প্রকাশ : ১০ জুন, ২০১৭ ২১:০০:১৪
এইতো আমার বাংলাদেশ
জিয়াউর রহমান : কে ভেবেছিল এই ম্যাচ এমন দাপটের সাথে জিতবে বাংলাদেশ । দাপটের সাথে জয় বাদই দিলাম, জয়ের আশাই তো ছেড়ে দিয়েছিল বাংলাদেশের আনাচে কানাচে যত সাপোর্টার আছে অধিকাংশই । অনেকেই তো টিভি বন্ধ করে অন্যকাজে মনযোগ দিয়েছিল ।

কিন্তু এটা যে আমাদের বাংলাদেশ । ক্রিকেটের নতুন পরাশক্তি । শক্তির জানান দিতে হবে তো । বিদেশের মাটিতে ভালো করার একটা চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের ছিলই । কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জটা যে এভাবে নিবেন বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা তা কি বুঝতে পেরেছিল নিউজিল্যান্ড সমর্থকরা ?

কার্ডিফ মানেই বাংলাদেশের রুপকথা । যেখানে অষ্ট্রেলিয়াকে প্রথম এবং একবারই হারিয়েছিল বাংলাদেশ । সেই কার্ডিফেই আরেকটি ইতিহাস গড়তে মুখিয়ে ছিল বাংলাদেশ দল । এই মাঠে আগের পাঁচটি ম্যাচেই ৩০০ এর উপরে রান হয়েছিল । যার মধ্যে পরে ব্যাট করে মাত্র একবারই জয় পেয়েছিল । সেটাও গত বছর । তারমানে এই পিচে ৩০০ রান হবে এমনটা ভাবাই ছিল । নিউজিল্যান্ড ৩০০ রানের পথেই ছিল । একটা সময় মনে হয়েছিল তাদের রান তিনশত ছাড়িয়ে যাবে ।  কিন্তু না । তা হয়নি বাংলাদেশ দলের দুর্ধান্ত বোলিং এবং মাশরাফির বাজিতে ।

শেষ ১০ ওভারে যেখানে সব সময় পরীক্ষিত সৈনিকরা বোলিং করেন সেখানে মাশরাফি বাজি ধরলেন মোসাদ্দেকের উপর । কি দুর্ধান্ত ভাবেই না মোসাদ্দেক বাজিতে বাজিমাত করে দিল । নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের টর্নেডো নামে পরিচিত কোরি এন্ডারশন, জিমি নিশামের মত ব্যাটসম্যানদের উপড়ে ফেললেন । তিন ওভার বল করে ১৩ রানের বিনিময়ে নিলেন ৩ উইকেট । সাথে মাশরাফি, রুবেল, মুস্তাফিজ, তাসকিনদের গতিতে শেষ দিকে দিক হারিয়ে দুইশর কোঠাতেই আটকে যায় নিউজিল্যান্ড ।

ওয়ানডে ক্রিকেটে দুই-আড়াইশ রান এখন আর তেমন ভরসা দেয়না । টি-টুয়েন্টির যুগে এই রান করা এখন মামুলি ব্যাপার হয়ে গেছে । আর নিউজিল্যান্ডকে দু’শর কোঠায় আটকে রেখে তখনই বাংলাদেশ হয়তো জয়ের স্বপ্ন দেখছিল ।

কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটিং শুরু হতেই সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায় । সাউদি আর বোল্টের গতি আর সুইংয়ে মাত্র ৩৩রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে বাংলাদেশ । বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্নও ফিকে হয়ে যায় তখন । জায়ান্টস্ক্রীনে একসময় দেখা যায় জয়ের হার নিউজিল্যান্ডের ৮২% বাংলাদেশের ১৮% । কিন্তু এটা যে বাংলাদেশ । ১৮% কে কিভাবে ১০০% করা লাগে তা তো জানে এই দেশের ক্রিকেটাররা । তখনই বাংলাদেশের কান্ডারী হয়ে আবির্ভূত হন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান এবং দুর্ধান্ত সময় পার করা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ।

বাংলাদেশের সমর্থকরা তখন কেউ হয়তো টিভি বন্ধ করে দিয়েছে । কেউ হয়তো টিভি বন্ধ করে বন্ধুদের সাথে বাংলাদেশের হার নিয়ে কথা বলা শুরু করছে । কেউ আবার আমাদের মত জয়ের আশায় টিভির সামনে বসেছিল ।  আস্তে আস্তে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ । শতরান পাড় করল । সাকিব মাহমুদউল্লাহ দুজনেই অর্ধশতক করল । তখনো যারা টিভিতে না হলেও নেটে কিংবা রেডিওতে খেলার খবর রাখছেন তারাও আশা নিয়ে টিভি অন করে সামনে বসে গেলেন । যদি বাংলাদেশ জিতে যায় । আস্তে আস্তে যেন ঘুমিয়ে পড়া সব মানুষই চলে আসলো টিভির সামনে । এটাই তো টান, এটাইতো ভালোবাসা । এত মানুষের ভালোবাসা বৃথা যায় কি করে  ? সৃষ্টিকর্তাও চাননি এত মানুষের আবেগকে ব্যর্থ করতে ।

এদিকে বাংলাদেশ দুর্ধান্ত ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে । অন্যদিকে সাউদি, বোল্ট, নিশাম, উইলিয়ামসনের মুখের হাসি ধীরে ধীরে উধাও হচ্ছে । সেখানে এখন চিন্তার ভাজ । আমরা কি হেরে যাচ্ছি বাংলাদেশের কাছে । মুচকি হেসে সাকিব মাহমুদউল্লাহ তখন হয়তো বলছে – অপেক্ষা করো , প্রশ্নের উত্তর তো আমাদের ব্যাটে লুকায়িত আছে ।

ছক্কা মেরে সেঞ্চুরীর ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করলেন সাকিব আল হাসান ।  আহ, কত ভালোবাসা এই রানটির সাথে । কত সাধনার ফসল । যেন এই রানটি সাকিবের নয়, পুরো বাংলাদেশ সমর্থকদের । এরপর মাহমুদউল্লাহ বাউন্ডারি হাকিয়ে পূর্ন করলেন সেঞ্চুরী । বুঝিয়ে দিলেন বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের স্তুম্ভ তিনিও ।

সাকিব আল হাসান । কিছুদিন ধরে যার পারফর্মেন্স নিয়ে সমালোচনা হচ্ছিল , কিদুর্দান্ত ভাবেই না জবাবটা দিলেন তিনি । বুঝিয়ে দিলেন তিনিই সেরা ।  মাহমুদউল্লাহ তো আরো এক ধাপ এগিয়ে । এসেই পাল্টা আক্রমন করা ছিল তার উদ্দেশ্য । কি দারুন ভাবেই না কাজটি করে গেলেন তিনি । সাকিব জয় থেকে এক পা দূরে থাকতে আউট হলেও উৎসব করেই মাঠ ছাড়েন মাহমুদউল্লাহ । কত সাধনার ফসল । কেউ কি ভেবেছিল?

ম্যাচ শেষে মনের অজান্তেই বলেছিলাম এইতো আমার বাংলাদেশ । এটাই তো আমাদের ধরন । আমরা টাইগার । আমরা লড়াকু । আমরা লড়তে জানি । জানি কিভাবে  ইতিহাস রচনা করতে হয় ।
সর্বশেষ সংবাদ
  • জার্মানী, সুইডেন ও ইইউ’র রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি জোরালো সমর্থন রাবি ছাত্রী অপহরণ : সাবেক স্বামীসহ ২ জনকে ১ দিনের রিমান্ড বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করবো : প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে : সমাবেশে বক্তারা গেইল-ম্যাককালামের ব্যর্থতায় কুমিল্লার কাছে রংপুরের পরাজয়রাবির অপহৃত ছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার : নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কাটেনিআজ নাগরিক সমাবেশে : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ফিরে পাবে একাত্তরের ৭ মার্চের আবহমিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা বন্ধে জাতিসংঘের আহবান‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে’টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে ২৬ কোটি ডলার দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি'র নেতৃত্বাধীন জোটসংসদীয় আসনের সীমানা পুন:নির্ধারণ আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করেছে ইসিজিম্বাবুয়ের সেনা কর্মকর্তারা অভ্যুত্থানের কথা অস্বীকার করেছেনএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেয়নি : সিইসিআজ ভয়াল ১৫ নভেম্বর : স্বজন হারাদের কাঁন্না থামেনি আজও মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যমান চিনি আইন রহিতের সিদ্ধান্তমহানগরী ঢাকাকে ‘সেফনগরী’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন ১০ কার্য দিবস চলবেস্থানীয় সরকারের অধীন দেশের ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানে ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণবিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না : খালেদা জিয়া
  • জার্মানী, সুইডেন ও ইইউ’র রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি জোরালো সমর্থন রাবি ছাত্রী অপহরণ : সাবেক স্বামীসহ ২ জনকে ১ দিনের রিমান্ড বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করবো : প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে : সমাবেশে বক্তারা গেইল-ম্যাককালামের ব্যর্থতায় কুমিল্লার কাছে রংপুরের পরাজয়রাবির অপহৃত ছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার : নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কাটেনিআজ নাগরিক সমাবেশে : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ফিরে পাবে একাত্তরের ৭ মার্চের আবহমিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা বন্ধে জাতিসংঘের আহবান‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে’টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে ২৬ কোটি ডলার দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি'র নেতৃত্বাধীন জোটসংসদীয় আসনের সীমানা পুন:নির্ধারণ আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করেছে ইসিজিম্বাবুয়ের সেনা কর্মকর্তারা অভ্যুত্থানের কথা অস্বীকার করেছেনএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেয়নি : সিইসিআজ ভয়াল ১৫ নভেম্বর : স্বজন হারাদের কাঁন্না থামেনি আজও মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যমান চিনি আইন রহিতের সিদ্ধান্তমহানগরী ঢাকাকে ‘সেফনগরী’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদশম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন ১০ কার্য দিবস চলবেস্থানীয় সরকারের অধীন দেশের ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানে ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণবিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না : খালেদা জিয়া
উপরে