প্রকাশ : ২২ মার্চ, ২০১৭ ০০:৫৪:২১
২৫ মার্চ ১৯৭১-এর গণহত্যাকারী কারা?
সিরাজী এম আর মোস্তাক : ১৯৭১ এর ২৫ মার্চ রাতে নিষ্ঠুর ঘাতক বাহিনী বাংলাদেশে নারকীয় গণহত্যা চালায়। সাড়ে সাত কোটি মানুষের ওপর অন্যায়ভাবে ঝাপিয়ে পড়ে। বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আটক করে। সারাদেশে রক্তের বন্যা প্রবাহিত করে। তা চলে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তাতে প্রাণ হারায় প্রায় ত্রিশ লাখ বাঙ্গালি। সম্ভ্রম হারায় প্রায় দুই লাখ মা-বোন। বন্দি থাকে বঙ্গবন্ধুসহ প্রায় পাঁচ লাখ নিরাপরাধ বাঙ্গালি। শরণার্থী হয় প্রায় এক কোটি মানুষ।

এ সকল গণহত্যা, ধর্ষণ, অত্যাচার-নিপীড়নকারীরা জঘন্য যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধী। তবে কারা উক্ত গণহত্যাকারী, তা সুস্পষ্ট নয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে একই জিজ্ঞাসা- ২৫ মার্চ, ১৯৭১ এর গণহত্যাকারী কারা? পাকিস্তানিরা নাকি বাংলাদেশিরা?

২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। এদিন গণহত্যাকারী নরপিশাচদের ঘৃণা করা হয়। আর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয় সকল শহীদ, আত্মত্যাগী ও বীর যোদ্ধাদের। বিশ্ববাসী এতে সমর্থন জানায়। তবে এখন গণহত্যাকারী ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের পরিচয় বদলে গেছে।

বিশ্বব্যাপী সমাদৃত আদালত তথা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমাণের আলোকে বিচারে শুধু বাংলাদেশিরা তাতে অভিযুক্ত হয়েছে। তাদের ফাঁসি ও যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। তা বিশ্বজুড়ে প্রচার হয়েছে। এজন্য ইতিহাস গবেষণার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশিরাই খুনি ও অপরাধী। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে কোনো পাকিস্তানি সেনা বা নাগরিক অভিযুক্ত হয়নি। তাদের সাজা হয়নি। আদালতে তাদের বিরূদ্ধে গণহত্যার প্রমাণও মেলেনি। তাহলে বাংলাদেশিরাই কি গণহত্যাকারী?

গণহত্যার শিকার লাখো শহীদের পরিচয় বাংলাদেশে স্পষ্ট নয়। ২৫ মার্চ, ১৯৭১ থেকে ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত গণহত্যার শিকার ত্রিশ লাখ শহীদের তালিকা ও স্বীকৃতি নেই। তারা শুধু মুখে মুখেই। বাংলাদেশে তাদের বংশ ও পরিবারের অস্তিত্ব নেই।

১৯৭১ এর সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালির মধ্যে ত্রিশ লাখ শহীদ ও দুই লাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোনের সংখ্যা বিবেচনা করলে, বর্তমান ষোল কোটি নাগরিকের কেউই শহীদ পরিবারের বাইরে থাকার কথা নয়। অথচ বাংলাদেশে মাত্র সাতজন শহীদ তালিকাভুক্ত ও বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত। আর মাত্র প্রায় দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত। শুধু এ তালিকাভুক্ত ও তাদের সন্তানেরাই মুক্তিযোদ্ধা কোটাসুবিধা প্রাপ্ত। অর্থাৎ শুধু তারাই দেশ স্বাধীন করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধে আর কারো ভূমিকা নেই। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতাসহ লাখো বন্দি, আত্মত্যাগী, শরণার্থী ও যুদ্ধকালে দেশে অবস্থানকারী কোটি কোটি লড়াকু বীরগণ মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত নয়। তাই বাংলাদেশে উক্ত তালিকাভুক্ত পরিবার ছাড়া তালিকাবহির্ভূত বীরদের কোটি কোটি সন্তানেরা নিজেদেরকে মুক্তিযোদ্ধা ও বীরের জাতি পরিচয় দিতে পারেনা। তারা নিজেদেরকে গণহত্যাকারী ও যুদ্ধাপরাধীদের স্বজন মনে করে।

বিশ্ববাসীও তা অবগত। ফলে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে রায়ের পর বাংলাদেশের কোনো নাগরিক বিদেশে গেলে, প্রথমে তাকে যুদ্ধাপরাধীদের স্বজন সন্দেহ করা হয়। তাকে প্রশ্নবানে জর্জরিত করা হয়। পাকিস্তানিদের ক্ষেত্রে তা হয়না। বিশ্ববাসী আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই তারা পাকিস্তানিদের পরিবর্তে শুধু বাংলাদেশিদেরকেই গণহত্যাকারী ও তাদের প্রজন্ম মনে করে।

সুতরাং ঘাতকদের প্রতি ঘৃণা ও লাখো শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের চেয়ে আগে গণহত্যাকারীদের প্রকৃত পরিচয় দরকার। এজন্য উচিত, গণহত্যার শিকার সকল শহীদদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দেয়া। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতাসহ তালিকা বহির্ভূত সকল বীরদের মুক্তিযোদ্ধা ঘোষণা করা। প্রচলিত মুক্তিযোদ্ধা তালিকা ও কোটা বাতিল করা। বাংলাদেশের সবাইকে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারভুক্ত করা।

তবেই ঘাতকদের পরিচয় স্পষ্ট হবে। আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশিরা নয়, আসল গণহত্যাকারীরা সাজা পাবে। ২৫ মার্চ ‘আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস‘ স্বীকৃতি পাবে। অতএব মাননীয় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারকসহ সবার কাছে জিজ্ঞাসা- ২৫ মার্চ, ১৯৭১ এর আসল গণহত্যাকারী কারা?  
লেখক : শিক্ষানবিশ আইনজীবি, ঢাকা। ই-মেইল : mrmostak786@gmail.com.

 
সর্বশেষ সংবাদ
  • বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করবো : প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে : সমাবেশে বক্তারা গেইল-ম্যাককালামের ব্যর্থতায় কুমিল্লার কাছে রংপুরের পরাজয়রাবির অপহৃত ছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার : নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কাটেনিআজ নাগরিক সমাবেশে : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ফিরে পাবে একাত্তরের ৭ মার্চের আবহমিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা বন্ধে জাতিসংঘের আহবান‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে’টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে ২৬ কোটি ডলার দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি'র নেতৃত্বাধীন জোটসংসদীয় আসনের সীমানা পুন:নির্ধারণ আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করেছে ইসিজিম্বাবুয়ের সেনা কর্মকর্তারা অভ্যুত্থানের কথা অস্বীকার করেছেনএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেয়নি : সিইসিআজ ভয়াল ১৫ নভেম্বর : স্বজন হারাদের কাঁন্না থামেনি আজও মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যমান চিনি আইন রহিতের সিদ্ধান্তমহানগরী ঢাকাকে ‘সেফনগরী’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন ১০ কার্য দিবস চলবেস্থানীয় সরকারের অধীন দেশের ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানে ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণবিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না : খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ : বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি, সোমবার শাহবাগে ‘আনন্দ উৎসব ও স্মৃতিচারণ’ আজ বসছে দশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন
  • বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করবো : প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে : সমাবেশে বক্তারা গেইল-ম্যাককালামের ব্যর্থতায় কুমিল্লার কাছে রংপুরের পরাজয়রাবির অপহৃত ছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার : নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কাটেনিআজ নাগরিক সমাবেশে : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ফিরে পাবে একাত্তরের ৭ মার্চের আবহমিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা বন্ধে জাতিসংঘের আহবান‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে’টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে ২৬ কোটি ডলার দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি'র নেতৃত্বাধীন জোটসংসদীয় আসনের সীমানা পুন:নির্ধারণ আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করেছে ইসিজিম্বাবুয়ের সেনা কর্মকর্তারা অভ্যুত্থানের কথা অস্বীকার করেছেনএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেয়নি : সিইসিআজ ভয়াল ১৫ নভেম্বর : স্বজন হারাদের কাঁন্না থামেনি আজও মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যমান চিনি আইন রহিতের সিদ্ধান্তমহানগরী ঢাকাকে ‘সেফনগরী’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন ১০ কার্য দিবস চলবেস্থানীয় সরকারের অধীন দেশের ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানে ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণবিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না : খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ : বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি, সোমবার শাহবাগে ‘আনন্দ উৎসব ও স্মৃতিচারণ’ আজ বসছে দশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন
উপরে