প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি, ২০১৭ ০১:১২:৪৮
সমন্বয়হীনতার স্বর্গ রাজ্য কৃষিখাত !
সাইদুর রহমান, নান্দাইল, (ময়মনসিংহ) : প্রাচীন কাল থেকেই বাঙালীর জীবিকার প্রধান উৎস কৃষি । মধ্যযুগ ও ব্রিটিশ আমলে কৃষি অর্থনীতি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসাবে বিবেচিত হতো । বাংলাদেশের শতকরা ৬২.৩ জন কৃষির সাথে সরাসরি জড়িত । এছাড়া পরোক্ষভাবে আরও অনেক লোক জড়িত আছেন। উষ্ণ ও নাতিশীতোষ্ণ মন্ডলীয় আবহাওয়ার জন্য এ দেশে নানা ধরনের ফসল উপাদিত হয় ।
কিন্তু যাঁরা মাটির বুক বিদীর্ণ করে সোনার ফসল উৎপাদন করেন, তাঁরা আজ দিশেহারা ও বাকরোদ্ধ । ফসল বেশী হলে পানির দামে বিক্রি করতে হয় আবার কম হলে কৃষকের মনে অতৃপ্তির আনাগোনা । কৃষক যখন  পণ্যের ন্যায্য মূল্য পায়না তখন দিশেহারা হয়ে  অভিন্ন ফসল চাষাবাদ করেন।  সেখানেও লোকসানের মুখে পড়েন কৃষককূল। আবার ক্ষতির ভয়াল থাবায় ফিরে আসেন ধান চাষে। সেখানেও লোকসান তাঁদের পিছু ছাড়ে না। ধানের ক্ষতি পোষানোর জন্য শাক-সবজি চাষে মনোযোগ দেন কৃষক, ফলন ভালো কিন্তু ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত । বাজার নীতি যদি কৃষকের পক্ষে না থাকে, তাহলে কৃষক পাগলের মতো ছুটেও লাভের মুখ দেখবেননা।
       
নগরায়নের চাপে আবাদি জমি অনেক কমে গেছে। তবু এ দেশে ১০০ প্রকারের  ফসল উৎপাদিত হয়। বগুড়ায় ৫ টাকা কেজী আলু, ৫০ পয়সা কেজী মূলা ২ টাকায় ফুলকপি, ৫ টাকা কেজী টমেটো। আবার ঘন্টার ঘন্টার পর বসে থেকেও কৃষক এগুলো বিক্রি জন্য ক্রেতা পারছেনা। এটা একটা অশনি সংকেত । কথায় আছেনা "এখন বুঝবি না বুঝবি কাইল মাথা আতায়া পারবি গাইল ।"
নাগরিক সমাজ থাকুক তেলে ভরা টক শো, ফেসবুক আর ইন্টারনেট নিয়ে  ব্যস্ত। দিশেহারা, বস্ত্রহীন কৃষকের খোঁজ না  নিলেও হবে । এক কেজী মূলার দাম ৫০ পয়সা। এক মিনিট মোবাইলে কথা বললে চলে যায় কত টাকা ?? শাক-সবজি কাঁচা জিনিস পঁচে গেলে আম-ছালা দুইটাই যাবে । সে ভয়, আবার সামনে ইরি মৌসুম । সেচ, সার, কামলার মজুরী  সবমিলে অনেক টাকার দরকার কৃষকের। এই সুযোগে মধ্যস্বত্বভোগী শকুনের দৃষ্টি পড়ে কৃষকের সবজির উপর । পানির দামে হস্তগত করে কৃষকের রক্তমাখা শাক-সবজি । যে কৃষকেরা ক্ষোভে অথবা পরিবহণ খরচ উঠবে না এই ভয়ে বাজারে শাক-সবজি বিক্রির জন্য আনছেন না । তাঁরা গরুকে খাওয়াচ্ছেন অথবা মাঠেই নষ্ট হচ্ছে কৃষকের ঘাম ঝড়া শাক-সবজি ।     
জাতিসংঘের তথ্যমতে, পৃথিবীতে সেরা সবজি উৎপাদকারী দেশ বাংলাদেশ। সারা বিশ্বে এ দেশের সবজির একটা বিরাট চাহিদা রয়েছে । অথচ এই সবজি চাষীদের পেটে ভাত নেই, ঋণের যন্তনায় চোখে অন্ধকার দেখেন । স্বাধীনতার ৪৫ বছরে এ দেশে সবজি উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৫গুন । মোট রপ্তানি আয়ের ৩৫% আসে সবজি রপ্তানি থেকে । সবজি পুষ্টিকর খাদ্য, বিদেশীরা আমাদের দেশের সবজি পছন্দও করেন, রপ্তানি আয় ভালো।  এত কিছু আছে নাই শুধু সবজির ন্যায্য মূল্য । কৃষক দাদন নিয়ে, শোধ নিয়ে অথবা শরীরের রক্ত পানি করে ফসল ফলান । অথচ তাঁরাই লাভ থেকে বঞ্চিত । হয়তোবা বিধাতাই কৃষকদেরকে পরিহাসের পাত্রে রাখতে পছন্দ করেন । নতুবা কৃষককে ঠকিয়ে যারা অট্টালিকা তৈরী করেছেন, কৃষকের শ্রমের অভিশাপে তাদের অট্টালিকা ধ্বংস হচ্ছে না কেন?
         
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, উওরের ১৬ টি জেলায় আলুর লক্ষমাত্রা ছিল ৩০ লক্ষ ৮০ হাজার মেট্রিক টন। এ বছর লক্ষমাত্রার চেয়ে ৩০% বেশী আলু উৎপাদিত হয়েছে ।তাই আজ আলু চাষীদের মাথায় বাজ পড়েছে। উওর জেলার সব গুলো হিমাগার আজ  আলুতে পরিপূর্ণ । বর্তমানে উওরাঞ্চলে আলু বিক্রি হচ্ছে ৫ টাকা কেজী দরে  আর আলুর উৎপাদন খরচ কেজী প্রতি ৬ টাকা । এত বড় লোকসানের বুঝা বইতে হবে চাষীকে। তাই "আলু হাসে আর কৃষক কাঁদে"। ৫০ পয়সা কেজী মূলা বিক্রি হচ্ছে শহরে বিক্রি ১৫- ২০ টাকা কেজী দরে। আবার ৫ টাকা কেজী আলু বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা কেজী দরে ।এই যে,  কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত কৃষিপণ্য  পৌঁছাতে দামের ব্যবধানের ফাঁদ তৈরী করে কারা? আড়ৎদার, মজুদদার, সিন্ডিকেট  না মধ্যস্বত্বভোগীরা । প্রকৃতপক্ষে এরা সবাই কৃষকের রক্ত চোষা সহোদর ভাই । এই সব শকুনদের পদ যুগলের নখ গুলি ভেঙে দিতে হবে অথবা শক্ত হাতে উপড়ে ফেলতে হবে। যাতে করে নিরীহ কৃষকের উপর হিংস্র থাবা দিতে না পারে । কৃষকের জন্য একটা কৃষক বান্ধব ও শক্তিশালী বাজার ব্যবস্থা  তৈরী করতে হবে। যে বাজার ব্যবস্থার মাধ্যমে যার যার নিদিষ্ট লাভ সে পাবে ।

যুগে যুগে কৃষকেরা শোষিত  হয়েছে  আর বঞ্চিত ন্যূনতম নাগরিক অধিকার থেকে। তাঁরা রোদে পুড়ে, বৃষ্টি ভিজে, অর্ধহারে, অনাহারে থেকে কৃষিপণ্য উৎপাদন করেন। অথচ হায়নারূপী মধ্যস্বত্বভোগীরা তাঁদের কষ্টার্জিত ফসল গ্রাস করে ন্যায্যমূল্য না দিয়েই । ন্যায্যমূল্য না পেয়ে কৃষক অশ্রু মুছতে মুছতে বাড়ী চলে যান। আবার ক্ষণিকেই ভূলে যান হায়নাদের বিভিষিকাময় থাবার কথা । তাঁদের অভিমান ভাঙ্গানোর প্রয়োজন হয়না। আবার ক্ষেতে ঘাম ঝড়াতে শুরু করেন । অন্য যে কোন জাতি গোষ্ঠী হলে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে লিপ্ত হতো। কৃষক শোষিত, বঞ্চিত, অবহেলিত তাঁদের কপালে ভালো কোন বিশেষণ কোন দিন যুক্ত হবে কিনা,  তা নিজেরাও জানেনা। তবে দেশের প্রবৃদ্ধি বলেন আর উন্নয় বলেন দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে কৃষকের নামের সাথে ভালো বিশেষণ যুক্ত করতেই হবে। জিডিপিতে কৃষির অবদান ২০% । এটাকে আরও বৃদ্ধি করতে পারলে, দেশের অর্থনীতি থেকে আরও পরনির্ভরশীলতা কমে যাবে ।

তারজন্য দরকার, ছোট ও মাঝারি কৃষি ভিত্তিক শিল্প । কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির সমাহার । বর্তমানে স্বল্প পুঁজিতে কৃষিতে কর্মসংস্থানের একটা বিরাট ক্ষেত্র রয়েছে। তাই শিক্ষিত বেকারদেকে সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষিতে সম্পৃক্ত করা যাবে।আছে শুধু নীতি,  নাই বাস্তবায়ন যোগ্য কৃষি নীতিমালা । কৃষিকে শিল্প হিসাবে ঘোষণা করতে হবে।এমন একটা বাজার ব্যবস্থা সৃষ্টি করতে হবে, যেখানে কৃষক তাঁর পণ্যের সঠিক মূল্য পাবেন। সার, বীজ, কীটনাশক,কৃষি যন্ত্রপাতি  ইত্যাদির সহজ প্রাপ্যতার সাথে দামও কমাতে হবে। দেশের প্রতিটি থানায় হিমাগার স্হাপন করতে হবে। কৃষি বীমা চালু করতে হবে। যে সব কোম্পানি নিন্মমানের বীজ, কীটনাশক দিয়ে কৃষককে প্রতারিত করে, তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে। বড় কথা হলো," ভর্তুকির চেয়েও ন্যায্য মূল্যকে সরকার প্রাধান্য দিতে হবে "।
    
বিপণন ব্যবস্থার বা বিজ্ঞাপনে দৌরাত্ম্যের কারনে অনেক নিন্মমানের পণ্য আজ মানুষ খাচ্ছে । কৃষি পণ্যের বিপণন ব্যবস্হাকে জোরদার  করতে হবে । কৃষি বিপণন অধিদপ্তর আছে । কিন্তু কৃষক কি জানেন এর কাজ কি? এ সংস্থাকে দ্রুত সংস্কার করতে হবে।

এখন চালের বাজার উধর্বগতি তাতে কৃষকের কোন লাভ হচ্ছে না। কারন কৃষকের ঘরে ধান নেই। এই যে কৃষকের অপ্রাপ্তির বুক ফাটা জ্বালা জমা হচ্ছে। যখন কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য অপ্রাপ্তির যন্ত্রনায় রাস্তায় নেমে আসবেন, তখন রাষ্ট্রের শক্ত প্রশাসনিক কাঠামোও নিমেষেই ভেঙ্গে যাবে। আর হতদরিদ্র কৃষকের মতো দিশেহারা হবে এ দেশের সরকার ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা । বর্তমান সরকার কৃষক বান্ধব সরকার হতে না পারলেও,  কৃষক কিন্তু বর্তমান সরকার বান্ধব। এ প্রমাণ বর্তমান সরকার যখন ক্ষমতায় আসে তখন দেশে খাদ্য ঘাটতি ছিল। আর এখন খাদ্য রপ্তানি করার ক্ষমতা আছে ।
        
সাইদুর রহমান : লেখক ও কলামিষ্ট
সর্বশেষ সংবাদ
  • বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করবো : প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে : সমাবেশে বক্তারা গেইল-ম্যাককালামের ব্যর্থতায় কুমিল্লার কাছে রংপুরের পরাজয়রাবির অপহৃত ছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার : নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কাটেনিআজ নাগরিক সমাবেশে : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ফিরে পাবে একাত্তরের ৭ মার্চের আবহমিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা বন্ধে জাতিসংঘের আহবান‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে’টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে ২৬ কোটি ডলার দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি'র নেতৃত্বাধীন জোটসংসদীয় আসনের সীমানা পুন:নির্ধারণ আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করেছে ইসিজিম্বাবুয়ের সেনা কর্মকর্তারা অভ্যুত্থানের কথা অস্বীকার করেছেনএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেয়নি : সিইসিআজ ভয়াল ১৫ নভেম্বর : স্বজন হারাদের কাঁন্না থামেনি আজও মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যমান চিনি আইন রহিতের সিদ্ধান্তমহানগরী ঢাকাকে ‘সেফনগরী’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন ১০ কার্য দিবস চলবেস্থানীয় সরকারের অধীন দেশের ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানে ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণবিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না : খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ : বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি, সোমবার শাহবাগে ‘আনন্দ উৎসব ও স্মৃতিচারণ’ আজ বসছে দশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন
  • বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করবো : প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে : সমাবেশে বক্তারা গেইল-ম্যাককালামের ব্যর্থতায় কুমিল্লার কাছে রংপুরের পরাজয়রাবির অপহৃত ছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার : নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কাটেনিআজ নাগরিক সমাবেশে : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ফিরে পাবে একাত্তরের ৭ মার্চের আবহমিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা বন্ধে জাতিসংঘের আহবান‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে’টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে ২৬ কোটি ডলার দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি'র নেতৃত্বাধীন জোটসংসদীয় আসনের সীমানা পুন:নির্ধারণ আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করেছে ইসিজিম্বাবুয়ের সেনা কর্মকর্তারা অভ্যুত্থানের কথা অস্বীকার করেছেনএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেয়নি : সিইসিআজ ভয়াল ১৫ নভেম্বর : স্বজন হারাদের কাঁন্না থামেনি আজও মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যমান চিনি আইন রহিতের সিদ্ধান্তমহানগরী ঢাকাকে ‘সেফনগরী’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন ১০ কার্য দিবস চলবেস্থানীয় সরকারের অধীন দেশের ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানে ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণবিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না : খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ : বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি, সোমবার শাহবাগে ‘আনন্দ উৎসব ও স্মৃতিচারণ’ আজ বসছে দশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন
উপরে