প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:১০:১৬
‘বিশ্ব ভালোবাসা দিবসটি শুধু প্রিয়তম-প্রিয়তমার জন্য নয় !’
॥ এস,এম শাহাদৎ হোসাইন ॥ আজ ২ ফাল্গুন ১৪ ফেব্রুয়ারী বিশ্ব ভালবাসা দিবস। দিবসটি পালনে তরুন তরুনীরা নানা সাজে সাজিয়ে মনের মানুষকে শুভেচ্ছা জানাতে কখনো ভুল করে না। এই দুনিয়ায় প্রেমিক-প্রেমিকার চিঠি চালাচালির বিষয়টি যুগে যুগে ভাস্বর। হৃ দয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে কেউ ভাল না বাসলেও, সভ্যতা খুঁড়ে প্রাচীন প্রেমপত্র খুঁজে বের করাই যায়। প্রতœতত্ত্বের পাথুরে প্রমাণ,  পৃথিবীর প্রাচীনতম প্রেমপত্রটি নাকি অন্তত ৪ হাজার বছরের পুরনো। আর সেই চিঠি মানে, এক খ- পাথুরে মাটি। পাওয়া গিয়েছে ক্যালডিয়ায়।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, মেসোপটেমিয়ার এক কোণের একটা এলাকা ক্যালডিয়া, যেখানে একটা রমরমা সভ্যতা ছিল। সেখানকার লোকেরা কথা বলত- হিব্রু, আরবি, যিশুর ভাষা অ্যারামাইকসহ নানান ভাষায়। সেখানেই, সম্ভবত ২২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ব্যাবিলনের এক ছেলে চিঠি লিখেছিলো ইউফ্রেটিস তীরের শহর সিপারায় থাকা এক মেয়েকে। “ও আমার কাসবুয়া (ছোট্ট ভেড়ার ছানা), এই চিঠি লিখছি আমি, মারদুক (ব্যাবিলনের অধিষ্ঠাতা দেবতা)-এর ভক্ত। তোমার শরীর কেমন আছে, যদি জানতে পারতাম! থাকি ব্যাবিলনে, তোমাকে দেখিনি কোনও দিন, আর তাই খুব চিন্তায় আছি। তুমি কবে আমার কাছে আসছ? অনেক দিন বেঁচে থাকো, অন্তত আমার জন্য।” মাটির টুকরোয় লেখা এ রকম চিঠি সে কালের দিওয়ানাদের মধ্যেও চালাচালি হত। না-দেখা মেয়েটির জন্যে প্রেমিকের হৃদয় কেমন পুড়ছে! পাথুরে মাটিতে লেখা এই চিঠিতেই সেটা বোঝা যায়। বিরহী এ হৃদয়ের যন্ত্রণা বোঝাতে প্রেয়সীর কাছে সেই চিঠি পৌছে দিত মেঘদূত।এ ছাড়া ১৪৭৭ সালের ফেব্রুয়ারীতে লেখা একটা চিঠি।
প্যাস্টনবাড়ির ছেলে জন প্যাস্টনকে লিখেছিলো তার প্রেমিকা মার্গারি ব্রিউস। চিঠির সম্বোধন ‘মাই রাইট ওয়েল-বিলাভেড ভ্যালেন্টাইন’। মার্গারির বক্তব্য তার শরীর-মন কোনটাই ভাল নেই। থাকবেও না, যতক্ষণ না জনের ফিরতি চিঠি আসছে। মেয়েটি লিখছে ‘আমার বিশ্বাস তুমি আমাকে ভালবাসো। জানি, তুমি আমাকে ছেড়ে যাবে না’।
জন প্যাস্টন আর মার্গারি ব্রিউসের বিয়েটা পরে হয়েছিল ঠিকই। সে বিয়ে কেউ মনে রাখেনি। কিন্তু ইতিহাসে থেকে গেছে মার্গারির সেই চিঠিটা। ইংরেজি ভাষায় লেখা সেটাই প্রথম ভ্যালেন্টাইন লেটার। ভ্যালেন্টাইন, প্রেম আর বসন্তের মায়াময় সময়ের কথা সবার আগে লিখে গিয়েছেন ইংরেজ কবি জিওফ্রি চসার। চতুর্দশ শতকের শেষের দিকে লেখা তাঁর দীর্ঘ কবিতা ‘পার্লামেন্ট অব ফাউলস’ এ আছে, সেন্ট ভ্যালেন্টাইন্স ডে’তে, নরম বসন্তের দিনে পাখিরা তুমুল পাখসাটে খুঁজে নিচ্ছে নীড়বন্ধুকে। শেক্সপিয়রের ‘হ্যামলেট’ এ আবার অন্য মাত্রা। প্রেমিকের হাতে বাবা পোলোনিয়াস খুন হওয়ার পর পাগলিনিপ্রায় ওফেলিয়া গুনগুনিয়ে ওঠে,‘টুমরো ইজ সেন্ট ভ্যালেন্টাইন্স ডে, / অল ইন দ্য মর্নিং বিটাইম, / অ্যান্ড আই আ মেড অ্যাট ইয়োর উইন্ডো, / টু বি ইয়োর ভ্যালেন্টাইন’ বসন্ত বাতাসে হৃদয়ের মিথস্ক্রিয়ায় সারা বিশ্বের প্রেমপিয়াসী যুগলরা বছরের এ দিনটিকেই বেছে নেয় মনের গহিনের কথকতার কলি ফোটাতে। চ-িদাসের অনাদিকালের সেই সুর ‘দুহঁ করে দুহঁ কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া/ আধতিল না দেখিলে যায় যে মরিয়া/ সখী কেমনে বাধিঁব হিয়া’। এ আবেদনও বাজে কারও কারও হৃদয়ে। দিনটি যে শুধু তরুণ-তরুণীদের নয়, পিতামাতা সন্তানদের ভালবাসাও বড়মাত্রায় উদ্ভাসিত করে। যারা একটু বিজ্ঞ তারা বলেন, প্রেমের কোন দিন থাকে না, ভালবাসলেই ভ্যালেন্টাইন, সেলিব্রেট করলেই ভ্যালেন্টাইন ডে।
ভালবাসার এই দিনটির ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে অনেক ধরণের কাহিনীর কথা জানা গেছে। প্রধান যে কাহিনী প্রচলিত আছে তা এক রোমান ক্যাথলিক পাদ্রি বা সন্তের কাহিনী। তার নাম সেন্ট ভ্যালেন্টাইন। তিনি ছিলেন একজন চিকিৎসক ও পাদ্রি। তখন রোমানদের দেবদেবীর পূজোর বিষয়টি ছিল মূখ্য। তারা বিশ্বাসী ছিলেন না খ্রিস্টান ধর্মে। কিন্তু খ্রিস্টান ধর্ম প্রচারের অপরাধে ২০৭ খ্রিষ্টাব্দে সাধু ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয় রোমের স¤্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াসের আদেশে। তবে তিনি যখন জেলে বন্দী, তখন ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা ভালবাসার কথা জানিয়ে জেলের জানালা দিয়ে তাকে ছুড়ে দিত চিরকুট। বন্দী অবস্থাতেই তিনি চিকিৎসার মাধ্যমে জেলারের অন্ধ মেয়েকে ফিরিয়ে দেন দৃষ্টিশক্তি। অনুমান করা হয় মেয়েটির সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। মৃত্যুর আগে মেয়েকে একটি চিঠি লেখেন, সেখানে তিনি উল্লেখ করেন ‘ফ্রম ইউর ভ্যালেন্টাইন’ বলে।
অনেকের মতে এই সাধু ভ্যলেন্টাইনের নামানুসারে পোপ প্রথম জুলিয়াস ৪৯৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারীকে ভ্যালেন্টাইন ডে হিসাবে ঘোষণা করেন। আরও একটি ভ্যলেন্টাইনের নাম পাওয়া যায় ইতিহাসে। যুদ্ধের জন্য সৈন্য সংগ্রহে ছেলেদের বিয়ে করতে নিষিদ্ধ করেন রোমান স¤্রাট ক্লডিয়াস। কিন্তু যুবক ভ্যালেন্টাইন সেই নিষেধ অমান্য করে বিয়ে করেন। ফলে তাকে মৃত্যুদ- দেয়া হয়। তার নামানুসারেও এই দিনটি চালু হতে পারে এমনও ধারণা রয়েছে।
‘তোমরা যে বল তোমরা যে বল দিবস রজনী, ভালোবাসা ভালোবাসা/সখী ভালোবাসা কারে কয়’। এভাবেই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলে গেছেন ভালোবাসার কথা। ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইন’স ডে একটি বার্ষিক উৎসবের দিন যা ১৪ই ফেব্রুয়ারী ভালোবাসা এবং অনুরাগের মধ্যে উদযাপিত হয়। বিশ্বজুড়ে হাসি, আনন্দ আর ভালোবাসায় উদযাপিত হয় দিনটি। দিবসটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদযাপিত হয়ে থাকে, যদিও অধিকাংশ দেশেই দিনটি ছুটির দিন নয়। বর্তমান সময়ে নানা রঙ্গে, নানা আয়োজনে উদযাপন করা হলেও দিনটি শুরু হওয়ার ইতিহাস কিন্তু খুবই করুণ!
এক মর্মান্তিক ভালোবাসার পরিণতি থেকেই এই দিনটির যাত্রা। ভালোবাসা দিবসটি শুধু প্রিয়তম-প্রিয়তমার জন্য নয়। এই দিবসের তাৎপর্য বিশাল ও সর্বজনীন। সন্তানের প্রতি পিতামাতার অপত্য স্নেহ এবং পিতামতার প্রতি সন্তানের আন্তরিক সংবেদন সব মিলিয়েই ভালোবাসার এই দিন। আদরের ছেলেমেয়ের জন্য বাবা-মার থাকবে অসীম মঙ্গল প্রার্থনা। ছেলেমেয়েও শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সিক্ত করবে বাবা-মাকে।


 
সর্বশেষ সংবাদ
  • ঢাকা উত্তর সিটি'র উপ-নির্বাচনে আদালতের ৩ মাসের স্থগিতাদেশসুন্দরবনের ৩ কুখ্যাত জলদস্যুবাহিনীর প্রধানসহ ৩৮ জনের আত্মসমর্পণজাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণ : ভবিষ্যতে বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্যের দাবি প্রধানমন্ত্রী'ররাজধানী'র জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের সফল অভিযান : ৩ মৃতদেহ ও বিস্ফোরক উদ্ধারপদোন্নতি পেলেন বঙ্গবন্ধু'র খুনিদের গ্রেফতারকারী প্রথম পুলিশ অফিসারবিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণীআম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বরাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট : জনমনে ক্ষোভ জঙ্গি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনী সফল হয়েছে : আইজিপিঅর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি'র সভায় ১৩টি প্রকল্প অনুমোদনপুলিশকে আমি সব সময় আইনের রক্ষকের ভূমিকায় দেখতে চাই : প্রধানমন্ত্রীফারমার্স ব্যাংক কর্তৃক-জলবায়ু ট্রাস্ট তহবিলসহ আমানতকারীদের অর্থ ফেরত না দেয়ায় টিআইবি’র উদ্বেগসুন্দরগঞ্জের আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ : এইচ. এম. এরশাদজঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে পুলিশের সাফল্য দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে : প্রধানমন্ত্রীমাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ এ মাসেই শুরু হচ্ছেযশোরে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সন্ত্রাসী পালসার বাবু নিহতদেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই বিতরণ উৎসব২০১৭'র বিদায় : নতুন বছর ২০১৮ কে বরণ করে নিল জাতিঅগ্রগতি ৫০ শতাংশের বেশি ॥ যথা সময়ে শেষ হবে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ : কাদেররাবির স্নাতক প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু ২১ জানুয়ারি
  • ঢাকা উত্তর সিটি'র উপ-নির্বাচনে আদালতের ৩ মাসের স্থগিতাদেশসুন্দরবনের ৩ কুখ্যাত জলদস্যুবাহিনীর প্রধানসহ ৩৮ জনের আত্মসমর্পণজাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণ : ভবিষ্যতে বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্যের দাবি প্রধানমন্ত্রী'ররাজধানী'র জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের সফল অভিযান : ৩ মৃতদেহ ও বিস্ফোরক উদ্ধারপদোন্নতি পেলেন বঙ্গবন্ধু'র খুনিদের গ্রেফতারকারী প্রথম পুলিশ অফিসারবিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণীআম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বরাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট : জনমনে ক্ষোভ জঙ্গি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনী সফল হয়েছে : আইজিপিঅর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি'র সভায় ১৩টি প্রকল্প অনুমোদনপুলিশকে আমি সব সময় আইনের রক্ষকের ভূমিকায় দেখতে চাই : প্রধানমন্ত্রীফারমার্স ব্যাংক কর্তৃক-জলবায়ু ট্রাস্ট তহবিলসহ আমানতকারীদের অর্থ ফেরত না দেয়ায় টিআইবি’র উদ্বেগসুন্দরগঞ্জের আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ : এইচ. এম. এরশাদজঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে পুলিশের সাফল্য দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে : প্রধানমন্ত্রীমাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ এ মাসেই শুরু হচ্ছেযশোরে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সন্ত্রাসী পালসার বাবু নিহতদেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই বিতরণ উৎসব২০১৭'র বিদায় : নতুন বছর ২০১৮ কে বরণ করে নিল জাতিঅগ্রগতি ৫০ শতাংশের বেশি ॥ যথা সময়ে শেষ হবে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ : কাদেররাবির স্নাতক প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু ২১ জানুয়ারি
উপরে