প্রকাশ : ২০ নভেম্বর, ২০১৭ ২২:৪২:৫৩
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বনাম কোচিং
॥ সাইদুর রহমান ॥ দেশে শিক্ষার হার দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষায় প্রতিযোগীতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু মান তো সে অনুপাতে বৃদ্ধি পাচ্ছে না। অভিভাবককে সঙ্গী করে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা নামক ওয়ারিস বিহীন বস্তুর পিছে পাগলা ঘুরার মতো দৌড়াচ্ছে। প্রতিযোগিতার খরাল স্রোতে পতিত হচ্ছে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা । প্রতিযোগিতা থাকা ভালো কিন্তু প্রতিযোগিতার নামে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি আমাদের সন্তানের জন্য হিতকর হতে পারেনা। তাতে সন্তানের স্বাভাবিক মেধা বিকাশে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

শিক্ষা পণ্য নয়, জাতির ভবিষৎকে আলোর পথ দেখানোর মাধ্যম। শিক্ষা দ্বারা একটা জাতির মানদণ্ড বিচার করা হয়। বর্তমানে শিক্ষা একটি অতিপ্রয়োজনীয় ও সহজে বিক্রয়যোগ্যা উচ্চ মূল্যের পণ্য । শিক্ষা নামক পণ্যটি এ দেশের কোটি কোটি মানুষকে উচ্চ মূল্যে ক্রয় করতে হয়। এখন শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার বললে মৌলিক অধিকারকে আগে ডিজিটাল করতে  হবে। এ দেশের মানুষের আয়ের সিংহভাগ চলে যায় শিক্ষা আর চিকিৎসা খাতে।
 
কেউ কোচিং বাণিজ্য নামে, কেউ ইংরেজী শিক্ষার নামে, কেউ কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার নামে শিক্ষা নামক পণ্য নগদে, তাদের ইচ্ছামতো দামে বিক্রি  করেন। আবার একেক জনের বিক্রির পদ্ধতি একেক ধরনের।  ইংরেজী মিডিয়ামে শিক্ষার নামে সবচেয়ে উচ্চ মূল্যে ব্রিটিশীয় কায়দায়  শিক্ষা নামক পণ্যটি বিক্রি হয়। আবার কেউ কেজি দরে বিক্রি করেন। আবার কেউ কোচিং নামে রতি দরে বিক্রি করে এবং হাইপ্রোটিন শিক্ষা দিচ্ছে শিক্ষার্থীকে।

কোচিং শব্দের অর্থ শিক্ষণ ও অনুশীলনের স্থান। আবার কোচিংকে ছায়া শিক্ষা নামে আখ্যায়িত করা হয়। সারা দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো ছড়িয়েছিটিয়ে আছে অগণিত কোচিং সেন্টার। দেশব্যাপী কত গুলো কোচিং সেন্টার আছে তার কোন পরিসংখ্যা শিক্ষা বোর্ডের নাই। পিইসি, জেএসসি, বোর্ড পরীক্ষার জন্য দিনে দিনে কোচিং আধিপত্য বাড়ছে। কিন্তু আশার কথা হলো মাদ্রাসা বোর্ড নিয়ে কোচিং সেন্টার গুলো চিন্তা করে না। কারন তারা কোচিং সেন্টারে পড়েনা। এই সব কোচিং সেন্টার গুলোতে বছরে লেনদেন হয় ৫০ হাজার কোটি টাকা। কোচিং সেন্টার গুলো সরকারী লাইসেন্স বলতে শিক্ষা সহায়ক হিসাবে অনুমোদন দেন।

কিন্তু এটাই বা কয়টা কোচিং সেন্টারের আছে। ঘন ঘন শিক্ষার সিলেবাস পরিবর্তন আর গ্রেড প্রাপ্তির প্রতিযোগিতায় কোচিংগামী হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষা নীতি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া পরিবর্তন করলে, শিক্ষার্থীরা অজানা সাগরে পতিত হয়ে। প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষা নীতি ক্লাস তয় শ্রেণী অথবা ৪র্থ শ্রেনীতে  পরিবর্তন করতে হবে, আবার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক  পর্যায়ে ৯ম শ্রেণীতে পরিবর্তন করতে হবে।

কোচিং আবার বিভিন্ন ধরনের । আমি একাডেমিক কোচিং নিয়ে কথা বলতে চাই। ক্লাসে সব শিক্ষার্থী সমান বুঝে না আবার অনেক শিক্ষককের জানা থাকে সত্বেও ক্লাসে উপস্হাপন করতে পারেন না । আবার দেশের ৬০% শিক্ষক সৃজনশীল বুঝেন না।বোর্ডের সৃজনশীল প্রশ্ন গুলোও হচ্ছে গাইড নির্ভরশীল। গাইড ও কোচিং সহোদর ভাই। কোচিং বন্ধে আইন হলো, দুদক অভিযান চালানো। কিন্তু কোচিং কি সবটাই খারাপ? সরকারী অথবা নামীদামী স্কুলে ভর্তির জন্য কোচিং একমাত্র  ভরসা। পরিবর্তন চাই গোড়া থেকে।

সরকার প্রাথমিক পর্যায়ে (১ম শ্রেণী-৮ম শ্রেণী) গাইড বই, নোট বই কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে।  কিন্তু কে শুনে কার কথা। আইনের প্রয়োগ নাই অন্যদিকে অধিকাংশ শিক্ষককেরা গাইড প্রীতি বেশী যেহেতু গাইড প্রকাশকের সাথে লেনিদেনী আছে। আমরা বর্তমানে কোচিং রাজ্যে বসবাস করছি। আমি/আপনি সবাই কোচিং নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করি। কেউ কি বলতে পারবে আপনার সন্তানকে কোচিং সেন্টারে পড়াননি? আর্থিক সাশ্রয়ী সকল বিষয়ে পড়ায় আর প্রতি সপ্তাহে শিক্ষার্থীর অবস্হান জানার জন্য আমরা বেকুল  থাকি । শিক্ষার মানের দিকে তাকাচ্ছি না তাকাচ্ছি গ্রেডের দিকে। কোচিং পড়ানোর জন্য শিক্ষক, অভিভাবক দু'পক্ষ দায়ী।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অবকাঠামো ধ্বংসের পথে। শিক্ষককেরা  রীতিমতো ক্লাস নিচ্ছেন না অথবা নিলেও হয়তোবা সবটুকু ক্লাসে দিচ্ছেন না। তাতে ক্লাসের সবল আর দুর্বল সব শিক্ষার্থীই ক্লাসের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। প্রথমে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে। এর জন্য দরকার একটা পাইল্ট প্রকল্প। আইনের ভয় চেয়ে শিক্ষকদের সিলেবাসের উপর পর্যাপ্ত  প্রশিক্ষণ জরুরি।

সরকার সিদ্বান্ত নিয়েছে ঢাকা শহর থেকে পাঁচ'শ এর মতো শিক্ষক বদলি করবেন। তাতে কি কোচিং সেন্টার গুলো বন্ধ হয়ে যাবে? না । কারন এগুলা পরিচালনা করে এদেশের রাঘব বোয়ালেরা। শিক্ষককের প্রাইভেট পড়ানোর বন্ধ হতে পারে কিন্তু কোচিং সেন্টার বন্ধ হবে না। শিক্ষককরা যদি সরকারের নীতি মেনে প্রাইভেট পড়ান, তাহলে কারোও আপত্তি থাকার কথা না। শিক্ষা মন্ত্রাণালয় কোচিং বন্ধে একটা নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এই নীতিমালা অনুযায়ী সরকারী আধা সরকারী ও মাদ্রাসার শিক্ষককেরা কোচিং বা প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না। যে নীতিমালা প্রয়োগ অবান্তর তা প্রণয়ন করে লাভ কি?

ক্লাসের সব শিক্ষার্থীরা সমান না আবার বুঝার ক্ষমতা আল্লাহ সবাইকে সমান দেননি। তাহলে দুর্বল শিক্ষার্থী দুর্বলতা কাটানোর জন্য প্রাইভেট পড়বে কার কাছে? কোচিং সেন্টার রাজ্যের দেশে বসবাস করে কোচিং সেন্টার বন্ধ করলে, শিক্ষার ব্যয় আরও বাড়বে তারসাথে শিক্ষায় আসতে পারে বিপর্যয়।

আমাদের পাশাপাশি দেশ ভারত, শ্রীলংকায়, পাকিস্হানে সীমিত পরিসরে কোচিং সেন্টার আছে। কোচিং বন্ধ করে দিলে অথবা প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ করে দিলে গোটা শিক্ষা ব্যবস্হার গুণগত  মান বৃদ্ধি পাবে তার কোন নিশ্চয়তা নাই। কোচিং সেন্টারের অনেক ক্ষতিকর দিক  আছে প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষার্থী সময় নষ্ট হয়, মাদকও বিক্রি হয় কোন কোন কোচিং সেন্টারে । তারপরও চলমার প্রক্রিয়া হঠাৎ করে  বন্ধ না করে, লাইসেন্সের মাধ্যমে সরকারের নজরদারীতে আনা যেতে পারে। শিক্ষা একটি অতি স্পর্শকাতর খাত,  ঝুঁকি নেওয়া ঠিক হবে না।

অনেকেই বলেন কোচিং সেন্টার বন্ধে স্বদিচ্ছাই যথেষ্ট। যেখানে পুরো শিক্ষা ব্যবস্হাটাই কোচিং নির্ভরশীল সেখানে সঠিক পরিকল্পনার ছাড়া একেবারে বন্ধ করা যাবে না।তাছাড়া এখানে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অথবা বেকার যুবকেরা আছে। শিক্ষার্থীর জন্য সহজ ও সাবলীল সিলেবাস উপহার দিতে হবে। শিক্ষাকে গ্রেড নির্ভরশীল না করে, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি দিকে শিক্ষক ও অভিভাবককে নজর দিতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার গুণগত মান যত বৃদ্ধি পাবে কোচিং সেন্টারে দৌরাত্ম্য তত কমতে থাকবে। তখন বন্ধ করতে হবে না বন্ধ হয়ে যাবে। "প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা জীবিকা দিবে আর আত্ব শিক্ষা দিবে  ভাগ্য।"
          
লেখক : কলামিস্ট
সর্বশেষ সংবাদ
  • রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনাবাসিক দূতদের আলোচনা ও সমর্থনত্যাগের মহিমায় যোগ্য নাগরিক হিসেবে নিজেদেরকে গড়ে তুলেতে হবে : প্রধানমন্ত্রীমহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধাসাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর গভীর শ্রদ্ধাবিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে যান চলাচলে ডিএমপি’র নির্দেশনামহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণীআজ মহান বিজয় দিবস : শোক আর রক্তের ঋণ শোধ করার গর্বে উজ্জীবিত জাতি দেশবরেণ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী আর নেইমৃত্যুদন্ডাদেশপ্রাপ্ত বিদেশে পলাতক যুদ্ধাপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে : সেতুমন্ত্রীমিয়ানমারে সহিংসতা শুরুর প্রথম মাসেই অন্তত ৬ হাজার ৭ শ’ রোহিঙ্গাকে হত্যা : এমএসএফবিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় গোটা জাতি'র শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণআজকের সম্পাদকীয়- আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস : গোটা জাতি'র বিনম্র শ্রদ্ধা ৩ দিনের সরকারি সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী আজ দেশে ফিরবেন গেইলের বিধ্বংসী সেঞ্চুরি : ঢাকা ডায়নামাইটসকে ৫৭ রানে হারালো রংপুর রাইডার্সকংগ্রেসের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে রাহুল গান্ধীর নাম ঘোষণা নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরি বিধি প্রকাশ করেছে সরকারআওয়ামীলীগের ওপর মানুষের বিশ্বাস ও সমর্থন বৃদ্ধি পেয়েছে : সজীব ওয়াজেদ জয় ‘অগ্নিকন্যা মতিয়া চৌধুরী নকলাকে কৃষিখাতে সফল বিপ্লবের সাফল্য দেখিয়েছেন’আগামী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীআজ বেগম রোকেয়া দিবস : রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী'র পৃথক বাণী
  • রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনাবাসিক দূতদের আলোচনা ও সমর্থনত্যাগের মহিমায় যোগ্য নাগরিক হিসেবে নিজেদেরকে গড়ে তুলেতে হবে : প্রধানমন্ত্রীমহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধাসাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর গভীর শ্রদ্ধাবিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে যান চলাচলে ডিএমপি’র নির্দেশনামহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণীআজ মহান বিজয় দিবস : শোক আর রক্তের ঋণ শোধ করার গর্বে উজ্জীবিত জাতি দেশবরেণ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী আর নেইমৃত্যুদন্ডাদেশপ্রাপ্ত বিদেশে পলাতক যুদ্ধাপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে : সেতুমন্ত্রীমিয়ানমারে সহিংসতা শুরুর প্রথম মাসেই অন্তত ৬ হাজার ৭ শ’ রোহিঙ্গাকে হত্যা : এমএসএফবিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় গোটা জাতি'র শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণআজকের সম্পাদকীয়- আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস : গোটা জাতি'র বিনম্র শ্রদ্ধা ৩ দিনের সরকারি সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী আজ দেশে ফিরবেন গেইলের বিধ্বংসী সেঞ্চুরি : ঢাকা ডায়নামাইটসকে ৫৭ রানে হারালো রংপুর রাইডার্সকংগ্রেসের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে রাহুল গান্ধীর নাম ঘোষণা নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরি বিধি প্রকাশ করেছে সরকারআওয়ামীলীগের ওপর মানুষের বিশ্বাস ও সমর্থন বৃদ্ধি পেয়েছে : সজীব ওয়াজেদ জয় ‘অগ্নিকন্যা মতিয়া চৌধুরী নকলাকে কৃষিখাতে সফল বিপ্লবের সাফল্য দেখিয়েছেন’আগামী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীআজ বেগম রোকেয়া দিবস : রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী'র পৃথক বাণী
উপরে