প্রকাশ : ০২ মার্চ, ২০১৮ ০৪:২৩:১৭
বাতাসে লাশের গন্ধ : এক ভয়ঙ্কর দু:স্বপ্নের নাম সিরিয়া !
ওমর ফারুক : সিরিয়া। আরব বিশ্বের মধ্যবিত্ত একটি দেশ। তবে, সামরিক, চিকিৎসা ও শিক্ষায় তারা বেশ প্রাগ্রসর ছিল। সাহিত্য ও সংস্কৃতির জগতে সিরিয়া মিসরের পরে সবচেয়ে সমৃদ্ধ ছিল।
ছয় বছর আগে শুরু হওয়া আগুনের হল্কা সিরিয়ানদের সব কিছু পুড়ে ছাই করে দিয়েছে। ভিটেমাটি, আশা আকাঙ্ক্ষা, বাঁচার সুযোগ সুবিধা ও ন্যূনতম নিরাপত্তা ও স্বস্তি কিছুই সিরিয়ার মাটিতে অবিশিষ্ট নেই।

বাতাসে লাশের গন্ধ। কান্নার ধ্বনি, শিশুর চিৎকার আর আহত মানুষের হাহাকার ছাড়া কিছুই যেন অবশিষ্ট নেই। মৃত্যু যেন তাড়া করে বেড়াচ্ছে মানুষগুলোকে। আতঙ্কগ্রস্ত এদের চোখে নেই ঘুম, পেটে নেই খাবার, অসুস্থতায় নেই চিকিৎসা। যেন এক নি:সিম দু:স্বপ্নের নাম সিরিয়া।

২০১১ সালে কিছু তরুণ সিরিয়ার দক্ষিণে দেরা শহরে দেয়ালে দেয়ালে গণতান্ত্রিক স্লোগান লেখার অভিযোগে গ্রেফতার হয়। এরপরই গণতন্ত্রের দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে জনতা। নিরাপত্তা কর্মীরা সরাসরি গুলিবর্ষণ করে মিছিলের ওপর। ফলে বিক্ষোভ আরও বেড়ে যায়।
বিক্ষোভকারীদের দাবী ছিল রাষ্ট্রপতি বাশার আল-আসাদের পদত্যাগ, তার সরকারের ক্ষমতাচ্যুতি এবং সিরিয়া দীর্ঘ ৫ দশকের আরব সোশ্যালিস্ট বাথ পার্টি শাসনের পতন। হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিতে থাকে। উপায়ান্তর না দেখে হাতে অস্ত্র তুলে নেয় বিদ্রোহীরা। প্রথমে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য, এরপর নিজ এলাকা থেকে সরকারি নিরাপত্তা কর্মীদের বিতাড়নের জন্য।

সরকারের বিরুদ্ধে সংঘর্ষ বাড়তে থাকে। তৈরি হয় বিদ্রোহী দল। তারা বিভিন্ন শহর ও গ্রামের নিয়ন্ত্রণের জন্য লড়াই করতে থাকে সরকারের বিরুদ্ধে। রাজধানী দামেস্ক এবং গুরুত্বপূর্ণ শহর আলেপ্পোতে এই সংঘর্ষ পৌঁছে যায় ২০১২ সালে।
২০১৩ সালের জুন মাসের মাঝে ৯০ হাজার মানুষ মারা যায়। ২০১৫ সাল নাগাদ তা আড়াই লাখে গিয়ে ঠেকে, জানায় জাতিসংঘ।

এখন আর শুধু প্রেসিডেন্ট আসাদের বিরুদ্ধে হচ্ছে না এই যুদ্ধ। বরং শিয়া-সুন্নী বিরোধে উপনীত হয়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিক পরাশক্তিরাও রক্তের গন্ধ পেয়ে যোগ দিয়েছে এই হত্যাযজ্ঞে। ইসলামিক স্টেট (আইএস) তেমনই এক শক্তি।

জাতিসংঘের অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই সংঘর্ষে জড়িত প্রতিটি পক্ষই যুদ্ধাপরাধে দায়ী। খুন, গুম, অত্যাচার এবং ধর্ষণ এর মাঝে কয়েকটি। নিরীহ বাসিন্দাদের খাদ্য, পানি এবং চিকিৎসা পাবার অধিকারও হরণ করেছে তারা, শুধুই যুদ্ধের কৌশল হিসেবে।

২০১৩ সালের আগস্টে নার্ভ এজেন্ট সারিন গ্যাস ভর্তি রকেট ফেলা হয় দামেস্কে। এই হামলার জন্য পাশ্চাত্য দায়ী করেছে সিরিয়ার সরকারকে। কিন্তু সরকার বলছে তা বিদ্রোহীদের কাজ। দায়ী যেই হোক না কেন, এর পরিণাম হয় ভয়াবহ। আইএস ঘরে তৈরি রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে বলেও জানা গেছে।

৪৫ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে এই সংঘর্ষ শুরুর পর। এদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। প্রতিবেশি দেশ লেবানন, জর্ডান এবং তুরস্ক এত বেশি পরিমাণ শরণার্থী নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। সিরিয় শরণার্থীদের মাঝে ১০ শতাংশ ইউরোপে পালিয়ে গেছে। এতে বিভিন্ন দেশের মাঝে তৈরি হয়েছে উষ্মা। সিরিয়ার ভেতরেই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন আরও ৬৫ লাখ মানুষ।

বাস্তহারা এসব মানুষের জরুরি দরকার ত্রাণ। ৭০ শতাংশ মানুষ বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছে না, খাদ্যের অভাবে আছে এক তৃতীয়াংশ মানুষ। ২০ লাখ শিশু স্কুলে যেতে পারছে না। পাঁচভাগের চারভাগ মানুষই আকণ্ঠ ডুবে আছে দারিদ্রে।

তাদের ত্রাণ ও সহায়তা দেবার চেষ্টা করেও লাভ হচ্ছে না খুব একটা। কারণ প্রায় ৪৫ লাখ মানুষ বাস করছেন এমন জায়গায় যেখানে ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন।

২০১১ সালের সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারী থেকে অনেকটাই আলাদা বর্তমানের বিদ্রোহীরা। শিয়া ও সুন্নী বিভেদে পড়ে গেছেন তারা। শুধু তাই নয়,ইসলামিস্ট এবং জিহাদিস্টদের উত্তরণ ঘটেছে সম্প্রতি। তাদের নৃশংসতায় হতবাক বিশ্ব।

সিরিয়ার সংকটের পুরো ফায়দা উঠিয়েছে ইসলামিক স্টেট। সিরিয়া এবং ইরাকের একটি বড় অংশে তারা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। সিরিয় বিদ্রোহীদের পাশাপাশি তারা আল-কায়েদা মদদপুষ্ট নুসরা যোদ্ধা এবং কুর্দি যোদ্ধাদের সাথেও সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে।

২০১৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আইএস। পরের বছরই রাশিয়ার আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় অসংখ্য বিদ্রোহী এবং বেসামরিক মানুষ।
এই যুদ্ধে কোন পক্ষই একে অপরকে পর্যদুস্ত করতে পারছে না। আন্তর্জাতিক মহলে এটাই ধারণা যে শুধুমাত্র রাজনৈতিকভাবেই এই সংঘর্ষের সমাধান হতে পারে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এ ব্যাপারে অগ্রসর হবার চেষ্টা করলেও বারবারই তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে সিরিয়া সরকার। যদিও সম্প্রতি এক যুদ্ধবিরতির চেষ্টায় আলোচনা হয় জাতিসংঘে।

সিরিয়ায় গণতন্ত্রের দাবিতে যে বিক্ষোভ শুরু হয়, তাকে আরব বসন্তের আরেক ফসল হিসেবে দেখেছিলেন অনেকেই। সেই বসন্ত শেষ হয়ে রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে দেশটি। এক স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ থেকে এখন তা হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর ক্ষমতা প্রদর্শনের মঞ্চ।
ইরান, লেবানন এবং রাশিয়া আসাদের শিয়া-প্রধান সরকারকে মদদ দিয়ে চলেছে। অপর দিকে তাদের সুন্নী বিদ্রোহীরা পেয়েছে আমেরিকা, ইংল্যান্ড,  ফ্রান্স,  তুরস্ক, সৌদি আরব, কাতার এবং জর্ডানের সমর্থন।
 
তথ্যসূত্র : বিবিসি, ইন্টারনেট।


 
সর্বশেষ সংবাদ
  • এনটিআরসিএ'র নতুন চেয়ারম্যান পদে আশফাক হোসেনকে নিয়োগ দিয়েছে সরকারমানুষের স্বচ্ছতা বাড়ায় প্রতিবছর দেশে পূজা মণ্ডপ বাড়ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী“দেশে কোন সংখ্যালঘু নেই” : র‌্যাবের মহাপরিচালক নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে-মতবিরোধ থাকলেও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনায় প্রভাব পড়বে না : সিইসিবাসাবাড়ি'র গ্যাসের মূল্য আপাতত বাড়ছে না : বিইআরসিঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের জন্য দেড় বিঘা জমি প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী‘পদ্মাসেতু রেল সংযোগ নির্মাণ প্রকল্পের’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রীবাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা আজ শুরু সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে‘তিতলি’'র প্রভাবে ভারি বৃষ্টিপাতের আভাস : ভূমিধসের আশঙ্কাপ্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ভিডিও কনফারেন্সে নড়াইলের ‘শেখ রাসেল সেতু’ উদ্বোধনভারতের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’র আঘাতে ৮ জনের প্রাণহানি : ক্রমশ: দুর্বল হচ্ছেএকুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় : বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদন্ড ❏ তারেকসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবনইতিহাসের বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলার মামলা ❏ বিচারের ঐতিহাসিক রায় আজসামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘গুজব শনাক্তকরণ সেল’ গঠন করেছে সরকারবিশ্ব বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ২৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজদুর্যোগ কবলিত ইন্দোনেশিয়া লম্বা হচ্ছে লাশের মিছিলনেপালকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়ন শিরোপা বাংলাদেশের ঘরে চিকিৎসার জন্য কারাগার থেকে বিএসএমএমইউতে খালেদা জিয়াআজ থেকে ২২ দিন প্রজনন মৌসুমে দেশে ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধ
  • এনটিআরসিএ'র নতুন চেয়ারম্যান পদে আশফাক হোসেনকে নিয়োগ দিয়েছে সরকারমানুষের স্বচ্ছতা বাড়ায় প্রতিবছর দেশে পূজা মণ্ডপ বাড়ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী“দেশে কোন সংখ্যালঘু নেই” : র‌্যাবের মহাপরিচালক নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে-মতবিরোধ থাকলেও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনায় প্রভাব পড়বে না : সিইসিবাসাবাড়ি'র গ্যাসের মূল্য আপাতত বাড়ছে না : বিইআরসিঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের জন্য দেড় বিঘা জমি প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী‘পদ্মাসেতু রেল সংযোগ নির্মাণ প্রকল্পের’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রীবাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা আজ শুরু সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে‘তিতলি’'র প্রভাবে ভারি বৃষ্টিপাতের আভাস : ভূমিধসের আশঙ্কাপ্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ভিডিও কনফারেন্সে নড়াইলের ‘শেখ রাসেল সেতু’ উদ্বোধনভারতের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’র আঘাতে ৮ জনের প্রাণহানি : ক্রমশ: দুর্বল হচ্ছেএকুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় : বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদন্ড ❏ তারেকসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবনইতিহাসের বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলার মামলা ❏ বিচারের ঐতিহাসিক রায় আজসামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘গুজব শনাক্তকরণ সেল’ গঠন করেছে সরকারবিশ্ব বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ২৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজদুর্যোগ কবলিত ইন্দোনেশিয়া লম্বা হচ্ছে লাশের মিছিলনেপালকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়ন শিরোপা বাংলাদেশের ঘরে চিকিৎসার জন্য কারাগার থেকে বিএসএমএমইউতে খালেদা জিয়াআজ থেকে ২২ দিন প্রজনন মৌসুমে দেশে ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধ
উপরে