন্তু দরিদ্রশীল এই দেশের উন্নয়কে সবাইকে ভালো চোখে দেখছেননা, এটা দিবালোকের মতো ধ্রুব সত্য। ইতিমধ্যে বিশ্বের অনেক রাষ্ট্র আমাদের দেশের উন্নতিতে  ঈর্ষান্বিত হয়ে গেছে । যাদের কাছে দেশের উন্নতি ও উন্নয়ন চক্ষুশূল, তারাই আজ উন্নতির চাবিকে লোনা জলে নিক্ষেপ করে, ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাচ্ছে ।
এমনকি এদেশের অনেক মানুষেও দেশের অর্থনৈতিক মুক্তিকে মনে-প্রাণে মেনে নিতে পারছেননা। হয়তোবা ঘরের শক্রু বিভীষিকার সাথে যুক্ত হয়েছে বহির বিশ্বের অজানা ষড়যন্ত্র। প্রথমে ঘরের শক্রুকে নিধন করতে হবে ।
এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না,  এই জল্লাদের উল্লাস মঞ্চ আমার দেশ না, এই রক্তস্নাত কসাইখানা আমার দেশ না -----।
এই কবিতাটির বিপক্ষে বাস্তব চিত্র যেন আমাদের দেশে নাট্যরূপ দিচ্ছে জঙ্গিরা । কখনোও সন্তানের সামনে মা খুন, কখনোও সন্তানের সামনে পিতামাতার অপ্রত্যাশিত লাশ, কখনোও মুক্তমনা লেখক, পুরোহিত, এমনকি পীর- হুজুরকে হত্যা করছে ধর্মের দোহাই দিয়ে । হত্যাকারীরা একের পর এক মানুষ হত্যা করে,  কিন্তু আইনের হাতকড়া তাদের হাতে পরছেনা। যারফলে রাষ্ট্রে বিচারহীনতার সংস্কৃতির প্রবণতা দিন দিন সীমানা লঙ্ঘন করেই চলছে । আর জঙ্গিরা নতুন,  নতুন হত্যাযজ্ঞের নীল নকশা তৈরি করার অফুরন্ত সুযোগ পাচ্ছে । প্রতিটি হত্যাকান্ডের তদন্তের পূর্বেই অথবা তদন্ত চলাকালীন অবস্হায় ঢালাও ভাবে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা কোন না কোন রাজনেতিক দলকে দোষারোপ করছেন । তাতে করে প্রকৃত হত্যাকারীরা থেকে যাচ্ছে ধরা -ছোঁয়ার বাইরে । সরকারকে এ সব হত্যাকান্ডের জন্য রাজনেতিক কাঁদা ছোড়া- ছুড়ি থেকে বিরত থাকতে হবে। যদি কোন দল জড়িত থাকে তাদেরকে বিচারের আওতায় এনে নিষিদ্ধ করতে হবে । জামাত নিয়ে সরকার নিষিদ্ধ নিষিদ্ধ যে মরণ খেলা খেলতেছে, তাতে করে জামাতেরর অঙ্গ সংগঠনের লোকজন নিষিদ্ধ করার আগেই তারা আত্বগোপনের জন্য নিরাপদ রাস্তা তৈরি করে নিচ্ছে।
জঙ্গিদের এ্যাজেন্ড অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়িত হচ্ছে । ২০১৫ সালে ২৯ হামলায় নিহত হয়েছে ৩০ জন । ২০১৬ সালে ১৯ হামলায় নিহত ২০ জন । ১৮ মাসে হামলা হয়েছে ৪৮টি আর উক্ত হামলায় নিহত হয়েছে  অর্ধশত ।প্রতিটি হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে অথবা গুলি করে ।আর প্রতিটি  কিলিং মিশনে অংশ নেয় মোটরসাইকেল যোগে তিন জন।  ২০১৩ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী রাজীব হায়দারকে চা পাতি দিয়ে নির্মম খুনের মধ্যে দিয়ে জঙ্গীরা টার্গেট কিলিং এর মিশন করে । তারপর গোপীবাগে পীরসহ ৬ জনকে খুন করে । ২০১৪ সালে ২৭ আগষ্ট নুরুল ইসলাম ফারুকীকে জবাই করে হত্যা করে । ২০১৫ সালে ২৬ ফেব্রুয়ারি অভিজিৎ রায়,  ৩১ আগষ্ট প্রকাশক দীপনকে টার্গেট মিশনে হত্যা করে । তাঁদের হত্যার বিচার আজও নিরবে-নিভৃতে কাঁদে।
অধিকাংশ হত্যাকান্ডের দায়ভার  আইএস  অথবা আল- কায়দা স্বীকার করেছে । তবুও সরকার ও পুলিশ বার বার বলে আসছিল বাংলাদেশে  জঙ্গি সংগঠন আইএস অথবা আল- কায়দার কোন সাংগঠনিক অবস্হা নেই। সরকারের এ তথ্য আজ বার বার ভুল প্রমাণিত করছে জঙ্গি গোষ্ঠী নিজেরাই। জঙ্গিদের হত্যার তালিকায় মূলত ছিল ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনা ব্যক্তি,  সংখ্যালঘু গোষ্ঠী, মুক্তমনা লেখক, ব্লগার, প্রকাশক, প্রগতিশীল শিক্ষক, বিদেশী নাগরিক ও সমকামীরা। এই প্রথম কোন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর উপর জঙ্গিদের অশুভ দৃষ্টি পড়েছে । অবশ্য গত বছর রাজধানীর দারুসসালামে এবং আশুলিয়ায়  পুলিশকে হত্যার মধ্যে দিয়ে তাদের পুলিশ হত্যার মিশন শুরু করে । কিন্তু কাপুরুষের মতো কোন পুলিশের কর্মকর্তার  স্ত্রীর উপর হামলা এবং যথাযথ নিষ্ঠুরতার সকল সীমা অতিক্রম করে হত্যা করা এটাই প্রথম । জঙ্গিরা ধর্মের লেবাস পরে, ধর্ম অপমানের প্রতিশোধের নামে আল্লাহ হু আকবর বলে টার্গেট মিশনের মাধ্যমে মানুষকে কুপিয়ে অথবা গলাকেটে হত্যা করে । ইসলাম ধর্মে মানুষ হত্যা মহাপাপ । কিন্তু বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম (মিতু) ধর্মীয় সকল অনুশাসন মেনে চলাফের করতেন।তাহলে কেন হত্যা করলো বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে? তাহলে কি জঙ্গিরা তাদের গতানুগতিক মতাদর্শের বাইরে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে? কেন একজন চৌকস ও পদকপ্রাপ্ত পুলিশে কর্মকর্তার বউকে হত্যা করা হলো ? সাহসী পুলিশ অফিসার বাবুল আক্তারের মনোবল ও দীপ্ত চেতনাকে দুর্বল করে দেওয়ার জন্য হয়তোবা তারা এ ঘৃণ্য হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে । কিন্তু পুলিশ বাহিনী এ শোককে শক্তিতে পরিণত করেছে । মিতু হত্যার রহস্য উদ্ধঘাটন ছাড়া বিকল্প কোন পথ খোলা নেই পুলিশের।  কারন জঙ্গিরা পুলিশ বাহিনীর পরিবারের উপর হামলা শুরু করেছে । রাষ্ট্র যদি পুলিশের পরিবারকে  নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণের নিরাপত্তা কে দিবে ? জঙ্গিরা প্রকাশ্যে দিবালোকে একের পর এক হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে যাচ্ছে ।
বাবুল আক্তারে স্ত্রীকে চট্রগাম নগরীর ব্যস্ততম এলাকা জিইসিতে হত্যা করা হয়েছে । আমার প্রশ্ন হলো, এ জায়গায় অনেক হাসপাতাল ও ক্লিনিক আছে যেগুলি সবসময় খোলা থাকে । যারফলে মানুষের সমাগম থাকে সবসময় । জনগণ জঙ্গিদের প্রতিরোধ করার সুযোগ থাকা সত্বেও প্রতিরোধ করছেননা । এর পিছনের কারন কি ? তাহলে জনগণ কি জঙ্গিদের ভয় পাচ্ছেন ?  না আইনি হয়রানির জন্য জঙ্গিদের পথ রোদ্ধ করতে পারছেননা।
আর কেউ বুঝোক আর না বুঝোক মুসলিম জনগোষ্ঠীকে বুঝতে হবে । জঙ্গিরা হলো ইসলাম ধর্মের শত্রু  । এদের অপকর্মের জন্য ইসলাম ধর্ম সারা বিশ্বময় অপমানিত হচ্ছে। আগে টুপি, দাড়ি ছিল শান্তিকামী মানুষের প্রতীক । বর্তমানে এগুলি আতংকের প্রতীকে পরিণত হয়েছে ।তাই সবাই মিলে জঙ্গিদের জন্য বাংলাদেশেই তৈরি করতে দোযখের আগুন । ওদের বক্ষ পাঁজরকে পদদলিত করে ভেঙ্গে দিতে হবে । সামাজিক অপ্রতিরোধ্য বেষ্টনী তৈরি করে জঙ্গিদেরকে সমাজ থেকে, দেশ থেকে বিতাড়িত করতে হবে । কারন এরা শুধু ইসলাম ধর্মের শত্রু নয়,  দেশের ও জনগণের শত্রু । বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে জঙ্গি রাষ্ট্র হিসাবে পরিচিত করার ব্যর্থ প্রয়াসে তারা জিহাদি ।
বাংলাদেশকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায় তারা ।  দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্হান থেকে জঙ্গি দমনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে । আপনার সন্তান অথবা পরিবারের কেউ যাতে দেশ, ধর্ম ও জাতি বিনষ্টকারী জঙ্গি সংগঠনের সাথে জড়িত হতে না পারে সে দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে । আইনকে আধুনিক না করলে জঙ্গিদের দৌরাত্ম্যপণা বন্ধ করা যাবেনা।  জঙ্গিরা যাতে করে আইনের মশারি ছিদ্র করে বের হয়ে আসতে না পারে তারজন্য চাই বিশেষ আইন । দ্রুততার সাথে বিচার কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে। জঙ্গিদের  অর্থের চৌবাচ্চার মূখ সিলগালা করে দিতে হবে । নতুবা এদের অর্থ বাংলার স্বাধীন বাতাসকে বার বার কুলশীত ও দূষিত করবে ।
প্রতিটি হত্যাকান্ড মানুষের মনুষ্যত্বকে এবং বিবেককে ব্যথিত করে। আমাদের দেশের মানুষকে হত্যা করে মৃত্যুপুরীতে পাঠিয়ে জঙ্গিরা তৃপ্তি পাচ্ছে না।দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আজ হুমকিতে আছে । তাই জঙ্গিদের অর্থের জোগানদাতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের খুঁজে বের করতে হবে । তা না হলে ব্যর্থ হবে সাঁড়াশি অথবা চিরুনি অভিযান ।

-লেখক ও কলামিস্ট ।



 
সর্বশেষ সংবাদ
  • ঢাকা উত্তর সিটি'র উপ-নির্বাচনে আদালতের ৩ মাসের স্থগিতাদেশসুন্দরবনের ৩ কুখ্যাত জলদস্যুবাহিনীর প্রধানসহ ৩৮ জনের আত্মসমর্পণজাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণ : ভবিষ্যতে বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্যের দাবি প্রধানমন্ত্রী'ররাজধানী'র জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের সফল অভিযান : ৩ মৃতদেহ ও বিস্ফোরক উদ্ধারপদোন্নতি পেলেন বঙ্গবন্ধু'র খুনিদের গ্রেফতারকারী প্রথম পুলিশ অফিসারবিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণীআম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বরাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট : জনমনে ক্ষোভ জঙ্গি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনী সফল হয়েছে : আইজিপিঅর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি'র সভায় ১৩টি প্রকল্প অনুমোদনপুলিশকে আমি সব সময় আইনের রক্ষকের ভূমিকায় দেখতে চাই : প্রধানমন্ত্রীফারমার্স ব্যাংক কর্তৃক-জলবায়ু ট্রাস্ট তহবিলসহ আমানতকারীদের অর্থ ফেরত না দেয়ায় টিআইবি’র উদ্বেগসুন্দরগঞ্জের আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ : এইচ. এম. এরশাদজঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে পুলিশের সাফল্য দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে : প্রধানমন্ত্রীমাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ এ মাসেই শুরু হচ্ছেযশোরে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সন্ত্রাসী পালসার বাবু নিহতদেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই বিতরণ উৎসব২০১৭'র বিদায় : নতুন বছর ২০১৮ কে বরণ করে নিল জাতিঅগ্রগতি ৫০ শতাংশের বেশি ॥ যথা সময়ে শেষ হবে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ : কাদেররাবির স্নাতক প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু ২১ জানুয়ারি
  • ঢাকা উত্তর সিটি'র উপ-নির্বাচনে আদালতের ৩ মাসের স্থগিতাদেশসুন্দরবনের ৩ কুখ্যাত জলদস্যুবাহিনীর প্রধানসহ ৩৮ জনের আত্মসমর্পণজাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণ : ভবিষ্যতে বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্যের দাবি প্রধানমন্ত্রী'ররাজধানী'র জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের সফল অভিযান : ৩ মৃতদেহ ও বিস্ফোরক উদ্ধারপদোন্নতি পেলেন বঙ্গবন্ধু'র খুনিদের গ্রেফতারকারী প্রথম পুলিশ অফিসারবিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণীআম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বরাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট : জনমনে ক্ষোভ জঙ্গি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনী সফল হয়েছে : আইজিপিঅর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি'র সভায় ১৩টি প্রকল্প অনুমোদনপুলিশকে আমি সব সময় আইনের রক্ষকের ভূমিকায় দেখতে চাই : প্রধানমন্ত্রীফারমার্স ব্যাংক কর্তৃক-জলবায়ু ট্রাস্ট তহবিলসহ আমানতকারীদের অর্থ ফেরত না দেয়ায় টিআইবি’র উদ্বেগসুন্দরগঞ্জের আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ : এইচ. এম. এরশাদজঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে পুলিশের সাফল্য দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে : প্রধানমন্ত্রীমাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ এ মাসেই শুরু হচ্ছেযশোরে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সন্ত্রাসী পালসার বাবু নিহতদেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই বিতরণ উৎসব২০১৭'র বিদায় : নতুন বছর ২০১৮ কে বরণ করে নিল জাতিঅগ্রগতি ৫০ শতাংশের বেশি ॥ যথা সময়ে শেষ হবে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ : কাদেররাবির স্নাতক প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু ২১ জানুয়ারি
উপরে