প্রকাশ : ১১ নভেম্বর, ২০১৬ ১২:২২:১১
শিশু ও নারী ধর্ষণ জঙ্গিবাদের মতোই দেশের বৃহৎ সমস্যা
॥ সাইদুর রহমান ॥ মানুষ অপরাধ প্রবণ প্রাণী । সে আদিকাল থেকে যৌন অপরাধ ছিল। সেই যৌন অপরাধ সভ্যতার আলোয় যখন আলোকিত হয়, তখন যৌন নির্যাতন ঘৃণ্যতম সামাজিক অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। আবার শিশুর উপর যৌন নির্যাতন ক্ষমাহীন রাষ্ট্রীয় অপরাধ। শিশু ধর্ষণ বা নির্যাতন আমাদের এই আধুনিক ও সভ্য সমাজে প্রতিক্ষণে ও প্রতিমুহূর্তে ঘটতেছে । বর্তমানে সভ্য সমাজে নতুন আরেকটি লিঙ্গের আর্বিভাব ঘটেছে । যার নাম বেজাত (ধর্ষক) লিঙ্গ। এই বেজাত লিঙ্গ পৌরুষের রাজ মুকুট মাথায় নিয়ে পৃথিবীতে প্রবেশ করে। প্রকৃত পক্ষে তারা 'বেজাত '। পুরুষ জাতের পরিচয়ে পরিচায়িত হওয়ার কোন অধিকার তাদের নেই। আমরা হতবম্ব ও কিংকর্তব্য বিমূঢ় হয়ে গেছি।
প্রশাসনেরা মনে করেন, 'বেজাতরা 'ভিন্ন গ্রহ থেকে গ্রহান্নিত হয়ে এ গ্রহে এসেছে। না, বেজাতরা যুগে যুগে ছিল। হয়তো বা তাদের দেহ থেকে এখন অতি বেগুনী রশ্মি নি:সরণ হচ্ছে  বেশী। এই নি:সরণে নারীকুল মাঠে, ময়দানে, বাসে, ট্রাকে, ট্রেনে এমন কি মসজিদে ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে ।
বেজাতদেরকে আমরা পুরুষজাত থেকে ধিক্কারের সাথে বিতাড়িত করে দিতে চাই । বেজাতরা পুরুষ স্বরূপে আর দৃশ্যমান হতে পারবে না।কারন সমাজের সবাই মিলে প্রতিটি বেজাতের বক্ষ বিদীর্ণ করে 'বেজাত'  চিহ্ন এঁকে দিব। এই বেজাতদের যেহেতু  কোন ধর্ম, বর্ণ, জাত, গোষ্ঠী,  মা -বোন নেই।তাই সবাই আজ এদের কন্ঠনালি ছিন্ন করে, কন্ঠরোধ করতে বদ্ধ পরিকর।
বেজাতদের শিশু ধর্ষণের ঘটনা শুনলে শিহরিত  হয়ে উঠে শরীরের লোম । ধর্ষণের বীভৎসা অন্ধকার যুগকেও হার মানায়।  শিশু ও নারী ধর্ষণ বর্তমানে এটা একটা মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি । বেজাতদের কাম-লালসায় জাতির ভবিষ্যৎ আজ অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে । শিক্ষা কিংবা নারীর কর্মক্ষেত্র হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ।অনেক শিশু অথবা নারী এই বেজাতদের ভয়ে স্কুলে যাচ্ছেনা  অন্যদিকে চাকুরী থেকে দূরে সরে যাচ্ছে ।
লাল সবুজের এই বাংলাদেশে সর্বত্রই ধর্ষণের মহড়া চলতেছে। স্বাধীনতার সার্থকতাকে বেজাতরা প্রতিনিয়ত রক্তাক্ত  করতেছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে ইজ্জত হারানো শহীদ নারীদের আত্বা আজ অভিশাপ দিচ্ছে ষোল কোটি মানুষকে  ।জাতি কেন বেজাতদেরকে মেরুদণ্ডহীন করে দিচ্ছেনা ?
চকলেটের লোভ দেখিয়ে, বিস্কুটের লোভ দেখিয়ে, পড়ানোর ছলে অথবা পাড়া-প্রতিবেশীদের আদর ভালবাসার প্রলোভনে ধর্ষিতা হচ্ছে অবুঝ শিশুরা । এই বেজাত লিঙ্গের কুলাঙ্গার মানুষ গুলি শিশুদের কপালে কলঙ্কের বিষ ফোটা  এঁকে দিয়েও তৃপ্তি পাচ্ছেনা । তারা রক্তাক্ত করতেছে শিশুর যৌনাঙ্গ।  একটা ধর্ষিতা শিশু, পিতার কাছে সারা জীবনের জন্য পাহাড় সমান বোঝা ।
ওসিসির হিসাব মতে ১৮০ দিনের মধ্যে ধর্ষণ মামলার বিচার নিস্পত্তি করার কথা । কিন্তু  আইনজীবীরা বলেন,  মামলার  চার্জশীটের দুর্বলতার জন্য বেজাতরা বেচে যায়। মোটকথা বিচারহীনতার সংস্কৃতি সমস্ত বিচার ব্যবস্থাকে গ্রাস করে ফেলেছে । একশত বিশ বছরের পুরাতন এবং জং ধরা আইন -কানুন দিয়ে চলছে আমাদের বিচার ব্যবস্থা । ধর্ষিতা ধর্ষণের বিচারের জন্য বছরের পর বছর উকিল ও বিচারকের কাছে ধন্যা দিতে থাকে । ঘুরতে ঘুরতে এক সময় আশাহত হয় অথবা সমাজ যাতে করে মেয়ে ধর্ষণের কথা ভূলে যায় এরজন্য বাদী নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় । এতে বেজাতদের বিচার আর বিচারের আলোর মুখ দেখেনা ।ধর্ষণের বিচার একেবারে যে হচ্ছে তা বলা অবান্তর হবে । কিন্তু জাতিকে ভাবতে হবে বিচারের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে ।
বাংলাদেশের ৬৮ % নারী সামাজিক অপবাদের ভয়ে ধর্ষণের স্বীকার কথা করেনা। পত্র-পত্রিতায় তথ্যমতে, ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে শিশু ধর্ষণ ৩৫% বেড়েছে । ২০১৫ সালে শিশু ধর্ষিতা হয় ৫২১ জন তারমধ্য ৯৯ টি গণধর্ষণ । গত ২১ মাসে ৮৪৬ টি শিশু ধর্ষিতা হয়েছে ।এ বছর এ পর্যন্ত ১৯২ জন নারী পথে-ঘাটে ধর্ষিত হয়েছে । তাহলে এ পরিস্থিতি জঙ্গি হামলার চেয়ে কোন অংশে কম কি ? জঙ্গি দমনে সরকার ও দেশের মানুষ যৌথ ভাবে ঝাঁপিয়ে পরেছেন । এই সব বেজাত কুলাঙ্গারকে সমূলে বিনষ্ট  করার জন্য, সরকারকে জঙ্গি দমনের মতো কঠোর দমন নীতি প্রয়োগ করতে হবে । বেজাতদের কোন পরিবার, সমাজ থাকতে পারেনা । জঙ্গির মতন বেজাতদের কেউ লাশ সনাক্ত  করতে  আসবেনা অথবা আত্বীয় বলে পরিচয় দিবেনা।  এমন কঠিন সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
ধর্ষণ কেন বাড়চ্ছে? বিচারহীনতার সংস্কৃতি  এর জন্য বহুলাংশে দায়ী। অনেক ধর্ষণের বিচারের বিচার করেন স্হানীয় সরকারের লোকজন অথবা স্হানীয় মোড়লরা । তারা বিচারের নামে প্রহসন করে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে । ধর্ষণের বিচারের নামে ২০- ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও দুয়েকটা জুতাপিটা করে বেজাতদেরকে ধর্ষণ অভিযোগ থেকে মুক্তি দেন । মানুষের মনুষ্যত্বের চরম অবনতি।  সামাজিক অবক্ষয় এর জন্য দায়ী। মানবিক মূল্যবোধ ফর্রমালিনে ভরে গেছে । প্রযুক্তির বিষাক্ত ছোবলে আবাল,  বৃদ্ধ, যুবক সবাই বেসামাল । মোবাইল ইন্টারনেটে নগ্ন ভিডিও অথবা ছবি দেখার আসক্তিতেই সমাজে ধর্ষণ বাড়ছে ।
কারা ধর্ষিতা হচ্ছে ? এ দেশে বেশীর ভাগ ধর্ষিতা হচ্ছে দুই শ্রেনীর মেয়েরা । প্রথমত শ্রমজীবি।  দ্বিতীয়ত মধ্যবিত্ত পরিবারের স্কুল, কলেজ মাদ্রাসাগামী  মেয়েরা  ধর্ষণেন শিকার হচ্ছে । তারপর যেসব মেয়েরা প্রতিবাদী না অথ্যৎ দুর্বলা প্রকৃতির তারাই বেজাতদের বিষাক্ত ছোবলে দংশীত হচ্ছে। এদের বিষাক্ত ছোবল থেকে প্রতিবন্ধী শিশুরাও  রেহাই পাচ্ছেনা ।
নারীদেরকে নারী মনে না করে, সৃষ্টির সেরা জীবের এক জীব মনে করতে হবে । তারা ভোগের পণ্য নয়,  সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ । নারীরাও  মানুষ,  সমাজে এ দৃষ্টিভঙ্গীকে প্রতিষ্ঠিত করত হবে।সামাজিক অবক্ষয়কে রোধ করতে হবে ।  সামাজিক মূল্যবোধকে জাগ্রত করতে হবে। স্হানীয় সরকারের লোকজন অথাৎ চেয়ারম্যান, কমিশনার মেম্বার সাহেবদেরকে বেজাতদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে এবং বেজাতদেরকে সমাজচ্যুত করতে হবে। রাজনেতিক দল গুলিকে একযুগে  এগিয়ে আসতে হবে । এটাকে রাজনেতিক ইসু হিসাবে  সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে । সবশেষে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে হবে । দ্রুত বিচার আইনের কার্যক্রম যেন দ্রুততার সাথেই হয় । হয়তোবা নরকে অবস্হানরত নরক বাসি আত্বচিৎকার করে বলছে, বেজাতদের স্হান আমাদের সহবস্থানে হবেনা ।     
নারীর প্রতি আমার আবেদন, "আপনারা পোষাকে আধুনিক না হয়ে, মনে এবং মানসিকতায় আধুনিক হবেন"। : লেখক ও  কলামিস্ট

 
সর্বশেষ সংবাদ
  • ঢাকা উত্তর সিটি'র উপ-নির্বাচনে আদালতের ৩ মাসের স্থগিতাদেশসুন্দরবনের ৩ কুখ্যাত জলদস্যুবাহিনীর প্রধানসহ ৩৮ জনের আত্মসমর্পণজাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণ : ভবিষ্যতে বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্যের দাবি প্রধানমন্ত্রী'ররাজধানী'র জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের সফল অভিযান : ৩ মৃতদেহ ও বিস্ফোরক উদ্ধারপদোন্নতি পেলেন বঙ্গবন্ধু'র খুনিদের গ্রেফতারকারী প্রথম পুলিশ অফিসারবিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণীআম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বরাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট : জনমনে ক্ষোভ জঙ্গি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনী সফল হয়েছে : আইজিপিঅর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি'র সভায় ১৩টি প্রকল্প অনুমোদনপুলিশকে আমি সব সময় আইনের রক্ষকের ভূমিকায় দেখতে চাই : প্রধানমন্ত্রীফারমার্স ব্যাংক কর্তৃক-জলবায়ু ট্রাস্ট তহবিলসহ আমানতকারীদের অর্থ ফেরত না দেয়ায় টিআইবি’র উদ্বেগসুন্দরগঞ্জের আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ : এইচ. এম. এরশাদজঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে পুলিশের সাফল্য দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে : প্রধানমন্ত্রীমাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ এ মাসেই শুরু হচ্ছেযশোরে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সন্ত্রাসী পালসার বাবু নিহতদেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই বিতরণ উৎসব২০১৭'র বিদায় : নতুন বছর ২০১৮ কে বরণ করে নিল জাতিঅগ্রগতি ৫০ শতাংশের বেশি ॥ যথা সময়ে শেষ হবে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ : কাদেররাবির স্নাতক প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু ২১ জানুয়ারি
  • ঢাকা উত্তর সিটি'র উপ-নির্বাচনে আদালতের ৩ মাসের স্থগিতাদেশসুন্দরবনের ৩ কুখ্যাত জলদস্যুবাহিনীর প্রধানসহ ৩৮ জনের আত্মসমর্পণজাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণ : ভবিষ্যতে বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্যের দাবি প্রধানমন্ত্রী'ররাজধানী'র জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের সফল অভিযান : ৩ মৃতদেহ ও বিস্ফোরক উদ্ধারপদোন্নতি পেলেন বঙ্গবন্ধু'র খুনিদের গ্রেফতারকারী প্রথম পুলিশ অফিসারবিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণীআম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বরাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট : জনমনে ক্ষোভ জঙ্গি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনী সফল হয়েছে : আইজিপিঅর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি'র সভায় ১৩টি প্রকল্প অনুমোদনপুলিশকে আমি সব সময় আইনের রক্ষকের ভূমিকায় দেখতে চাই : প্রধানমন্ত্রীফারমার্স ব্যাংক কর্তৃক-জলবায়ু ট্রাস্ট তহবিলসহ আমানতকারীদের অর্থ ফেরত না দেয়ায় টিআইবি’র উদ্বেগসুন্দরগঞ্জের আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ : এইচ. এম. এরশাদজঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে পুলিশের সাফল্য দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে : প্রধানমন্ত্রীমাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ এ মাসেই শুরু হচ্ছেযশোরে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সন্ত্রাসী পালসার বাবু নিহতদেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই বিতরণ উৎসব২০১৭'র বিদায় : নতুন বছর ২০১৮ কে বরণ করে নিল জাতিঅগ্রগতি ৫০ শতাংশের বেশি ॥ যথা সময়ে শেষ হবে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ : কাদেররাবির স্নাতক প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু ২১ জানুয়ারি
উপরে