প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল, ২০১৭ ০১:০৭:৩৬
হিজড়ারা বৈষম্যের শিকার, দরকার মানবিক সহায়তা
সাইদুর রহমান॥ হিজড়া সম্প্রদায়ের মানুষ গুলো আগেও ছিল, বর্তমানেও আছে। ভবিষ্যৎতেও থাকবে। যতদিন থাকবে মানুষ ততদিনেই ভূমিষ্ঠ হবে হিজড়া। হিজড়া পাপের ফসল না। এটা হলো নিয়তির লিঙ্গ নিয়ে খেলা।

এই মানব জাতিকে নিয়ে, সৃষ্টিকর্তার কি অদ্ভুত লিলাখেলার জাল বিস্তার করেছেন। লিঙ্গ নামক এক জিনিস মানবজাতির আষ্টে পিষ্টে জড়িয়ে জাতিকে করেছে লিঙ্গান্তরে বিভক্ত। আজ মানবজাতি লিঙ্গান্তরীত হওয়ার কারনে বিশ্বময় বৃদ্ধি পাচ্ছে লিঙ্গ বৈষম্য।

এই উপমহদেশে হিজড়া প্রথা চলু হয় মোগল আমল থেকে। হিজড়ার ইংরেজী প্রতিশব্দ
(Hermaphrodite), যার অর্থ উভয়লিঙ্গ। হিজড়া শব্দটি এসেছে হিন্দি শব্দ থেকে। হিজড়া শব্দের অর্থ অশোভন।

হিজড়া পুরুষ বাচক কিন্তু স্ত্রী বাচক হিজড়া কাল্পনিক ও অবাস্তব। ছয় ধরনের হিজড়া দেখা যায়। তবে বাংলাদেশে অকুয়া এবং জেনানা নামের হিজড়াই বেশী দেখা যায়। এরা মনের দিক থেকে মূলত নারীর মতো আচারণ করে, আসলে বাহ্যিক ভাবে পুরুষ। নারীর সকল বৈশিষ্ট থাকা সত্বেও নিয়তির কি নিষ্ঠুর পরিহাস এরা নারী নয়। বিধাতা তাদের দেহ পিঞ্জরকে নিয়ে কি যাদুকরী এবংরহস্যময়ী খেলাই খেলেছেন। আজ তারা মানব সমাজ থেকে বিতাড়িত  ও নির্বাসিত ।

অন্য দশটি সন্তানের মতোই পিতামাতার অন্তরকে এই শিশু গুলোও  তৃপ্তিতে ভরে দেয় ।শুধু লিঙ্গ বৈষম্যের জন্য তারা আজ পরিবার চ্যুত, সমাজ চ্যুত, ঘর-সংসার থেকে বিতাড়িত এক মানব জাতি। হিজড়াদেরকে তৃতীয় লিঙ্গ হিসাবে স্বৃীকৃতি দেওয়ার জন্য হিজড়ারা সরকারে কাছে দাবি জানিয়ে আসছে। ভারত, নেপাল এবং পাকিস্তানেরর মতো মুসলিম দেশ, এদেরকে তৃতীয় লিঙ্গ হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

তবে বাংলাদেশ কেন পারবে না? এ দেশের রাষ্ট্রের আইনে তৃতীয় লিঙ্গের কোন অপশন নাই বলে? এ জন্য কি তারা দিশেহারা এবং বেপরোয়া গোষ্ঠী হয়ে থাকবে? একমাএ লিঙ্গ বৈষম্যের জন্য তারা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ও বিতাড়িত। তারা প্রচলিত মানব সমাজের, রাষ্ট্রের, পরিবারের কাছে থেকে প্রতিনিয়ত বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।

সমাজের লাঞ্ছনার ভয়ে জন্মদাতারাও একটা সময় তাদেরকে ঘর থেকে জোর করে পরিবার চ্যুত করে । তারপর থেকেই সমাজের প্রতি স্তরে অবহেলার সবটুকু প্রাপ্তি তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে যায়। সমাজ এবং রাষ্ট্র যদি এদেরকে মানবজাতির হিসাবে গণ্য করতো, তাহলে এদের জীবনে এত বিভীষিকাময় অন্ধকার নেমে আসতো না।

হিজড়া গোষ্ঠীকে ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ সরকার তৃতীয় লিঙ্গ হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বাস্তবে এর প্রতিফলন লুকায়িত। কিন্তু আদমশুমারীতে তৃতীয় লিঙ্গের কোন সরকারি নীতিমালা না থাকায়, সরকারে কাছে এর কোন পরিসংখ্যান নেই। এদেশের ১২টি পল্লীতে বাংলাপিডিয়ার তথ্যানুযায়ী হিজড়া আছে দেড় লাখের কাছাকাছি। পল্লীর প্রতিটি ঘরকে বলে" ডেমরা"।
এরা এসব পল্লীতে খুব অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জীবনযাপন করে। বাংলাদেশ ২০০৮ সালে এদেরকে ভোটাধিকার দিলেও কাল সাপ হয়ে দাঁড়ায় লিঙ্গ বৈষম্য। অবশেষে জাতীয় পরিচয় পএে লিঙ্গ নিয়ে তারা পরে বিড়ম্বনায়। এই লিঙ্গের লোকদের নিয়ে যখন এত টানা-হেঁছড়া। কেন এ লিঙ্গের সৃষ্টি হয়?

চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে, ক্রমোজোমের ক্রটির জন্য এ লিঙ্গের সৃষ্টি হয়। তবে শিশু অবস্হায় চিকিৎসা করলে হিজড়া নামটা দূর করা সম্বব।
মা নিজের মাতৃত্ব ও মমতাকে মনের অজান্তে গলা টিপে হত্যা করেন। একমাএ সমাজ এবং সমাজের মানুষের লাঞ্ছনা থেকে নিস্তার পাবার জন্য। এর জন্য হিজড়ারা দশ থেকে বার বছর বয়সেই পরিবার চ্যুত হয়। নিক্ষিপ্ত হয় অন্য এক অন্ধকার জগতে। সন্তানকে কুরবানি করে
সমাজকে খুশি করেন পিতামতা। তখন সে পেয়ে যায় অন্য বাসিন্দার আরেক মাকে। হিজড়া পল্লীর একজন নেতা । তাকে বলে "গুরুমা"। হিজড়াদের উদ্বৃত্ত অর্থ গুরু মার
কাছে জমা রাখে।

পুঁজি ছাড়া ব্যবসা। পুঁজি শুধু হাতের তালি। বর্তমানে বাসে, ট্রেনে, লঞ্চে, শহরের প্রতিটি গলিতে হিজড়াদের চাঁদাবাজি চলে। তাদের অর্থের দাবি মেটাতে না পারলে লাঞ্ছনা থেকে কেউ রেহাই পায় না। চাঁদাবাজি করে অর্থ আদায়ের জন্য এ সম্প্রদায় বেপরোয়া এবং বেশামাল হয়ে পড়ে। এর পরেও এরা পার্কে, অথবা রাস্তার পাশে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়। তখন সমাজের কাউকে সহজে তোয়াক্কা করতে চায় না। সমাজের যে কোন মানুষকে অর্থের জন্য অপমান বা ভয়ভীতি দেখাতে তারা বিন্দু মাত্র পিছু পা হয় না। এদের অশ্লীল অঙ্গভঙ্গিমায় সভ্য জগতের বাতাসকেও দূষিত করতে চায়। এদের অস্বাভাবিক অট্রহাসি অন্তরের অন্তর ক্ষুধার বহি:প্রকাশ ।
রাষ্ট্রের সমস্ত আইন কাননুকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে তারা। সমাজের প্রচলিত আইন ব্যবস্থার পৃষ্টদেশে লাথি মেরে তৈরি করেছে তাদের নিজস্ব আইন। কোন বিচার কাজ গুরু মা
পল্লীতে শেষ করতে না পারলে, উচ্চ বিচারের জন্য চলে যায় সাভারে অবস্থিত তাদের উচচ বিচার কোটে।  

এদেশের হিজড়ারা অধিকাংশই মুসলিম। তাদের কবর দেওয়াতে আছে বৈচিত্র্য। প্রথমে কবরে লবন দেয় তারপর ফুল আবার দেয় লবন। সবশেষে জুতা পিটা করে লাশকে। এরা পূণ্য জনমে বিশ্বাসী।

বিশ্বের প্রযুক্তিশীল দেশ এবং দেশের মানুষ হিজড়াদেরকে প্রতিবেশী মনে করে। আমি লিঙ্গ বৈষম্য চাই না। যার লিঙ্গ যার। পরিচয় থাকবে একটাই সবাই মানুষ অথবা মানবজাতি। আমরা সবাই মানবজাতি আর লিঙ্গ হলো আপেক্ষিক জিনিস। তাহলে হিজড়ারা হবে না সমাজ চ্যুত।
হিজড়াদেরকে জন্য কাজের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সমাজ থেকে বিছিন্ন এ জাতিকে কর্মমুখী করতে হবে। হিজড়াদেরকে সমাজের মূল ধারায় সংযুক্ত করতে হবে । তার জন্য দরকার  

► হিজড়াদের পূর্ণবাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা দরকার।
► হিজড়ার সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করতে হবে ।
► একটা নিদিষ্ট এলাকাকে মডেল হিসাবে নিয়ে পাইল্ট কর্মসূচি চালু করতে হবে ।
► এদেরকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে।
►  এদেরকে কারিগড়ি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্ব নির্ভরশীল করে তুলতে হবে।
► শিক্ষিত হিজড়াদেরকে সরকার কোটা ভিত্তিক চাকুরীর সুবিধা দিতে হবে ।
► শিশু কালে এই সব হিজড়া শিশুদের চিহ্নিত করে এবং সরকারী ভাবে  চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দিতে হবে । ছেলে/মেয়ে না, চাই সুস্থ সন্তান।

সাইদুর রহমান : লেখক ও কলামিস্ট ।
সর্বশেষ সংবাদ
  • বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করবো : প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে : সমাবেশে বক্তারা গেইল-ম্যাককালামের ব্যর্থতায় কুমিল্লার কাছে রংপুরের পরাজয়রাবির অপহৃত ছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার : নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কাটেনিআজ নাগরিক সমাবেশে : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ফিরে পাবে একাত্তরের ৭ মার্চের আবহমিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা বন্ধে জাতিসংঘের আহবান‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে’টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে ২৬ কোটি ডলার দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি'র নেতৃত্বাধীন জোটসংসদীয় আসনের সীমানা পুন:নির্ধারণ আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করেছে ইসিজিম্বাবুয়ের সেনা কর্মকর্তারা অভ্যুত্থানের কথা অস্বীকার করেছেনএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেয়নি : সিইসিআজ ভয়াল ১৫ নভেম্বর : স্বজন হারাদের কাঁন্না থামেনি আজও মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যমান চিনি আইন রহিতের সিদ্ধান্তমহানগরী ঢাকাকে ‘সেফনগরী’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন ১০ কার্য দিবস চলবেস্থানীয় সরকারের অধীন দেশের ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানে ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণবিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না : খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ : বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি, সোমবার শাহবাগে ‘আনন্দ উৎসব ও স্মৃতিচারণ’ আজ বসছে দশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন
  • বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করবো : প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে : সমাবেশে বক্তারা গেইল-ম্যাককালামের ব্যর্থতায় কুমিল্লার কাছে রংপুরের পরাজয়রাবির অপহৃত ছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার : নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কাটেনিআজ নাগরিক সমাবেশে : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ফিরে পাবে একাত্তরের ৭ মার্চের আবহমিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা বন্ধে জাতিসংঘের আহবান‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে’টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে ২৬ কোটি ডলার দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি'র নেতৃত্বাধীন জোটসংসদীয় আসনের সীমানা পুন:নির্ধারণ আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করেছে ইসিজিম্বাবুয়ের সেনা কর্মকর্তারা অভ্যুত্থানের কথা অস্বীকার করেছেনএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেয়নি : সিইসিআজ ভয়াল ১৫ নভেম্বর : স্বজন হারাদের কাঁন্না থামেনি আজও মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যমান চিনি আইন রহিতের সিদ্ধান্তমহানগরী ঢাকাকে ‘সেফনগরী’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন ১০ কার্য দিবস চলবেস্থানীয় সরকারের অধীন দেশের ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানে ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণবিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না : খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ : বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি, সোমবার শাহবাগে ‘আনন্দ উৎসব ও স্মৃতিচারণ’ আজ বসছে দশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন
উপরে