প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০১:১১:৩৬
এখন দরকার দুর্নীতির বিরোদ্ধে একটা বিজয়
॥ সাইদুর রহমান ॥ দুর্নীতি আমাদের দেশে এখন ডাল-ভাত । দুর্নীতি সমাজের প্রতিটি স্তরে,  প্রতিটি শিরা, উপশিরায় বিশাল আবরণ তৈরী করে ফেলেছে। দুর্নীতি এখন সুনীতির আসনে।দীর্ঘ ৪৫ বছরের দুর্নীতির আগ্রাসনে  দেশের সর্বত্রই মরিচার শক্ত আবরণ পরেছে । এই দুর্নীতি নামক মরিচাকে হঠাৎ করে একেরাবে পরিস্কার করা অকল্পনীয় ও দু:সাধ্য । এর জন্য দরকার বিবেক নামক শিরিশ কাগজ যা দিয়ে আস্তে আস্তে ঘষে সমাজ থেকে দুর্নীতিকে পরিস্কার করা যাবে । স্বাধীনতার পর থেকে স্বাধীন মানচিত্রেকে নিয়ে টানা- হেঁচড়া করতেছে দুর্নীতিবাজরা।
এক অশুভশক্তি দুর্নীতি । এই দুর্নীতির বেড়াজালে দেশ আটকা পরে গেছে । স্বাধীনতার এত বছর পরও এ দেশের দুর্নীতি বন্ধ তো দূরের কথা,  দুর্নীতি পরিমাণ কমাতেও ব্যর্থ হয়েছে প্রতিটি সরকার ।
"চোরের বাড়ীতে নাকি দালান হয়না। "কিন্তু দুর্নীতিবাজ চোরদের বাড়ীতে দালান কেন?
সব ধরনের দুর্নীতি সমাজে সমান ক্ষতি সাধন করেনা। যেমন-একজন গ্রাম্য মাতাব্বর কিছু টাকা নিয়ে দোষীকে রেহাই দেওয়ার দুর্নীতি আর রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে সরকারী বাড়ী তৈরী করার দুর্নীতিকে এক পাল্লায় উঠালে ভূল হবে ।বনভূমি ধ্বংস করার দুর্নীতি আর ঘুষ দুর্নীতি এক রকম না । আবার তিতাসগ্যাসের মিটার রিডার দুর্নীতি করে ১১ তলা বাড়ী তৈরী করার দুর্নীতির সাথে,  সরকারী ক্রয় কমিটির দুর্নীতি এক অভিন্ন জিনিস। সকল ধরনের দুর্নীতি সমাজ বা রাষ্ট্রের কাঠামোতে কম বেশী আঘাত করে । আর বড় দুর্নীতি গুলি রাষ্ট্রের মেরুদণ্ডকে ভেঙ্গে দেয় । তাই বড় ধরনের দুর্নীতির বিরোদ্ধে সরকারকে জরুরী অবস্হা জারী করতে হবে।
দুর্নীতিবাজরা দেশ ও জাতির শক্র । রাষ্ট্রকে আগে চিহ্নিত করতে হবে  কোথায়, কোন খাতে বেশী দুর্নীতি হচ্ছে।এ বছর টিআইবির  ১৬ টি সেবা খাতে খানা জরিপে দেখা যায়,  সরকারী সেবাধর্মী খাতে বেশী দুর্নীতি হয় । ২০১৬ সালে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্হ খাত,  পাসর্পোট তারপর আইন- শৃঙ্খলাবাহিনী।শীর্ষে থাকা দুর্নীতিগ্রস্হ ১৬ টি খাতেই সরকারী প্রতিষ্ঠান ।
সেবাধর্মী  খাত গুলোতে মানুষের চলাচল বেশী থাকে তাই দুর্নীতিও বেশী হয় । এক বছরের দুর্নীতির অর্থ দিয়ে পদ্মা সেতু তৈরী করা সম্বব । সেবা খাতে বছরে দুর্নীতি হয় প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা,  তারমধ্যে ঘুষ দুর্নীতি হয় ৯ হাজার কোটি টাকা ।ঘুষ দুর্নীতি হয় বাজেটের ৩.৭ শতাংশ জিডিপির  ০.৬ শতাংশ । উচ্চ আয়ের তুলনায় নিন্ম আয়ের মানুষের ওপর দুর্নীতি বেশী হয়।
এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্হ দেশ ভুটান । জাতি হিসাবে আমরা এতই দুর্ভাগা যে আমাদের অবস্হান আফগানিস্হানের কাছাকাছি । বাংলাদেশে দুর্নীতি বৃদ্ধির প্রধান কারন,  স্বাধীনতার পর প্রতিটি সরকার দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছে অথবা দুর্নীতিবাজদের অর্থের বিনিময়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে । স্বাধীনতার ৪৫টি বছর অতীতের গর্ভে চলে গেলেও, রাষ্ট্র দুর্নীতিবাজদের দুর্নীতির মুখোশ খুলতে ব্যর্থ।এতে করে দেশ দুর্নীতির চোরাবালিতে ডুবতেছে ।   
দেশ ও সমাজকে একেবারে  দুর্নীতি মুক্ত করা অদূর ভবিষ্যতেও সম্বব নয় । কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করলে দুর্নীতি সহনশীল মাত্রায় আনা সম্বব । যেখানে সারা বিশ্ব আজ দুর্নীতির বিষাক্ত ছোবলে বিষগ্রস্হ । আর এই সব দুর্নীতিবাজরা পৃথিবীতেই বসবাস করে । প্রকাশ্যে সবাই তাদের বিরোদ্ধে কিন্তু অন্ধকারে দেয় সবুজ সংকেত । প্রতি বছর সারা বিশ্ব ২.৬ ট্রিলিয়ন ডলার লুপাট হয় ।  এরমধ্য ঘুষ দুর্নীতি হয় ১ ট্রিলিয়ন ডলার । বিশ্বময় দুর্নীতির বিরোদ্ধে প্রচার- প্রচারণার কোন ঘাটতি নেই,  কিন্তু দুর্নীতিবাজরা থাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
আমরা আমাদের দেশের কথা ভাবি। বিজয়ের মাসে আমরা সবাই অঙ্গিকার বদ্ধ হই " নিজে দুর্নীতি করবোনা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিবোনা "। আমাদের দেশের বেশীর ভাগ মানুষ দুর্নীতিবাজদের বিরোদ্ধে অভিযোগ করতে চায় না । একটা জরিপে দেখা গেছে মাত্র ৭.৫ শতাংশ মানুষ দুদকে (দুর্নীতি দমন কমিশন)  অভিযোগ দাখিল করেন ।তাও তারা এই ভরসায় অভিযোগ জমা দেন,  যদি লাইগেয়া যায় । যুগ যুগ ধরে মানুষ দুদকের প্রতি আস্হাহীনতায় ভুগছে। এই আস্হার জায়গাটা ফিরিয়ে আনা হবে দুদকের  বড় চ্যালেঞ্জ।  বর্তমান সরকারের সদইচ্ছায় দুদকের কার্যক্রম  এখন মানুষের মনে ক্ষীণ আস্হার আলো সঞ্চালন করেছে। সরকার দুদকের আইনি ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষে মামলা ছাড়াই দুর্নীতিবাজদের গ্রেফতার করতে পারবে এই ক্ষমতা দুদককে দিয়েছে। প্রতিটি স্পর্শকাতর আইনের অপব্যবহার হয়। তাই দুদককে প্রথমে চিনি খাওয়া ছাড়তে হবে । ঘুষ দুর্নীতি থেকে দুদকের প্রতিটি কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে মুক্ত করতে হবে । নতুবা এই আইনের অপব্যবহার হবেই।  
স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও,  দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করতে ব্যর্থ হয়েছে প্রতিটি সরকার । এর মূল কারন প্রতিটি  সরকার দুর্নীতিবাজদের প্রশ্রয় দিয়েছে অথবা দুর্নীতিবাজদের সহযোগীতায় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে । দেশকে দুর্নীতি মুক্ত করতে হলে, দুর্নীতি মুক্ত রাজনেতিক দল চাই, দুর্নীতি মুক্ত নেতা চাই, দুর্নীতি মুক্ত সরকার চাই, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন চাই । প্রতিটা জরিপে উঠে এসেছে সরকারী সেবাধর্মী খাতে দুর্নীতি হয় সবচেয়ে বেশী । তাহলে দুর্নীতির ঐসব চিহ্নিত সরকারী খাত গুলোতে দুর্নীতির বন্ধের উদ্যেগ নিতে হবে। এদের দুর্নীতির মূখগুলোকে সীলগালা করে দিতে পারলে দুর্নীতি পথ অনেকটাই রুদ্ধ হয়ে যাবে। এই সব খাত গুলোকে যথা সম্বব প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে।  তবে দরকার সরকার ও দুদকের সমন্বয়ে কার্যকরী অভিযান । সরকারী / আধা সরকারী অফিস গুলো থেকে দুর্নীতি দূর করতে পারলে, জাতি দুর্নীতির অভিশাপ থেকে  অনেকাংশেই রেহাই পাবে।  আইনের দোহাই দিয়ে অথবা গ্রেফতার করে  সরকারী অফিস গুলো থেকে সাময়িক ভাবে দুর্নীতির বিরোদ্ধে সুফল পাওয়া যেতে পারে । কিন্তু কাঙ্খিত ও দীর্ঘস্হায়ী সুফল পেলে হলে শাসনের পাশাপাশি কাউন্সিলের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও তাদের বিবেক জাগ্রত করতে হবে। গত আট মাসে দুদক ৩৬৯ জন দুর্নীতিবাজকে লোককে হাতে-নাতে গ্রেফতার করেছে। অথচ প্রতি মিনিটে, প্রতি মুহূর্তে যে ৩৬৯ জনের চেয়েও বেশী লোক বিভিন্ন পন্থায় দুর্নীতি করতেছে না,  তার হিসাব কে রাখবে?
দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে দুদককে প্রকৃত পক্ষে পরাধীনতার শিকল থেকে মুক্ত করে দিতে হবে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়ে শক্তিশালী একটা দুদক গঠন করতে হবে। দুদকের দুর্নীতি বিরোধী  কার্যক্রম প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিস্তৃত  করতে হবে। প্রতিটি ক্লাসের পাঠ্যবইয়ের পাঠ্যসূচীতে দুর্নীতি বিরোধী লেখা অন্তর্ভূত করতে হবে। শহরে বসে থাকলে চলবে না। দুর্নীতি এখন সমাজের শিকড় থেকে শিকড়ে বিস্তৃত । দুর্নীতির মূল ও প্রধান উৎস গুলোর মুখ বন্ধ করা অতি জরুরী ।  যেমন-নিয়োগ বাণিজ্য, বদলী বাণিজ্য, পদোন্নতি বাণিজ্য,  ঘুষ বাণিজ্য ইত্যাদি । লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়ে চাকুরী নিলে তো,  ঘুষ না খাইলে তো বেহুশ  হবেই। দুর্নীতি সমাজের একটা পঁচনশীল ব্যাধি। তাই দুর্নীতির বড় প্রতিষেধক হচ্ছে সামাজিক আন্দোলন আর সরকারের সদ ইচ্ছা । রাজনৈতিক জনসভা আর ধর্মীয় জনসভা,  সব সভাতেই বক্তাগণ দুর্নীতির বিরোদ্ধে জড়ালো বক্তব্য দিতে হবে। নইলে দুর্নীতিবাজরা মুখের ভাষা কেরে নিবে ।
লেখক : কলামিস্ট
সর্বশেষ সংবাদ
  • বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করবো : প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে : সমাবেশে বক্তারা গেইল-ম্যাককালামের ব্যর্থতায় কুমিল্লার কাছে রংপুরের পরাজয়রাবির অপহৃত ছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার : নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কাটেনিআজ নাগরিক সমাবেশে : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ফিরে পাবে একাত্তরের ৭ মার্চের আবহমিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা বন্ধে জাতিসংঘের আহবান‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে’টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে ২৬ কোটি ডলার দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি'র নেতৃত্বাধীন জোটসংসদীয় আসনের সীমানা পুন:নির্ধারণ আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করেছে ইসিজিম্বাবুয়ের সেনা কর্মকর্তারা অভ্যুত্থানের কথা অস্বীকার করেছেনএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেয়নি : সিইসিআজ ভয়াল ১৫ নভেম্বর : স্বজন হারাদের কাঁন্না থামেনি আজও মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যমান চিনি আইন রহিতের সিদ্ধান্তমহানগরী ঢাকাকে ‘সেফনগরী’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন ১০ কার্য দিবস চলবেস্থানীয় সরকারের অধীন দেশের ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানে ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণবিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না : খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ : বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি, সোমবার শাহবাগে ‘আনন্দ উৎসব ও স্মৃতিচারণ’ আজ বসছে দশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন
  • বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করবো : প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে : সমাবেশে বক্তারা গেইল-ম্যাককালামের ব্যর্থতায় কুমিল্লার কাছে রংপুরের পরাজয়রাবির অপহৃত ছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার : নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কাটেনিআজ নাগরিক সমাবেশে : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ফিরে পাবে একাত্তরের ৭ মার্চের আবহমিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা বন্ধে জাতিসংঘের আহবান‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে’টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে ২৬ কোটি ডলার দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি'র নেতৃত্বাধীন জোটসংসদীয় আসনের সীমানা পুন:নির্ধারণ আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করেছে ইসিজিম্বাবুয়ের সেনা কর্মকর্তারা অভ্যুত্থানের কথা অস্বীকার করেছেনএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেয়নি : সিইসিআজ ভয়াল ১৫ নভেম্বর : স্বজন হারাদের কাঁন্না থামেনি আজও মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যমান চিনি আইন রহিতের সিদ্ধান্তমহানগরী ঢাকাকে ‘সেফনগরী’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন ১০ কার্য দিবস চলবেস্থানীয় সরকারের অধীন দেশের ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানে ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণবিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না : খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ : বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি, সোমবার শাহবাগে ‘আনন্দ উৎসব ও স্মৃতিচারণ’ আজ বসছে দশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন
উপরে