প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর, ২০১৬ ১৭:৪৪:১৮
ধানের চেয়ে চালের দানা বড় কেন ??
॥ সাইদুর রহমান ॥ সারা বিশ্বের মানুষ খাদ্য নিরাপত্তা চায় । অর্ধহারে অনাহারে কেউ থাকতে চায় না।বিশ্ব জলবায়ু ও পরিবেশের ভিন্নতার জন্য খাদ্য তালিকাতেও রয়েছে ভিন্নতা। ধান বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য ।এ দেশ পৃথিবীর ৪র্থ বৃহত্তম ধান উৎপাদনকারী দেশ।বর্তমানে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণতার অর্জনকারী দেশ । আমার কথা হলো এই খাদ্য নিরাপত্তার প্রাচীর তৈরী করেছেন কে ? আমরা মাছে - ভাতে বাঙালী । আমরা ভাতের নেশায় নেশাগ্রস্ত ।এ দেশে খাদ্য সংকটের ভয়াল চিত্র আমরা দেখেছি । এদেশের মানুষ খাবার অনুপযোগী চালও খেয়েছে ।
যাঁরা ষোল কোটি মানুষের জন্য মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, দিনরাত পরিশ্রম করে নিরাপদ খাদ্য বেষ্টনী তৈরী করেন । তারা কি নিরাপদ ? তারা তাঁদের রক্ত পানি করা ফসলের  ন্যায্য মূল্য কি পাচ্ছেন ?কৃষককূলে জন্ম নেওয়া মানে কোন পরীক্ষা ছাড়াই হতদরিদ্র সার্টিফিকেট পাওয়া । দেশ ও দেশের অর্থনীতির সব গুলি সূচক আজ উর্ধগতি। শুধু হতভাগা কৃষকের সূচকের নিন্মগামী। অথচ এ দেশের ৮০ % মানুষ প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ ভাবে কৃষির সাথে জড়িত ।কৃষক নাকি অন্নদাতা । তাঁরাই আজ শোষিত ও অধিকার বঞ্চিত। ধানের ফলন বেশী হলে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত, আবার কম হলে,  না খেয়ে মরতে হবে। এ বার বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে । উৎপাদিত হয়েছে প্রায় চার কোটি মেট্রিক টন ধান।যা গত বছরের চেয়ে দুই কোটি মেট্রিক টন বেশী ।আর চাহিদা হচ্ছে তিন কোটি আটাশ লাখ মেট্রিক টন । তবুও গত সাত থেকে আট বছরের মধ্যে চালের দাম বৃদ্ধির রেকড হলো।
দেশের মোট চাহিদার ৬৮% ধান উৎপাদিত হয় বোরো মৌসুমে । আর তখনেই ওত পেতে থাকে শুকূনের দলেরা,  কৃষকের ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার অধিকারকে ভক্ষণ করার জন্য । কামলার টাকা, সারের টাকা,  সেচের টাকার জন্য চতুর মুখী চাপে  কৃষকগোষ্ঠী তখন দিশেহারা পাগল প্রায় হয়ে যায় ।বাজারে ধান বিক্রি করতে যায় আর ব্যবসায়ীরা মন খুশী মতো দাম বলে । গত বোরো মৌসুমে কৃষকেরা ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে মহাসড়কে ধান ঠেলে প্রতিবাদ করেছিল । তাতে কাজের কাজ কিছুই হলো না। যদি দিনের পর দিন মহাসড়ক অবরোধ করে রাখতো, তাহলে হয়তোবা সরকার সমাধানের পথ খুঁজতেন ।
সরকার ঢাক-ঢোল পিটিয়ে বললো সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সরকারে নির্ধারিত মূল্যে ধান কিনবে। তা নিয়ে দিনের পর দিন চলতে থাকলো লোক দেখানো যাত্রা পালা । প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকে সরকারী গুদামের লোক জন ধান ক্রয়ে ব্যর্থ হয়েছিল। কারন কৃষকের দরকার টেবিল ক্যাশ আর সরকার দিবে কয়েক মাস পরে টাকা । সেই সুযোগের সদ ব্যবহার করেছেন মধ্যসস্ত্যভোগীরা । তখন আমার একটা লেখা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে লিখেছিলাম কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনতে ব্যর্থ হচ্ছে সরকার । এর জন্য সরকারকে আরও সাহসী ও যুগ উপযোগী উদ্যেগ নিতে হবে । প্রতিটি ইউনিয়নের নামি-দামি বাজারগুলোতে শর্তহীন ভাবে এবং ক্যাশ টাকায় প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকে চাল কিনতে হবে ।
আজ পত্র-পত্রিকা ও মিডিয়াতে জোরে-শোরে প্রচারিত হচ্ছে  চালের বাজার অস্থির । দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে চালের দাম বৃদ্ধির কোন কারন নেই। চালের দাম বাড়লে কৃষকের লাভ কি ? এর জন্য দায়ী অপরিকল্পিত বাজার ব্যবস্থা। যে বাজার ব্যবস্হার জন্য কৃষক তাঁর পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত, সে বাজার ব্যবস্থাকে লাথি মেরে ভেঙে দিতে হবে। যে দুষ্ট চক্রের দৌরাত্ম্যে আজ কৃষকেরা দরিদ্র থেকে দরিদ্রতম হচ্ছেন তাদের কুদৃষ্টির চক্ষু গুলিতে জলত্ব পেরেক ঢুকিয়ে দৃষ্টিহীন করতে হবে । যে সব মধ্যসস্ত্যভোগীরা আজ কৃষকের রক্ত চুষে খাচ্ছে, সেই সব রক্ত পিপাসিত জালিমদের লম্বা জিহ্বা কেটে দিতে হবে ।
বেশ কয়দিন আগে বিশ্ব খাদ্য দিবস গেল । এ বছরের প্রতিপাদ্য হচ্ছে, "বদলে যাচ্ছে জলবায়ু, তাই বদলাতে হবে খাদ্য ও কৃষি"।এ বিষয় নিয়ে মিডিয়া কিংবা পত্র-পত্রিকায় তেমন আলোচনার ঝড় তুলেনি। কারন একটাই,  বাংলাদেশে খাদ্য সংকট নেই বরং উদ্বৃত্ত আছে ৩০% । এখানে চালের মূল্য  বৃদ্ধির যুক্তিক একটা কারনও দৃশ্যমান নয় । শুধু বাজার কারসাজিটাই মূর্খ কারন। মোটা চালের দাম বেশী বৃদ্ধি পাচ্ছে । কারন মোটা ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক। ধান উৎপাদনে কৃষক যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় অথবা বিকল্প চাষে মনোনিবেশ করেন তাহলে দেশে চরম খাদ্য সংকট দেখা দিবে । হয়তোবা অর্থনীতির চাকা তখন ভাতের অভাবে উল্টা দিকে যাত্রা করবে।
এ সময় চালের দাম বৃদ্ধি মানে এক শ্রেনীর ব্যবসায়ীদের " আঙ্গুল ফোলে কলা গাছ হওয়া । কৃষক ধানের ন্যায্য মূল্য পায়না এটা সর্বজনজ্ঞাত। এর জন্য বিচারপতি, সমাজপতি, রাষ্ট্রপতি কারোও মাথা ব্যথা নেই। কারন বাংলাদেশের একমাত্র কৃষক সমাজের কোন সংগঠন নেই, নেই কোন দলবদ্বতা । তাঁরা হয়তোবা প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে ফেলেছে অথবা অর্ধহারে থাকাটাই কপালের লিখন মনে করেন।
কৃষকেরা অর্ধউলঙ্গ অবস্হায় দিনাপাত করেন তারপরও প্রতিবাদের অগ্নিশিখার বিস্ফারণ ঘটায় না। কাউকে অভিশপ্ত করেনা অথবা কাউকে মসনদ চ্যুত করার ষড়যন্ত্রও করেননা ।তাঁরা শান্তিতে নোবেল না পেয়েও শান্তির মানুষ।
তাঁরা নিষ্পেষিত সমাজের নিষ্পেষিত প্রাণী । তাঁদের হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রমের ফসলের মুনাফা দিয়ে অট্রালিকা তৈরী করে, অন্য কোন সুবিধাবাদী ব্যক্তি । কৃষকের পণ্যের ন্যায মূল্য দিতে সরকার বার বার ব্যর্থ কেন?হয়তোবা মধ্যসস্ত্য ভোগীরা আমাকে জ্ঞান পাপী বলে ধিক্কার দিতে পারে এ লেখার জন্য।
আজ যারা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য কৃত্রিম ভাবে চালের দাম বাড়াচ্ছে, তাদেরকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব সরকার ও রাষ্ট্রের। নতুবা কৃষকের ঘামের অভিশাপে অভিশপ্ত হবে সরকার ও সরকার ব্যবস্থা। কৃষক মধ্যসস্ত্যভোগীদের ফাঁদে পরে  লোকসানে ধান বিক্রি করেন আর লাভের তৃপ্তিতে ঢেকুর তুলবে মধ্যসস্ত্যভোগীরা।
এ অবস্হা থেকে পরিত্রাণ চায় কৃষকেরা ।
মধ্যসস্ত্যভোগীদের হাত থেকে কৃষককে রক্ষা করতে চাইলে সরকারকে আর বেশী কৌশলী হতে হবে ,তাহলে কৃষকও বাঁচবে, চালের বাজারও স্হিতিশীল থাকে। এর জন্য দরকার শক্তিশালী বাজার মনিটরিং । টি সি বি এর কার্যক্রমকে আর প্রসারিত ও আধুনিক করতে হবে। সরকারের কাছে চালের মজবুত ও সারা দেশে ব্যবসায়ীদের মজবুতের এর পরিমান পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ করতে হবে। প্রত্যেক প্রকার চালের আলাদা আলাদা মূল্য সরকার ও সংশিষ্টমহল কতৃক নির্ধারণ করতে হবে ।  মিল মালিকদের গোডাউনে চালের মজবুতের পরিমান জানতে হবে। কত টাকা দরে ধান কিনতেছে তার হিসাব নিতে হবে।প্রয়োজনে আমদানী শুল্ক কমাতে হবে । এখন চালের দাম বৃদ্ধিতে না খুশী কৃষক না খুশী শ্রমজীবী মানুষ।

লেখক ও কলামিস্ট ।
সর্বশেষ সংবাদ
  • আবহাওয়া : দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত ভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে।তাজিকিস্তান রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে সব রকম সহযোগিতা দেবেসাম্প্রদায়িক ও অশুভ শক্তিকে রুখে দেবার অঙ্গীকার নিয়ে বাংলা বর্ষ বরণউন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জনের ঘোষণায় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে ধন্যবাদ প্রস্তাব গ্রহণআজ বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস : নানা কর্মসূচি গ্রহণ একনেকের সভায় ৩,৪১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ প্রকল্প অনুমোদনপ্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িতরা জাতির শত্রু : বেনজির আহমেদপ্রশ্ন ফাঁসমুক্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠানে আমরা সব ব্যবস্থা নিয়েছি : শিক্ষামন্ত্রীগাইবান্ধায় নবজাতককে আঁছড়িয়ে দিয়ে হত্যা করলো পাষণ্ড পিতা!গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা : ১৫ মে ভোট আমি কী পাগল ? প্রধান শিক্ষককে লাঞ্চিত করবো ! ফের সমালোচনা ও শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে সরকার দলীয় এমপি রতন !আজ গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া পৌরসভা নির্বাচনযশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালীতে ছেলের হাতে বাবা খুন।সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনআজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস : জাতির বিনম্র শ্রদ্ধাকাঠমান্ডুতে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত পিয়াস রায়কে অশ্রুসিক্ত নয়নে শেষ বিদায় ভিয়েতনামে'র হোচিমিন সিটি'র একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড : নিহত ১৩ভারতে রাজ্যসভার জন্য ৭টি রাজ্যে ২৬টি আসনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছেমৌসুমি পাখিদেরকে দলে আশ্রয় প্রশ্রয় দেবেন না : ওবায়দুল কাদেরকাঠমান্ডুতে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত আরো ৩ জনের মরদেহ ঢাকায় : পরিবারের কাছে হস্তান্তর
  • আবহাওয়া : দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত ভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে।তাজিকিস্তান রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে সব রকম সহযোগিতা দেবেসাম্প্রদায়িক ও অশুভ শক্তিকে রুখে দেবার অঙ্গীকার নিয়ে বাংলা বর্ষ বরণউন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জনের ঘোষণায় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে ধন্যবাদ প্রস্তাব গ্রহণআজ বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস : নানা কর্মসূচি গ্রহণ একনেকের সভায় ৩,৪১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ প্রকল্প অনুমোদনপ্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িতরা জাতির শত্রু : বেনজির আহমেদপ্রশ্ন ফাঁসমুক্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠানে আমরা সব ব্যবস্থা নিয়েছি : শিক্ষামন্ত্রীগাইবান্ধায় নবজাতককে আঁছড়িয়ে দিয়ে হত্যা করলো পাষণ্ড পিতা!গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা : ১৫ মে ভোট আমি কী পাগল ? প্রধান শিক্ষককে লাঞ্চিত করবো ! ফের সমালোচনা ও শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে সরকার দলীয় এমপি রতন !আজ গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া পৌরসভা নির্বাচনযশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালীতে ছেলের হাতে বাবা খুন।সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনআজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস : জাতির বিনম্র শ্রদ্ধাকাঠমান্ডুতে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত পিয়াস রায়কে অশ্রুসিক্ত নয়নে শেষ বিদায় ভিয়েতনামে'র হোচিমিন সিটি'র একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড : নিহত ১৩ভারতে রাজ্যসভার জন্য ৭টি রাজ্যে ২৬টি আসনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছেমৌসুমি পাখিদেরকে দলে আশ্রয় প্রশ্রয় দেবেন না : ওবায়দুল কাদেরকাঠমান্ডুতে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত আরো ৩ জনের মরদেহ ঢাকায় : পরিবারের কাছে হস্তান্তর
উপরে