প্রকাশ : ২১ মার্চ, ২০১৭ ০০:৩৭:৫৪
মন্তব্য প্রতিবেদন : ‘মরতে মরন সানাই ওয়ালার’!
এস এম সাব্বির : “মরতে মরন সানাই ওয়ালার” কথাটি কম বেশি সবাই শুনেছেন। কথাটির তাৎপর্যও বোধকরি সবাই জানেন। তারপরও কথাটি সম্পর্কে একটু না বল্লেই নয়। একটি গানে মিউজিক হিসেবে যদি সানাই থাকে তবে সে ক্ষেত্রে ঐ সানাই বাদকের পুরো গানেই বিরোতিহীনভাবে সানাই বাজাতে হয়। অর্থাৎ গায়ক যখন গান গায় তখনও সাইনা বাজাতে হয়, আবার গানের মাঝে যে মিউজিক (বিরতী) থাকে তখনও সানাই বাজাতে হয়। তার মানে সানাই বাদকের আর বিরাম নেই। এজন্যই বলা হয় মরতে মরন সানাই ওয়ালার।
এখন কথা হচ্ছে সানাই ওয়ালাকে নিয়ে কেন এত কথা। কে এই সানাই ওয়ালা? প্রশ্নের উত্তর আমিই দেব। যদি বলি, এই সানাই ওয়ালা আমি-আপনি আমরা সবাই। অবাক হচ্ছেন তাই না? অবক হওয়ার কিছুই নেই। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন পেশার ব্যক্তি বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষদের উপর যে জুলুম শুরু করেছে তাতে আর আমাকে আপনাকে সানাইওয়ালা সাজা ছাড়া কোন উপায় নেই।

এখানে অতীতের কিছু কথা না বল্লেই নয়। অতীতে আমাদের দেশে কাগজের টাকার পরিবর্তে পয়সার ব্যবহার ছিল সর্বাধিক। পরবর্তীতে পয়সার পাশাপাশি একই মূল্যের কাগজের টাকার ব্যবহার শুরু হলো।
২০০১-০২ সালের দিকে পয়সার মান কমে গিয়েছিল। একের পর এক বিভিন্ন মূল্যের পয়সার ব্যবহার বন্ধ হয়ে গেল। তবে সব পয়সার ব্যবহার তখনও বন্ধ হয়নি। ২০০৮ সালে বর্তমান সরকার বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসারপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলার ঐতিহ্যর প্রতিক পয়সার মান বৃদ্ধি করেন এবং নতুন করে এক টাকা, দুই টাকা ও পাঁচ টাকা মূল্যের পয়সা বাজারে বের করেন। যা অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশবাসীর কাছে পৌঁছে যায়। পয়সার মান ও ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বাড়তে থাকে।

যাই হোক এবার আসল কথায় আসি। আমরা কেন সানাই ওয়ালা হলাম তা না বল্লে যে আমার আসল উদ্দেশ্যই সফল হবে না। সম্প্রতি গোপালগঞ্জসহ দেশের হাতে গোনা কয়েকটি জেলায় পয়সার ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। কারন পয়সার ব্যবহার নাকি দেশ থেকে উঠে গিয়েছে।

এক টাকা, দুই টাকা এমনকি পাঁচ টাকার পয়সাও ব্যবসায়ীরা নেন না। অথচ এই পয়সার মান বৃদ্ধি করণে বর্তমান সরকার ২০১০ সালেও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিস্তুপ পয়সা তৈরি করে আমাদের হাতে পৌঁছে দিয়েছেন।

দেশের সরকার যখন পয়সা ব্যবহারের প্রসার ঘটিয়েছে, তখন কিছু মানুষ এই পয়সা ব্যবহার দেশে নিষিদ্ধ এমন অপপ্রচার করে এর মান কমিয়ে দিচ্ছে। আর এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষদের।
এবার ছোট একটি ঘটনা বলি, সম্প্রতি আমার এক সহকর্মী সাংবাদিক বন্ধু কোন এক জায়গায় একজন বিদ্ধ মহিলা ভিক্ষুককে দেখে তার মানিব্যাগ থেকে ১টাকা ও ২টাকার কয়েকটি পয়সা ভিক্ষুক মহিলাটির হাতে দেয়। তখন ঔ ভিক্ষুক পয়সা কয়টি হাতে নিয়ে কেদে দেন।

এসময় আমার বন্ধুটি ভিক্ষুকের কাদার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, সরাদিন শহরের বিভিন্ন জায়গায় ভিক্ষা করেন। প্রায় সকল মানুষই তাকে ১টাকা, ২টাকা ও ৫টাকার পয়সা দেয়। এই টাকা দিয়ে দিয়েই তার পেট চলে। অথচ কয়েক দিন ধরে এই টাকা তার কাজে লাগছে না। পেটের ক্ষুধা নিবারনের উদ্দেশ্যে তিনি গোপালগঞ্জের কয়েকটি দোকানে তার ভিক্ষা করা ১/২টাকার পয়সা দিয়ে পাউরুটি, কলা চাইলেও তাকে দেয় না। কারন নাকি এইসব পয়সা এখন আর চলে না।

তবে কি বর্তমান সরকারের পয়সার বৃদ্ধিকরণের খেসারত দিতে হচ্ছে ঐ বিদ্ধ ভিক্ষুককে! আমরা এই সব পয়সা চালাতে পারছি না, তাই কী এই পয়সা ভিক্ষুকদের দান করছি! অনেকটা তো সেরকম, নিজেরা পয়সা ব্যবহার করতে না পারায় ভিক্ষুকদের দিয়ে দিচ্ছি। অথচ ভিক্ষুকরা এই পয়সা নিয়ে কি করবে তা একবারও বোঝার চেষ্টা করি না।

সরকার পয়সার ব্যবহার নিষিদ্ধ না করলেও আমাদের সমাজের কিছু ব্যবসায়ীরা নিজেদের মতকরে এর ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছেন। চুপিসারেই ব্যবসায়ীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পয়সার ব্যবহার বন্ধের। ১টাকা, ২টাকা পয়সার পরিবর্তে বর্তমান বেশির ভাগ দোকানে দেখা যায় চকলেটের ব্যবহার।
এ ব্যাপারে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, আমরা জানি সরকার পয়সার ব্যবহার

বন্ধ করি নাই। কিন্তু আমরা নিরুপায়, কারন আমারা যে কোম্পানীগুলোর কাছ থেকে মালামাল সরবারহ করি তারা পয়সা নিতে চায় না। এমনকি বর্তমান ব্যাংক গুলোতেও পয়সা নেয় না। তাই অনেকটা বাধ্য হয়ে এই পয়সা নিই না। অনেক সময় কোন ক্রেতার ১/২টাকা পাওনা থাকলে তার সমমানের চকলেট বা বিস্কুট দিয়ে দিই। কারন ১/২টাকার পয়সা নিই না। আর কাছে রাখিও না।
পয়সার বিষয়টি অনেকে বুঝতে পারছেন না। তবে যারা বুঝেছেন, তারা বেশ ক্ষুব্ধ। অনেকটা উদোর পিঁন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে আমাদেরকে সাজিয়েছে সানাইওয়ালা !



 
সর্বশেষ সংবাদ
  • বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করবো : প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে : সমাবেশে বক্তারা গেইল-ম্যাককালামের ব্যর্থতায় কুমিল্লার কাছে রংপুরের পরাজয়রাবির অপহৃত ছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার : নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কাটেনিআজ নাগরিক সমাবেশে : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ফিরে পাবে একাত্তরের ৭ মার্চের আবহমিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা বন্ধে জাতিসংঘের আহবান‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে’টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে ২৬ কোটি ডলার দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি'র নেতৃত্বাধীন জোটসংসদীয় আসনের সীমানা পুন:নির্ধারণ আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করেছে ইসিজিম্বাবুয়ের সেনা কর্মকর্তারা অভ্যুত্থানের কথা অস্বীকার করেছেনএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেয়নি : সিইসিআজ ভয়াল ১৫ নভেম্বর : স্বজন হারাদের কাঁন্না থামেনি আজও মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যমান চিনি আইন রহিতের সিদ্ধান্তমহানগরী ঢাকাকে ‘সেফনগরী’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন ১০ কার্য দিবস চলবেস্থানীয় সরকারের অধীন দেশের ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানে ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণবিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না : খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ : বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি, সোমবার শাহবাগে ‘আনন্দ উৎসব ও স্মৃতিচারণ’ আজ বসছে দশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন
  • বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করবো : প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে : সমাবেশে বক্তারা গেইল-ম্যাককালামের ব্যর্থতায় কুমিল্লার কাছে রংপুরের পরাজয়রাবির অপহৃত ছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার : নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কাটেনিআজ নাগরিক সমাবেশে : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ফিরে পাবে একাত্তরের ৭ মার্চের আবহমিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা বন্ধে জাতিসংঘের আহবান‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে’টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে ২৬ কোটি ডলার দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি'র নেতৃত্বাধীন জোটসংসদীয় আসনের সীমানা পুন:নির্ধারণ আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করেছে ইসিজিম্বাবুয়ের সেনা কর্মকর্তারা অভ্যুত্থানের কথা অস্বীকার করেছেনএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেয়নি : সিইসিআজ ভয়াল ১৫ নভেম্বর : স্বজন হারাদের কাঁন্না থামেনি আজও মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যমান চিনি আইন রহিতের সিদ্ধান্তমহানগরী ঢাকাকে ‘সেফনগরী’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন ১০ কার্য দিবস চলবেস্থানীয় সরকারের অধীন দেশের ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানে ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণবিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না : খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ : বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি, সোমবার শাহবাগে ‘আনন্দ উৎসব ও স্মৃতিচারণ’ আজ বসছে দশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন
উপরে